অলিভার ওয়েন্ডল হোমস, জুনিয়র (Oliver Wendell Holmes, Jr.) এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

মার্কিন আইনজ্ঞ

দ্যা গ্রেট ডিসেন্টার (ভিন্নমত পোষণকারী) হিসেবে পরিচিত অলিভার ওয়েন্ডল হোমস, জুনিয়র (Oliver Wendell Holmes, Jr.) (জন্ম ১৮৪১ সালের ৮ মার্চ বস্টনেমৃত্যু ১৯৩৫ সালের ৬ মার্চ ওয়াশিংটন ডিসিতে) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতি, মার্কিন আইন বিষয়ক ইতিহাসবিদ, এবং দার্শনিক যিনি বিচারিক সংবরণ (judicial restraint) এর সমর্থক ছিলেন। বাক স্বাধীনতাকে সীমিত করার একমাত্র ভিত্তি হিসেবে সুস্পষ্ট এবং বিদ্যমান বিপদ (clear and present danger)এর ধারনাটি তিনি উপস্থাপন করেন।

শৈশব এবং গৃহযুদ্ধের অভিজ্ঞতা

অলিভার ওয়েন্ডেল হোমস, জুনিয়র (Oliver Wendell Holmes, Jr.) ছিলেন সুপ্রসিদ্ধ লেখক ও চিকিৎসক অলিভার ওয়েন্ডল হোমস( Oliver Wendell Holmes) এর প্রথম সন্তান। তার বাবা ও মা উভয় পক্ষের পরিবারিক ঐতিহ্য নিউ ইংল্যান্ড অভিজাততন্ত্রের চরিত্র এবং মর্যাদার প্রতিনিধিত্ব করততার বাবা পিউরিট্যান কবি এনে ব্রাডস্ট্রীট ( Anne Bradstreet) এর উত্তরসূরী ছিলেন; বিয়ে করেছিলেন এমেলিয়া লী জ্যাকসন ( Amelia Lee Jackson) কে যার বাবা চার্লস (Charles) ম্যাসাচুসেটস ( Massachusetts) রাজ্যের সুপ্রীম জুডিসিয়াল কোর্ট (Supreme Judicial Court) এর একজন বিচারপতি ছিলেন। সেই ন্যায়াসন (Bench) অলিভার ওয়েন্ডল হোমস, জুনিয়র (Oliver Wendell Holmes, Jr.) ২০ বছরের জন্য অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন। সে এই পারিবারিক ঐতিহ্য নিয়ে গর্বিত ছিলেন এবং বিষয়টির কথা প্রায়ই উল্লেখ করতেন। এটা তার মনমানসিকতা এবং চরিত্র গঠনে সহযোগীতা করেছিল

তরুণ হোমস প্রথমে ভর্তি হন একটি প্রাইভেট স্কুলে এবং তারপর হার্ভার্ড কলেজে। ১৮৬১ সালে তিনি স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন এবং পিতার মত তিনিও নিজেও একজন শ্রেণী কবি ছিলেন। যাহোক, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গৃহযুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে তিনি চতুর্থ পদাতিক বাহিনীর (4th Battalion of Infantry) একজন সাধারণ সৈনিক হিসেবে তালিকাভূক্ত হন। এবং শিক্ষাবর্ষ শেষ অথবা ডিগ্রী লাভ করতে পারার প্রত্যাশা না রেখেই বস্টনের স্বাধীনতা দুর্গে ( Boston’s Fort Independence) প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেন। বাহিনীটিকে যুদ্ধে যোগ দিতে হয় নি এবং স্নাতক লাভ করার পর এই যুবক বিশতম ম্যাসাচুয়েটস (Massachusetts ) স্বেচ্ছাসেবক রেজিমেন্টে ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট হিসেবে কমিশন প্রাপ্তির আবেদন করেন এবং কমিশন লাভ করেন। সেই সময় তার বয়স ছিল ২০ বছর।

তার লেখা চিঠিপত্র এবং দিনলিপি তার যুদ্ধ অভিজ্ঞতার জীবন্ত চিত্র তুলে ধরে। বিলস ব্লাফ ( Ball’s Bluff), এন্টিয়েটাম (Antietam), এবং চানসেলরসভিল (Chancellorsville) যুদ্ধে তিনি তিনবার গুরুতর আহত হন। তিন বৎসর পর তিনি সেনাবাহিনী ছেড়ে দেন, এসময়ে ল্যাফটেন্যান্ট কলোনেল হিসেবে কমিশন প‍্রাপ্ত হয়েছিলেন যদিও সেনাবাহিনী ত্যাগ করেন ক্যাপ্টেন পদ নিয়ে। হোমস যুদ্ধকে বর্ণনা করেন “একটি সুসংগঠিত বিরক্তিকর ব্যাপার (an organized bore)” হিসেবে । তিনি জানান, “আমি মনে করি একজন সৈনিক হিসেবে আমার দায়িত্ব মর্যাদার সাথে পালন করেছি, তবে এটার জন্য আমার জন্ম হয় নি এবং এই পথে তেমন গুরুত্বপূর্ণ কিছু করতে পারি নি।“ ১৮৮৪ সালে প্রাক্তন সহকর্মী সৈনিকদের( fellow veterans) উদ্দেশ্যে দেওয়া তার মেমোরিয়াল ডে (স্মরণ দিবস) বক্তব্যে তিনি যুদ্ধ অভিজ্ঞতায় একটি সুনির্দিষ্ট মান আরোপ করেন, “আমাদের অনেক বড় সৌভাগ্যের ভেতর দিয়ে যৌবনে আমাদের হৃদয়ে আগুনের ছোয়া লেগেছিল। এটা আমাদের কাছে এসেছিল শুরুতেই আমাদের এটা শেখাতে যে জীবন হচ্ছে প্রগাঢ় এবং আবেগময় একটা ব্যাপার।” তার বিশ্বাসের একটি দিক হচ্ছে যে একজন মানুষ অবশ্যই তার সময়ের অনুভূতি এবং কর্মকান্ড তুলে ধরবে।

আইন শিক্ষা

কোন ধরনের সুস্পষ্ট লক্ষ্য ছাড়াই ১৮৬৪ সালের শরৎকালে (Autumn) তিনি হার্ভার্ড ল’ স্কুলে (Harvard Law School ) ভর্তি হন। এমনকি চিকিৎসা বিজ্ঞানে ভর্তি হওয়ার কথাও তিনি চিন্তা করেছিলেন, তবে তার বাবা এতে আপত্তি জানায়। বিভিন্ন সময়ে তিনি বলতেন যে তার গভর্ণর (governor) তাকে ল’ স্কুলে যেতে বাধ্য করে। কথিত আছে যে, যখন যুবক হোমস ( Holmes) তার বাবাকে ল’ স্কুলে ভর্তি হওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান, তিনি বলেন, “ এটার কি প্রয়োজন, ওয়েন্ডল? একজন আইনজীবী কখনও মহৎ ব্যক্তি হতে পারে না।” পিতা এবং পুত্রের মধ্যকার সম্পর্ক গভীর ছিল না। ছোটখাট চিকিৎসকটির ঠাট্টাবিদ্রুপ, অনুভূতির সরল প্রকাশ এবং কিছুটা অনুগ্রহ মূলক আচরণ লম্বা গড়নের চুপচাপ সহজাতভাবে লাজুক আইনের এই ছাত্রটিকে রাগিয়ে তুলত। দার্শনিক উইলিয়াম জেমস (William James), যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে সম্ভবত তার সবচেয়ে কাছের বন্ধু, একবার বলেছিলেন যে পিতাপুত্রের মধ্যেকার কোন “ভালবাসাই বৃথা যায় নি”।

বিশেষত্ব বর্জিত পাঠ্যক্রমের মধ্যে পরিবেশিত স্থবির এবং শুধমাত্র রুল জারি কেন্দ্রীক (precedent-centred) আইনের ঐতিহ্য দেখতে পেয়ে হোমস ল’ স্কুলে এক ধরণের অস্থিরতা বোধ করেন। বিজ্ঞান, দর্শন অথবা আইনের ইতিহাস ছিল অনাদৃত, এবং পরবর্তীতে যেটাকে তিনি “আইনগত চিন্তায় সামান্য পরিবর্তন” বলে অভিহিত করতেন সেটার পরিবর্তে এগুলো হোমসের মনকে অধিকার করে এবং এমন একটা পেশার গভীরে তাকে টেনে নিয়ে যায় যেটার প্রতি প্রথম দিকে তিনি শক্তিশালী প্রণোদনা অনুভব করতেন না।

১৮৬৬ সালে ল’ স্কুল থেকে বের হওয়ার পর তিনি বিদেশ ভ্রমণ করেন (যা ঐ সময় খুবই প্রচলিত ছিল), ঘুরে আসেন ইংল্যান্ড, ফ্রান্স এবং সুইজারল্যান্ড এবং দেখা করেন বিভিন্ন শাখার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে। ১৮৬৭ সালে তিনি বারে যোগদান করেন এবং বিভিন্ন ফার্মের সদস্য হিসেবে ১৫ বছর আইন ব্যবসা চালিয়ে যান। ১৮৭০ থেকে ১৮৭৩ সাল পর্যন্ত তিনি “দ্যা আমেরিকান ল’ রিভিও( American Law Review) এর সম্পাদক ছিলেন। তিনি দ্যা ক্লাসিক সার্ভে অব আর্লি আমেরিকান ল’ (the classic survey of early American law) এর দ্বাদশ সংস্করণ, চ্যান্সেলর জেমস কেন্টস [Chancellor James Kent’s ] (১৭৬৩১৮৪৭) এর কমেন্টারিস অন আমেরিকান ল’ [Commentaries on American Law] (১৮৭৩ ) সম্পাদনা করেন। তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনের উপর বক্তৃতাও দেন।

এই ব্যস্ত সময়ের মধ্যেই তিনি রোমান্টিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। সবসময় এক নারীতে আসক্ত হোমস (Holms) তার একসময়ের স্কুল শিক্ষকের মেয়ে ফ্যানি বোউডিচ ডিক্সওয়েল (Fanny Bowditch Dixwell), এর সাথে দীর্ঘ দিন বন্ধুত্বের বন্ধনে আবদ্ধ থাকেন। যুদ্ধ, আইন শিক্ষা, বিদেশ ভ্রমন এবং শিক্ষানবীসকালীন এই পুরো সময় ফ্যানি ধৈর্য্যের সাথে হোমসের জন্য অপেক্ষা করেন। হোমস এবং ফ্যানি অবশেষে ১৮৭২ সালের ১৭ জুন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের সুখী এবং দীর্ঘস্থায়ী দাম্পত্য জীবন ছিল সন্তানহীন।

সাধারণ আইন

১৮৮০১৮৮১ সালে হোমস সাধারণ আইন (common law) এর উপর বক্তৃতা প্রদান করার জন্য বস্টনে অবস্থিত লয়েল ইনস্টিটিউট (Lowell Institute ) আমন্ত্রণ লাভ করেন। এবং এই সমস্ত বক্তৃতার সমন্বয়ে তৈরী হয় তার বই দ্যা কমন ল’ [The Common Law ](১৮৮১)। এখানেই হোমসের মেধা এই প্রথম পরিষ্কার ভাবে উঠে আসে এবং তার চিন্তার সুসঙ্গত নির্দেশনা সুস্পষ্ট হয়। একটি নতুন কন্ঠে তাকে বলতে শোনা যায়:

আইনের জীবন যৌক্তিক নয়: এটা হচ্ছে অভিজ্ঞতা ভিত্তিক। সময়ের অনুভূত চাহিদা, প্রভাবশালী নৈতিক এবং রাজনৈতিক তত্ত্ব, জন নীতির স্বত:লব্ধ জ্ঞান, স্বীকৃত অথবা অনবহিত, এমনকি কুসংস্কার যা নিয়ে বিচারকেরা তাদের সহকর্মীদের সাথে আলোচনা করে তা নিয়েও নিয়মনীতি, যার দ্বারা মানুষ নিয়ন্ত্রিত হবে, নির্ধারণ করতে অনুমেয় সিদ্ধান্তের ( syllogism) চেয়েও বেশী কিছু করার আছে। অনেক শতাব্দী ধরে একটা জাতির গড়ে উঠার গল্পকে আইন প্রতিমূর্ত করে। এটাকে এমনভাবে মোকাবেলা করা যাবে না যেন এটার মধ্যে আছে কেবল স্বতসিদ্ধ সত্য এবং গনিত বইয়ের অনুসিদ্ধান্ত। এটা কি তা জানার জন্য আমাদেরকে অবশ্যই জানতে হবে এটা কি ছিল এবং কি হওয়ার দিকে ঝুঁকছে। আমরা অবশ্যই পর্যায়ক্রমে আইন প্রণয়নের বিদ্যমান তত্ত্ব এবং ইতিহাস পর্যালোচনা করবতবে প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে এই দুইয়ের সম্মিলননতুন সংসাধন বুঝতে পারা হবে সবচেয়ে কঠিন কাজ যে কোন সময়ে আইনের সারবত্তা, এটা যতদূর যায়, তখন যা সুবিধাজনক হিসেবে বোধগম্য হয় তার সাথে খুবই সঙ্গতিপূর্ণ হয়; তবে এটার গড়ন কলকবজা এবং সেই মাত্রা যেখানে এটা কাঙ্ক্ষিত ফলাফল নিয়ে আসতে সক্ষম, এটার অতীতের উপর অনেক বেশী নির্ভর করে

১৮৮২ সালের জানুয়ারীতে হোমস নিয়োগ লাভ করেন ওয়েল্ড প্রফেসর অব ল’( Weld Professor of Law) হিসেবে, এটা হারভার্ড ল’ স্কুলে তার জন্য প্রতিষ্ঠিত একটা চেয়ার। একই বছরের ডিসেম্বরে ম্যাসাচুয়েটস (Massachusetts ) রাজ্যের সুপ্রীম জুডিসিয়াল কোর্টে যোগ দেন, এটা জেনে যে বিচারক বৃত্তি তার নিয়তি এবং এটাতে কাজ করার মধ্য দিয়েই আইনের উন্নয়নসাধনে সবচেয়ে বেশী অবদান রাখতে পারবেন। তিনি টানা ২০ বছর ঐ ন্যায়াসনে (Bench) আসীন ছিলেন এবং ১৮৯৯ সালে এটার প্রধান বিচারপতি পদে অধিষ্ঠিত হন। ১৯০২ সালে প্রেসিডেন্ট থিওডর রুজভেল্ট (Theodore Roosevelt) তাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সুপ্রীম কোর্টের সহযোগী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেন। তিনি যে কোন ব্যক্তির চেয়ে বেশী বয়স পর্যন্ত সুপ্রীম কোর্টে অধিষ্ঠিত ছিলেন, ১৯৩২ সালের ১২ জানুয়ারী তার ৯১ তম জন্মদিনের সামান্য কিছু দিন আগে অবসর গ্রহণ করেন।

তার স্ত্রী ফেনি হোমস, অনুগত, বিচক্ষণ, কুশলী, এবং সংবেদনশীল, ১৯২৯ সালের ৩০ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেন। হোমস তার অন্তরঙ্গ বন্ধু, ইংরেজ আইনজ্ঞ স্যার ফ্রেডেরিক পুলক ( Sir Frederick Pollock), কে বলেন, “ষাট বছর ধরে সে জীবনকে আমার জন্য কাব্যে পরিণত করে রেখেছিল এবং ৮৮ বছর বয়স কাউকে অবশ্যই মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। যতদিন এটা টিকে থাকে ততদিন আমি কাজে ব্যস্ত এবং কৌতুহলী থাকবযদিও বেশী দিন খুব বেশী কাজ করে যেতে পারব না।” তিনি তার ৯৪ তম জন্মদিনের মাত্র দুই দিন আগে মৃত্যুবরণ করেন।

সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতি

সুপ্রীম কোর্টে এই দীর্ঘ সময়ে তিনি সেই সময়ের অন্যতম প্রসিদ্ধ আইনজ্ঞ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেনঅনেকের মতে তিনিই সবচেয়ে প্রসিদ্ধ। ভিন্নমত পোষণে তার প্রতিভার কারনে প্রায়ই তিনি দ্যা গ্রেট ডিসেন্টার (The Great Dissenter) হিসেবে অভিহিত হতেন। তবে এই শব্দ কাঠামোটি (Phrase) একটা ভুল ধারণার জন্ম দিত এবং তার তীক্ষ্ণতা মৌলিকত্বকে যেমন সম্পূর্ণরূপে দেখা যেত এমন সব মতামতের মধ্যে যেগুলোতে তিনি কোর্টের অধিকাংশ মতের সাথে একমত হয়েছে এবং ঠিক তেমনি ভাবে যেগুলোতে তিনি ভিন্নমত পোষণ করেছে

হোমস বিশ্বাস করতেন যে আইন তৈরী করা বিধানিক ( legislative) কাঠামোর কাজ, কোর্টের নয়, এবং সাংবিধানিক আওতার মধ্যে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে ভাল অথবা মন্দ যে কোন ধরনের আইন তৈরী করার অধিকার জনগনের আছে। বাক স্বাধীনতাকে খর্ব করার একমাত্র ভিত্তি হিসেবে তিনি “ সুস্পষ্ট এবং বিদ্যমান বিপদ (clear and present denger)এর ধারণা উল্লেখ করেন। এবং এটাকে ব্যাখ্যা করেন এই সাদামাটা উদাহরনটির মাধ্যমে: “বাক স্বাধীনতার সবচেয়ে কঠোর সংরক্ষণ কোন একটা থিয়েটারে মিথ্যা আগুন আগুন বলে চিৎকার করা এবং আতঙ্ক তৈরী করা কোন ব্যক্তিকে রক্ষা করতে পারবে না।”

তিনি লেখেন যে “সত্যের সেরা পরীক্ষাটা হল চিন্তার সেই শক্তি যা এটাকে বাজারের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে গ্রহণযোগ্য করে তোলে। যা যে কোন মূল্যে আমাদের সংবিধানের একমাত্র তত্ত্ব।” আরো বলেন: “ যদি সংবিধানের কোন আদর্শ থাকে যা অন্য যে কোনটির চেয়ে অধিক অপরিহার্যভাবে আনুগত্য দাবি করে তাহলে তা হল মুক্ত চিন্তার আদর্শমুক্ত চিন্তা তাদের জন্য নয় যারা আমাদের সাথে একমত হয় তবে সেই চিন্তার স্বাধীনতা যেটাকে আমরা ঘৃণা করি।”

প্রচন্ডভাবে কাজের প্রতি নিবেদিত হোমস অবশ্য স্থুল বিষয় এবং হাস্যরস উপভোগ করতেন। পছন্দ করতেন ব্যাঙ্গকৌতুক। ওয়াশিংটনে মাঝে মাঝে তিনি ব্যঙ্গ প্রদর্শনী (burlesque shows ) দেখতে যেতেন এবং বলা হয় যে তিনি একবার মন্তব্য করেছিলেন, “ ইশ্বরকে ধন্যবাদ, আমি একজন নিম্ন রুচির মানুষ।” নব্য নিযুক্ত প্রেসিডেন্ট ফ্র্যাঙ্কলিন রুজভেল্ট (Franklin D. Roosevelt) এই অবসর প্রাপ্ত বিচারপতিকে সাক্ষাতের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান এবং দেখতে পান যে তিনি প্লটোর রচনা পড়ছেন, “মিঃ জাস্টিস, আপনি প্লটোর লেখা পড়ছেন কেন?” “মনমানসিকতা উন্নত করতে,” ৯২ বছর বয়সী বৃদ্ধ উত্তর প্রদান করেন

সুদীর্ঘ কর্ম জীবনে হোমস কয়েক প্রজন্মের আইনজীবী এবং বিচারকদের ভালবাসা শ্রদ্ধা কুড়িয়েছেন। যখন তিনি সুপ্রীম কোর্ট থেকে অবসর গ্রহণ করে, “গুরুভাই (brethren)” রা, তার সহকর্মী বিচারকদের তিনি এভাবেই সম্বোধন করতেন, সকলে মিলে তাকে একটা চিঠি লেখেন, যেখানে একটা অংশে বলা হয়,

আপনার প্রগাঢ় জ্ঞান এবং দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি আশ্রয় পেয়েছে আপনার সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে যেগুলো পরিণত হয়েছে ক্লাসিকে এবং এটা যেমন সমৃদ্ধ করেছে আইন সাহিত্যকে ঠিক তেমনিভাবে এটার সারবত্তাকে ….. এখন থেকে আমরা আপনার প্রতিদিন সঙ্গ পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হব, তবে আপনার অফুরান মায়ামমতা এবং মহানুভবতার মূল্যবান স্মৃতি সামগ্রী আমাদের সাথে থাকবে এবং এই স্মৃতি কোর্টের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যে পরিণত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *