বেগম রোকেয়ার জন্মদিন ও নারীর ক্ষমতায়ন।

কিছুদিন আগে আমার এক বন্ধুরে আমি ফোন দিলাম।কি খবর কই আছ এইসব জিজ্ঞেস করার জন্য।ওর আবার সামনে প্রফ আছে।তাই হুদাই ঘুরাঘারির সময় ওর মনে হয় নাই।তাও কল দিলাম।রিসিব কইরাই কইল তুই কই,আমি একটু জাহাঙ্গীরনগর যাব,শুটিং এর লোকেশন দেখার জন্য।ওরা সবাই ওইখানে আছে, তুই গেলে চল।ওর আবার ফোনে কথা বলার স্টাইলটা একটু হাস্যকর।ফোন ধইরাই ওর যা দরকার বইলা নিবে।আমার দরকারের কোন খবর নাই।কোন কিছু না জানান দিয়া ,ফোন রাখেও হুট কইরা।এর জন্য ওরে একদিন কিছু প্যাঁদানি মারলেই ঠিক হইব।যাই হোক, আমি তো ফোনই করছি আকামে।তাই বললাম আমি আসতেছি। তুই দাড়া।পৌঁছাইয়া ফোন দিতে ওরা সবাই কইল আমারা সুইমিং পুলে আছি ,তোরা চইলা আয়।


কিছুদিন আগে আমার এক বন্ধুরে আমি ফোন দিলাম।কি খবর কই আছ এইসব জিজ্ঞেস করার জন্য।ওর আবার সামনে প্রফ আছে।তাই হুদাই ঘুরাঘারির সময় ওর মনে হয় নাই।তাও কল দিলাম।রিসিব কইরাই কইল তুই কই,আমি একটু জাহাঙ্গীরনগর যাব,শুটিং এর লোকেশন দেখার জন্য।ওরা সবাই ওইখানে আছে, তুই গেলে চল।ওর আবার ফোনে কথা বলার স্টাইলটা একটু হাস্যকর।ফোন ধইরাই ওর যা দরকার বইলা নিবে।আমার দরকারের কোন খবর নাই।কোন কিছু না জানান দিয়া ,ফোন রাখেও হুট কইরা।এর জন্য ওরে একদিন কিছু প্যাঁদানি মারলেই ঠিক হইব।যাই হোক, আমি তো ফোনই করছি আকামে।তাই বললাম আমি আসতেছি। তুই দাড়া।পৌঁছাইয়া ফোন দিতে ওরা সবাই কইল আমারা সুইমিং পুলে আছি ,তোরা চইলা আয়।

বইলা রাখা ভাল আমি ওর ওই ফ্রেন্ডগুলারে আগে কখন দেখি নাই।খালি ওর কাছে নাম শুনছি।এদের মধ্যে একজন আবার অনেক ভাল পেইন্টিং করে।আমার আবার এই জিনিসের হালকা বাতিক আছে।কিন্তু সমস্যা হইল,ও আমারে বলল, এরা কিন্তু আড্ডার বেশীরভাগ সময় কাটায় পর্দার উপযোগিতা ইত্যাদি তাফসির আলোচনা করে।ভাবলাম পেইন্টিং করে, ফটোগ্রাফার সেতি কেন এইরকম আবাল হইব।ও বলে আরে মিয়া এইটা তো একটু বললাম ,আসল কাহিনী এদের সাথে চললেই বুঝবা।যাই হোক যাবার পর পরিচয় হইলাম।দেখালাম তারা ধুমচে বিড়ি টানতেছে আর কি একটা হাদিসের ব্যাখ্যা করতেছে।আবালগুলার মাথায় যে বুদ্ধি নাই তা প্রথমেই বুজলাম।সারা দিন সুইমিং পুলের ধারটা গরম হইছে আর রাতে সেই গরম তাপ বিকিরন করতেছে,আর ওই আবালগুলা আশেপাশে এত ভাল জায়গা রাইখা সেই গরমের মধ্যে উদাম হইয়া বইসা পর্দার প্রয়োজনীয়তা নিয়া আলোচনা করতেছে।যে ছেলের কাজ সে কাজ জমা দিবে সেলিব্রেটিং লাইফ এর কন্টেস্টে।আর ফিল্মের সাবজেক্ট হল “নারীর ক্ষমতায়ন”।

আমাগোর আসার কারন ছিল শুটিং এর লোকেশন দেখা।আইসাই বুঝালাম লোকেশন ঠিক করা হয়ে গেছে। তাই তারা স্ক্রিপ্ট নিয়া কথা বলতে লাগল।যে পণ্ডিত পেইন্টিং করে তারেই বুজলাম এদের দলনেতা।সেই সব পয়েন্ট-টয়েন্ট বলতেছে।তার মতে কনভারসেশনে নাকি মেইন পিলারগুলা দুর্বল হইয়া গেছে।সিদ্ধান্ত হইল সেগুলো পুনরায় লিখা হবে।এর কিছুক্ষণের মদ্ধেই তাদের এক বড়ভাই আমাদের সাথে জয়েন করল।কিছুক্ষণের মদ্ধেই আড্ডা জমে উঠল।বড়ভাইটা আসার পর আমাদের সবার সাথে পরিচয় করান হইল।আড্ডার মধ্যে তারা বিভিন্ন স্পিরিচুয়াল জিনিস নিয়া আলোচনা করতেছিল।পণ্ডিতের বক্তব্য এইরকম যে,কেউনাকি একজন আছে মহা-ক্ষমতাধর।সেই আসলে সব নিয়ন্ত্রণ করে।তাদের নাকি আজকে একটা ঘটনা ঘটছে যেটা শুনলেই নাকি বোঝা যাবে,কেউ নিয়ন্ত্রণ না করলে আজ তারা সবাই মারা যাইত।পরে কাহিনী খোলাসা হইল।তারা নাকি কই অনেক দূরে গ্রামের ভিতর ঘুরতে গেছিল।সেখান থিকা ফিরার পথে তারা সবাই মিলা এক গাছ থিকা জাম্বুরা পারছিল।এবং চাপকলে জাম্বুরা ধুইতে গিয়া তারা পিছলাইয়া পইড়া গেছিল প্রায়।আর একটু হইলেই নাকি তারা চার জনই মারা যাইত।আর এর কারনেই তারা আবার বুঝতে পারল যে,সেই মহাশক্তিই আজকে এই মহৎ চার জনকে বাচাইছে।যাই হোক পণ্ডিত সাহেব ঘুইরা ফিরা নিজের কথাই খালি কইতেছিল।তার নাকি সমাজ সম্পর্কে একটা দায়িত্ববোধ আছে।আর সেই দায়িত্ববোধ থেকেই সে চারুকলার মত একটা প্রতিষ্ঠান বানাবে।তার জন্য আবার জমিও কেনা হয়ে গেছে।আমাদের সবাইকে সে তার নব্য চারুকলায় যাবার অনুরোধ জানাল।তার বক্তব্য,জয়নুল আবেদিন যেমন চারুকলা প্রতিষ্ঠা করছে,সেও সেই রকম একটা বানাবে।আমি প্রথমে অবশ্য পুরাডাই চাপাবাজী মনে করছিলাম।পরে শুনছি তার বাবার আসলেই নাকি অনেক টাকা আছে(বাবায় ঘুষখোর আছিল এইরকম শুনছি) এবং সে এটার সদ ব্যবহার করে।নিয়মিত তার সাঙ্গ-পাঙ্গ নিয়া সুইমি-পুলের নিচে গাঁজা খায় আর জয়নুল আবেদিন হওয়ার স্বপ্ন দেখে।
আমাদের আড্ডার টপিক যেহেতু ছিল নারীর ক্ষমতায়ন নিয়া চলচিত্র বানানো,সেহেতু এই প্রসঙ্গ বার বার আসতেছিল।তাদের আলোচনার ভাব দেইখাই বুঝতে পারলাম ফিল্ম মেকিং সম্পর্কে এদের এতটুকুও ধারনা নাই।ওই পোলায় এদের কাছে আসছে হেল্প পাইব এই আসায়, কিন্তু বুঝলাম ওর কাম এতটুকুও হইব না।হুদাই আড্ডায় বইয়া সময় নষ্ট করতেছে।কারন এদের কথা শুইনা মনে হইতেছে এরা অন্তত ফিল্ম মেকিং এর ভালমতো কিছুই বোঝে না।অবশ্য পণ্ডিত নাকি অনেক ভাল পেইন্টিং করে, আবার ফটোগ্রাফার হিসেবেও নাকি নাম ডাক আছে।ওইডা যাই হোক, সকল আলোচনা ছাপায়া আমাগোর আলোচনা এবার আগাইল এই ফিল্ম মেকিং নিয়াই।পণ্ডিত ও তার বড়ভাইয়ের বক্তব্য হইল, এইসব নারীর ক্ষমতায়ন-টমোতায়ন নিয়া কাজ কইরা লাভ নাই।এইসব নিয়া নাকি সবাই কাজ করতেছে।আসলে আমাগোর কাজ করা দরকার হইল ড্রাগ নিয়া।ড্রাগ নাকি সমাজটারে শেষ কইরা দিতাছে।এইগুলা না থামাইতে পারলে নাকি সমাজের বারটার মতো বাজায়া দিব।আর পুলাপাইন ড্রাগ নিয়া এত ঝুকছে তার কারন নাকি এই শিল্পচর্চার অভাব।তাই সে আমাদের সকলকেই ড্রাগ নিয়া কাজ করতে বলল।আর বুঝাইলো তার চারুকলা বানানোর পেছনের কারনও, এই ড্রাগ থেকে সরাইয়া পুলাপাইনরে ভালোর পথ দেখানো।কিন্তু আমি টাস্কি খাইলাম তার নেক্সট ডাইলগ শুইনা।সে বলতেছিল, যারা ছবি নিয়া কাজ করে তারা শুধুমাত্র একটা জিনিস খাইতে পারে , আর সেটা হইল গাঁজা।আর গাঁজাই নাকি শুধু এই লাইনের সাথে যায়।তবে কাজ করতে করতে কেউ সিনিয়র হইলে নাকি এক আধ গ্লাস এলকোহলও গেলা জায়েজ আছে।কিন্তু এটা শুধুমাত্র সিনিয়রদের জন্যই প্রযোজ্য।আমি বুঝতেছিলাম না হেতি একটু আগে ড্রাগ নিয়া কি ডাইলগ মারতেছিল আর এখন কি কয়।

যাই হোক,তাকে বলা হইল এইটা যেহেতু প্রতিযোগিতা আর সাবজেক্ট যেহেতু ঠিক করা তাই আমাদের নারীর ক্ষমতায়ন নিয়েই কাজ করতে হবে।আর তখনই পণ্ডিত সাহেব তার আসল রুপ প্রকাশ করলেন।তিনি বলতে লাগলেনঃ- “ দেখ , তুমি নারীর ক্ষমতায়ন নিয়া কাজ করবা ভাল কথা।সেটা অবশ্যই ভাল।কিন্তু তোমাকে আগে বুঝতে হবে নারীর ক্ষমতায়ন বলতে তুমি আসলে কি বুঝ?এবং তুমি কি বোঝাতে চাও?তাদের তো আর সব কিছুর ক্ষমতা দেওয়া যায় না।কারন তাদের করতে দিলেই তো তারা সব পারবে না।আর কি ক্ষমতাই বা তারা চায় এই দেশে ?যে দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধীদলীয় নেত্রি দুই জনই নারী।এমনকি এখন স্পিকারও তো সেই নারী।সংসদে তাদের জন্য আসন সংরক্ষিত আছে।আর কি চায় নারীরা?নারীরা চাইলেই তো সব কাজ করতে পারবে না।এবং এর কিছু কারন ও আছে।(কারন গুলি পয়েন্ট আকারে দিলাম)
১। নারীদের বুদ্ধি পুরুষদের তুলনায় অনেক কম।তাদের মাথায় ১০০ টি নিউরোন কম আছে।তাই তারা ইচ্ছে করলেই পুরুষদের মত বুদ্ধিমান হতে পারবে না।আল্লাহতালা এদের এরকম করেই বানাইছেন।
২।যখন একটা ছেলে শিশু জন্ম নেয় তখন মায়ের দুধ থাকে ঘন।আর মেয়ে শিশু জন্ম নিলে মায়ের দুধ পাতলা হয়ে যায়।
৩।আমার বাবা , তার বাবা , তার বাবা সবাই তাদের বউয়ের কাছ থেকে কিছু সুবিধা পেয়ে আসতেছে।আমার মা আমাদের জন্য রান্না থেকে শুরু করে বাড়ির সকল কাজই করে।এটা আমার দাদার দাদা তার দাদা এভাবে সবাই পেয়ে আসছে।এইটুকু তাদের করতেই হবে।আমি কি আমার বউকে রেধে খাওয়াব?

তাইলে এইবার বোঝেন, এই পণ্ডিত , যে কিনা নিজেরে গ্রেট পেইন্টার মনে করে(ও সে নাকি আবার বাফাতে ড্রইং এর টিচার), নিজেরে জয়নুল ভাবে এবং অবশ্যই প্রগতিশীল ভাবে, নারীর ক্ষমতায়ন সম্পর্কে তার যদি এই মতামত হয়, তাইলে দেশের পুলাপাইনের মননের কি অবস্থা?সে বলল নারীদের নাকি ১০০ টা নিউরন কম থাকে।এই তথ্য যে হারামজাদা কই পাইলো কে জানে।আর ১০০ টা নিউরন কম থাকলেও যে তাতে কিছু যায় আসে না(যেখানে মানুষের আছে কয়েক বিলিয়ন নিউরন) হারামির এই জ্ঞানটুকুও নাই।আর পরে যে তথ্যগুলো দিছে তার একটারও কোন ভিত্তি নাই।সে কিন্তু অশিক্ষিত কামলাও না।কিন্তু তার সমস্যা কি জানেন?তার সমস্যা হইলো সে কোন দিন ভাল একটা বিজ্ঞান সম্মত বইও পরে নাই।সে বিজ্ঞানও পরে নাই,আবার ধর্মগ্রন্থও পরে নাই।যা পড়ছে তা হইলঃ কিছু মাদবর টাইপের লোক আছে যারা ধর্ম আর বিজ্ঞানরে মিলাইয়া কিছু অখাদ্য বই পয়দা করে,সেই বই।আর এই আবাল গুলার এই হাস্যকর ধর্মপ্রচারক মার্কা বলিগুলা পড়ার কারনে আজকাল বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া পুলাপাইনের মুখেও যে সব আলোচনা শুনি তাতে এই দেশ ছাইরা জাহান্নামে চইলা যাইতে ইচ্ছা করে।ভাবলে অবাক লাগে সেই কোনকালে বেগম রোকেয়ার মত মানুষেরা কত আধুনিক চিন্তা করত!আর গ্লোবাল কমিউনিকেসান এত বৃদ্ধি পাবার ফলেও পুলাপাইনের এই অবস্থা।বেগম রোকেয়া বাইচা থাকলে যদি তারে গিয়া বলতাম,শুভ জন্মদিন ম্যাডাম।তাইলে তার উত্তরে পাইতাম দুইগালে দুইডা জুতার বারি।কিন্তু কিচ্ছু করার নাই।জুতার বারির ভয়ে তো আর তাকে শুভেচ্ছা জানানো বাদ থাকবে না।শুভ জন্মদিন, বেগম রোকেয়া।(আমরা আজো আপনার থেকে পিছিয়ে আছি তাই অনেক দিন পর জন্মদিনের শুভেচ্ছা)।

৮ thoughts on “বেগম রোকেয়ার জন্মদিন ও নারীর ক্ষমতায়ন।

  1. তারে সোফিয়া কাভালভস্কাইয়ার
    তারে সোফিয়া কাভালভস্কাইয়ার নাম বইলেন। আইকিউ ১৭০, আইনস্টাইন এবং নিউটনের চাইতে তার আইকিউ বেশি। এবং বুদ্ধিমত্তা নিউরনের পরিমানে নির্ভর করে না, সিনাপ্স কানেকশনের দ্রুততার উপর নির্ভর করে। তারে বইলেন কেভম্যান হিসেবে যেন জীবনযাপর স্টার্ট কইরা দেয়।

    1. তারে সোফিয়া কাভালভস্কাইয়ার
      তারে সোফিয়া কাভালভস্কাইয়ার নাম বইলা কোন লাভ নাই। কারন সে নিজেই নিকশ-কালা তামাকোভস্কি।তামাক খাইতে খাইতে মাথায় আর কিছু নাই। 😀 😀 😀 😀

      //////////////////////////////////////////////////////////////////////////

  2. আবালে দেশটা ভইরা গেলো। পোস্ট
    আবালে দেশটা ভইরা গেলো। পোস্ট পড়ে হাসতে হাসতে শেষ। আবালডারে আসার সময় একটা চটকানা দিয়া আসছিলেন তো? :হাহাপগে:

  3. পুরুষদের কাছ থেকে এমন বক্তব্য
    পুরুষদের কাছ থেকে এমন বক্তব্য তো খুব বেশি অস্বাভাবিক না। যেখানে অনেক নারীরাই মনে করে তারা পুরুষের চেয়ে কম বুদ্ধিমান।
    বেগম রোকেয়া তাঁর সময়ে যে সাহসিক কাজ করে গেছেন। তাঁর ১০ ভাগের এক ভাগও এখন করতে মানুষ ভয় পায়।
    সময় যায় আর আমরা দিন দিন পিছনের দিকে যাচ্ছি সামনে না এগিয়ে।

  4. উচিৎ ছিল।কিন্তু এদের কানের
    উচিৎ ছিল।কিন্তু এদের কানের পট্টি গরম কইরাও লাভ নাই ভাই। এদের সমস্যা রক্তে মিশা গেছে। :হাসি: :হাসি:
    ////////////////////////////////////////////////////

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *