সুপার মুন

চাঁদ হল পৃথিবীর এক মাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহ ও আমাদের নিক তম মহাজাগতিক প্রতিবেশী। চাঁদ নিজ অক্ষে পাক খাওয়ার পাশাপাশি কেপলারের গ্রহ গতি সূত্র মেনে পৃথিবীর চারপাশে নিজের উপবৃত্তাকার কক্ষপথে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে। পৃথিবী এর ফোকাসে থাকায় কখনো চাঁদ পৃথিবীর কাছে চলে আসে আবার কখনো দূরে সরে যায়। যখন কাছে আসে তখন তাকে বড় দেখায় আবার দূরে সরে গেলে ছোট দেখায়। কাছে আসার পর পূর্ণীমাটা আপনার কাছে একটু অন্যরকম মনে হবে। চাঁদটাকে বড় মনে হবে। যখন চাঁদ পৃথিবী থেকে সবচেয়ে কাছে আবস্থান করে আর এ সময় যদি সূর্য্য, চাঁদ আর পৃথিবী একই সরল রেখায় অবস্থান করে তাহলে সেই চাঁদকে বলাহয় সুপার মুন। এর অর্থ হতে পারে ব্যতিক্রমী চাঁদ। এ বছরের মে’র পূর্ণিমা চাঁদটা ছিল এমনি একটা সুপার মুন। কিন্তু এমাসের পূর্ণ চাঁদে চাঁদটাকে যে মে মাসের চেয়েও বেশি বড় আর উজ্জ্বল দেখাবে! তাই আমি বলব মে মাসেরটা যদি হয় সুপার মুন তাহলে এ মাসেরটা হবে সুপার সুপার মুন। চাঁদের অবস্থান হবে মাত্র ৩,৫৬,৯৯১ কিমি দূরত্বে। এমন দূরত্বে পূর্ণিমা আর দ্বিতীয়টি আর এ বছর ঘটবে না। আর এর পর পরই চাঁদ সরে যেতে থাকবে ফলে ৭ জুলাই চাঁদ থাকবে ৪,০৬,৪৯০ কিমি দূরে।

জুনের সুপার মুন কতটা সুপার?

২০১৪ সালের আগষ্টের ১০ তারিখের আগে অত কাছ থেকে আর ভর পূর্ণীমা দেখা যাবেনা। এ দিকে ২০১৬ সালের ১৬ নভেম্বরে সুপার মুন থাকবে আরো নিকটবর্তী সেই দিন চাঁদ ৩,৫৬,৫০৯ কিমি দূরত্ব থাকবে। এত কাছ থেকে সুপার দেখতে হলে আমাদের অপেক্ষা করতে হবে ২০৩৪ সালের ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত।

কেন হয়?

প্রতি বছর ৪ থেকে ৬ বার চঁন্দ্র সূর্য্য সমরেখ বরাবর অবস্থান কালে পূর্ণিমা সংগঠিত হয়। এ সময় এদেরকেও এক অর্থে সুপার মুন বললেও আধুনিক সংগায় প্রতি ১৪চন্দ্র পিরিয়ড বা পর্যায় একবার সুপার মুন দেখাযায়। চঁন্দ্র পিরিয়ডের হিসেবটা হল এক পূর্ণিমা হতে আরেক পূর্ণিমা। এই সময় ১৫ টা পূর্ণচাঁদ পাওয়া যায়। আবর্তনের একটা অঞ্চল আছে যেখানটাতে চাঁদের নিকটবর্তীহবার সময় পূর্ণিমা সংগঠিত হয় আবার এই সময় সূর্য্য, চাঁদ আর পৃথিবী সরল রেখা বরাবর অবস্থান করে। প্রতি ১৫ পূর্ণিমাতে একবার এ অবস্থানে আসে। যদি সৌর দিবসে হিসেব করি? এক চন্দ্র পিরিয়ড হল ২৯.৫৩ দিন। এ হিসাবে ৪১৮দিন বা ১বছর ১মাস ১৮দিনে একবার। আর তাই এর পরের সুপার মুন ১৪সালের ১০ আগষ্টে।

২০৫২ সালে এ শতাব্দির সবচেয়ে কাছের সুপার মুন দেখা যাবে ৬ ডিসেম্বরে। ৩,৫৬,৪০০ কিমি বা তারও কম দূরত্বের সুপার মুন খুবই দূর্লব। এই শতাব্দিতে এত কাছের সুপার মুন পাওয়া যাবেনা। এর জন্য পৃথিবীকে অপেক্ষা করতে হবে ২২৫৭ সালের পহেলা জানুয়ারি পর্যন্ত। সে সময় চাঁদ থাকবে ৩,৫৬,৩৭১ কিমি দূরত্বে।

মানব জীবনযাত্রায় প্রভাব

পৃথিবীতে চাঁদের একটা প্রভাব আছে। এর সৌন্দর্য ও অবস্থান গত কারনে। বিশ্বের প্রতিটি বস্তু কণা একে অপরকে তার নিজের দিকে মহাকর্ষ বলে আকর্ষন করে। দূরবর্তী স্থানেও এর ক্রিয়া বিদ্যমান থাকে বলে চাঁদের আকর্ষণে পৃথিবীতে প্রভাব ফেলে. চাঁদের আকর্ষণে পৃথিবীর উপরভাগ কিছুটা চাঁদের দিকে সরে আসে । কিন্তু ভূপৃষ্ঠে এ সরন খুব একটা বুঝা যায় না। কিন্তু জলে কিন্তু ঠিকই বুঝা যায়। চাঁদের আকর্ষণে পৃথিবীতে জোয়ার ভাটা ঘটে। চাঁদ যেই দিকে অবস্থান করে সেদিকে মুখ্য জোয়ার ঘটে। আর পাশের দিকে হয় ভাটা। আর ঠিক বিপরীত দিকে হয় গৌণজোয়ার। আবার যখন ভড়াকটাল হয় তখন সূর্য ও চাঁদ পৃথিবীর একই দিকে একই সরল রেখায় অবস্থান করে। তখন দুইয়ের মিলিত আকর্ষণে জোয়ারের উচ্চতা বেড়ে যায়। আবার নিউটনের মহাকর্ষ সূত্রমতে দূরত্ব কমলে দূরত্বের বর্গের হারে আকর্ষনের মান বেরে যায়। ফলে এই দিন চাঁদ সবচেয়ে কাছে অবস্থান করায় জোয়ারের পানির উচ্চতা কিছুটা বেড়ে যাবে। তবে জুনের ২৩ তারিখে জোয়ারের কারনে বন্যা হবার সম্ভাবনা নাই।

তথ্য:
১। http://www.slate.com/blogs/bad_astronomy/2013/06/20/supermoon_big_bright_moon_but_no_more_than_usual.html

২। http://earthsky.org/tonight/is-biggest-and-closest-full-moon-on-june-23-2013-a-supermoon

আমার মন্তব্যঃ খালি চোখে আপনার কাছে গত মে মাস বা জুলাইয়ের পূর্ণমার চাঁদের পার্থক্য ধরা পড়বে না বা নাও পড়তে পারে।

৬ thoughts on “সুপার মুন

  1. চমৎকার!! এইসব সবার জানা ও
    চমৎকার!! এইসব সবার জানা ও বুঝা উচিৎ…
    আপনি সব তথ্যের সাথে লিংক যুক্ত করে দিলে ভাল হত!!
    ধন্যবাদ… লিখতে থাকুন!! :থাম্বসআপ:

    1. আমি আসলে বিজ্ঞান নিয়েই লিখি।
      আমি আসলে বিজ্ঞান নিয়েই লিখি। আমার পরের বেশীর ভাগ পোষ্টই হবে বিজ্ঞান নিয়ে। বিশেষ করে পদার্থ বিজ্ঞান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *