বর্তমান সরকারের ব্যর্থতা ও করনীয় ।(প্রথম কিস্তি)

বাংলাদেশের মানুষ যত সুখেই থাকুক না কেন আরো সুখে থাকতে চায় ।তাইতো এক সরকারের আমল যতই শান্তিপুর্ন হোক,তাদের ধারনা আরেক সরকার আসলে হয়তো আরো শান্তিপুর্ন হবে,দেশ আরো উন্নত হবে,আরো সমৃদ্ধশালী হবে।মুলত এই ধারনা থেকেই সরকার পরিবর্তন হয়ে আসছে।কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এই উচ্চা-আকাঙ্খা দেশের প্রকৃত ও দীর্ঘ মেয়াদী উন্নয়নকে সামগ্রিকভাবে বাধাগ্রস্তই করছে।দেখা যায়,এক সরকারের দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা আরেক সরকার ক্ষমতায় এসে বাতিল করে দিচ্ছে,দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট অনেক গুরুত্বপুর্ন পদক্ষেপ বিকল্প সরকার এসে স্থিমিত বা স্থগিত করে দিচ্ছে।এমনি করে সরকার পরিবর্তনের এই ধারায় পড়ে দেশের সামগ্রিক পরিবর্তন যতটুকু হওয়া প্রয়োজন ছিল তার সিকি ভাগও হচ্ছে না।
অতএব,দেশের সার্বিক উন্নয়ন, সামগ্রিক পরিবর্তনের সুবিধার্তে এক সরকারকে দীর্ঘমেয়াদে থাকতে হবে এবং আমি কেন,স্বাধীনতায় বিশ্বাসী দেশের প্রতিটি তরুনই মনে করে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে চালিত বর্তমান মহাজোট সরকারই দীর্ঘ মেয়াদে সরকারে থাকার উপযুক্ত ।

একটি সরকার দীর্ঘ মেয়াদে থাকতে হলে উক্ত সরকারকেই পদক্ষেপ নিতে হবে।সরকারের কর্মই নির্ধারন করতে পারে আগামীতে তারা পুনরায় থাকবে কি না ।দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বর্তমানের আওয়ামীলীগ নামের স্বাধীনতার স্বপক্ষের দলটি বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসলেও বর্তমানে এই জনপ্রিয়তা প্রায় তলানিতে ঠেকেছে।বিগত কয়েকটি স্থানীয় নির্বাচনই এর যতেষ্ট প্রমান বহন করে ।সুতরাং টিকে থাকতে হলে দল বা সরকারকে তাদের হারানো জনপ্রিয়তাকে অবশ্যই উদ্ধার করতে হবে।সময় স্বল্পতার কারনে এই কাজটি শতভাগ সম্ভব না হলেও পুরোপুরি যে অসম্ভব তা কিন্তু নয়।

স্বাভাবিক ভাবেই নির্বাচনে হারার পর হারের কারন উদগাটিত করা হয়ে থাকে ।সেই ধারাবাহিকতায় বিগত সিটি নির্বাচনে লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের ভরাডুবির বেশ কয়েকটি কারন উদগাটিত করা হয়।আমি মনে করি উদগাটিত কারন সমুহ জাতীয় নির্বাচনেও পরিলক্ষিত হবে।তাই অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে আওয়ামীলীগ তথা মহাজোটকে নির্বাচনের আগে এসব কারন বা সমস্যার সঠিক প্রতিকারের ব্যবস্থা নিতে হবে।সিটি নির্বাচনের আলোকে উদগাটিত কারন সমুহের মধ্যে গুরুত্বপুর্ন কয়েকটি কারন ও তার প্রতিকার সম্পর্কে সংক্ষেপে বর্ননা করলাম।আশা করি আলোচিত পদ্ধতিতে আগালে আগামী জাতীয় নির্বাচনে মহাজোট সরকার পুনরায় নির্বাচিত হতে পারে।

#পরাজিত হবার কারন :
১/দৃশ্যমান উন্নয়নের ঘাটতি
২/ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি
৩/বিরুধী জোটের ব্যাপক মিথ্যাচার
৪/শেয়ার বাজার কেলেংকারি
৫/নেতা ও কর্মী সমর্থকদের মাঝে আস্থাহীনতা
৬/দলীয় কোন্দল
৭/জনপ্রতিনিধিদের নিয়মিত এলাকায় না যাওয়া
৮/জনতার দাবী প্রত্যাখান
৯/যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে ধীরগতি
১০/জামাত নিষেদ্ধে গড়িমসি
১১/প্রশাসনে কতৃত্ব প্রতিষ্টায় ব্যর্থতা
১২/গুরুত্বপুর্ন কয়েকটি বিষয়ের রহস্য উদগাটনে ব্যর্থতার পরিচয়
১৩/সংখ্যালগু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তায় ব্যর্থতার পরিচয়
১৪/মন্ত্রীদের লাগামহীন মন্তব্য
১৫/জঙ্গি অর্থায়ন রোধে ব্যবস্থা না নেয়া
১৬/পদ্মা সেতু নিয়ে টালবাহানা
১৭/বিদেশে অবস্থানরত শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় যতেষ্ট পদক্ষেপ না নেওয়া
১৮/গ্রামাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে পদক্ষেপ না নেওয়া
১৯/সরকারের কয়েকটি ভুল সিদ্ধান্ত
২০/প্রার্থী নির্বাচনে ব্যর্থতার পরিচয়
২১/স্ববিরুধীতা
২২/জোটের সাথে মতদ্বৈততা ও সম্পর্কের অবনতি
২৩/সঠিক প্রচারনার অভাব ইত্যাদি।

প্রতিকারের উপায় :
১/এই সরকারের আমলে অনেক মহাপরিকল্পনা গ্রহন করা হলেও তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয় নি ।যেমন পদ্মা সেতু, বঙ্গবন্ধু বিমানবন্দর,পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ইত্যাদি ।এসব মেঘা প্রজেক্ট গ্রহনের ফলে ব্যাপক অর্থ অপচয়ের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অনেক প্রজেক্ট ও মুখ থুবড়ে পড়ে ।ফলে দৃশ্যমান উন্নয়ন সম্ভব হয় নি ।সারাদেশে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার দৃশ্যমান কোন উন্নয়ন চোখে পড়ার মত নয়।তাই এই ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।প্রতিটি আসনে বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও ছোট ছোট রাস্তাঘাট পুননির্মানে মন দেয়া উচিৎ।
২/ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির কথা কি বলব?কালো বিড়াল,হলমার্ক,ডেসটিনি,হায় হায়,সোনালী ব্যাংক দুর্নীতি ইত্যাদি তো হয়েছেই,গরীবের জন্য বরাদ্ধকৃত গম চুরি পর্যন্ত বাদ যায় নি।বর্তমানে সবকিছু রেখে হলেও প্রতারনাকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠান সমুহে সাধারন গ্রাহকের গচ্ছিত আমানতের টাকা ফিরিয়ে দেয়ার ব্যবস্তা করতে পারলেই হয়।
৩/এটা একটা বড় কারন।এসব মিথ্যাচারের জবাব ব্যাপকভাবে দিতে হবে ।এজন্য প্রয়োজন ৩টি পদক্ষেপ।(ক)সবকটি মিথ্যাচারের জবাব একসাথে সুন্দর করে ভিডিও ও ইমেজ ফরমেটে একটি ডিভিডি ক্যাসেটে সংরক্ষন করে সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে হবে।প্রতিটি ওয়ার্ড এবং বাজারে একদিন করে এই ভিডিও জনসাধারনকে দেখাতে হবে।বিটিভিতে যে ভাবে আবহাওয়ার খবর দেখানো হয় তেমনি প্রতিটা অংশ বুঝিয়ে বুঝিয়ে মানুষকে দেখাতে হবে।এ জন্য কর্মীদের ট্রেনিং দিতে হবে।প্রদর্শন শেষে এই ডিভিডি ক্যাসেট জনতার মাঝে বিনামুল্যে বিতরন ও করা যেতে পারে।(খ)প্রতিটি মিথ্যাচারের জবাব সঠিকভাবে বর্ননা সহ সচিত্র পদ্ধতিতে একটি ছোট্র আকারের বই প্রকাশ করে তা সারাদেশে বিনামুল্যে বিলি করতে হবে।প্রতিটি মাদ্রাসায় একশো দুশো করে কপি পাঠাতে হবে।উক্ত বইটিতে বিগত এবং হাল আমলের হত্যা নির্যাতনের বিভিন্ন ফটো ক্যাপশন ও পেপার কাটিং সংযোজিত করতে হবে।বইটিতে লীগের ধর্মীয় অবস্থান স্পষ্ট করার পাশাপাশি বিরুধী জোটের ধর্মীয় অবমাননা সমুহ উল্লেখ করতে হবে।বইটির শেষের দিকে বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ফিরিস্তি ও আগামী পরিকল্পনা উল্লেখ করা যেতে পারে ।(গ)দেশের প্রতিটি মসজিদে মিথ্যাচারের জবাব ১০মিনিটের একটি খুতবার মাধ্যমে মানুষকে জানাতে হবে।এজন্য দক্ষ আলেমদের প্রশিক্ষন দিয়ে সারা দেশের মসজিদ গুলোতে একবার করে প্রতি শুক্রবার পাঠাতে হবে।বয়ান শেষে খ অংশে বর্নিত বইটির কয়েকটি কপি মুসল্লিদের মাঝে বিতরন করতে হবে।
বিঃদ্রঃ এই কাজ গুলো করতে গেলে কোন কোন এলাকায় প্রশাসনিক ও দলীয় কর্মীদের সহযোগিতার প্রয়োজন হতে পারে।
…. (চলবে)

(বাকী অংশ আগামীকাল ২য় কিস্তিতে)

১৩ thoughts on “বর্তমান সরকারের ব্যর্থতা ও করনীয় ।(প্রথম কিস্তি)

  1. সুন্দর লিখেছেন । এই সরকারের
    সুন্দর লিখেছেন । এই সরকারের উন্নয়ন অনেক করলেও প্রচারের অভাবে তা অনেকেই জানেনা । আরেকটা বিষয় সত্য শেয়ার বাজার , যুদ্ধাপরাদ ইস্যু ও পদ্মা সেতু এই কয়েকটি বিষয় যথেষ্ট নেগেটিভ প্রভাব ফেলেছে ।

  2. “প্রার্থী নির্বাচনে ব্যর্থতার
    “প্রার্থী নির্বাচনে ব্যর্থতার পরিচয়”
    এটা কোন ক্ষেত্রে বুঝাতে চেয়েছেন?সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন?
    পোস্ট টা ভাল লিখেছেন।

    1. ধন্যবাদ ।আশা করি ২য় কিস্তিতে
      ধন্যবাদ ।আশা করি ২য় কিস্তিতে আপনার প্রশ্নটির জবাব বিস্তারিত ভাবে উল্লেখ থাকবে ।

  3. ওনারা এখন ক্ষমতায় আছেন,
    ওনারা এখন ক্ষমতায় আছেন, বিরোধী দলে থাকার দুঃখ এখন আর মনে নাই। তাই আপনার কথায় আপাততঃ তারা কান দেবে না। কান দেবে সময় এলে, যখন আর করণীয় কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না………..

    1. ঠিকই বলেছেন ।এসব কথা তাদের
      ঠিকই বলেছেন ।এসব কথা তাদের কাছে মন হবে গরুর রচনা! এরপর ও লিখলাম, লিখতে হয় ।
      ধন্যবাদ ।

  4. অনেক সুন্দর উপস্থাপনার
    অনেক সুন্দর উপস্থাপনার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য তুলে ধরেছেন । কিন্তু হতাশা আসে – কারন আম্লিগ রাজনীতির মাঠে যে ভুল টা এখন করছে সেটার পরিনতি নিশ্চিত হার । কিন্তু এই হার এর মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে জাতির প্রকৃত হার । :দীর্ঘশ্বাস: :দীর্ঘশ্বাস: :দীর্ঘশ্বাস: :দীর্ঘশ্বাস: :দীর্ঘশ্বাস: :দীর্ঘশ্বাস:

    1. সরকার যদি তার নিজের ভাল বুঝতে
      সরকার যদি তার নিজের ভাল বুঝতে না পারে তবে সাধারনের কি করার আছে ।শুভাকাঙ্খী হিসেবে আমাদের দায়িত্ব সতর্ক করা এবং আমরা সেটাই করছি ।
      ধন্যবাদ

  5. ভালই লাগল!! তবে আপনার লিখটি
    ভালই লাগল!! তবে আপনার লিখটি সরকারের চোখে পরলেই ভাল হত…
    আর কিছু নাটকীয় সমাধান দিলেই ভাল লাগত!!

    1. সরকারের চোখে ফেলানোর দায়িত্ব
      সরকারের চোখে ফেলানোর দায়িত্ব আপনাদের ।আপনারা বেশি করে শেয়ার, কপি পেস্ট করলে দ্রুত সরকারের নজরে আনা সম্ভব ।এ ব্যাপারে আপনাদের সহযোগিতাই কাম্য ।
      ধন্যবাদ

Leave a Reply to রাইয়ান স্বপ্নকথক Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *