টিকফা চুক্তি; হুমকির সম্মুখীন বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় ফার্মা সেক্টর

ধরে নিন, আপনার টাইফয়েড জ্বর হয়েছে। ডাক্তার আপনাকে ৭ দিনের জন্য ৭ টা Azithromycin ট্যাবলেট প্রেসক্রাইব করলেন। একেকটা ট্যাবলেট এর দাম ৩০ টাকা। আপনার পকেটে আছে ১০০ টাকার একটা নোট। আপনি ৯০ টাকা দিয়ে তিনটা ট্যাবলেট কিনে বাসায় গেলেন। ৪ দিনের মাথায় আপনি আবার ওষুধের দোকানে আসলেন বাকি ৪ টা ওষুধ কিনবার জন্য এবং অবাক হয়ে লক্ষ্য করলেন একেকটা ট্যাবলেট এর দাম ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৩৫০ টাকা হয়ে গেছে। আপনার তখন মনের অবস্থা কেমন হবে?


ধরে নিন, আপনার টাইফয়েড জ্বর হয়েছে। ডাক্তার আপনাকে ৭ দিনের জন্য ৭ টা Azithromycin ট্যাবলেট প্রেসক্রাইব করলেন। একেকটা ট্যাবলেট এর দাম ৩০ টাকা। আপনার পকেটে আছে ১০০ টাকার একটা নোট। আপনি ৯০ টাকা দিয়ে তিনটা ট্যাবলেট কিনে বাসায় গেলেন। ৪ দিনের মাথায় আপনি আবার ওষুধের দোকানে আসলেন বাকি ৪ টা ওষুধ কিনবার জন্য এবং অবাক হয়ে লক্ষ্য করলেন একেকটা ট্যাবলেট এর দাম ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৩৫০ টাকা হয়ে গেছে। আপনার তখন মনের অবস্থা কেমন হবে?

যেহেতু রোগমুক্তির জন্য এন্টিবায়োটিক এর কোর্স কমপ্লিট করতেই হবে তাই আপনি বেশি দামে হলেও ওষুধ কিনতে বাধ্য। আপনি ধনী হলে কোন সমস্যা নেই। ৩০ টাকার ওষুধ ৩০০০ টাকা হলেও আপনি কিনতে পারবেন। কিন্তু আপনি যদি হন একজন রিকশাওয়ালা, একজন দিনমজুর কিংবা সংসারের ঘানি টেনে চলা একজন মধ্যবিত্ত পরিবারপ্রধান; তাহলে ওষুধের কোর্স কমপ্লিট করা আপনার জন্য কি কঠিন এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে অসম্ভব হয়ে যাবে না? প্রিয় পাঠক, এমন ঘটনা বাস্তবে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা আছে বহুল আলোচিত TICFA চুক্তি বাস্তবায়িত হলে।

TICFA নিয়ে ব্লগ, ফেসবুক কিংবা অন্যান্য সোশাল মিডিয়াগুলোতে কম আলোচনা হচ্ছে না। আজকের পত্রিকায় দেখলাম সরকার অবশেষে এই চুক্তির খসড়া অনুমোদন করেছে। এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সময় ঠিক করে এই চুক্তি সই করা হবে। কি আছে এক চুক্তিতে? বাণিজ্যসচিব মাহবুব আহমেদ জানান, টিকফা চুক্তি স্বাক্ষর এখন সময়ের ব্যাপার। তিনি মনে করেন, এর খসড়ায় এমন কোনো শর্ত নেই, যা বাংলাদেশের সংবিধানের ২৮, ৩৪ ও ৩৮ অনুচ্ছেদ এবং ২০০৬ সালের শ্রম আইনের পরিপন্থী। মজার ব্যাপার হচ্ছে এই চুক্তি সংবিধানের ১৪৫(ক) ধারার পরিপন্থি। বাংলাদেশের সংবিধানের ১৪৫(ক) ধারা অনুসারে বিদেশের সাথে চুক্তি জাতীয় সংসদে আলোচনা করা বাধ্যতামূলক হলেও টিকফা নিয়ে চরম গোপনীয়তা বজায় রেখে চলছে সরকার। সংবিধানের ১৪৫(ক) ধারায় স্পষ্ট করে বলা আছে

বিদেশের সহিত সম্পাদিত সকল চুক্তি রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করা হইবে এবং রাষ্ট্রপতি তাহা সংসদে পেশ করিবার ব্যবস্থা করিবেন


অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে আমরা জানি এই ধরণের গোপনীয়তা বজায় রাখার মানেই হচ্ছে আবারও কোন জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তির খেসারত দিতে যাচ্ছে বাংলাদেশের জনগণ। টিকফা চুক্তিতে কি আছে তা এখনও আমরা জানি না, আমাদের সমস্ত বিশ্লেষণ এর ভিত্তি হচ্ছে ২০০৫ সনের লিক হয়ে যাওয়া টিফা চুক্তির খসড়া (কম-বেশি দুইটা চুক্তি একই ধরেই পর্যালোচনা করা হচ্ছে)।

আমি টিকফা’র বিস্তারিত আলোচনায় যাব না। টিকফার সাথে ফার্মা সেক্টরের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করব। পেশায় একজন ফার্মাসিস্ট হওয়াতে বাংলাদেশের ওষুধশিল্প সম্বন্ধে কিছুটা হলেও জানাশোনা আছে। গার্মেন্টস সেক্টরের পরেই বাংলাদেশের সবথেকে সম্ভাবনাময় খাত হচ্ছে ফার্মা সেক্টর। বর্তমানে বাংলাদেশে ওষুধশিল্পের আভ্যন্তরীণ বাজার ৯৪৪১ কোটি টাকা। IMS এর ডাটাকে বাংলাদেশের ফার্মা কোম্পানিগুলো standard হিসাবে ধরে নিলেও আসল মার্কেট সাইজ আরও বেশি হয়ে থাকে। সে হিসাবে বাংলাদেশের ফার্মা মার্কেটের আয়তন এই মুহূর্তে ১০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। অর্থাৎ সবগুলো ওষুধ কোম্পানি মিলে একবছরে ১০ হাজার কোটি টাকারও বেশি ওষুধ বিক্রি করে। গার্মেন্টস সেক্টরের পরে এই সেক্টরেই কর্মসংস্থান সবথেকে বেশি।

আমাদের দৈনন্দিন এবং জীবন রক্ষাকারী ওষুধের শতকরা ৯৭ ভাগই আমাদের দেশীয় কোম্পানিগুলোই প্রস্তুত করছে। এই সেক্টরে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছি বলা যায়। কেবলমাত্র Horomoe, Vaccnine এবং Anti-cancer কিছু ড্রাগ আমরা বাইরে থেকে আমদানি করে থাকি (৩%)। আশার কথা হচ্ছে কিছু কিছু দেশীয় কোম্পানি এই ওষুধগুলোও প্রস্তুত করা শুরু করেছে এবং করতে যাচ্ছে। আমাদের দেশীয় ওষুধের গুনগত মান অনেক ভালো বলেই বিশ্বের ৮০ টির অধিক দেশে আমাদের দেশীয় কোম্পানির তৈরি করা ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে। আর এসবই সম্ভব হয়েছে দুইটি কারণে।

১. Drug Control Ordinance 1982
২. Doha Declaration 2001

১৯৮২ সালের Drug Ordinance Act এর মাধ্যমে আমার বিদেশি ওষুধ কোম্পানিগুলোর একচেটিয়া মনোপলি বানিজ্য থেকে মুক্তি পেয়েছি। দেশীয় কোম্পানিগুলো ক্রমান্বয়ে নিজেদের যোগ্যতা দিয়ে সেইসব বিদেশি কোম্পানিগুলোর জায়গা দখল করেছে। তাই অনেক প্রভাবশালী ফার্মা কোম্পানি বাধ্য হয়েছে বাংলাদেশ থেকে তাঁদের ব্যবসা গুটিয়ে নিতে। কোন কোন বিদেশী কোম্পানি টিকে থাকার স্বার্থে বাধ্য হয়েছে দেশীয় কোম্পানির সাথে বা অন্য আরও দুই তিনটি বিদেশী কোম্পানির সাথে একীভূত হতে। এই আইনের ফলেই দেশীয় ফার্মা কোম্পানিগুলো আমাদের ফার্মা সেক্টরকে একটা শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড় করাতে সক্ষম হয়েছে।

আর দেশীয় ফার্মা কোম্পানিগুলো সেই শক্ত ভিত্তিকে পরিপূর্ণভাবে কাজে লাগাতে সক্ষম হয়েছে Doha Declaration 2001 এর মাধ্যমে। দোহা ঘোষণা ২০০১ অনুযায়ী বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার আওতায় বাণিজ্যবিষয়ক মেধাসম্পদস্বত্ব চুক্তি অনুসারে স্বল্পোন্নত সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ ২০১৬ পর্যন্ত ওষুধের ক্ষেত্রে মেধাসত্ত্ববিষয়ক বিধিনিষেধ থেকে ছাড় পেয়েছে এবং এই সুবিধা গ্রহণ করে বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলো বিভিন্ন পেটেন্ট করা ওষুধ উৎপাদন এবং রপ্তানি করতে পারছে। এই সুযোগ দেওয়া হয়েছে শুধুমাত্র LDC ভুক্ত দেশগুলোকে। আর LDC ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশই ওষুধ শিল্পে বহুদূর এগিয়ে গেছে। তাই এই সুবিধার সুফল বাংলাদেশের থেকে বেশি আর কেউ নিতে পারছে না। এই সুবিধার জন্যই বিদেশী পেটেন্ট করা ওষুধ আমরা অনেক কমমূল্যে দিতে পারছি মার্কেটে। দেশীয় কোম্পানিগুলোর কারণে বিদেশী কোম্পানিগুলোও বাধ্য হচ্ছে ওষুধের দাম কমিয়ে বিক্রি করতে। এতে কিন্তু তাঁদের কোন লস হচ্ছে না। লাভ কম হচ্ছে এই যা। মেধাসত্ত্ববিষয়ক বিধিনিষেধ বিষয়ক এ সময়সীমা প্রয়োজনে আরও বাড়ানো হতে পারে। ইতোমধ্যে এই সময়সীমা ২০২১ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর ব্যাপারে চেষ্টা চলছে।

মূল প্রসঙ্গে আসা যাক। TICFA হলে তাঁর প্রভাব ফার্মা সেক্টরে উপর কিভাবে পড়বে চলুন সেটা দেখি। আগেই বলেছি টিকফা নিয়ে সরকার যেহেতু চোর-পুলিশ খেলছে আমাদের সাথে তাই টিফা চুক্তিই আমাদের একমাত্র ভরসা। এই চুক্তির ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা আছে,

Recognizing the importance of providing adequate and effective protection and enforcement of intellectual property rights [obligations contained in the Agreement on Trade-Related Aspects of Intellectual Property Rights (TRIPS) and other intellectual Property rights conventions. adherence


অর্থাৎ,

বাণিজ্য সম্পর্কিত মেধাসত্ত্ব অধিকার এবং অন্যান্য প্রচলিত মেধাসত্ত্ব আইনের যথাযথ এবং কার্যকরী রক্ষণাবেক্ষণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে।

টিকফা চুক্তির ফলে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প ও পাবলিক হেলথ এর উপর যে সকল বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে সংক্ষেপে তা হচ্ছে ঃ

১। মেধাসত্ত্ব আইন কার্যকর হলে বাংলাদেশের ওষুধ কোম্পানিগুলো অনেক ওষুধ তৈরি করতে পারবে নাঃ

পেটেন্ট আইনের ফলে পেটেন্টেড ওষুধ বানাতে পারবে না বাংলাদেশ, ফলে বাংলাদেশের অনেক ওষুধ কোম্পানির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যেতে পারে, ওষুধ শিল্প হুমকির মুখে পড়তে পারে।বাংলাদেশ ওষুধ শিল্পে রপ্তানি সম্ভাবনা হারাবে। আমাদের কয়েকগুণ বেশি দামে বিদেশি কোম্পানির পেটেন্ট করা ওষুধ খেতে হবে। তাছাড়া ওষুধের পেটেন্ট আগে দেয়া হতো সাত বছরের জন্য, এখন বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার TRIPS আইনে তা আরও বাড়িয়ে ২০ বছর করা হয়েছে। অর্থাৎ আবিষ্কারক কোম্পানি সুদীর্ঘ ২০ বছর ধরে নিজের ইচ্ছামতো দামে ওষুধটির একচেটিয়া ব্যবসা করে অবাধে মুনাফা লুট করবে। TICFA বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ TRIPS মানতে বাধ্য থাকবে।

২। বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প জায়ান্ট ফার্মা কোম্পানিগুলোর পেটেন্ট, কপিরাইট, ট্রেডমার্ক ইত্যাদির লাইসেন্স খরচ বহন করতে গিয়ে অভূতপূর্ব লোকসানের কবলে পড়বেঃ

পেটেন্ট অধিকারী জায়ান্ট ফার্মা কোম্পানিকে পেটেন্ট/ কপিরাইট/ ট্রেডমার্ক লাইসেন্স দিয়ে ওষুধ উৎপাদনের অনুমতি নিতে হবে বাংলাদেশের ওষুধ কোম্পানিগুলোকে, ফলে উৎপাদন খরচ কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে কেননা দেশীয় ওষুধ কোম্পানিগুলো নিজ দেশেই তাদের ওষুধ বিক্রি করতে গিয়ে বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়বে। ফলে অনেক মাঝারি ও ক্ষুদ্র ওষুধ কোম্পানি বন্ধ হয়ে যাবে।

৩। হুমকির মুখে পড়বে জনস্বাস্থ্যঃ

ট্রিপস চুক্তির ফলে ওষুধের দাম জ্যামিতিকহারে বাড়বে এটা নিশ্চিত, ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে নিম্ন আয়ের মানুষ কেননা দরিদ্ররা ওষুধ কিনতে গিয়ে হিমশিম খাবে। অনেক জীবন রক্ষাকারী ওষুধের মাত্রাতিরিক্ত চড়া দামের কারনে ওষুধের অভাবে মরবিডিটি এবং মর্টালিটি বেড়ে যাবে ফলে আমাদের জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।

এই যে পেটেন্ট বা মেধাসত্ত আগ্রাসন এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে গবেষণা ও টেকনোলজিকে কুক্ষিগত করে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোকে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর বাজারে পরিনত করা। Anticancer, Antiretroviral, সহ অনেক জীবন রক্ষাকারী ড্রাগ এর উপর প্যাটেন্ট আরোপ বাংলদেশসহ এশিয়া আর আফ্রিকার কোটি কোটি গরিব মানুষের পাবলিক হেলথ ধ্বংস করে দিবে।

একটা উদাহরণ দিলেই পরিষ্কার হবে পেটেন্ট এর নামে পশ্চিমা বহুজাতিক কোম্পানি কিভাবে অবাধ লুণ্ঠনের ধান্ধা করে। ভারতে ২০০৬ সাল থেকেই Novartis ক্যানসার নিরাময়ে ব্যবহূত গ্লিভেক নামের ওষুধটির উপর মেধা সত্ত্বের দাবি জানিয়ে আসছে এবং ভারতীয় ওষুধ কোম্পানিগুলো ওই ওষুধটি নকল করে বাজারজাত করছে বলে অভিযোগ করে। কিন্তু ভারতের সুপ্রিম কোর্ট Novartis এর মেধাসত্ত্বের দাবিকে বেআইনি ঘোষণা করে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, Novartis যে ওষুধটির স্বত্ব দাবি করছে,সেটির মধ্যে ‘নতুনত্ব বা নব-আবিষ্কারের কোনো বিষয়’ নেই। তাই ভারতীয় আইনে Novartis সেটির স্বত্ব পেতে পারে না। ভারতের আইন অনুযায়ী, প্রচলিত ওষুধের চেয়ে খুব বেশি উন্নত বা আলাদা নয় এমন কোনো নতুন ওষুধ স্বত্ব পেতে পারে না। ভারতের ওষুধ কোম্পানি Cipla Ltd. ও Netco Pharma Ltd. গ্লিভেক ওষুধটি তৈরি করে Novartis-র চেয়ে প্রায় দশ গুণ কম দামে বিক্রি করে। Novartis এর মতলব ছিল এই ওষুধের সত্ত্ব আদায় করে নিয়ে ভারতের কোম্পানিগুলার ওষুধ উৎপাদনের অধিকার কেড়ে নিয়ে ভারতের বিশাল বাজারে নিজে চড়া দামে এই ওষুধ বিক্রি করে অবাধে মুনাফা লুটা। কিন্তু ভারতের আদালত এই মতলববাজি আইনের মারপ্যাঁচেই রুখে দিয়েছে। এর মাধ্যমে ভারতের দরিদ্র জনগণের কম দামে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ কেনার অধিকার সুরক্ষিত হল সাথে সাথে তাদের ওষুধ শিল্পও বহুজাতিকের অবৈধ আগ্রাসন থেকে রক্ষা পেল। উল্লেখ্য ভারত কিন্তু TICFA চুক্তিতে স্বাক্ষর করে নি। তাই এমন শক্তিশালী অবস্থান নেওয়া তাঁদের পক্ষে সম্ভব হয়েছে। TICFA চুক্তিতে স্বাক্ষর করলে বাংলাদেশ চাইলেও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে এমন অবস্থান নিতে পারবে না।

আরও একটা উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে আফ্রিকা থেকে। Pfizer, GlaxoSmithKlin এর মত বড় বড় কোম্পানীগুলো শুধুমাত্র অধিক মুনাফা লাভের জন্য উন্নয়নশীল দেশের এক কোটি এইডস রোগীকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়। তারা WTO চুক্তির আয়ত্তাধীন TRIPS কে ব্যবহার করে লাইফ সেভিংস এই ড্রাগসের পেটেন্ট আইন কার্যকর করে। ফলে বছরে যেই ওষুধের খরচ ১৫০০০ ডলার (একই ওষুধ ভারতের Yusuf Khwaja Hamied ৩৫০ ডলারে দিতে সক্ষম), সেই খরচ মেটানো সম্ভব হয় নি দরিদ্র আফ্রিকানদের। মুনাফাখোরদের এই উচ্চমূল্যই এই লোকদের মৃত্যুর কারন। কোটি লোক মারার এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে Dylan Mohan Gray পরিচালিত Fire in the Blood মুভিতে। অনেকেই মতেই এটি শতাব্দীর সবচেয়ে নৃশংসতম অপরাধ।

অনেক প্রতিকূলতাকে পাশ কাটিয়ে এতদিনে আমাদের ফার্মা সেক্টর তাঁর ভিতটাকে দাঁড় করাতে সক্ষম হয়েছে। এখন সময় সেই ভিত্তিটাকে মজবুত করার। তাঁর আগেই যদি TICFA বাস্তবায়ন হয় তাহলে এতদিনের পরিশ্রমে গড়া আমাদের ফার্মা সেক্টর ধ্বসে পড়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। এই সেক্টরে কাজ করছে হাজার হাজার মানুষ। একজন মানুষের উপার্জনে একটা সংসার চলে। তাই সামাজিক স্থিতিশীলতা সর্বোপরি ফার্মা সেক্টরের উন্নতির স্বার্থেই এই মুহূর্তে আমাদের টিকফা কোন প্রয়োজন নেই। এই ব্যাপারটা সরকারের কর্তাব্যক্তিরা যদি বুঝেও না বুঝতে চান তাহলে বলব, গোল্ডফিসের মতন স্মৃতিশক্তির অধিকারী বাংলাদেশীরা আপনাদের ক্ষমা করতে পারলেও ইতিহাস আপনাদের কখনোই ক্ষমা করবে না।

এই লেখাটা তৈরি করার জন্য যিনি আমাকে সবথেকে বেশি সাহায্য করেছেন তিনি হচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি এবং ফার্মাকোলজি বিভাগের প্রভাষক Zobaer Al Mahmud। তাঁর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

References:
১. যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অবশেষে টিকফা সই হচ্ছে
২. IMS 1st Quarter, 2013
৩. Drug Control Ordinance 1982
৪. Doha Declaration 2001, Extension of transition period for Least-Developed Countries (LDCs)
৫. US-Bangladesh TIFA (draft)

৮১ thoughts on “টিকফা চুক্তি; হুমকির সম্মুখীন বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় ফার্মা সেক্টর

  1. চুক্তির মারপ্যাচ বুঝিনা।
    চুক্তির মারপ্যাচ বুঝিনা। কিন্তু আপনার দেওয়া তথ্যগুলো পড়ে গায়ের লোম খাঁড়ায়ে গেছে। গরীবের এবং মধ্য আয়ের মানুষের মরা ছাড়া কোন গতি দেখছি না। ফার্মা কোম্পানিগুলার অবস্থা কি হবে সেটা ভেবেও চরম রাগে গা চিড়বিড় করছে। আর আমাদের পেশার কথা যদি বলি, এই দেশে ডাক্তারি করা আরও কঠিন থেকে কঠিনতর হবে। কারন ওষুধের দাম বেশী হলেও লোকে ডাক্তারেরই দোষ দেয়। যেমন, বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা বা ইনভেস্টিগেশনের চার্জ আমাদের দেশের ডায়াগনস্টিক সেন্টার গুলোতে অস্বাভাবিক রকম বেশী। ডায়াগনস্টিক সেন্টার তো ডাক্তার চালায় না। সব ডাক্তার কমিশনও খায় না। যারা খাই না তারা পড়ি বিপাকে। তাই অনেকসময় টেস্ট না করেই অন্ধের মতো চিকিৎসা দিয়ে যাই। এখন তো প্রেসক্রিপশনে ওষুধ লেখার সময়ও কলম চলবে না। কারন, আমার একটা কু-অভ্যাস হচ্ছে ফার্মা কোম্পানির প্রতিনিধি ভিজিট করার সময় নতুন কোন ওষুধ প্রমোট করলেই আগে জিজ্ঞেস করি দাম কতো? কারন একটা রোগীর পোশাকআশাক দেখেই ধারণা করে নেওয়া যায় তার আর্থিক অবস্থা কেমন হবে। সেই অনুযায়ী প্রেসক্রিপশন। এখন কি হবে?
    যদিও আপনি অনেকগুলো উদাহরণ দিয়েছেন, আমি একটা যোগ করি। জীবন রক্ষাকারী এন্টিবায়োটিক ইনজেকশনের মধ্যে সবচেয়ে বেশী ব্যবহৃত হয় inj.Ceftriaxon। প্রথম যখন মার্কেটে আসল আমার মনে আছে তখন Roche কোম্পানির এই ইনজেকশন Oricef এর দাম ছিল ১গ্রামের দাম ৫০০ টাকা। এর কিছুদিনের মধ্যেই আমাদের দেশীয় কোম্পানি ACI একই ইনজেকশন ২২০ টাকা দামে নিয়ে আসল। এরপর তো একে একে সব কোম্পানিই এর চেয়েও কম দামে বাজারে এই ইনজেকশন বিক্রি শুরু করল। এর অনেক পর Roche তার ইনজেকশনের দাম কমাতে বাধ্য হলো।

    আমাদের ওষুধ শিল্প যখন স্বয়ং সম্পুর্ন হতে চলেছে তখন এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত কেন? hormone, vaccine এবং anticancer ওষুধও এখন আমাদের কোম্পানিগুলো তৈরি শুরু করেছে। এবং দামও নাগালের মধ্যে চলে আসছে। ঠিক এই সময়ে এই সিদ্ধান্ত সত্যিই হতাশ করে।
    হতাশ হলে তো আমাদের চলে না। আমাদের ফুঁসে উঠতে হয়। আমি ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষন হচ্ছে, স্বাস্থ্য সেক্টরের দিকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ দৃষ্টি আছে। ফলে আওয়ামী সরকারের আমলে এই সেক্টরে কিছুটা হলেও উন্নয়ন হয়। আমার দাবী চাটুকার আমলা-মন্ত্রীদের দেওয়াল ভেদ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কানে এই ব্যাপারটা তুলে ধরলে উনি নিশ্চয়ই একটা ভূমিকা রাখবেন। কেউ কি আছেন?

    ইস্টিশন মাস্টারের প্রতি দাবী, এই পোস্ট স্টিকি করে আমাদের প্রতিবাদ অব্যহত রাখা হোক।

    1. আপনার জানায় কিছুটা ভুল আছে
      আপনার জানায় কিছুটা ভুল আছে আতিক ভাই। Roche যখন প্রথম Oricef বাজারে ছাড়ে তখন ১ গ্রাম এর দাম ছিল ১২০০ টাকা। এরপর তাঁরা কমিয়ে আনে প্রথমে ৭০০ এবং পড়ে ৫০০ টাকায়। ACI মার্কেটে Ceftriazone নিয়ে আসার পর তাঁরা দাম আরও কমিয়ে ৩০০ টাকাতে নিয়ে আসে। এখন তো ১২০ টাকাতেই Ceftriazone ইঞ্জেকশন পাওয়া যাচ্ছে।

      1. হ্যাঁ, আমার জানায় ভুল থাকতেই
        হ্যাঁ, আমার জানায় ভুল থাকতেই পারে। কারন আমি শেয়ার করেছি আমার নিজ অভিজ্ঞতার কথা, যেটা আমি সচক্ষে দেখেছি ইন্টার্নশীপের সময়। তখন অরিসিফের দাম ৫০০ টাকা ছিল। আগে যেআরও বড় পুকুরচুরি করে ফেলেছে সেটা যেনে অবশ্য অবাক হই নাই। বিদেশী কোম্পানিগুলোর কাজই তো এই।
        এই নিয়ে আরও একটা মুভি আছে The constant gardener। সেখানে দেখানো হয়েছে কিভাবে বিদেশী ফার্মা কোম্পানিগুলো আফ্রিকান দেশগুলোতে গরীব মানুষের উপর নতুন নতুন ওষুধের ট্রায়াল দিয়ে তাঁদের গিনিপিগ হিসেবে ব্যবহার করে।

          1. মুভিটা মিস কইরেন না। অসাম
            মুভিটা মিস কইরেন না। অসাম মুভি। আর এই বিষয়ে আলাপ এখানেই ইতি। স্টিকি পোস্টে এইসব খাজুরা আলাপ দেখলে মাস্টার দাবড়ানি দিবো। :আমারকুনোদোষনাই:

          2. ভাই লিংক নাই মুভির??? পাইতাছি
            ভাই লিংক নাই মুভির??? পাইতাছি নাহ । টরেন্ট ফাইল গুলা ইনভ্যালিড ।!!!!

          3. থাঙ্কু থাঙ্কু থাঙ্কু =
            :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: থাঙ্কু থাঙ্কু থাঙ্কু = ট্রিপোল থাঙ্কু । :শয়তান:

      1. চুক্তি তো হয়েই গেছে রে ভাই।
        চুক্তি তো হয়েই গেছে রে ভাই। তবে এখন চেষ্টা করতে হবে যেন তা আর বাস্তবায়িত হতে না পারে।

      2. চুক্তি তো হয়েই গেছে রে ভাই।
        চুক্তি তো হয়েই গেছে রে ভাই। তবে এখন চেষ্টা করতে হবে যেন তা আর বাস্তবায়িত হতে না পারে।

  2. কন কি,,,,,পেটেন্টের জালেতো
    কন কি,,,,,পেটেন্টের জালেতো আরও অনেক কিছুই আটকাইয়া যাইবো,,,,,মাওলানা ভাসানী বলেছিলেন,মার্কিনিরা যাদের বন্ধু হয় তাদের শত্রুর প্রয়োজন পরে না,,,,,

  3. ওপেন মার্কেট পলিসি সবসময়েই
    ওপেন মার্কেট পলিসি সবসময়েই দরিদ্র‍্য দেশগুলোর জন্য অভিশাপ বয়ে নিয়ে এসেছে.…আমার কিছু প্রশ্ন আছেঃ
    ১।মেধাসত্ব কি? ?
    ২।শুধু কি বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ই এতে কাজ করছে নাকি আর-ও মন্ত্রনালয় আছে? ?৩।কোন কোন খাতে এই চুক্তি হচ্ছে? ?
    ৪।আমরা কি কি পাচ্ছি আর বিনিময়ে কি কি দিচ্ছি? ?৫।বলা হচ্ছে যে কোন সময়েই এই চুক্তি বাতিল করা যাবে যদি তাই হয় তাহলে ভয় পাবার কি আছে? ?
    ৬।আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কোন ভুমিকা আছে কি ? ?

    1. ১. মেধাসত্ত হচ্ছে কোন
      ১. মেধাসত্ত হচ্ছে কোন প্রোডাক্ট যেই কোম্পানি প্রথম তৈরি করবে তা ৭ বছর পর্যন্ত (বর্তমানে ২০ বছর) অন্য কেউ তৈরি করতে পারবে না। কিন্তু LDC ভুক্ত দেশগুলো সেটা পারবে। তাঁদের জন্য স্পেশাল ছাড়। কিন্তু TICFA হলে সেই স্পেশাল ছাড় উঠে যাবে।
      ২. বলতে পারব না।
      ৩. এই বিষয়ে আনিস রায়হানের টিকফা চুক্তি : ক্ষতি বাংলাদেশের এই লেখাটা পড়ে দেখুন। উত্তর পেয়ে যাবেন।
      ৪. এই চুক্তির কোন কিছুই সরকার প্রকাশ করছে না তাই কি পাচ্ছি আর কি দিচ্ছি সেটা বোঝা যাচ্ছে না। টিফা চুক্তির আদলে হচ্ছে শুনছি। সেটা সত্যি হলে অনেক কিছুই দিচ্ছে কিন্তু উল্লেখ করার মত কিছুই পাচ্ছি না। আমেরিকা কে খুশি করে সামনে ক্ষমতায় আসা যায় কি না সেটার একটা অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই মনে হচ্ছে না।
      ৫. আমেরিকার সাথে করা কোন চুক্তি বাংলাদেশ সরকার বাতিল করবে? আপনি কি দিবাস্বপ্ন দেখছেন? এমন কিছু কি আগে ঘটেছে?
      ৬. পুরোটাই তো নোংরা কর্পোরেট খেলা বুঝছেন না কেন? বহুজাতিক সংস্থাগুলো কি আর বসে বসে আঙুল চুষছে?

  4. অনেক কথাই বলতে ইচ্ছা করতেছে
    অনেক কথাই বলতে ইচ্ছা করতেছে ভাই। একদম প্রথম থেকেই শুরু করি। Azithromycin এর দাম ৩০ টাকা হওয়াতে যারা খুশি হচ্ছেন তারা বোকার স্বর্গে বাস করেন। এর দ্বারা স্বাস্থ্য খাতের ক্ষতি ছাড়া লাভ হচ্ছে না। MDRTB এর এই ড্রাগটি যথেচ্ছা ব্যবহারের ফলে এখন বাতিল প্রায়। এর জন্যে ডাক্তারদের irrational drug choice সহ ওষুধ বেচনেওয়ালারাও দায়ী। টিকফা চুক্তি নিয়ে অনেক কথাই পড়লাম পোষ্টে। আগে আলাদা করতে হবে এই চুক্তির ফলে ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানী লসের মুখে পড়বে নাকি স্বাস্থ্য খাতে ধস নামবে। এইটা বলার কোন সুযোগ নাই যে একটা আরেকটার পরিপূরক। ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানী রোগীর ভাল চায়, স্বাস্থ্য খাতের উন্নতি করতে চায় এইটা আমি মানি না। তারা স্রেফ ব্যবসা করতে চায়। সুতরাং আগে আলাদা করতে হবে ক্ষতির মুখে কারা পড়তেছে। ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানীগুলোকে বাচাতে হুমকির মুখে পড়বে জনস্বাস্থ্যঃ এইসব আবেগী কথা বলার কোন দরকার নাই। আপনারা ceftriaxone এর দামের তুলনা করলেন, কিন্তু মানের তুলনা করলেন না। চুপচাপ পাশ কাটায় গ্যালেন। ACI আর Roche এর ওষুধের মান এক প্লিজ এই কথা ঘুনাক্ষরেও বলবেন না।

    এন্টিভাইরাল বা এন্টিক্যান্সার জাতীয় ওষুধের দাম বাড়ার উদাহরনই শুধু পাইলাম। চুক্তির কারনে শুধু এই দুইগ্রুপের ওষুধের দামই বাড়বে কিনা তা উল্ল্যেখ নাই। আর আমার অজ্ঞতার কারনে জানাও নাই আসলে আর কোন কোন গ্রুপের ড্রাগের দাম বাড়বে। জানালে অবশ্যই কৃতজ্ঞ থাকব। এগেইন যদি শুধু এই দুই গ্রুপের দামই বাড়ে তাহলে বলতে হবে এটা এখনও নিম্নবিত্তদের ধরাছোয়ার বাহিরে আছে।দাম বাড়লেও, ১০০ গুন বাড়লেও যারা এখন কিনতে পারে তারা পরেও কিনতে পারবে। ক্যান্সারের চিকিৎসা এদেশে গরীবরা নিতে পারে না। এক সাইকেল কেমো চালানোর মত পয়সা তাঁদের নাই। তাঁদের রেডিওথেরাপী নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়। একই কথা হেপাটাইটিস-বি এর জন্যেও প্রযোজ্য। সো স্বাস্থ্য খাত ধসে পড়ার মত অবস্থা হবে কিনা সেটা দ্যাখার বিষয়। তবে হ্যা গোটা কয়েক ফার্মা ধসে পড়লেও পড়তে পারে। এইসব ওমিপ্রাজল সর্বস্ব কোম্পানীগুলো টিকে থাকার দরকার আছে বলে মনে করি না। একই সাথে কয়টা ফার্মাসিউটিক্যালস এন্টিভাইরাস বা এন্টিক্যান্সার ড্রাগ বাজারজাত করে তাও জানা দরকার। কান্নাকাটি সম্ভবত তারাই করবে।

    আমি বরং কিছু ওষুধের দাম বাড়ুক চাই। এতে অন্তত irrational prescribing বন্ধ হবে। UTI এর treatment যেখানে সিম্পল ciprofloxacin দিয়েই করা যায় সেখানে আমাদের কেউ কেউ ধুপধাপ ৪৫ টাকা দামী cefuroxime লিখে দিচ্ছে। এগুলো বন্ধ করার জন্যেও কিছু কিছু দাম বাড়ার দরকার আছে। মূল কথা টিকফা চুক্তিতে কতিপয় নাম সর্বস্ব ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানী বসে যাইতে পারে, স্বাস্থ্য খাত বসবে সেটা বলার সময় এখনো আসে নাই।

    1. দাম বাড়লেই ইরেশনাল ড্রাগ ইউজ
      দাম বাড়লেই ইরেশনাল ড্রাগ ইউজ কমে যাবে এটা মনে হয় পুরোপুরি ঠিক না। উপজেলা এবং গ্রাম পর্যায়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি- ইরেশনাল ড্রাগ ইউজ বেশী হয় পল্লী চিকিৎসক, বা গ্রাম্য ডাক্তারদের দ্বারা। আমার এখানে এক পিস আছে। ধুমায়ে মেরোপেনেম ইনজেকশন দিয়ে যায়। রোগীরাও ধুনফুন বুঝ পেয়ে ঠিকই তাদের কাছে চিকিৎসা নিচ্ছে।
      Aci আর Roche এর ওষুধের মান এক না এটা জানি। কিন্তু যেই ওষুধ আমার দেশের কোম্পানি ১৮০ টাকায় দিতে পারে, সেই ওষুধ ১২০০ টাকায় কেন কিনব? ACI এর কথা বাদ দিলাম। দেশে কি একটাও কোম্পানি নাই যারা মানসম্পন্ন ওষুধ তৈরি করে? আমি তাদেরটা ব্যবহার করব, কিন্তু কয়েক গুন বেশী দাম দিয়ে কেন বিদেশী কোম্পানির ওষুধ কিনব? যেহেতু এখনও দেশে পেটেন্ট ওষুধের ম্যানুফেকচারিং এর কোন নিষেধাজ্ঞা নেই, তাই হয়ত বিদেশী এই কোম্পানিগুলোর আসল চেহারা দেখতে পাচ্ছ না। আইন হয়ে গেলে তখন ১৪ টাকার সিপ্রোও ১৪০ টাকায় কিনতে হতে পারে। সেই রিস্ক জেনেবুঝে আমরা কেন নেব? আর ফার্মা কোম্পানি দান খয়রাত করার জন্য সেট আপ বসায় না। ব্যবসা করার জন্যই বসায়। তারা ব্যবসা করুক সেটাতে সমস্যা তো দেখিনা। যেমন, যারা বলে চিকিৎসা একটি মহান পেশা। চিকিৎসকদের একেবারে চ্যারিটি ওয়ার্কার টাইপ কিছু হইতে হবে। তাদের কথার সাথেও আমার আপত্তি আছে। চ্যারিটি কোন পেশা হতে পারে না। পেশা হইতে হলে তার মধ্যে প্রফেশনালিজম আনতেই হবে। সেক্ষেত্রে দুই পক্ষেরই লাভ।

      1. একটা অপ্রাসংগিক মন্তব্য করি।
        একটা অপ্রাসংগিক মন্তব্য করি। ভাই Roache এর কাছে আমি কৃতজ্ঞ। একবার নাইটে এক রোগি আইল, অবশ্যই কম বয়সী নারী। তার পেটের ব্যাথা কোনভাবেই কমে না। সব ব্যাথার ওষূধ দেই তাও কমে না। পরে Roache এর 2gm ceftriaxone BD মারলাম। সকাল হইতে হইতে পেট ব্যাথা মামা বাড়ী। 😉

        1. আমি তো বলি নাই Roche খারাপ
          আমি তো বলি নাই Roche খারাপ কোম্পানি। কিন্তু তোমাকে চিকিৎসা দিতে গিয়ে আমাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার কথাও তো মাথায় রাখতে হবে। দেশীয় কোম্পানি ম্যানুফেকচারিং শুরু না করলে আজও Oricef এর 1gm এর দাম ১২০০ টাকাই থাকত। শুধু উন্নত মানের কথা চিন্তা করলেই তো হবে না। তাইলে তো সবাইরেই মানের কথা চিন্তায় রেখে আই ফোন ইউজ করা শুরু করা লাগবে। সেটা তো সম্ভব না। আর আমাদের দেশের শীর্ষ ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানির ওষুধের মানও এখন বিশ্বমানের। বায়ো-ইকুইভ্যালেন্ট টেস্টের মাধ্যমে যা প্রমাণিত। ধুনফুন কোম্পানিরে আমি গননায় ধরি না।

        2. একদম প্রথম থেকেই উত্তর দেই কি
          একদম প্রথম থেকেই উত্তর দেই কি বল?

          আগে আলাদা করতে হবে এই চুক্তির ফলে ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানী লসের মুখে পড়বে নাকি স্বাস্থ্য খাতে ধস নামবে

          দুইটাই লসের মুখে পড়বে। দেশীয় ফার্মা কোম্পানিগুলো যদি বন্ধ হয়ে যায় কিংবা পেটেন্ট ওষুধ উৎপাদন বন্ধ করে দেয় তাহলে সেইসব ওষুধ বিদেশী কোম্পানিগুলোর কাছে থেকে অনেক বেশি দামে তোমার কিনতেই হবে। দেশীয় কোম্পানিগুলো বিজনেস করে, আর বিদেশী কোম্পানিগুলো আরও বেশি বিজনেস বুঝে। এই দেশের জনগনের প্রতি তাঁদের কোন দায়বদ্ধতা নেই। তুমি ডাক্তার, ওষুধ তোমার লিখতেই হবে। এখন তো প্রায় সব ওষুধই হাসপাতালে সাপ্লাই থাকে। দাম বাড়লে এত বেশি দামের ওষুধ কি সরকার সরবরাহ করতে পারবে হাসপাতালগুলোতে? তাহলে স্বাস্থ্য খাতের অবস্থা কতটা করুণ হবে সেটা কল্পনা করতে পারছ?

          আপনারা ceftriaxone এর দামের তুলনা করলেন, কিন্তু মানের তুলনা করলেন না। চুপচাপ পাশ কাটায় গ্যালেন।

          পাশ কাটাই নাই। আমি কিন্তু উল্লেখ করেছি আমাদের দেশীয় কোম্পানির ওষুধ ৮০ টিরও বেশি দেশে রপ্তানী হচ্ছে। ওষুধের মান খারাপ থাকলে সেটা সম্ভব হত না। কারণ বিদেশে ওষুধ রপ্তানী করতে হলে অনেকগুলো standard maintain করতে হয়। সেইসব criteria fullfill করতে না পারলে সেই দেশে ওষুধের registration করা যায় না। রপ্তানী তো পরের কথা। আর আমাদের দেশের অনেক কোম্পানি bioequivalence study-র মাধ্যমে প্রমাণ করেছে তাঁদের ওষুধ গুনগত মানের দিক থেকে বিদেশী কোম্পানির ওষুধের থেকে কোন অংশে কম না। উদাহরন দেই, General Pharma ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ডঃ আবুল হাসনাতের মাধ্যমে bioequivqlence satudy করিয়েছিল তাঁদের Azithromycin এবং Etoricoxib এর. পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে Pfizer কোম্পানির Zithromax এবং MSD কোম্পানির Ercoxia-র সেইম কোয়ালিটি আমাদের দেশীয় প্রোডাক্টগুলোর।

          দাম বাড়লেও, ১০০ গুন বাড়লেও যারা এখন কিনতে পারে তারা পরেও কিনতে পারবে।

          সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। Roche এর hepatitis medication Peg-interferon alpha এর একটা ইঞ্জেকশন এর দাম ২২০০০ টাকা যেটা Incepta আর Beacon বিক্রি করে ৯৮০০ টাকায়। হেপাটাইটিস এর চিকিৎসায় কমপক্ষে ৪৮ টা ইঞ্জেকশন দিতে হয়। বাংলাদেশী ওষুধ ব্যবহারে ৫০০০০ টাকারও বেশি সেইভ হয়। এই ৫০০০০ টাকা বড়লোকের কাছে কিছুই না কিন্তু মধ্যবিত্তের কাছে অনেক টাকা।

          আমি বরং কিছু ওষুধের দাম বাড়ুক চাই। এতে অন্তত irrational prescribing বন্ধ হবে।

          এই প্রশ্নের উত্তর আতিক ভাই দিয়ে দিয়েছেন।

          মূল কথা টিকফা চুক্তিতে কতিপয় নাম সর্বস্ব ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানী বসে যাইতে পারে, স্বাস্থ্য খাত বসবে সেটা বলার সময় এখনো আসে নাই।

          আমি যুক্তি দেখালাম। বাকিটা সময়ই বলে দিবে। কিন্তু সময়ের অপেক্ষায় বসে থেকে অনিশ্চিত ভবিশ্যতের পানে তাকিয়ে থাকা কি ঠিক? একজন ডাক্তার হিসাবে তোমার কি মনে হয়?

          1. কারণ বিদেশে ওষুধ রপ্তানী করতে

            কারণ বিদেশে ওষুধ রপ্তানী করতে হলে অনেকগুলো standard maintain করতে হয়। সেইসব criteria fullfill করতে না পারলে সেই দেশে ওষুধের registration করা যায় না।

            হ্যা আর জোচ্চুরিটাও এইখানেই করে কোম্পানীগুলা। যেই মানের ড্রাগ রপ্তানী করে বিদেশে এই মানের ড্রাগ বাজারজাত করে না দেশে। মানেন আর না মানেন এইটাই সত্যি। বায়োইকুইভ্যালেন্ট এর যেই ব্যাপারটা আপনি বললেন সেখানেও কাহিনী আছে। প্রথম একটা বা দুইটা চালানে সেটা ঠিক রাখা হয়। তারপর যেই লাউ সেই কদু।

            Incepta আর Beacon বিক্রি করে ৯৮০০ টাকায়। হেপাটাইটিস এর চিকিৎসায় কমপক্ষে ৪৮ টা ইঞ্জেকশন দিতে হয়। বাংলাদেশী ওষুধ ব্যবহারে ৫০০০০ টাকারও বেশি সেইভ হয়। এই ৫০০০০ টাকা বড়লোকের কাছে কিছুই না কিন্তু মধ্যবিত্তের কাছে অনেক টাকা।

            বুঝলাম হত দরিদ্র জনগোষ্ঠী সম্পর্কে আপনার ধারনা নাই। আমার মন্তব্যটা মধ্যবিত্তদের জন্যে ছিল না। ছিল হতদরিদ্রদের জন্যে। তাঁদের জন্যে ১০০০০ টাকা মানে বুঝেন তো ভাই?

            যাই হোক। এই আলোচনা কন্টিনিউ করলে তা পোষ্টের সাথে যায় না।তাই আর মন্তব্য করব না। তবে যদি এমন হয় যে সব ড্রাগের জন্যেই রয়্যালিটি দিতে হবে তবে অবশ্যই পোষ্টের মূল বক্তব্যের সাথে আমার দ্বিমত নাই।

          2. এই চুক্তির মুল বিষয়ই হচ্ছে
            এই চুক্তির মুল বিষয়ই হচ্ছে রয়্যালিটি। বিদেশী কোম্পানীর স্বার্থ রক্ষাই এই চুক্তির মুল উদ্দেশ্য। সহনীয় গনতান্ত্রিক শাসকের চেয়ে নিশ্চয় আপনি স্বৈরচারী শাসককে ভাল বলবেন না! ডাক্তার সাহেব, আপনি যদি মনে করে থাকেন দেশী প্রতিষ্ঠানগুলো শোষন করছে আর বিদেশীগুলোও শোষন করবে, ব্যাপারটা সেই শোষনের মধ্যেই আছে। তাই বিদেশী শোষনই ভাল। তাহলে কিছু বলার নাই।

            যদি এই চুক্তিটি জনস্বার্থ বা দেশের স্বাথেই হত, তাহলে এত লুকোচুরি কেন? এই চুক্তি নিয়ে সর্বমহলে সমালোচনা হওয়ার পরও কেন চুক্তির শর্তগুলো প্রকাশ করা হচ্ছে না। বিদেশের সাথে যে কোন চুক্তি একটি গণতান্ত্রিক দেশের জনগণের জানার অধিকার নিশ্চয় আছে।

            এই চুক্তি হলে শুধু ঔষুধ শিল্প না, আরো অনেক শিল্পেই ধ্বস নামবে। আমাদের মত উন্নয়নশীল দেশের অনেক সম্ভবনাকে গলা টিপে হত্যা করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেই অভিজ্ঞমহল আশংকা করছে।

          3. সহনীয় গনতান্ত্রিক শাসকের চেয়ে

            সহনীয় গনতান্ত্রিক শাসকের চেয়ে নিশ্চয় আপনি স্বৈরচারী শাসককে ভাল বলবেন না!

            :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  5. যে সেক্টর লইয়া লিখছেন টা
    যে সেক্টর লইয়া লিখছেন টা আমার জ্ঞান এর পরিসীমার বাইরে । ধন্যবাদ দিলাম কারন অনেক কিছু জানলাম নতুন কেননা এই বিষয় টা সম্পর্কে বেশি অবগত নাহ আমি । :ফুল:

    1. জানতে হবে এবং জানাতেও হবে।
      জানতে হবে এবং জানাতেও হবে। আমাদের অজ্ঞানতার সুযোগ নিয়েই তো আমাদের উপর একের পর এক অন্যায় সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

  6. একটা সহজ হিসাব দিতাছি —
    আর

    একটা সহজ হিসাব দিতাছি —
    আর কিছুদিন পর গণহারে মানুষ মরবে ( অবশ্যই গরিব মানুষ , বড় লোকের মরন নাই , তাদের জন্য আছে সিঙ্গাপুরী মেডিসিন )
    মানুষ মরবে অধিক চিকিৎসা খরচের জন্য । মানুষ কি আগে ভাত খাবে নাকি হাজার হাজার টাকা দিয়া ইঞ্জেকশন কিনবে ? অবশ্যই ক্ষিদা মিটানর লাগি ভাত খাবে , আর অসুখে একদিন ফুট করে মোড়ে যাবে ।
    মানুষ মারার এই চুক্তি কেন ? স্বার্থ কি ? লাভ কার ? ভালো জিনিস কি আছে এই চুক্তিতে কেউ আমারে একটু বলেন ?

  7. বাংলাদেশের মানুষের লাইফ ই
    বাংলাদেশের মানুষের লাইফ ই গেছে এইসব চুক্তির যাতাকলে পিষতে পিষতে।কখনো এই চুক্তি তো কখনো সেই চুক্তি। প্রত্যেক চুক্তিতেই ক্লিয়ারলি কিছু বলা থাকবে না, কোন স্বার্থ থাকবে না এবং আমরা ল্যাবের গিনিপিগ হ​য়ে সেই চুক্তির চাকায় দৌড়াইতে থাকবো। আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে যে আমরা এটা সহ্য করি যে আমাদের নিজেদের সরকার আমাদেরকে থার্ড ক্লাস মনে করে। তারা চিকিৎসা নিতে দেশের বাইরে যায়, আত্মঘাতী চুক্তি করে দেশের অর্জন আর যোগ্যতাকে পায়ে ঠেলে কুয়োয় ফেলে। তাই আজ আমরা কুয়োর ব্যাঙ, সেটাই আমাদের জগ​ৎ।

  8. আপনার লেখার বিষয়ের
    আপনার লেখার বিষয়ের প্রাসঙ্গিকতা ও গুরুত্ব নিয়ে আমি আর নতুন করে কিছু নাই বা বললাম। লেখাটা পড়ে ফার্মা সেক্টর সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারলাম। তথ্যবহুল লেখার মাধ্যমে আলোকিত করার জন্য ধন্যবাদ।

  9. মন্ত্রী মানেই চোর, নেতা মানেই
    মন্ত্রী মানেই চোর, নেতা মানেই চোর। ক্ষমতায় যখন গেছোস চুরি তো করবি। যা চুরি কর, ঘুস খা, পকেট বানা। কিন্তু রয়ে সয়ে কি খাওয়া যায় না? দেশের ক্ষতি তো করবিই, এর জন্যই তো তোদের জন্ম হয়ছে, কিন্তু দেশকে একেবারে ধ্বংস করে দিতে কি একটুও বুকে লাগে না???? সুন্দরবন , টিকফা চুক্তি এসব করে দেশের যা কিছু সম্ভাবনা আছে সবই নষ্ট করে দিচ্ছে। এসব ছাড়া কি পকেট ভরে না?

    না ভরে না। বোধহীনদের কাছে দেশ হচ্ছে পণ্য। যাকে যত উচ্চ দামে বিক্রি করা যায় ততই লাভ।

    1. বোধহীনদের কাছে দেশ হচ্ছে

      বোধহীনদের কাছে দেশ হচ্ছে পণ্য। যাকে যত উচ্চ দামে বিক্রি করা যায় ততই লাভ।

      কথা সত্য :মনখারাপ:

  10. ধন্যবাদ লেখাটির জন্য। অনেক
    ধন্যবাদ লেখাটির জন্য। অনেক কিছু জানলাম।

    আপনি মেধাসত্বের একটা এলাকার ওপর জোর দিয়েছেন। তার ফলাফলই কী ভয়াবহ দেখেন। আরও কত খাত যে এই মেধাসত্বের আওতায় আসবে তার হিসাব দিতেই লেগে যাবে অনেক পাতা। ওষুধের চেয়েও আমরা বিরাট ক্ষতিতে পড়ব প্রযুক্তিগত পণ্যের ক্ষেত্রে। অষুধ সহ সব পণ্যের উৎপাদনই এখন কম বেশি প্রযুক্তিভিত্তিক। প্রযুক্তি খাতে অধিকাংশ পণ্যই আমরা পাইরেটেড কপি ব্যবহার করে থাকি। লাইসেন্সড কপি কিনতে গেলে একটি অনুন্নত দেশের নাগরিক হিসেবে এখানকার ভোক্তাদের যে ব্যয় দাঁড়াবে তা বহন করা তাদের পক্ষে সম্ভব হবে না। টিকফা হলে গুটিকয়েক মানুষ ব্যতীত অন্যরা প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট পণ্যগুলোর সুবিধা থেকে ছিটকে পড়বেন। কোম্পানীগুলোরও ব্যয় বাড়বে। তাছারা এই চুক্তির শর্তগুলোর দিকে তাকালেই বোঝা যায় আমাদের একেবারে পঙ্গু করে দেয়ার আয়োজন-

    ১) বাজার উন্মুক্তকরণ এবং সেবা খাতের ঢালাও বেসরকারিকরণ
    ২) উভয় রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য উদারনৈতিক নীতি গ্রহণ করবে
    ৩) বেসরকারি খাতের বিকাশকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে
    ৪) দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত ‘বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কমিশন’ প্রাইভেট সেক্টরের বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় কৌশল ও পরামর্শ সরবরাহ করবে
    ৫) যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতে বাংলাদেশে যে বিনিয়োগ করবে, তা শুধু সেবা খাতেই। তারা কোনো পণ্য এ দেশে উৎপাদন করবে না
    ৬) যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক কোম্পানির বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য দেশের বাজার উন্মুক্ত করে দিতে হবে এবং বিদ্যমান শুল্ক ও অশুল্ক বাধাসমূহ দূর করতে বাধ্য থাকবে বাংলাদেশ
    ৭) নিজস্ব দেশীয় শিল্প বা প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা প্রদানকারী বাণিজ্য সংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ সংরক্ষণ নীতি বাতিল করতে হবে
    ৮) যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের অর্জিত মুনাফা বা পুঁজির উপর কোনো কর আরোপ করা যাবে না
    ৯) বিনিয়োগের বিশেষ সুরক্ষা দিতে হবে এবং বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে নেয়া হলে তার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে
    ১০) দেশের জ্বালানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ, বন্দর, টেলিযোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহন ইত্যাদি খাতে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে হবে
    ১১) কৃষিপণ্যের বাজার উন্মুক্ত ও কৃষি থেকে ভর্তুকি প্রত্যাহার করতে হবে
    ১২) মেধাস্বত্ব আইনের কঠোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে

    এই চুক্তির বিরুদ্ধে আমাদের আরও সোচ্চার হওয়া দরকার। যেভাবে হোক এটা থামানো দরকার।

    1. আমরা তো সোচ্চার হচ্ছিই। ব্লগ
      আমরা তো সোচ্চার হচ্ছিই। ব্লগ বা ফেসবুকে তো এই নিয়ে কম লেখালেখি হচ্ছে না। লাভ কি হচ্ছে বলেন? টিকফা চুক্তি সই তো এখন কেবল সময়ের ব্যাপার। :মনখারাপ:

  11. ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলো
    ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলো কিন্তু টিকফা নিয়ে চুপ। কারণ কি জানেন? একটু আগেই ইনসেপটার একজনের সঙ্গে আলাপ হলো। তারা বিষয়টাকে অন্যভাবে দেখছে। তারা বলছে, টিকফা হলে দুই দেশের বাণিজ্যের রাস্তা খুলবে। আমেরিকায় ওষুধ বেচা যাবে। আর ব্যয় বাড়লে নাকি মানুষ দাম দিতে পারবে। মানুষের কাছে নাকি ওষুধ কেনার টাকা সব সময়ই থাকে। কথাগুলো শোনার পর থেকে মাথাটা ঘুরতাছে। :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি:

  12. তথ্য বহুল একটা লেখা।
    কিন্তু

    তথ্য বহুল একটা লেখা।
    কিন্তু টিকফা নিয়ে অনেকের মধ্যেই এখও সচেতনতা নেই। তারা জানে না এবং বোঝেও না এই চুক্তিটা হলে কি কি ক্ষতি হবে এবং লাভ হবে। পুরাই স্পিকার হয়ে আছি চুক্তিটা নিয়ে। :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি:

    1. সচেতনতা থাকবে কি করে। সরকারের
      সচেতনতা থাকবে কি করে। সরকারের শেষ সময়। সবাই এখন শেষ মুহূর্তের খাওয়া-দাওয়া নিয়ে ব্যস্ত। দেশ রসাতলে গেলেও তাঁদের তো কিছুই যায় আসে না :ভাঙামন:

  13. বিএনপির প্রতিনিধি গতকাল
    বিএনপির প্রতিনিধি গতকাল আম্রিকার এম্বাসিডরের সাথে গুপনে বৈঠক করেছে। নিশ্চয় আশ্বাস দিয়েছে যে এই নিয়ে তারাও উচ্চবাচ্য করবে না। আওয়ামীলীগের এই চুক্তির ব্যপারে বিএনপির কোন বক্তব্য নাই।

    1. বিএনপি আর আওয়ামী লীগ দুইটা
      বিএনপি আর আওয়ামী লীগ দুইটা একই মুদ্রার দুই পিঠ। একারণেই তারেক জিয়াকে বাথরুম করতে না দিলেও তাঁরা হরতাল দিবে কিন্তু টিকফা বাতিলের দাবীতে হরতাল দিবে না সেটাই স্বাভাবিক। :মাথাঠুকি:

  14. পরিশ্রান্ত চোরের হাতে থেকে
    পরিশ্রান্ত চোরের হাতে থেকে বিশ্রামান্ত চোরের হাতে দেশ পরিচালনার হাত বদলের সময় আমজনতার কথা মনে করবেকে?, আমরা আমজনতা ছারা।

  15. এই ছোট মাথায় এত কিছু বুঝি না।
    এই ছোট মাথায় এত কিছু বুঝি না।

    তবে একটা বিষয় বুঝলাম অন্যদেশের রাজনীতিবিদেরা নিজেদের মধ্যকার বিরোধ থাকলেও জাতীয় স্বার্থে তারা এক। কিন্তু আমাদের দেশে তার উল্টো, তারা নিজেদের ব্যক্তি স্বার্থ হাসিলে সংকল্প বদ্ধ । দেশের কি হবে তা তাদের বিবেচ্য বিষয় নয় ।

    1. দুঃখ তো সেখানেই রে ভাই।
      দুঃখ তো সেখানেই রে ভাই। ক্ষমতার জন্য দেশ বিক্রি করে দিতেও আমাদের রাজনীতিবিদদের বাঁধে না। :ভাঙামন:

      1. আর আমরাও তাদের মিষ্টি কথায়
        আর আমরাও তাদের মিষ্টি কথায় ভোট দেই!!!
        এটা বদলাতে হবে,তার জন্য চাই নতুন কোন দল……. কিন্তু এই দ্বায়ীত্ব কে নিবে?

        1. এই দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে।
          এই দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে। নতুন ধারার রাজনীতি আমাদেরকেই শুরু করতে হবে রে ভাই। এছাড়া তো আর উপায় নাই কোন।

  16. ইউএস কলোনিয়াজিম নিয়ে কথা বলতে
    ইউএস কলোনিয়াজিম নিয়ে কথা বলতে গেলেই “চীনাবাদাম” ট্যাগ খেতে হয়। কিন্তু আমাদের দেশ যেনো খনিজ উতপাদন,পাওয়ার স্যাক্টর,ইলেক্ট্রনিক দ্রব্যাদির ইন্ডাস্ট্রি এগুলোতে যেনো স্বয়ঙ্গসম্পূর্ণতা অর্জন করতে না পারে সেই জন্যেই তারা রামপালে কয়লা খনি করতে চায়, ফুলবাড়ির ঘটনা ত সবারি জানা,আমাদের সমুদ্রে সম্ভাবনাময় খনিজ উত্তোলনের জন্য চুক্তি করতে চায় আর আমরা বেকুব বাংগালী এগুলোকে “উপকার” ” হিসাবে,মহত্ব” ভাবি। আমাদের মূল সমস্যা হচ্ছে আমরা চাই ইন্সট্যান্ট ফলাফল। বিদ্যুতের অভাব? দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে না গিয়ে বেসরকারী প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে দাও, খনিজ সম্পদ তোলার মেশিন/ট্যাকনিকাল লোক নেই ? বাপেক্সকে শক্তিশালী না করে বিদেশী কোম্পানিকে দিয়ে দাও এবং আমাদেরই গ্যাস ২টাকার জায়গায় ২০০টাকা দিয়ে কিনো।। আমাদের রাজনীতিও যেহেতু ভোটের রাজনীতি ছাড়া আর কিছুনা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে চরম বিশ্বাসহীনতা এবং বিদ্বেষ কাজ করে (সেই সাথে ব্যাক্তিগত স্বার্থ,দলীয় স্বার্থ এগুলোত আছেই) তাই পাওয়ার সরকারও দীর্ঘমেয়াদী প্রজেক্টে না গিয়ে এইসকল বহুজাজাতিক কম্পানিগুলোর কাছে সব বিকিয়ে দেয়। কারন ভোটের রাজনীতিতে টাকাও যে একটা বিরাট ফ্যাক্টর।

    যা দুইটা সেক্টর ছিলো , “গার্মেন্টস” আর “ওষুধ” এই দুটি ক্ষেত্রকেও এখন তাই অচল করে দেয়া হচ্ছে। আম্রিকা/কানাডার মানুষ এখন বুলি মারে “বাংলাদেশের কাপড়ে শ্রমিকের রক্তের দাগ”! আরে কুত্তারবাচ্চারা এই রক্তওয়ালা জামা-কাপড়ই যে তোরা বছরের পর বছর ধরে পরিস তখন রক্ত কই ছিলো? মিডিয়ার কারসাজিতে এখন তারাও বায়াসড। ]পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলো বা টু বি স্পেসিফিক আম্রিকা এবং আমাদের প্রতিবেশী হয়েও আমাদের চিরশত্রু(১৯৭১ টাইনেন না,ঐটা বাদে) ভারত আমাদের কোনোভাবেই শিল্পক্কখাতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে দেবেনা। আমরা তাদের জন্য একটি বিরাট বাজার। তাই তারা আমাদের শুধু ভোগ করাতেই প্রমোট করবে, কাজ করাতে করবেনা।

    ইনফরমেটিভ লেখাটির জন্য লেখক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগীকে আন্তরিক সালাম।

    1. আমরা তাদের জন্য একটি বিরাট

      আমরা তাদের জন্য একটি বিরাট বাজার। তাই তারা আমাদের শুধু ভোগ করাতেই প্রমোট করবে, কাজ করাতে করবেনা।

      আসল ব্যাপার তো সেটাই রে ভাই। গতকাল দেখলাম বাণিজ্যমন্ত্রী জি এম কাদের বলেছেন এই চুক্তি খুব ভাল, আরও আগেই নাকি চুক্তি সই করা উচিৎ ছিল। সব শালাই দালাল। আবার দালাল বললেও সমস্যা। ছাগু না হয় চিনাবাদাম ট্যাগ খাইতে হয়। :মাথাঠুকি:

    2. সম্পূর্ন মন্তব্যের সাথে এক মত
      সম্পূর্ন মন্তব্যের সাথে এক মত বিষেশ করে –

      আমাদের মূল সমস্যা হচ্ছে আমরা চাই ইন্সট্যান্ট ফলাফল।

      দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা করবে কি করে তারা তো জানেই তাদের এই দৌড় পাচ বছরে সীমা বদ্ধ।তাদের ব্যক্তি স্বার্থের জন্য আমাদের ক্ষতি হয়।

  17. লিখাটা কীভাবে মিস হয়েছিল জানি
    লিখাটা কীভাবে মিস হয়েছিল জানি না!
    অনেক কিছুই জানলাম… :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :bow: :bow: :bow: :bow:
    অসাধারণ তথ্যবহুল লিখা! দেখি কি করে সরকার আর আমাদের আমজনতা!

  18. ভাই চুক্তিটা আমাদের জন্য
    ভাই চুক্তিটা আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যের এইটা জানতাম কিন্তু কি জন্য সেইটা আমার কাছে পরিস্কার ছিলো না ।তোমার পোষ্টটা পইড়া অনেক কিছুই এখন আমার কাছে পরিস্কার ।। কিছুই কি করার নাই ??

    1. এখন আর কিছুই করবার নেই। শুধু
      এখন আর কিছুই করবার নেই। শুধু আশা করতে পারি যে আমেরিকা এত দ্রুত মেধাসত্ত্ব আইন বাস্তবায়নের জন্য চাপ দিবে না। :মনখারাপ:

    1. এখন আর কিছুই করবার নেই। শুধু
      এখন আর কিছুই করবার নেই। শুধু আশা করতে পারি যে আমেরিকা এত দ্রুত মেধাসত্ত্ব আইন বাস্তবায়নের জন্য চাপ দিবে না। দেশের স্বার্থকে কিভাবে জলাঞ্জলি দিতে হয় সেটা আওয়ামী লীগ হাতেকলমে দেখিয়ে দিল। বিএনপিও একই কাজ করত। কি যে আছে আমাদের কপালে সেটা সময়ই বলে দিবে। :মনখারাপ:

  19. অবশেষে টিক্‌ফা চুক্তি হয়ে
    অবশেষে টিক্‌ফা চুক্তি হয়ে গেল। ঠেকানো গেলো না। টিক্‌ফা চুক্তির পর আম্রিকার মজিলা ফায়ারফক্সের গলার সুর নরম হয়ে গেছে। নির্বাচনে না গিয়ে বিএনপি ভুল করবে। একটি রাজনৈতিক দল হিসাবে ভবিষ্যতে বিএনপি অস্তিত্ব সংকটে ভুগবে। পশ্চিমা দাদাদের আওয়ামীলীগ ম্যানেজ করে ফেলেছে।

    1. চুক্তি তো হয়েই গেছে রে ভাই।
      চুক্তি তো হয়েই গেছে রে ভাই। তবে এখন চেষ্টা করতে হবে যেন তা আর বাস্তবায়িত হতে না পারে।

  20. নাহ, শেষ পর্যন্ত আর ঠেকানো
    নাহ, শেষ পর্যন্ত আর ঠেকানো গেল না। :মনখারাপ: :মনখারাপ: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :ক্ষেপছি: :ক্ষেপছি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *