সংসদে মাইকের সামনে দাঁড়ানো মেয়েটি…

দু-বছর সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কারনে গা ঢাকা দেয়া এবং গত সাড়ে চারবছরের বিরোধীদলের রাজনীতির পরে এখন সময় এসেছিল সাড়ে ছয় বছরে খেতে না পাওয়া ক্ষুধার্থ কুকুরের মত ক্ষমতাকে গিলে খাওয়ার। কিন্তু তার নিজের বোকামিতে এ সব স্বপ্নই এখন ভুলুন্ঠিত হতে বসেছে। সংসদে রাখা তার বক্তব্যে একটি নোংরা শব্দ থাকায় তার সাথে সাথে দলকেও চরম মুল্য দিতে হচ্ছে। দল এ সমস্যা কাটিয়ে উঠছে ঠিকই, কিন্তু তার এ নির্বুদ্ধিতা দলের উঁচু মহলে ভালোভাবে নেয়া হচ্ছে না।


দু-বছর সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কারনে গা ঢাকা দেয়া এবং গত সাড়ে চারবছরের বিরোধীদলের রাজনীতির পরে এখন সময় এসেছিল সাড়ে ছয় বছরে খেতে না পাওয়া ক্ষুধার্থ কুকুরের মত ক্ষমতাকে গিলে খাওয়ার। কিন্তু তার নিজের বোকামিতে এ সব স্বপ্নই এখন ভুলুন্ঠিত হতে বসেছে। সংসদে রাখা তার বক্তব্যে একটি নোংরা শব্দ থাকায় তার সাথে সাথে দলকেও চরম মুল্য দিতে হচ্ছে। দল এ সমস্যা কাটিয়ে উঠছে ঠিকই, কিন্তু তার এ নির্বুদ্ধিতা দলের উঁচু মহলে ভালোভাবে নেয়া হচ্ছে না।

হঠাৎ করে মিসেস সম্পা আজ অতীতকে মনে করার চেষ্টা করছেন। সংসদের বক্তব্যে “চুতমারানী” শব্দটি ব্যবহার করাটা সবার কাছে হাস্যকর মনে হলেও তার কাছে খুবই আবেগের বিষয়। রাজনীতির শুরুর দিকে এরকম কয়েকটি শব্দ শুনলে তিনি বুঝতে পারতেন তার ব্যপারে প্রশংসা ও স্তুতির ঝড় বইছে। দলীয় প্রতিবাদ সভার সময়ে তিনি যখন অসংখ্য সত্য-মিথ্যার জগাখিচুরী মিশিয়ে প্রতিপক্ষ দলকে ধরাশায়ী করে মঞ্চ থেকে নেমে আসতেন তখন অনেকেই তাকে উদ্দেশ্য করে বলতো, “চুতমারানী পুরাই জ্বালাইয়া দিছে।”

তার সাথে রাজনীতি শুরু করা অনেক মেয়েই আজ ঘর সংসার করায় ব্যস্ত। মধ্যবিত্ত সংসারের ঘানি টানতে টানতে তারা আজ সমাজের মধ্যম স্তরে আছে, কিন্তু তাদের কষ্টগুলো শুনলে সমাজের সবচেয়ে নিম্নস্তরের মানুষগুলোও নিজেকে সুখী ভাববে। মিসেস সম্পার এসব বোকা বান্ধবিগুলো আজ সম্পার থেকেও অনেক ওপরে থাকতে পারতো। লুনা নামের মেয়েটির ঝাঝালো বক্তৃতা শুনলে মাঘমাসের শীতেও ক্রোধে শরীর জ্বলতে শুরু করতো এবং চৈত্রের শেষেরদিকের প্রচন্ড উত্তাপেও লোমগুলো সব দাড়িয়ে যেত। এই বোকা মেয়েটি হারিয়ে গেলো শুধুমাত্র কুৎসিত শব্দ শোনার এলার্জীর কারনে। কলেজের কমিটি হওয়ার সময়ে সভানেত্রীর পদের দাবিদার ছিল লুনা।

তার প্যানেলেই সামান্য একটি সদস্য পদ পাওয়ার আশায় কাজ করতো সম্পা। মহানগর কমিটির ছাত্রনেতা সাদী ভাই লুনাকে উদ্দেশ্য করে একটি কুৎসিত শব্দ বলায় লুনা ও তার প্যনেল সাদী ভাইকে লাঞ্ছিত করেছিল, ফলে সাদী ভাইয়ের করা মহানগরের পকেট কমিটির সবার চোখেই লুনা ও তার প্যনেল হয়ে যায় খারাপ। সুযোগটা হাতছড়া করেনি সম্পা। সাদী ভাইর সাথে গড়ে তোলে খুব ভাল সম্পর্ক। আস্তে আস্তে প্যনেলের অন্য মেয়েদেরকেও বুঝিয়ে ফেলে যে লুনার সাথে থাকলে তারা প্যনেল সহ মাইনাস হয়ে যাবে। তাই লুনাকে মাইনাস করে তার জায়গায় সম্পাকে নিয়ে আসলেই প্যনেলের সবাই বেচে যাবে। কিছুদিন পরে ২১ সদস্যের কলেজ কমিটি ঘোষনা করা হলে সম্পার সভানেত্রী পদসহ তাদের প্যনেলের ১৪ জনই বিভিন্ন পদ পায়। লুনা কমিটিতে স্থান পায়নি।

সাদীর বিছানাতে শুয়ে শুয়েই সম্পা শুনেছিলো অসংখ্য নোংরা কয়েকটি শব্দের অসম্ভব রোমান্টিক কিছু প্রয়োগ। “চুতমারানী” ছিলো সাদীর অসম্ভব প্রিয় একটি শব্দ। সাদীর পরেও সম্পাকে অসংখ্য পুরুষের সাথে রাজনৈতীক উদ্দেশ্যে দৈহীক সম্পর্ক করতে হয়েছে। তারাও অনেকেই নিয়মিত নোংরা শব্দ ব্যবহার করতেন। আসলে তাদের দলের বেশিরভাগ নেতা নেত্রীরাই নোংরা শব্দে অভ্যস্ত। রাতের বেলায় মাংসের সাথে মাংসের আদিম বন্য খেলায় মেতে ওঠার সময়ে তাদের নেতা-নেত্রীরা যে সব শব্দ ব্যবহার করেন, দিনের বেলাতে বক্তৃতা, সেমিনারেও তার পুনরাবৃত্তি চলে। তবে সাদীর মত আবেগ ও ভালোবাসা দিয়ে কোনো নেতাই এখনও পর্যন্ত সম্পাকে “চুতমারানী” ডাকতে পারেনি। কমিশনার নির্বাচনের নমিনেশন চাইতে গিয়ে নিজের দলের বিরোধীপক্ষের হাতে মরতে হয়েছিলো সাদীকে। সাদীর মৃত্যুর পর থেকেই সম্পার কানের কাছে হঠাৎ হঠাৎ কে যেন এসে পৃথীবির সবচেয়ে আবেগঘন কন্ঠে বলে “চুতমারানী”। এরপর থেকে “চুতমারানী” শব্দ শোনার পরেই সম্পাও মহাআবেগী হয়ে নিজের মনে হেলাল হাফিজের একটি “চুতমারানী” যুক্ত কবিতা আবৃতি করতে শুরু করেন।

সেদিন সংসদে বক্তৃতার সময়ে সাদী এসেছিলো সম্পার কানের কাছে, তার সেই রোমান্টিক “চুতমারানী” শব্দ শোনাতে। সাদীর রোমান্টিকতায় সাড়া দিতে গিয়ে সম্পাও আবৃতি করেছিলো হেলাল হাফিজের কবিতা। এরপরই শুরু হয় দল থেকে তাকে বহিস্কারের হুমকি। কিন্তু দল কি জানে, সম্পাকে একটি চুতমারানীতে পরিনত করেছে এই দল। সংসদে “চুতমারানী” বলে দলকে ছোট করার কারনে দল হয়তোবা আজ তাকে বহিস্কার করলেও পারে, কিন্তু এই দলটিই যে সম্পাকে চুতমারানীতে পরিনত করেছে তার দায়িত্ব কি দল নিবে…!

১৭ thoughts on “সংসদে মাইকের সামনে দাঁড়ানো মেয়েটি…

  1. আপনার লেখার স্টাইল ভালো।
    আপনার লেখার স্টাইল ভালো। সংসদে গালিগালাজের যে কালচার শুরু হয়েছে সেটা সমর্থন যোগ্য নয়।

    1. লেখালেখির অভিজ্ঞতা দু মাস।
      লেখালেখির অভিজ্ঞতা দু মাস। প্রশংসা যেহেতু করেছেন, লাই তো পেয়েই গেলাম। আগামিতেও লিখব। সংসদে না, রাজনৈতিক যেকোনো মঞ্চেই বক্ততৃতার সময় নোংরা শব্দ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

  2. উরি ফাটায় দিছেন্। তবে আসল
    উরি ফাটায় দিছেন্। তবে আসল ম্যাডামে দেখলে কিন্তু খবর হ​য়ে যাবে, তখন রাজনৈতিক মানুষরা যে এর থেকে খ্রাফ হতে পারে তার প্রমান দেখাবে। জাস্ট ড্যাম কেয়ার করে যান।

    1. আমি এই দলের রাজনীতি করেই
      আমি এই দলের রাজনীতি করেই রাজনীতি শিখেছি… ম্যডামের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই… সাড়ে চার বছরের জাতীয়তাবাদী অভিজ্ঞতার ফল একটু একটু করে দেখতে পাবেন…

    2. লেখালেখির অভিজ্ঞতা দু মাস।
      লেখালেখির অভিজ্ঞতা দু মাস। প্রশংসা যেহেতু করেছেন, লাই তো পেয়েই গেলাম। আগামিতেও লিখব। সংসদে না, রাজনৈতিক যেকোনো মঞ্চেই বক্ততৃতার সময় নোংরা শব্দ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

    1. হাইকে “হাই” না দিয়ে মতিউর
      হাইকে “হাই” না দিয়ে মতিউর রহমানকে “হাই” দেয়াটাই উত্তম। গাছের আগায় পানি দিয়ে লাভ নেই, গোড়াটা কাটতে হবে।

  3. বিষয় উপস্থাপনের দক্ষতা আপনার
    বিষয় উপস্থাপনের দক্ষতা আপনার চমৎকার । পোস্ট এর রিভিউ তে কিছু বললাম নাহ । লিখতে থাকুন । শুভেচ্ছা রইল । :ফুল: :ফুল: :ফুল: :ফুল:

    1. কিছু না বলতে চেয়েও যে একটা
      কিছু না বলতে চেয়েও যে একটা মন্তব্য করে ফেললেন সেজন্য ধন্যবাদ। হুম, ভালো আইডিয়া মাথায় আসলে সামনেও লিখব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *