এই জাতির রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি কিভাবে হবে উন্নতী – সূচনা পর্ব

আমি তখন খুলনায় থাকি,একটা বেয়ারিং কারখানায় ফাস্ট গ্রেড মার্কেটিং অফিসার হিসেবে যোগ দিয়েছি।জীবনের প্রথম চাকরী অনেক বেশি সৎ আর কাজের প্রতি সিনসিয়ার থাকায়।
অনেক দ্রুত বসের বিশ্বাস অর্জন করতে সক্ষম হই।
বস যদি ও বেশ ঝানু মাল ছিলেন তারপরেও আমাকে বেশ বিশ্বাস করতেন এবং নিজের ছেলের মত আদর করতেন।আমি বেশির ভাগ সময় বসের বাড়িতে খেতাম আর ওখানেই থাকতাম।বলতে গেলে ওটা আমার দ্বিতীয় বাড়ি হয়ে গিয়েছিল।নিজের বাসায় মনে হয় সপ্তাহে তিন দিন ও থাকা হতো না।
বসের পরিবার ও অবশ্যই আমাকে আদর করতো খুব।খুলনার মানুষ এমনিতেই খুব সহজে মানুষকে কাছে টেনে নিতে পারে।

আমি তখন খুলনায় থাকি,একটা বেয়ারিং কারখানায় ফাস্ট গ্রেড মার্কেটিং অফিসার হিসেবে যোগ দিয়েছি।জীবনের প্রথম চাকরী অনেক বেশি সৎ আর কাজের প্রতি সিনসিয়ার থাকায়।
অনেক দ্রুত বসের বিশ্বাস অর্জন করতে সক্ষম হই।
বস যদি ও বেশ ঝানু মাল ছিলেন তারপরেও আমাকে বেশ বিশ্বাস করতেন এবং নিজের ছেলের মত আদর করতেন।আমি বেশির ভাগ সময় বসের বাড়িতে খেতাম আর ওখানেই থাকতাম।বলতে গেলে ওটা আমার দ্বিতীয় বাড়ি হয়ে গিয়েছিল।নিজের বাসায় মনে হয় সপ্তাহে তিন দিন ও থাকা হতো না।
বসের পরিবার ও অবশ্যই আমাকে আদর করতো খুব।খুলনার মানুষ এমনিতেই খুব সহজে মানুষকে কাছে টেনে নিতে পারে।
মাকে হারিয়েছি ছয় মাস বয়সে,বাবা গত হয়েছে কয়েক দিন হল।আপন বলতে এক আমেরিকা প্রবাসী ফুফাতো ভাই।
কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের পর কখনও মনে হয়নি আমি একা আমার কেউ নেই।বসের আদর স্নেহে সময় কেটে যাচ্ছে।এর মাঝে একদিন ম্যানেজার সাহেব টাকা মেরে দিয়ে উধাও,বস ওই চেয়ারে আমায় বসিয়ে দিলেন।
বসের কোন ছেলে ছিল না দুটোই মেয়ে।ছোট টা স্কুলে আর বড়টা ভার্সিটিতে পড়ে।
একদিন কাজ করতে করতে মেজাজ টা বেশ খিটখিটে হয়ে আছে।
ওই মূহুর্তে থানার ওসি এসে খটমট শুরু করে দেয়।মেজাজ এমনিতেই চটে ছিল রেগেমেগে ও ব্যাটাকে বের করে দেয়।আমি নতুন ছিলাম তাই জানতাম না,থানার ওসিকে নাকি হপ্তাহ দিতে হতো যা আমি দুসপ্তাহ ধরে পাঠাইনি তাই এসেছিল।
বেশ কয়েক দিন পুলিশ বাবুর দেখা নেই।
হঠাৎ কাস্টমস থেকে নোটিশ এল সাত লক্ষ টাকা লাইসেন্স নবায়ন ফি যা না দিলে কারখানা বন্ধ।কিন্তু কারখানা বন্ধ হলে চলবে কেন আবার এত টাকা লাইসেন্স ফি দেয়া সম্ভব নয়।এত টাকা ফি দিলে পুরো বছরের ব্যবসায়ীক লাভ বলে আর কিছু থাকবে না।
আমি বসকে জানালাম বস জানালেন মামলা চালাতে।কাস্টমস থেকে বেশ কয়েক বার চিঠি এল,আমি খুব সুন্দর করে রিপ্লাই করি।
একদিন কাস্টম কর্মকর্তা বিরক্ত হয়ে স্বশরীরে দেখা করতে বললেন।
গেলাম ঘন্টা দুই অপেক্ষা করার পর দেখা করলাম,প্রশ্ন করলেন চিঠির উত্তর কোন উকিল দিয়ে করি কিনা।বললাম আমিই করি,হয়ত বিশ্বাস হয়নি তাই তার সামনেই ড্রাফট করতে দিলেন।বেরিয়ে তার অফিসের পাশে ফুটপাথে দাঁড়িয়ে চা খাচ্চিলাম।
সেই কর্মকর্তা বেরিয়ে কোথাও যাচ্ছিলেন।আমি ডাক দিলাম এই যে সেলিম সাহেব এই দিকে আসেন।
উনি বেশ রেগে আসলেন,বললাম চা খান।আপনি তুমি করে ডাকলেন একটু আগে ও স্যার ডাকছিলেন।তুমি আমার সমবয়সী হবে আর স্যার ডেকেছি তোমার ওই চেয়ারকে তোমাকে নয়।
তুমি আর আমার মাঝে তফাৎ শুধু ওই চেয়ার অন্য কিছু নয়।
চা শেষে হনহন করে …….

৪ thoughts on “এই জাতির রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি কিভাবে হবে উন্নতী – সূচনা পর্ব

  1. এখানে কাস্টমস-ওয়ালার
    এখানে কাস্টমস-ওয়ালার দুর্নীতি কই ছিল.…ঘুষখোর তো ওই ওসি ব্যাটা.…কাস্টমস-ওয়ালা তো একটু মাতব্বরি ফলাইতে চাইছিল…

    :ভাবতেছি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *