দু’পাতার গল্প

বেশ কিছু দিন ধরে আমার একটা সমস্যা হয়েছে। আমি আমার লেখাগুলো শেষ করতে পারছি না। হঠাৎ একটা থিম (ঠিক থিম না, কখনও কখনও এক-দুইটা লাইন) মাথায় আসলো, সাথে সাথে সেটা নিয়ে বসা হয় না। থিমটা (কিংবা লাইনটা) তিন চারদিন মাথার ভেতর ঘুরপাক খায়। হয়তো মাথার ভেতরই কিছুটা লেখাও হয়ে যায়। কিন্তু ইজি-কাজে বিজি থেকে খাতা-কলম নিয়ে আর বসা হয় না। তিন-চার দিন পর এক ফাঁকে একটু বসি। একটানা দু’তিন পাতা লিখি। তারপর দেখা যায় কোন না কোন কাজের জন্য কেউ ডাকছে। হয়তো আম্মু ভাত খেতে ডাকছে, নয়তো ভিক্ষুক এসেছে- তাকে ভিক্ষা দিতে হবে। হয়তো টিভিটা ঝির ঝির করছে- এন্টেনাটা ঠিক করে দিতে হবে; কিংবা আব্বুর মোবাইলে একটা মেসেজ এসেছে, তার মর্মোদ্ধার করতে হবে।



বেশ কিছু দিন ধরে আমার একটা সমস্যা হয়েছে। আমি আমার লেখাগুলো শেষ করতে পারছি না। হঠাৎ একটা থিম (ঠিক থিম না, কখনও কখনও এক-দুইটা লাইন) মাথায় আসলো, সাথে সাথে সেটা নিয়ে বসা হয় না। থিমটা (কিংবা লাইনটা) তিন চারদিন মাথার ভেতর ঘুরপাক খায়। হয়তো মাথার ভেতরই কিছুটা লেখাও হয়ে যায়। কিন্তু ইজি-কাজে বিজি থেকে খাতা-কলম নিয়ে আর বসা হয় না। তিন-চার দিন পর এক ফাঁকে একটু বসি। একটানা দু’তিন পাতা লিখি। তারপর দেখা যায় কোন না কোন কাজের জন্য কেউ ডাকছে। হয়তো আম্মু ভাত খেতে ডাকছে, নয়তো ভিক্ষুক এসেছে- তাকে ভিক্ষা দিতে হবে। হয়তো টিভিটা ঝির ঝির করছে- এন্টেনাটা ঠিক করে দিতে হবে; কিংবা আব্বুর মোবাইলে একটা মেসেজ এসেছে, তার মর্মোদ্ধার করতে হবে। এমনকি, সামনের বাসার কম্পিউটারটায় একটা সফ্টওয়্যার ইন্সটল হচ্ছে না- একটু দেখতে হবে!
কাজ যত ফালতুই হোক না কেন, আমি কাউকে ‘না’ বলতে পারি না। এমনকি ঘটা করে লিখতেও বসি না কখনও। কারণ, আমি পেশাদার সাহিত্যিক না। কিংবা, বিখ্যাতদের মত ‘জন্ম যার সাহিত্যের জন্য’ টাইপও না।
শ্রদ্ধেয় কবি আল মাহমুদ বলেন- “সাহিত্য কোন পারটাইম জব নয়।”
কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে আমার কাছে ইদানিং লেখালেখিটা পারটাইম জবও নয়, রিতিমত ‘টাইম পাস’ হয়ে গেছে! অবশ্য আমি যা লিখি তা কোন সাহিত্যের মধ্যে পড়ে কিনা তাও গবেষণার বিষয়!
সে কারণেই কেউ যখন আমাকে ফালতুয়েস্ট [এটা একটা বাংলিশ (বাংলা+ইংলিশ) শব্দ, যার অর্থ- সর্বোচ্চ ফালতু!] কাজের জন্যেও আমার লেখালেখিতে বিরক্ত করে তখনও আমি বলতে পারি না- এখন পারবো না, আমি লিখছি। বলতে লজ্জ্বা লাগে!
ফলে দেখা যায় উক্ত (ফালতুয়েস্ট) কাজটি করে এসে ফের যখন বসি তখন আর লেখার মুড নেই। কিংবা থিমটাই হারিয়ে ফেলেছি। নয়তো হাতে আর সময়ই নেই! কারণ, আগেই বলেছি- আজকাল লেখালেখিটা আমার কাছে নিছক টাইম পাস হয়ে গেছে।
আমার লেখাগুলো তাই অসম্পূর্ণ অবস্থায় দু’-চার পাতাবন্ধি হয়েই পড়ে থাকে। পরে হয়তো থিমটা আবার মাথায় আসে, কিন্তু তখন আবার লেখার সময় পাই না, বা ইচ্ছে করে না কিংবা কলমের কালি থাকে না! অথবা… শেষ পর্যন্ত আর লেখাই হয় না। আমি দুই দিস্তা নিউজ প্রিন্ট খাতা সেলাই করে একটা লেখালেখির খাতা বানিয়েছি। সেদিন গুণে দেখি সর্ব সাকুল্যে সেখানে সাতটি অসম্পূর্ণ লেখা জমে আছে। এর কোন কোনটা প্রায় এক-দেড় বছর আগে শুরু করেছি! জানি না শেষতক এই লেখাটাও শেষ করতে পারবো কিনা। তবে আশার বিষয় হচ্ছে- নিয়ত করেছি এই লেখাটা ঠিক দুই পৃষ্ঠা লিখব। A4 কাগজে SutonnyMJ ফন্টের ১২ সাইজে ঠিক দুই পৃষ্ঠা। দুই পৃষ্ঠা লেখা শেষ হলেই লেখা থামিয়ে দেব। সুতরাং সল্পদৈর্ঘ্য এই গল্পটি লিখতে সময় খুব কম লাগার কথা। তাছাড়া আমি লিখছিও খুব দ্রুত…!
যা হোক ভূমিকা, আত্মকথা বা শানে নযুল বাদ থাক। ইতিমধ্যে বোধহয় প্রায় আধ পৃষ্ঠা শেষ হয়ে গেছে। যে গল্পটি আজ লিখব বলে এতো বাহানা তা নিম্নরূপঃ

২০ জানুয়ারী ২০০৯ // রোজ মঙ্গলবার // দুপুর সাড়ে বারটার কাছাকাছি… // {প্রহর শেষের আলোয় রাঙ্গা, // সেদিন চৈত্র মাস। // তোমার চোখে দেখেছিলাম // আমার সর্বনাশ!}
এটা আমার ডায়েরীর একটা পৃষ্ঠার এক্সরে রিপোর্ট। ফোন নাম্বার বা গুরুত্বপূর্ণ কোন তথ্য ছাড়া সাধারণতঃ আমি ডায়েরীতে তেমন কিছু লিখি না। তবু এই পৃষ্ঠাটিতে এগুলো লিখেছিলাম বিশেষ একটা কারণে। এটা লিখেছিলাম ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০০৯ তারিখে, দুপুর বেলা। একমাস পাঁচ দিন পর একথা কেন লিখেছিলাম তা বলব বলেই এই গল্পটি লেখা। তবে শুরুতেই বলে রাখি কবিতাটির শেষের দুই লাইন- “আমার চোখে দেখেছিলে // তোমার সর্বনাশ!” হলে ভাল হতো।
২০ জানুয়ারী ২০০৯, মঙ্গলবার, দুপুর সাড়ে বারটার দিকে কলেজের ক্লাস শেষ করে আমার খুব ঘনিষ্ট এক বন্ধু, নাম মা… ( না থাক, ছদ্মনাম লিখি। আসল নাম দেয়াটা বোধহয় ঠিক হবে না। যদিও আমার অতি পরিচিত মহল গল্পটা পড়লেই বুঝতে পারবে আমি কার কথা বলছি, তবুও ধরে নিলাম আমার বন্ধুর নাম আকাশ।) আকাশ আমাকে নিয়ে গেল একটা মহিলা কলেজের সামনে। তার এক দূর সম্পর্কের (রিতিমত লতায়-পাতায় সম্পর্ক!) ছোট বোনের সাথে দেখা করতে। একথা অবশ্য সে আমাকে আগে বলেনি। কারণ, সে জানতো- মহিলা কলেজের নাম শুনলে আমি যাব না। জীবনে প্রথম কোন মহিলা কলেজের গেটে দাঁড়িয়ে কোন মেয়ের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। যা হোক, এক সময় কলেজের গেট দিয়ে দু’টি মেয়ে বেরিয়ে এলো। আকাশ তাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিল- এ হচ্ছে অপ্সরী, আর এ হচ্ছে বৃষ্টি (দু’টোই ছদ্মনাম)। দু’জনেই আর্কিটেক, ২য় বর্ষের ছাত্রি। আর এ হচ্ছে সফিক, আমাদের ডিপার্টমেন্টের ফাইনাল ইয়ারের ফাস্ট বয়, আমার জানের দোস্ত… ইত্যাদি।
ওখানে যাবার মূল উদ্দেশ্য (মূল উদ্দেশ্য অবশ্য অন্য একটা। সেটা আরেক বিরাট কাহিনি তাই বলছি না।) ব্যক্ত করল আকাশ। সামনে ওদের পরীক্ষা। ম্যাথ বই থেকে সাজেশন দাগিয়ে দিতে হবে। কাউকে জ্ঞান দিতে আমার আগ্রহ আবার আজন্ম। কাজেই আমি ওদরে কিছু মুরুব্বি মার্কা উপদেশ দিয়ে বইয়ের কালো কালিগুলো সাজেশন হিসেবে দিলাম। তাতে ওদের বিরাট আপত্তি থাকায় একটু শর্ট করে শুধু ‘বাকাশিবো’ পড়ার সাজেশন দিলাম। কথা বলতে বলতে আমরা বসেছিলাম সামনেই একটা ফুচকার দোকানে এবং আকাশের ১১০ টাকার অপমৃত্যু ঘটিয়ে নানা বিষয়ে আড্ডা-গল্প করে উঠলাম প্রায় তিনটার দিকে। এরই মধ্যে আকাশ আবার আমার নামে একরাশ গাল-গল্প করে ফেলল। যেমন- আমি এক বিরাট সাহিত্যিক (!), নাম করা লেখকদের সাথে আমার খুব উঠা-বসা (!), পেপার-পত্রিকায় নিয়মিত লেখা ছাপা হয়… ইত্যাদি ইত্যাদি।
শেষ কথাটা একবারেই ডাহা মিথ্যা কথা; যাদের সাথে খুব ভাল লবিং আছে তারাই কেবল চক্ষুলজ্জ্বায় পড়ে কাল ভদ্রে দু’একটা লেখা ছাপে। আমি একথা বলায় খুব একটা লাভ হল বলে মনে হল না। ওরা এটা একজন বিখ্যাত (!) লেখকের নিছক বিনয় ধরে নিল। এবং আসবার সময় অপ্সরী আমার মোবাইল নাম্বারটা রেখে দিল এই বলে যে, ও আমাকে ফোন করে কবিতা শুনবে। যদিও আমি বলেছিলাম আমি কবি না তবুও অপ্সরী নিজেও একটু আধটু কবিতা লিখে, আবৃত্তি, নজরুল সংগীত, অভিনয় ও ক্লাসিক নৃত্য করে বলে সংস্কৃতিমনা এই মেয়েটির আন্তরিক আহ্বান ও কিছুটা (বয়সের দোষজনিত) কৌতুহলে মোবাইল নাম্বারটা দিয়ে এলাম। সৌভাগ্যক্রমে (কিংবা দুর্ভাগ্যক্রমে) আমাদের উভয়ের অপারেটরও ছিল একই। আর সর্বনাশের সেখানেই শুরু!
সেদিন রাত থেকে প্রায় প্রতি রাতেই অপ্সরী আমাকে ফোন করতো। বেশির ভাগই অর্থহীন প্যাঁচাল। এটাই ছিল আমার জীবনের প্রথম রাত জেগে দীর্ঘ সময় ফোনে কথা বলা। তাও আবার কোন মেয়ের সাথে! আর এটা আমি ওকে বলেছিলামও। কথায় কথায় সে তার প্রায় পুরো জীবন বৃত্তান্ত, পারিবারিক অবস্থা ও অবস্থান সবই আমায় বলে। কিন্তু বলার চেয়ে শোনার আগ্রহ কম থাকায় আমার সম্পর্কে সে অনেক কিছুই জানতো না। (যদিও একথা ও কোনদিনই স্বীকার করবে না। ওর ধারনা- ও আমাকে আমার চেয়েও বেশি চেনে!)
প্রথম দিকে আমি ওর সাথে কথা বলতাম দু’বছরের সিনিয়র বড় ভাইয়ের মত। আস্তে আস্তে কিছুটা বন্ধুর মত। তবে আগাগোড়াই আমার কথার মধ্যে থাকতো স্বভাবসুলভ আঁতলেমী! ফেব্রুয়ারীর গোড়ার দিকে আমাদের মোবাইল অপারেটরে ২৫০টি ফ্রি এস.এম.এস দিল। ফলে প্রতিদিন প্রায় ১০/১২ টি এস.এম.এস আমাদের মধ্যে চালাচালি হতো। ও-ই বেশি দিত। এর বেশির ভাগই ছিল কবিতা। কোন কোনটা কিছুটা রোমান্টিকও! আমার মেসেজগুলো হতো সেগুলোর মন্তব্য সূচক জবাব বা কখনও আঁতলেমীমূলক কথা; অন্তমিল দিয়ে লেখা দু’এক ছত্র!
ফেব্রুয়ারীর দ্বিতীয় সপ্তাহে আমি একদিন ওকে প্রশ্ন করলাম- তোমার মেসেজগুলো কি শুধুই কবিতা, নাকি আমাকে উদ্দেশ্য করে লেখা? আমি তো রিতিমত ভয় পাচ্ছি!
ও আমাকে আশ্বস্ত করে বলল- ওগুলো নিছকই কবিতা; শুধু আমায় না, ওর বান্ধবীদেরও এগুলো পাঠায়।
আমি কিছুটা নিশ্চিন্তে সপ্তাহটি পার করলাম। এমনকি ১৪ ফেব্রুয়ারী ভেলেনটাইন ডে টা পর্যন্ত! কিন্তু তারপরেই আমার কেন যেন সন্দেহ হতে থাকে- ও আমার প্রতি দুর্বল হচ্ছে। যদিও ওকে আমি ‘তুমি’ আর ও আমাকে ‘আপনি’ সম্মোধন করতো তবুও ইদানিং ওর কথা-বার্তার সুরে, কথায় কথায় অভিমান করা ও মাঝে মধ্যে আমাকে গান শোনানোর আকুলতা দেখে এবং সেসব গান শুনে আমার কেবলই মনে হতো- ও আমাকে কিছু বলতে চায়। কিন্তু আবহমান বাঙ্গালি নারী চরিত্রের দৃঢ়তা হেতু বুক ফাটলেও মুখ ফুটে কিছু বলছে না।
অবশ্য আমার এই সন্দেহ ওকে কখনও বুঝতে দেইনি। বরং সব সময় সহজ স্বাভাবিক কথা বলার চেষ্টা করেছি। হয়তো সেটাও ছিল আমার পক্ষ থেকে একধরনের প্রশ্রয়!
২৪ ফেব্রুয়ারী ২০০৯। সেদিনটিও ছিল মঙ্গলবার! মাঝখানে কেটে গেছে ঠিক পাঁচটি সপ্তাহ। সন্ধ্যার দিকে মোবাইলে কিছুক্ষণ কথা বলে প্রায় অকারণেই অভিমান করে লাইন কেটে দিল। রাত দু’টোর দিকে ফোন করে একথা সেকথার পর ও জানালো- FM রেডিওতে “মনের জানালা” অনুষ্ঠানে ও একটা কথা বলার জন্য অনেক চেষ্টা করেও লাইন পায়নি।
আমি সান্তনা দিয়ে কী বলতে চেয়েছিলো জানার জন্য অনেক অনুরোধ করায় ও বলল- বলতাম, আমি আমার আব্বু-আম্মুকে অনেক ভালবাসি। আর বলতাম, সফিক ভাই যেন এতো ভাব না নেয়।
আমি বিষ্মিত হবার অভিনয় করে বললাম- কেন! আমি কি খুব ভাব নিই?
: অবশ্যই নেন! বুঝেও না বোঝার ভান করেন। আপনার ভাব দেখলে মাঝে মাঝে গা জ্বলে যায়। আমি আর কোনদিন আপনাকে ফোন করবো না!
একথা বলে সে কাঁদতে লাগলো। আমি বুঝতে পারলাম এরপরেও আর ‘ভাব নিয়ে’ না বোঝার ভান করে লাভ নেই। তাই খুব শক্তভাবে প্রশ্ন করলাম, যেন পাথর ভেঙ্গে কথা ফোটে। এবং এক সময় ও বলতে বাধ্য হল যে, ও আমাকে ভালোবাসে।
আমি উত্তরটার জন্য প্রস্তুত ছিলাম। ঠিক প্রস্তুত না, উত্তরটা সম্পর্কে ধারনা ছিল শুধু; কিন্তু প্রত্যুত্তর দেবার ভাষা জানা ছিল না। কিন্তু তখন ও আমার প্রত্যুত্তর জানার জন্য শক্ত করে ধরল। মানসিকভাবে যতখানি চাপ দেয়া যায় দিল। অথচ কী বলব আমি?
এরপরের ঘটনা বিশাল। সে রাতে আর ঘুম হয়নি আমার। হয়তো ওরও। কিন্তু তারপর…? তারপরের সারমর্ম হচ্ছে এই, শেষ পর্যন্ত আমি ওকে আশাহত করেছিলাম! …কেন করেছিলাম?
অনেক কারণ আছে। সেগুলো বলতে চাচ্ছি না। আমার প্রতি কারো ভুল ধারনা হলেও না। শুধু এটুকু বলতে পারি- ভালোবাসাকে আমি চিরকাল স্বর্গীয় বলে জানি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, যা স্বর্গীয় তা দুর্লভ! তার জন্য অনেক সাধনার প্রয়োজন। ভালোবাসা অনেক বড়, অনেক বিশাল। ভালোবাসার জন্যই বিধাতার সকল সৃষ্টি। ভালোবাসাই স্বয়ং বিধাতা!
তবে ওকে অস্বীকার করার পেছনে এটা কোন যুক্তি বা কারণ নয়। সেখানে ছিল আবেগের পাশাপাশি বয়সের তুলনায় একটু বেশি পরিপক্ক দৃষ্টিভঙ্গি, পারিবারিক দায়িত্বশীলতা, দ্বিধা, ভয়, সন্দেহ… মনের একান্ত গোপন অন্ধকার! হয়তো আরও অনেক কিছু…।
যদিও এতে ও প্রচন্ড কষ্ট পেয়েছে। তবে তাই বলে ওকে আমি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যানও করিনি। মজার ব্যাপার হচ্ছে ২৫ ফেব্রুয়ারী থেকে মাঝখানে প্রায় দুই সপ্তাহ কোন যোগাযোগ না থাকার পর প্রাথমিক ধাক্কাটা কাটিয়ে উঠে ও আবার আমার সাথে যোগাযোগ রেখেছে। এমনকি এখনও ওর সাথে প্রায় নিয়মিত কথা হয়; কখনও কখনও দীর্ঘ সময়ব্যাপি! কিন্তু! তাহলে কি… অতপরঃ…?
অতপরঃ আরও অনেক কিচ্ছা বাকি। দু’পৃষ্ঠার গল্পে এতো কথা লেখা সম্ভব নয়। ফুটনোটে শুধু এটুকু বলি, ওর সাথে আমার চুক্তি হয়েছে- আমি চিরকাল ওর বন্ধু হিসেবে পাশে থাকবো। আর ও আমাকে দূর থেকে… আমি তাতে কোন হস্তক্ষেপ করতে পারবো না। সেও কোনদিন আমাকে জোর করবে না! কিন্তু এভাবে কতদিন চলবে কে জানে! বেশিদিন চলার কথা নয়। মেয়েরা বেশিদিন পুরোনো স্মৃতি আঁকড়ে পড়ে থাকে না। আমার ধারনা ও একসময় স্বাভাবিক হয়ে যাবে। ভুলেও যেতে পারবে একসময়। আমি সেই দিনটার অপেক্ষায় আছি…।
———- ০ ———-

(এই গল্পটা “….” কে উৎসর্গ করা। নামটা লেখার দরকার আছে কি? তোমার নাম তো তুমি জানোই!)

– সফিক এহসান
(২৪ মার্চ ২০০৯ইং)

৪ thoughts on “দু’পাতার গল্প

  1. গল্প শুরু করলেন অর্ধেকে এসে।
    গল্প শুরু করলেন অর্ধেকে এসে। এর আগে এতো বড় ভূমিকা কেন দিলেন বুঝলাম না।

    1. ভুমিকার মাঝেই ভুমিকার হেতু
      ভুমিকার মাঝেই ভুমিকার হেতু বলা আছে!

      যাইহোক- গল্পটাই মুখ্য, ভুমিকা নহে…
      😛

  2. ভালই লাগল কিন্তু ভুমিকা না
    ভালই লাগল কিন্তু ভুমিকা না থাকলে আরও জমত । তবে আপনি বরাবর এর মত বেশ ভাল একজন গল্পকার । চালিয়ে যান ভাই । অনেক শুভেচ্ছা রইল । :ফুল:

    1. শুকরিয়া!
      ভুমিকা লেখার একটা

      শুকরিয়া!

      ভুমিকা লেখার একটা ভুমিকা/কারণ ছিল! যাই হোক- সেগুলো আর না বলি…
      আপনাকেও অভিনন্দন…
      🙂

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *