পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অভিমুখ কোন দিকে?

ভারত তথা পশ্চিমবঙ্গে লোকসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে এরই মধ্যে চার দফা নির্বাচন পর্ব সম্পন্ন হওয়ার পর পঞ্চম দফার নির্বাচন আগত। 2019 সালের এই লোকসভা নির্বাচন বহু অংশে ঐতিহাসিক, কারণ এই নির্বাচনে ডান ও বাম মতাদর্শ প্রায় সম্মুখ সমরে এসে উপস্থিত হয়েছে। বহু রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা আগামী দিনে দেশে গণতন্ত্র থাকবে না ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠিত হবে তা এই নির্বাচনে বহুলাংশে প্রতিষ্ঠিত হবে। প্রকৃতপক্ষে বলা যায় ভারতবর্ষ এক ধর্মনিরপেক্ষ দেশ থাকবে না এক ধর্মান্ধ রাষ্ট্রে পরিণত হবে তা এই নির্বাচনে তাঁর এক দিশা নির্দেশিত হবে! তাই জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষেত্রে জনগণকে আরও সচেতন থাকা একান্ত কাম্য।

অন্যদিকে বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সমান তাৎপর্যপূণ্য। কারণ 42 টি লোকসভা আসন সম্পন্ন পশ্চিমবঙ্গ ভারতবর্ষের রাজনীতিতে প্রভূত প্রভাব বিস্তার করে এবং
দেশে নতুন সরকার গঠনের ক্ষেত্রে এই 42টি আসন নির্নায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। তাই এবার পশ্চিমবঙ্গে লোকসভা নির্বাচনের রণে চারটি প্রধান দল- বাম, বিজেপি, তৃণমূল ও কংগ্রেস স্বতন্ত্র ভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হয়েছে। এর ফলে নির্বাচন প্রক্রিয়া আরও অপরিমিত হয়েছে। আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গে কোন দল অধিক সংখ্যক লোকসভা আসনে জয়লাভ করবে তাঁর দিকে রুদ্ধশ্বাসে গোটা ভারতবর্ষ তাকিয়ে আছে। এবার আসি আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য রাজনীতির অভিমুখ কোন দিকে প্রবাহিত হবে?

বিভিন্ন মিডিয়া ও সংবাদ মাধ্যম প্রচার করছে এবারের পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ময়দানে মূল প্রতিপক্ষ বিজেপি এবং তৃণমূল, মিডিয়ার একাংশ তা মমতা ও মোদীর লড়াই বলে ও উল্লেখিত করছে কিন্তু প্রশ্ন হল বাস্তবের রাজনীতি কি এতই সরল সমীকরণে আবদ্ধ? প্রকৃতপক্ষে বলা ভালো এই সমস্ত সমীকরণ বহুঅংশে অসত্য চিন্তাচেতনার বহিঃপ্রকাশ কারণ বর্তমান দিনে মিডিয়ার বৃহদংশই সত্যের নয় বরং অর্থের দলদাসত্ব করতে মশগুল; তাই স্বভাবতই তাদের রিপোর্টের কোন গ্রহণযোগ্যতা জনমানসে নেই। বিভিন্ন মিডিয়া রিপোর্টে তৃণমূল কংগ্রেস বেশিরভাগ আসনে জয়ী এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসাবে বিজেপিকে তুলে ধরা হচ্ছে এবার প্রশ্ন হল এই রিপোর্টের যথার্থতা কতটুকু?

এই রিপোর্ট বহু অংশে যথার্থ নয় কারণ প্রশ্ন হল বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থক কারা? মিডিয়াতে এই রিপোর্ট গুলি দেখানো না হলেও বাস্তব এটাই মমতা ব্যানার্জির সাম্প্রদায়িক রাজনীতির ফলে রাজ্য আজ চুড়ান্ত অশান্ত। জনমানসে এটা প্রায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ‘তৃণমূল কংগ্রেস’ মানে ‘মুসলমানদের দল’ এবং ‘বিজেপি’ মানে ‘হিন্দুদের দল’। বলা ভালো এই জঘন্য সাম্প্রদায়িক রাজনীতির মূল কারিগর হচ্ছেন মমতা ব্যানার্জি অথচ তথাকথিত বুদ্ধিজীবী ও মিডিয়া মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল কংগ্রেসকে ‘ধর্মনিরপেক্ষ দল’ হিসাবে উল্লেখ করেন। বাস্তব সত্য হল তৃণমূল কংগ্রেসের মত ‘ধর্মান্ধ দল’ ভূভারতে আর একটিও আছে কিনা সন্দেহ? বিজেপি প্রকাশ্য হিন্দুত্ববাদীদের দল তাঁকে নিয়ন্ত্রণ করা অনেক সহজ কিন্তু ধর্মনিরপেক্ষতার মুখোশ পরে চরম ধর্মান্ধতা সৃষ্টিকারি তৃণমূল কংগ্রেস অনেক বেশি ভয়ংকর!

মোল্লাদের ভাতা প্রদান থেকে শুরু করে, মসজিদ, কবর স্থানে টাকা প্রদান সেই সঙ্গে শেষের দিকে এর তীব্র প্রতিক্রিয়া স্বরূপ পূজা কমিটিকে টাকা প্রদান, ব্রাহ্মণ সম্মেলন, গোরক্ষা কর্মসূচি রূপায়ন, রাম নবমী পালন, হনুমান জয়ন্তী পালন, মহরম ও পূজা বিসর্জন উপলক্ষে সাম্প্রদায়িকতার সৃষ্টি ইত্যাদির মাধ্যমে তিনি উভয় ধর্মের উগ্র সাম্প্রদায়িকতার লালন করছেন। বস্তুত তাঁর এই নোংরা ধর্ম রাজনীতির ফলে পশ্চিমবঙ্গ আজ এক সুপ্ত আগ্নেয়গিরিতে পরিণত হয়েছে। যে পশ্চিমবঙ্গে কোন দিন সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা দেখা যেত না সেখানে- ধূলাগোড়, কালিয়াচক, মালদা, বসিরহাট, আসানসোল প্রভৃতি অঞ্চলে অহরহ দাঙ্গার সৃষ্টি হচ্ছে। খাস কলকাতার কাছে খগড়াগড়ে জেএমবির বোমা বিস্ফোরণ হয় সেইখানে পুলিশ প্রশাসনকে সঠিকভাবে তদন্ত করতে না দিয়ে তিনি মামলাটি হাল্কা করার চেষ্টা করেন, রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে জঙ্গিদের অহরহ আনাগোনা!

অথচ পুলিশমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি নির্বিকার, তিনি এগুলি দাবিয়ে রাখার মাধ্যমে প্রচ্ছন্নে মুসলমানদের এই বার্তা দিতে চেয়েছেন দেখুন মমতা ব্যানার্জির প্রশাসন মুসলমানদের পক্ষে। তা মাননীয়া আপনার কাছে বিনীত প্রশ্ন হল- মুসলমানরা কি কখনো দাবি করেছিল যে মোল্লাদের ভাতা প্রদান করা হোক? আপনি জঙ্গি হামলা গুলির সঠিক তদন্ত করবেন না? আসলে আপনি আপনার নোংরা ধর্ম রাজনীতির খেলায় সবচেয়ে বেশি ‘কলঙ্কিত করেছেন মুসলমান সমাজকে’। আপনার এই জঘন্য কর্মকান্ডের ফলে জনমানসে মুসলমানদের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। আর তাঁর ফল স্বরূপ পশ্চিমবঙ্গে তীব্র সাম্প্রদায়িকতা ও বিজেপির মত ধর্মান্ধ দলের উত্থান। আসলে বাস্তব সত্য হল আপনি সাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে ঘৃতাহুতি ঢালছেন এবং আপনার আমলে রাজ্যের নিরাপত্তা বহুলাংশে বিনষ্ট হচ্ছে। খারাপ লাগলে ও এটাই সত্য আপনি মুসলমান জনসাধারণকে ‘গরু, ছাগলের’ অধিক কিছু মনে করেন না! আপনি মনে করেন মূর্খ মুসলমান সমাজ চিরকাল আপনার ভোটব্যাঙ্ক হিসাবে গোলামি করবে!

হ্যাঁ, মাননীয়া এটা সত্য মুসলমান সমাজে শিক্ষার অভাব রয়েছে তাই আপনার এই ঘৃণ্য রাজনীতি তাঁরা সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পারছে না কিন্তু তার মানে এই নয় যে, তাঁরা চিরকাল আপনাকে অন্ধভাবে সমর্থন করে যাবে! আসল সত্য হল মুসলমান সমাজের মধ্যে শিক্ষিত ও সচেতন মানুষের মধ্যে মমতা ব্যানার্জির এই সমস্ত নোংরা ধর্ম রাজনীতির ফলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হচ্ছে এবং তার ফলে এক বৃহৎ অংশের মানুষ এই দলকে প্রত্যাখ্যান করা শুরু করেছে। সেইসঙ্গে তীব্র বেকারত্ব, সঠিক ভাবে নিয়োগ না করা, চাকরির দাবিতে অনশনরত শিক্ষক ও মাদ্রাসা ছাত্রদের উপর হামলা, স্থায়ী চাকরি প্রদান না করে সিভিক পুলিশ, সিভিক টিচার নিয়োগের মাধ্যমে মানুষের পেটে লাথি মারছেন মাননীয়া! তাই মমতা ব্যানার্জির সরকারের উপর মানুষের তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হচ্ছে। মিডিয়ার প্রচারযন্ত্র ঘোষণা করে বেড়াচ্ছে চারিদিকে নাকি উন্নয়নের বন্যা বয়ে গেছে? তা মাননীয়া দু টাকা কেজি চাল, কন্যাশ্রী, সবুজ সাথি ইত্যাদির মাধ্যমে জনগণকে ভিখারি বানিয়ে রাখার এই হীন প্রচেষ্টা কি জনগণ বুঝতে পারছে না?

সেইসঙ্গে গত আটবছরে মিডিয়ার কন্ঠ রোধ করা, সঠিকভাবে নির্বাচন হতে না দেওয়া, মনোনয়ন প্রদানে বাধা, নির্বাচনে ব্যাপক হিংসা ও ভোট গণনাতেও ছাপ্পা! এগুলি আসলে মমতার আমলেই সম্ভব! প্রশ্ন করলেই মাওবাদী বলে জেলে পুরে দেওয়া এবং সারদা, নারদার লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা লুঠের সঠিক তদন্ত না করা, বিরোধী শূন্য রাজনীতির উদগ্র বাসনা, দুর্নীতি, অসহিষ্ণুতা বৃদ্ধি, মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার বাসনা সেইসঙ্গে রাজ্যে ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’ জারি করা মমতা ব্যানার্জির কৃতিত্ব! বেশ কিছু দালাল মিডিয়া মমতা ব্যানার্জিকে ‘বাংলার নব রূপকার’ বলে অভিহিত করেন। কিন্তু ইতিহাস বড়ই কঠিন ইতিহাস যখন লেখা হবে তখন মমতা ব্যানার্জিকে ‘বাংলা ধ্বংসের জননী’ হিসাবে আখ্যায়িত করা হবে!

তাঁর এই সমস্ত ঘৃণ্য কর্মকান্ডের ফলে জনমানসে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হচ্ছে নিন্দুকেরা তাঁকে ‘বাংলার মহম্মদ বিন তুঘলক’ বলে অভিহিত করেন। তিনি মোদীকে সাম্প্রদায়িক, দাঙ্গাবাজ, গণতন্ত্র হত্যাকারী ইত্যাদি অভিধায় ভূষিত করেন। মোদীর সম্পর্কে মমতার অভিযোগগুলি যথার্থ হলেও প্রশ্ন হল তিনি এগুলির কোনটি থেকে মুক্ত? বরং ক্ষেত্র বিশেষে অনেকে বলেন তিনি মোদীকেও ছাড়িয়ে যাবেন। এখন তিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে এই সমস্ত কথা বলে চলেছেন। একশ্রেণীর মানুষ বাঙালি প্রধানমন্ত্রী হবে এই আশায় মমতার পক্ষে কিন্তু বেশিরভাগ মানুষ মনে করেন মমতা ব্যানার্জি প্রধানমন্ত্রী হোক সেটাই চাই কারণ পশ্চিমবঙ্গের মানুষ যে কি পরিমান জ্বলছে তা সারা দেশের মানুষ প্রত্যক্ষ করুক! এই হচ্ছে রাজ্যের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত মনোভাব! এথেকেই বোঝা যায় আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য রাজনীতির অভিমুখ কোন দিকে প্রবাহিত হবে। তাই প্রধানমন্ত্রীত্বের স্বপ্নে বিভোর হয়ে থাকলেও আগামী দিনে এই পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস নামক দলটির অস্তিত্ব থাকবে কি না সেটাই লাখ টাকার প্রশ্ন!

 

বিখ্যাত দর্শনিকরা বলেন পৃথিবী এক আয়নার মত এখানে আপনি যেমন দেখাবেন, সেটাই আপনার কাছে ফিরে আসবে। তাই বস্তুত মমতা ব্যানার্জির এই নোংরা ধর্ম রাজনীতির খেলা ও গণতন্ত্র হত্যার ঘৃণ্য প্রচেষ্টা জনমানসে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে, তাই যথা সময়ে জনগণ এর সমুচিত জবাব দেবে। বস্তুত আমরা দেখতে পাই বিগত দিনে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় 34% পঞ্চায়েতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করে ও জোর করে ছাপ্পা এবং ভোট লুঠের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে। এখন মানুষ সুযোগ পেলেই স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে এর উত্তর দিচ্ছেন। এবার প্রশ্ন হল বর্তমান দিনে মমতা ব্যানার্জির সমর্থক কারা?

মমতা ব্যানার্জির মূলত সমর্থক হল –
• একশ্রেণীর হত দরিদ্র প্রান্তিক মানুষ যারা দুটাকা কেজি চাল, কন্যাশ্রী এগুলির বিনিময়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোট দেয়। কিন্তু প্রশ্ন হল চাওয়া পাওয়ার রাজনীতির শেষ কোথায়? তাই মানুষকে ভিখারি বানিয়ে রাখার এই হীন প্রচেষ্টা বুমেরাং হিসাবে ফিরে আসতে বাধ্য।
• বেশ কিছু মিডিয়া ও বুদ্ধিজীবীরা যারা তৃণমূল কংগ্রেসের ‘উচ্ছিষ্টজীবীতে’ পরিণত হয়েছে তাঁরা তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থক।
• একশ্রেণীর তোলাবাজ, গুন্ডা বাহিনী, তৃণমূল দলের নেতা যারা তৃণমূলকে ভিত্তি করে নিজেদের জীবন নির্বাপন করেন তাঁরা তৃণমূলের বড় সমর্থক। এখন প্রশ্ন হল যেহেতু এই দলের কোন নীতি আদর্শ নেই তাই মধু ফুরিয়ে গেলে দলের মধ্যে অন্তদন্দ, দল বদল ইত্যাদি লেগেই আছে।
• বর্তমানে মমতা ব্যানার্জির সবচেয়ে বড় সমর্থক হল মুসলমান জনগোষ্ঠী। পশ্চিমবঙ্গে এই মুসলমানদের ভোট ব্যাঙ্ক প্রায় 30%। এই মুসলমান জনগোষ্ঠীর প্রায় 70% মমতা ব্যানার্জির পক্ষে ছিল এখন এই জনগোষ্ঠীকে ভিত্তি করেই মমতা ব্যানার্জি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। মমতা ব্যানার্জির এই সমস্ত অসাধু কর্মকান্ডে শিক্ষিত ও চেতনা সম্পন্ন মুসলমানরা দলে দলে এই তৃণমূল কংগ্রেসকে ত্যাগ করছে। তাই মিডিয়া যাই বলুক না কেন বর্তমান দিনে মুসলমানদের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থক হল প্রায় 40-50%। এখন প্রশ্ন হল শুধুমাত্র এই 50% মুসলমান ভোট ব্যাঙ্ক নিয়ে মমতা ব্যানার্জি কি তাঁর স্বপ্নের সাম্রাজ্য সুরক্ষিত রাখতে পারবেন?
আসলে মমতা ব্যানার্জির এই জঘন্য ধর্ম রাজনীতির ফলে পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুদের মধ্যে তৃণমূল সমর্থক আর প্রায় খুঁজেই পাওয়া যায় না। এলাকার পর এলাকা হিন্দু ভোট ব্যাঙ্ক সম্পূর্ণ মমতার বিপক্ষে। সমাজে এত সুস্পষ্ট মেরুকরণ বাংলার রাজনীতিতে আগে কখনও দেখা যায়নি। প্রায় 70% হিন্দু ভোট ব্যাঙ্কের 10% এর বেশি মমতার পক্ষে থাকা মুশকিল। তাই প্রকৃতসত্য হল নিরপেক্ষ ভোট হলে মমতার সাম্রাজ্য ‘তাসের ঘরের’ মতো ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা ‘ষোলো আনা খাঁটি’!

এখন প্রশ্ন হল তাহলে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বিকল্প হিসাবে কারা উঠে আসছে? প্রথমেই আলোচনা করা যাক বিজেপি নিয়ে কারণ মিডিয়া প্রচার করছে, এই লোকসভা নির্বাচনে মোদী বনাম মমতার লড়াই। পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের বিভাজনের রাজনীতির ফলে এক বৃহৎ জনমানসে সাম্প্রদায়িক চিন্তা সুস্পষ্ট ভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সেই সঙ্গে বিজেপি ও সংঙ্ঘ পরিবার গোপনে আবার কখনও প্রকাশ্যে প্রচার করছে রাজ্যকে পাকিস্তান হতে রক্ষা করতে গেলে বিজেপিকে ভোট দিন। সেইসঙ্গে এনআরসি, হিন্দু মুসলমান রাজনীতি, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ইত্যাদির ফলে জনমানসে তীব্র সাম্প্রদায়িক মনোভাব ফুটে উঠছে। একদিকে প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্ব এবং অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকারে ক্ষমতায় থাকার সুবাদে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থান বেশ সুস্পষ্ট ভাবে লক্ষ্য করা যায়। এখন প্রশ্ন হল বিজেপির আসল ভোট ব্যাঙ্ক কারা? পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির আসল ভোট ব্যাঙ্ককে কয়েকটি শ্রেণীতে ভাগ করা যায়।
• প্রান্তিক কিছু মানুষ যারা তৃণমূল কংগ্রেসের অত্যাচার ও বাম নেতৃবৃন্দের তাঁদের কর্মীদের নিরাপত্তা দিতে না পারার কারণ হেতু বেশ কিছু বাম সমর্থক বিজেপির দিকে ঝুঁকছে।
• বিজেপির প্রধান ভোট ব্যাঙ্ক হল হিন্দুত্ববাদী ভোট ব্যাঙ্ক। আসলে এত দিন যে হিন্দুত্ব মানুষের মনে সুপ্ত ভাবে বেঁচে ছিল তা এখন ব্যাপক ভাবে প্রকাশিত হচ্ছে।

তাই বিজেপির এই হিন্দুত্ববাদী চিন্তাচেতনা হেতু হিন্দু ভোট ব্যাঙ্কের প্রায় 30-40% ভোট বিজেপির দিকে ঝুঁকছে। তাই বিজেপির এত রমরমা। এখন বিজেপির এই শক্তিই তাদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। কারণ-
• বিজেপি এখনও প্রভূত ভাবে দিল্লী নির্ভর দল তাই মোদী ক্ষমতায় থাকার হেতু বিজেপির এত প্রসার কিন্তু বিজেপি কেন্দ্র থেকে ক্ষমতাচ্যুত হলে বাংলায় বিজেপির আর কতটা প্রভাব থাকে সেটাই লাখ টাকার প্রশ্ন!
• রাজ্যে বিজেপির কোন গ্রহণযোগ্য মুখ নেই যার ফল বিজেপিকে ভুগতে হতে পারে।
• পশ্চিমবঙ্গে এক প্রকার হিন্দুত্ববাদীরা যেমন বিজেপির পক্ষে তেমনি এক বিরাট সংখ্যক ধর্ম নিরপেক্ষ মানুষ বিজেপির বিপক্ষে এটা ভোটের রাজনীতিতে প্রভূত প্রভাব বিস্তার করবে।
• 2014 সালের লোকসভা নির্বাচনে চরম মোদী হাওয়ায় ভর করে বিজেপির ভোট 17.02% বৃদ্ধি পায়, পরে আবার 2016 সালের বিধানসভা নির্বাচনের তা কমে হয় 10.02% হয়। বাজপেয়ীর আমলে ও একবার বিজেপির ভোট ব্যাঙ্ক 5% থেকে বৃদ্ধি পেয়ে 17% হয় পরে তা আবার কমে যায়।
• 34 বছরের বাম শাসনের ফলে পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ জনগণ সেই অর্থে সাম্প্রদায়িক নয়, তাই রাতারাতি তাঁরা সাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে বিশ্বাসী হবেন এটা খুব একটা যুক্তিসঙ্গত কথা নয়।
• পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির এখনও সেই অর্থে কোন শক্তিশালী সংগঠন নেই যা তাদের সমস্যায় ফেলতে পারে।
• পশ্চিমবঙ্গে প্রায় 30% সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাস তাই এই বৃহৎ জনসংখ্যা বিজেপির পক্ষে না থাকলে জেতা প্রকৃতপক্ষে খুবই কঠিন।
• মোদীর আমলে ব্যার্থতা। মোদী বছরে 2 কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল অথচ বাস্তবে NSSO এর রিপোর্টে দেখা যায় 45 বছরে দেশে সর্বাধিক বেকারত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে 6.1%।
• মোদীর আমলে গণতন্ত্রিক সংস্থাগুলির স্বাধীনতা বিপর্যস্ত, কৃষক ফসলের সঠিক দাম পায়নি, মজদুর কাজ পায়নি। দেশটি পুঁজিপতিদের কাছে বিক্রি হওয়ার যোগাড়। দেশে আয় বৈষম্য বেড়েছে, সাম্প্রতিক অক্সফ্যামের এক সমীক্ষায় দেখা যায় মাত্র 1% মানুষের কাছে দেশের 73% সম্পদ কুক্ষিগত। মোদীর ‘বিকাশ’ মানে আম্বানি, আদানি, বিজয় মালিয়া, মেহুলা চকোসি এদের উন্নয়ন। তাই প্রকৃতপক্ষে মোদীর আমলে সাধারণ গরিব খেটে খাওয়া মানুষদের জীবনে কোন উন্নয়ন হবে সে আশা বড় ক্ষীণ!

তাই প্রকৃতপক্ষে বিজেপির বাংলা দখলের স্বপ্ন মিডিয়ার প্রচার ছাড়া বিশেষ কিছুই নয়। বস্তুত এটা সত্য বিজেপি এক শক্তিশালী বিরোধী দল হিসাবে এগিয়ে আসছে, তবে বাংলার রাজনীতিতে নির্নায়ক শক্তি হিসাবে উঠে আসতে এখন ও ঢের বাকী।

অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গে আর এক বিকল্প শক্তি হিসাবে উঠে আসছে বাম শক্তিগুলি। এখন বর্তমানের মিডিয়া হাউসগুলি বাম শক্তিকে অচ্ছুত হিসাবে তুলে ধরছে। বিভিন্ন সমীক্ষাতে বলা হচ্ছে বামেরা একটিও আসন পাবে না। অথচ এই সমীক্ষা গুলিতেই দেখানো হচ্ছে প্রায় 30% এর কাছাকাছি বামেদের ভোট থাকা সত্ত্বেও একটিও আসন পাবে না এটা কতটা বিশ্বাসযোগ্য? অন্যদিকে গোয়েন্দা রিপোর্টে বলা হচ্ছে বামেরা প্রায় 8-10 টি আসন জয় লাভ করতে পারে। এবার প্রশ্ন হল হঠাৎ বামেদের এই ভাবে বেড়ে ওঠার কারণ কি? বামেদের এইরকম বেড়ে ওঠার অনেক যৌক্তিক কারণ আছে।
• বিগত দিনে পশ্চিমবঙ্গে এক নৈরাজ্য গ্রাস করেছে চারিদিকে হিংসা ও হানাহানিতে রাজ্য সন্ত্রস্ত। তাই মানুষের মনে এই চেতনার বিকাশ ঘটছে সাম্প্রদায়িক হানাহানির পরিবেশ থেকে একমাত্র মুক্তি দিতে পারে বাম সরকার। তাই মানুষ নিজেদের নিরাপত্তা হেতু বামেদের দিকে ঝুঁকছে। কারণ অতিবড় বাম বিরোধীরা ও এটি একবাক্যে স্বীকার করেন বামেদের 34 বছরে রাজ্যে কোন সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি হয়নি। সমাজে হিন্দু মুসলমান এই বিভেদ সৃষ্টি হয়নি। তাই মানুষ সমাজের স্থিতিশীলতা রক্ষার্থে বামেদের দিকে ঝুঁকছে।
• রাজ্যে এটা মোটামুটি সুস্পষ্ট বিজেপিকে রোখার ক্ষমতা আর যাইহোক তৃণমূল কংগ্রেসের নেই। কারণ এই দলের নীতি রাজ্যে সাম্প্রদায়িকতা বৃদ্ধির পক্ষে অনুকূল। বরং রাজ্যে তৃণমূলের উত্থানে হিন্দুত্ববাদী শক্তিগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল এবং মমতার সঙ্গে আরএসএসের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক সম্বন্ধে সকলে অবগত। বরং বিজেপি এবং আরএসএস এটা বুঝেছিল যতদিন বাম শক্তি আছে ততদিন পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা লাভ কার্যত অসম্ভব। তাই তৃণমূল ক্ষমতায় এলেই বাংলায় বিজেপির ক্ষমতা অর্জনের পথ সুগম হবে। তাই যারা মনে করছেন বিজেপিকে রুখতে গেলে তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোট দিতে হবে তাঁরা দিবাস্বপ্ন দেখছেন। কারণ তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপির নীতির মৌলিক কোন পার্থক্য নেই। অন্যদিকে তৃণমূলের কতজন নেতামন্ত্রী তলেতলে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সুযোগে আছে তার ঠিক নেই। প্রধানমন্ত্রী মোদী বলছেন 40 জন এমএলএ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে বিজেপিতে যোগদানের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। যে দলের কোন নীতি আদর্শ নেই তাঁদের পক্ষে এটাই সম্ভব। আসলে মমতা ব্যানার্জি কংগ্রেস ও অন্যদলের নেতা মন্ত্রীদের ভাঙিয়ে যে কুদৃষ্টান্তের সৃষ্টি করেছেন তাঁর ফল তো তাঁকে ভোগ করতেই হবে। তাই প্রকৃতপক্ষে লোকসভা নির্বাচনের পর কতজন নেতামন্ত্রী তৃণমূলের পক্ষে থাকবে সেটাই লাখ টাকার প্রশ্ন।

• বামেদের পক্ষে আর একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কাজ করছে তা হল ধর্মনিরপেক্ষ ও সংখ্যালঘু ভোট ব্যাঙ্ক ফিরে আসা। কারণ তৃণমূল থেকে যে দলে দলে সংখ্যালঘু মানুষরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন, তাঁর স্বল্প কিছু অংশ বিজেপির দিকে ঝুঁকছে। বেশ কিছুটা অংশ কংগ্রেসে যুক্ত হচ্ছে তবে বেশিরভাগ ভোট ব্যাঙ্কই বামেদের পক্ষে আসছে। কারণ এটা সুস্পষ্ট মুসলমান সমাজের চেতনা সম্পন্ন মানুষের কাছে এ বার্তা সুস্পষ্ট মমতা ব্যানার্জি মুসলমানদের সঙ্গে প্রতারণা করছেন এবং সমাজে হিংসা বৃদ্ধির মাধ্যমে মুসলমানদের সামাজিক অবস্থান আরও খারাপ করছেন!
• রাজ্যে তীব্র বেকারত্ব। প্রায় 1-2 কোটির অধিক বেকার পশ্চিমবঙ্গে উপস্থিত এই বৃহৎ অংশ এটা উপলব্ধি করছে গত আটবছরে পশ্চিমবঙ্গে সুষ্ঠভাবে কোন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। চারিদিকে শুধু দুর্নীতি ও অরাজকতা। অন্যদিকে বাম আমলে শত বাধা সত্ত্বেও প্রতি বছর প্রায় 10 হাজারের অধিক স্বচ্ছভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতো। এছাড়া বিভিন্ন শিল্পের উপস্থিতি পশ্চিমবঙ্গে কর্মসংস্থানের এক বিরাট সুযোগ সৃষ্টি করেছিল। সাধারণ বেকার যুবক যুবতীরা দুমুঠো অন্ন সংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারতো। অথচ তৃণমূল জামানায় গত আটবছরে সুষ্ঠভাবে কোন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি এবং রাজ্য থেকে শিল্প তাড়িয়ে রাজ্য আজ কার্যত শ্মশানে পরিণত হয়েছে। এখন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করে দিদি বলছেন ‘চপ ভাজার কথা’ অন্যদিকে মোদী বলছেন ‘পকোড়া ভাজার কথা’। তাই তৃণমূল ও বিজেপি কোন সরকারই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারছে না, তাই কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে বাম সরকারই একমাত্র বিকল্প হিসাবে সামনে উঠে আসছে।
• অন্যদিকে দিদি বলছেন তিনি নাকি 1 কোটি চাকরি দিয়েছেন তাহলে প্রশ্ন এই এক কোটি কর্মচারী কোথায়? এখন পশ্চিমবঙ্গের মোট ভোটার প্রায় 7 কোটির কাছাকাছি। তাহলে প্রশ্ন হল আপানারা কি প্রতি 7 জনের মধ্যে 1 জনকে চাকরিরত হিসাবে দেখতে পান?
• বামেদের আমলে রাজনৈতিক নেতা হত সমাজের উচ্চ শিক্ষিত ও সচেতন মানুষ। বর্তমান দিনে তৃণমূলের আমলে সমাজের গুন্ডা, মস্তান ও তোলাবাজরা এই দলের নেতা যা রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিপন্থী। এই ঘটনা গুলি জনমানসে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করছে এবং শাসকদলকে এর ফল ভুগতে হতে পারে!

• বামেদের স্বপক্ষে একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি হল এদের প্রার্থী নির্বাচন। এই লোকসভা নির্বাচনে বামেরা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক দিক থেকে যোগ্য ব্যক্তিত্বদের নির্বাচনে দাঁড় করিয়েছে যারা নিজেদের বলে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম এবং অন্য কোন দল থেকে আসা ব্যক্তিকে নির্বাচনে টিকিট দেওয়া হয়নি যা বামেদের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি করেছে। যেমন- রায়গঞ্জে মহম্মদ সেলিম, যাদবপুরে বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য, কলকাতা দক্ষিণ থেকে প্রার্থী হয়েছেন নন্দিনী মুখার্জি প্রমুখ এইরকম বহু সুযোগ্য নেতৃত্ব গুণে বাম প্রার্থীরা বহু আসনে জয়লাভ করতে সক্ষম।
• সংগঠন যে কোনো দলের প্রাণশক্তি। বামেদের আর কিছু না থাকুক এখনও বামেদের বিশাল সাংগঠনিক শক্তি বর্তমান যা এই নির্বাচনে বামেদের বহু অংশে এগিয়ে রাখবে। সবচেয়ে বড় কথা ব্রিগ্রেড থেকে শুরু করে বিভিন্ন সভাসমিতিতে যেভাবে তরুণ প্রজন্মের ভীড় উপচে পড়ছে তা যথেষ্ট আশাবঞ্চক। এতদিন বলা হত বামেদের স্বপক্ষে শুধু প্রবীণ মানুষদের দেখা যেত কিন্তু এবার যেভাবে ব্যাপকভাবে যুব সমাজ বামেদের স্বপক্ষে আছে তা যেকোনো খেলা ঘুরিয়ে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট। তাঁর প্রভাব দেখতে পায় এতদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় বামেরা কার্যত অস্তিত্বহীন ছিল কিন্তু এই প্রথম বামেদের সপক্ষে এত স্বতঃস্ফূর্ত জনসমর্থন দেখা যাচ্ছে। তাই মিডিয়া যাই বলুক না কেন এবারের নির্বাচনে অন্যতম প্রধান শক্তিশালী দল হিসাবে বাম শক্তিগুলি উঠে আসছে।
• লোকসভা নির্বাচন হল দেশ পরিচালনার নির্বাচন বিকল্প সরকার গঠন করার নির্বাচন। তৃণমূল কংগ্রেসের 34 জন এমপি থাকা সত্ত্বেও তাঁরা সাধারণ গরিব খেটে খাওয়া মানুষের জন্য কোন নীতি নির্ধারণ করতে পারেন নি। আসলে বেশিরভাগ অভিনেতা ও অভিনেত্রী সাংসদরা পার্লামেন্টে ঘুরতে যান সেখানে সাধারণ মানুষের দুঃখ দুর্দশা নিয়ে কথা বলার মত সময় আছে কি? অন্যদিকে বামেদের 2 জন সাংসদ লোকসভাকে কাঁপিয়ে দেয় এবং বিভিন্ন নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল এগুলি ও মানুষের চোখে পড়ছে। বামেরা সংসদে বেশি পরিমাণে থাকায় (61 জন) ইউপিএ-1 এর সময় আরটিআই (RTI), মনরেগা (100 দিনের কাজ), বহু রাষ্ট্রয়ত্ব সংস্থা বেসরকারিকরণ রোধ ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হয়েছিল কিন্তু বামেরা দুর্বল হওয়ায় দেশের শ্রমজীবী মানুষের প্রতিনিধি হিসাবে কথা বলার মানুষ কোথায়?

তাই জনগণকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে দেশ কোন দিকে যাবে। 2019 সালের লোকসভা নির্বাচনে বামেদের ইস্তাহারে যে বিষয়গুলির উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সেগুলি হল-
• সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষ নীতি ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করতে হবে।
• পরিকল্পনা কমিশন পুনরায় গঠন করতে হবে।
• 18,000 টাকা নূন্যতম মজুরি ও 6,000 টাকা পেনশন চাই।
• কৃষকের কাছ থেকে উৎপাদন মূল্যের 50 শতাংশ বেশি দামে সরকারকে ফসল কিনতে হবে। এককালীন কৃষিঋণ মকুব করতে হবে।
• পরিবার পিছু 35 কেজি চাল বা মাথাপিছু 7 কেজি খাদ্যশস্য প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে।
• কাজের অধিকার কে সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করতে হবে।
• মনরেগায় 200 দিনের কাজের নিশ্চয়তা দিতে হবে এবং শহর এলাকাতেও এই প্রকল্প চালু করতে হবে।
• অবিলম্বে রান্নার গ্যাস, পেট্রোল-ডিজেল-কেরোসিনের দাম কমাতে হবে।
• ওষুধের দাম কমাতে হবে। বিনামূল্যে চিকিৎসার অধিকার, জিডিপির 5 শতাংশ স্বাস্থ্যখাতে খরচ করতে হবে।
• শিক্ষায় বেসরকারিকরণ বন্ধ কর, শিক্ষাক্ষেত্রে সাম্প্রদায়িকিকরণ বন্ধ করতে হবে ও আধুনিক বিজ্ঞান ভিত্তিক শিক্ষা প্রদান করতে হবে। জিডিপির 6 শতাংশ শিক্ষাখাতে খরচ করতে হবে।
• নারী নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। সংসদে 33 শতাংশ আসন নারীদের জন্য সংরক্ষণ করতে হবে।
• তফসিলি জাতি ও আদিবাসীদের জন্য বেসরকারি ক্ষেত্রে কাজ ও শিক্ষার সংরক্ষণ চালু করতে হবে।
• রূপান্তর কামীদের অধিকার সুরক্ষিত করতে হবে এবং এই লক্ষ্যে সংসদে বিল পাস করতে হবে।
• ডিজিটাল পরিকাঠামোকে সরকারি পরিকাঠামো হিসাবে স্বীকৃতি প্রদান ও ঢালাও নজরদারি বন্ধ রাখতে হবে। গোপনীয়তার অধিকার সুরক্ষিত রাখতে হবে এবং ইন্টারনেটের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে।
• ক্ষুদ্র ব্যবসায় বিদেশি বিনিয়োগ বন্ধ করতে হবে।
• ব্যাঙ্ক, বীমাসহ রাষ্ট্রায়ত্ব সংস্থা বিক্রি করা চলবে না।
• স্বল্প সঞ্চয়ে সুদের হার বাড়াতে হবে।
• চিটফান্ডের লুটের টাকা ফেরত ও দোষীদের শাস্তি দিতে হবে।
• ব্যাঙ্কের টাকা লুট করা কর্পোরেটদের শাস্তি দিতে হবে।
• দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারি উদ্যোগ নিতে হবে।

বামেদের নির্বাচনি ইস্তাহার দেখলেই বোঝা যায় সেখানে সাধারণ গরিব, খেটে খাওয়া মানুষ, বেকার যুবক যুবতী ও ধর্ম নিরপেক্ষতার উপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা অন্যকোন দলের নির্বাচনি ইস্তাহারে সেভাবে লক্ষ্য করা যায় না। এখন অনেকে বলবেন এই সমস্ত ইস্তাহার কি বাস্তবে পূরণ করা সম্ভব? তাদের উদ্দেশ্যে বলি এখানে এমন কোন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি যা সরকার চেষ্টা করলে সম্ভব নয়; তাই এই নির্বাচনি ইস্তাহারের গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেশি! প্রাসঙ্গিক ভাবে কংগ্রেসের নির্বাচনি ইস্তাহারে সাধারণ গরিব মানুষকে বছরে 72,000 টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, কংগ্রেস আগামী দিনে তার এই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারবে কি না সেটাই দেখার!

এখন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বামেরা কতটা নির্ণায়ক শক্তি হিসাবে উঠে আসতে পারে সেটাই দেখার। বামেদের যে ত্রুটিবিচ্যুতি গুলি অবশ্যই সারিয়ে নেওয়া উচিত তা হল-
• দলের কর্মী সমর্থকদের অভিযোগ নিচুতলার সাধারণ কর্মী সমর্থকদের একাংশ মার খেলে দলের উচ্চস্তরের নেতৃত্বরা সেভাবে পাশে দাঁড়ান না। বামেদের এই অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে বিচার করা উচিত এবং কর্মী সমর্থকদের সর্বদা পাশে থাকতে হবে।
• যুব নেতৃত্বকে আরও বেশি সামনে আনতে হবে তবেই দলের মধ্যে নতুন উদ্যম দেখা যাবে এবং দল আরও শক্তিশালী হবে।
• দলের কর্মী সমর্থকদের নীতি আদর্শের দিক থেকে সঠিক ভাবে তৈরী করতে হবে তবেই বাম মনোভাবাপন্ন একনিষ্ঠ কর্মী সমর্থক দলের সঙ্গে থাকবে।
• বাম নেতৃত্বের একাংশের প্রতি অভিযোগ তাঁরা এখনও বেশ অহংবোধ নিয়ে চলে এগুলি পরিবর্তন করতে হবে এবং অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে নিরবচ্ছিন্ন ভাবে আন্দোলনে অংশ গ্রহণ করতে হবে, তবেই জনমানসে বামেদের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে।

আমরা আশাবাদী বামেরা তাঁদের ভুল থেকে শিক্ষা নেবেন এবং পশ্চিমবঙ্গে এক নির্ণায়ক শক্তি হিসাবে উঠে আসবে। এখন প্রশ্ন হল বামেদের পক্ষে কি তৃণমূল কংগ্রেসকে পরাজিত করা সম্ভব? এর উত্তর খুঁজতে গেলে আগের কিছু নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করতে হবে। 2011 সালের বিধানসভা নির্বাচনে সম্পূর্ণ মিডিয়ার প্রচারের উপর ভিত্তি করে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারে আসে। তখন মিডিয়ার প্রচার এমন ছিল যেন প্রতি বিষয়েই বামেদের ভুল। সাধারণ মানুষ সেই প্রচারে বিভ্রান্ত হয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে ক্ষমতায় আনেন। অথচ গত আটবছরে তৃণমূল কংগ্রেসের এত অরাজকতা, দুর্নীতি এগুলি মিডিয়া দেখতে পায় না বরং মিডিয়ার প্রচার বিরোধীদের বিরুদ্ধে; এই হচ্ছে অমেরুদণ্ডী, দালাল মিডিয়ার সাংবাদিকতা। আসলে ‘মানুষ যা চোখে দেখে তাই বিশ্বাস করে’, কথায় আছে ‘চোখের আড়াল মানে মনের আড়াল’। তাই বর্তমানে মিডিয়া মোদী মমতার লড়াই বলে বকলমে শাসকদলকে সুবিধা প্রদানে ব্যস্ত। তবে এত প্রচার সত্ত্বেও বামেদের স্বপক্ষে যে জিনিসটি বিশেষ চোখে পড়ে তা হল সোশ্যাল মিডিয়ায় বামেদের সপক্ষে ব্যাপক প্রচার। এথেকেই বোঝা যায় কর্পোরেট মিডিয়াগুলি বামেদের স্বপক্ষে না থাকলেও গরীব খেটে খাওয়া, শিক্ষিত বেকার, ছাত্র যুবরা ব্যাপকভাবে বামেদের স্বপক্ষে আছে যা মিডিয়ার এই দ্বিচারিতা ও কদর্য রূপ তুলে ধরছে। তাই কোন পয়সার বিনিময়ে সাংবাদিকতার বিপরীতে সমাজের ভিতর থেকে নিজেদের জীবন জীবিকা রক্ষার তাগিদে এই স্বতঃস্ফূর্ত লড়াই অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক এবং অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য, যা শাসকদলের মিথ্যার সাম্রাজ্যকে ধূলিসাৎ করতে যথেষ্ট!

বিগত দিনের নির্বাচনের পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, 2014 সালের লোকসভা নির্বাচনে প্রবল মোদী হওয়ায় ভর করে বিজেপি তার ভোট ব্যাঙ্ক 17.02% বাড়িয়ে নেয়। এই নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস- 39.05%, বাম- 29.71% ও কংগ্রেস- 9.58% ভোট পায়। আসন সংখ্যার দিক থেকে তৃণমূল কংগ্রেস- 34 টি, বিজেপি- 2 টি, বাম- 2 টি, ও কংগ্রেস- 4 টি আসন জয় লাভ করে। পরবর্তীতে 2016 সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস- 44.91%, বাম- 26.36%, কংগ্রেস 12.25% ও বিজেপি- 10.02% ভোট পায়। আসন সংখ্যার বিচারে তৃণমূল কংগ্রেস- 211 টি, কংগ্রেস- 44 টি, বামেরা- 28 টি ও বিজেপি- 3 টি আসনে জয়লাভ করে। এই বিধানসভা নির্বাচনে বাম ও কংগ্রেসের মধ্যে জোট হয়। ভোটের শতাংশের বিচারে এটা বোঝা যায় বাম সমর্থকরা কংগ্রেসকে ভোট দিলেও বহু কংগ্রেস সমর্থকরা বাম প্রার্থীদের ভোট না দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোট দেয়, যার ফলে এই অভাবনীয় ফলাফল দেখা যায়। তাই বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় বাম শক্তি এখন অনেক বেশি সুসংগঠিত ও সংঘবদ্ধ ভাবে প্রতিরোধ করছে তাই তাদের অনেক ভালো ফল করা সম্ভব। এখন 2016 সালের বিধানসভা নির্বাচনে যে বিজেপির ভোট ব্যাঙ্ক 10.02% ছিল, তা এই কয়েক বছরে রাজ্য রাজনীতিতে কি এমন হল যে তাঁরা রাজ্য রাজনীতিতে নির্নায়ক শক্তি হিসাবে উঠে আসবে?

যেখানে কেন্দ্রে মোদী সরকারের জনপ্রিয়তা তলানিতে সেখানে শুধু মাত্র হিন্দুত্বের উপর ভর করে কি রাজ্যব্যাপী শাসন ক্ষমতা দখল করা সম্ভব? এখন তর্কের সাপেক্ষে যদি ধরি বিজেপির ভোট শতাংশ 10% বৃদ্ধি পেয়েছে তবুও বিজেপির ভোট 20% এর কাছাকাছি থাকবে (যদি তা অনেক বেশি ধরা হয়েছে)। তাই বিজেপিকে ভোট দেওয়া মানে তৃণমূলকে সুবিধা করে দেওয়া। তাই প্রকৃতপক্ষে বিজেপি হল তৃণমূলের বি টিম। ঠিক সেই কারণে সারদা নারদার সঠিক তদন্ত হয় না, মোদী মমতার মধ্যে মিষ্টি ও কুর্তার আদান প্রদান হয়। আসলে ভিতরে ভিতরে সব সেটিং করে বাইরে এসে মোদী মমতাকে বলেন সরদার দোষীদের জেলে পুরবো আর অন্যদিকে মমতা বলেন মোদী বাবুকে কোমরে দড়ি পরাবো। এগুলি সবই মেকির রাজনীতি। আগামী দিনে এর বিশেষ কোন পরিবর্তন হবে বলে মনে হয় না। তাই কেন্দ্রে বিজেপি সরকারের পতন হলে এবং এই মেকির রাজনীতি চলতে থাকলে বিজেপির ক্ষয় নিশ্চিত; সেক্ষেত্রে বিজেপির কর্মী সমর্থকদের বেশিরভাগই বামেদের দিকে ভিড়তে পারে। তাই আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য রাজনীতিতে বামেদের এক উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ বর্তমান! অনেকে বলেন বামেরা যেখান থেকে একবার ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে সেখানে আর ফিরে আসতে পারেনি উদাহরণ হিসাবে তাঁরা সোভিয়েত ইউনিয়ন, ইউক্রেন ইত্যাদির উদাহরণ দেন। কিন্তু এখানে একটি ভুল আছে তা হল এই দেশগুলিতে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা বর্তমান ছিল তাই এই দেশগুলিতে বামেরা আর ফিরে আসতে পারেনি। কিন্তু ভারতবর্ষে প্রেক্ষাপট আলাদা এখানে সংসদীয় গণতন্ত্রে বামেরা ক্ষমতা থেকে বিচ্যুত হয় আবার পুনরায় ক্ষমতা দখল করে যার যথার্থ উদাহরণ হল কেরালা। তাই এক্ষেত্রে ওই উদাহরণটি কার্যকর নয়, বরং বলা ভালো পশ্চিমবঙ্গে বামেদের ক্ষমতা দখলের সম্ভাবনা অতীব উজ্জ্বল!

অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের আর এক প্রান্তিক শক্তি জাতীয় কংগ্রেস এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। কিন্তু কংগ্রেসের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল শাসকদলের লোভ এবং প্ররোচনায় পা দিয়ে এই দলের বেশ কিছু সদস্য তৃণমূল কংগ্রেসে ভীড়ছে। বস্তুত তৃণমূল কংগ্রেসের এই দল ভাঙানোর নোংরা খেলায় জাতীয় কংগ্রেসের নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা করার সংকট এসে পড়েছে। যদিও পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে কংগ্রেস মূলত মালদা, মুর্শিদাবাদ, উওর দিনাজপুরের মত জেলাতেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে। তাই কংগ্রেস তার দূর্গ বাঁচানোর লড়াইয়ে নামছে। তবে এটাও খুব সত্য তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বীতশ্রদ্ধ হয়ে এক বিরাট সংখ্যক মানুষ কংগ্রেসের দিকে ঝুঁকছে তাই রাজনৈতিক দিকে থেকে কংগ্রেস ধীরে ধীরে শক্তিশালী হচ্ছে তবে সামগ্রিকভাবে রাজ্য রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করার মত শক্তি এখনও কংগ্রেস লাভ করতে পারেনি। আগামী দিনে কি হয় সেটাই দেখার।

রাজ্য রাজনীতির প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে এটা সুস্পষ্টভাবে বলা যায় এবারের নির্বাচনে প্রধানত বাম, বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই দেখা যাচ্ছে। তবে কিছু কিছু আসনে কংগ্রেসকে সঙ্গে নিয়ে চতুর্মুখী লড়াই দেখা যাচ্ছে। এই নির্বাচনে একটা বিষয় সুস্পষ্ট ভাবে ফুটে উঠেছে তা হল তৃণমূল কংগ্রেস এক ক্ষয়িষ্ণু শক্তিতে পরিণত হচ্ছে এবং এই দলের শেষের শুরু হয়েছে। অন্যদিকে বিজেপি হিন্দুত্ব ও মোদীর জনপ্রিয়তাকে ভর করে বেশ কিছু আসন জয় লাভ করতে পারে এবং এক শক্তিশালী বিরোধী দল হিসাবে এগিয়ে আসতে পারে। কংগ্রেস মূলত তার গড় রক্ষা করতে ব্যস্ত তবে ক্ষেত্র বিশেষে কংগ্রেস কিছুটা শক্তি অর্জন করছে। আর বামেরা তাদের রক্তক্ষরণ বন্ধ করে নতুন উদ্যমে রাজ্য রাজনীতিতে এক নির্ণায়ক শক্তি হিসাবে উঠে আসছে। তাই লোকসভা নির্বাচনের ফল কি হবে এখনই সেকথা বলা ঠিক হবে না, তবে এটা নিশ্চিত লড়াই খুব কঠিন এবং খুব কম ভোটের ব্যবধানে দল জয়যুক্ত হবে।

এবারের নির্বাচনে যদি সমস্ত দল প্রায়ই একই রকম আসন পায় তাহলেও বিশেষ অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। তবে এটা সত্য শাসকদল ছাপ্পা, এবং মিডিয়ার প্রচারে অবশ্যই কিছুটা সুবিধা পাবে এবিষয়ে সন্দেহ নেই! তবে শাসকদলের পায়ের তলা থেকে যে মাটি সরছে সেটাও নিশ্চিত! নির্বাচনের ফলাফল বহুভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে তাই সমস্ত সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে বলতে পারি যদি ফলাফল একটু অন্যরকম হয় তাহলে বুঝতে হবে তা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার কিছু ত্রুটি বিচ্যুতির দ্বারা এই ফল অর্জন সম্ভব। তবে ফলাফল যাইহোক না কেন তাতে সত্য বদলে যাবে না। তাই জনগণের কাছে আবেদন নিজের বিচার বিবেচনা প্রয়োগ করে সঠিক জনপ্রতিনিধিকে নির্বাচন করুন। যারা সাধারণ মানুষের দুঃখ, দুর্দশা ও সমস্যা নিয়ে কথা বলবে ও শ্রমজীবী মানুষের সপক্ষে নীতি নির্ধারণ করবেন তেমন মানুষকেই নিজের জনপ্রতিনিধি হিসাবে নির্বাচন করা কাম্য। ‘ভোট হোক আদর্শের ভিত্তিতে, নীতির ভিত্তিতে’। পরিশেষে বলি ‘জয় হোক মানুষের, জয় হোক গণতন্ত্রের’!

তথ্যসূত্র:-
1. উইকিপিডিয়া।
2. এই সময়।
3. আনন্দবাজার পত্রিকা।
4. গণশক্তি।
5. ইন্টারনেট থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন তথ্যসূত্র।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *