দুদক : ঢাল নাই তলোয়ার নাই নিধিরাম সর্দার!

‘আমি মাঝে মাঝে বলি, বাঘে ধরলে ১৮ ঘা, পুলিশে ধরলে ২১ ঘা আর দুদক ধরলে ৩১ ঘা।এখন দুদকের শুধু ঘা’টাই আছে, আর কিছু নেই।’
‘আমি সফল নই, দুদক একটি নখদন্তহীন বাঘ’


‘আমি মাঝে মাঝে বলি, বাঘে ধরলে ১৮ ঘা, পুলিশে ধরলে ২১ ঘা আর দুদক ধরলে ৩১ ঘা।এখন দুদকের শুধু ঘা’টাই আছে, আর কিছু নেই।’
‘আমি সফল নই, দুদক একটি নখদন্তহীন বাঘ’

উপরোক্ত উক্তিদ্বয় বিদায় লগনে উপস্থিত হওয়া দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমানের। তাকে ধন্যবাদ এই কারনে যে শেষমুহুর্তে দুদকের বর্তমান অবস্থাটা জানিয়ে দিয়েছেন। আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে সাবেক চেয়ারম্যান হাসান মশহুদ চৌধুরীর কথা। যিনি চেয়ারম্যানের চেয়ারে বসেছিলেন ফখরুদ্দিনের সময়। সেই ফখরুদ্দিন যার দুই বছরে অনেকেই গনতন্ত্র গেল গনতন্ত্র গেল বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলেছিলেন। ফখরুদ্দিন যুগে যে কয়টি ভালো পদক্ষেপ ছিলো তার মধ্যে একটি হলো দুদককে শক্তিশালীকরন। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই হাসান মশহুদ বলেছিলেন তিনি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন। কিন্তু মাস ছয়েক যেতে না যেতেই তিনি ব্যক্তিগত কারন দেখিয়ে পদত্যাগ করলেন। আসল কারনটা কারোরই বুঝতে বাকি নাই। পদত্যাগ করার সাথে সাথেই শুরু হয়েছিলো তার বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের লম্ফঝম্ফ। তবে আশ্চর্য ঘটনা এই যে বিএনপিও তখন আওয়ামী লীগের সাথে সুর মিলিয়েছিলো। মিলাবে না? দুদকের ৩১ ঘা যে দুই দলেরই দুর্নীতিবাজ রাঘব বোয়ালদের পিঠে পড়েছিলো। স্যালুট জানাই হাসান মশহুদকে যিনি তার আমলে অধরা রাঘব বোয়ালদের ঘোলা পানি খাইয়ে ছেড়েছেন। এরপর চেয়ারম্যান পদে আসলেন নিধিরাম সর্দার(গোলাম রহমান)। প্রায় পাঁচ বছর গোলামী করলেন। এই সময়ে দুদক নামক বাঘটির নখ, দাঁত ধিরে ধিরে কাটা হলো। তুলে ফেলা হলো সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দুদকের সরাসরি মামলা করার ক্ষমতা। আর নিধিরাম সর্দার চেয়ে চেয়ে দেখলেন। এখানে অবশ্য তার কোনো দোষ নেই, তিনি পদত্যাগ করলে অন্য কেউ আসতো, তাকেও একই অবস্থায় পড়তে হতো। একবার একটা অনুষ্ঠানে আমার উপস্থিত থাকার সৌভাগ্য হয়েছিলো যেখানে উপস্থিত ছিলেন দুদকের আঞ্চলিক পরিচালক। বিশিষ্টজনেরা তাদের বক্তৃতায় ইচ্ছেমত দুদককে ধোলাই দিচ্ছিলেন। আঞ্চলিক পরিচালক মহোদয় বক্তৃতাকালে কেঁদে ফেললেন। বলেছিলেন, “আপনারা আমাদের কেন দোষারোপ করছেন, আমাদের তো হাত পা বাঁধা, আপনারা সরকারকে বলুন।” সেদিন অবশ্য তার প্রতি খুব মায়া হয়েছিলো।
কথা হলো, দুদকের ক্ষমতা কমিয়ে কি সরকারের খুব লাভ হলো? এই পাঁচ বছরতো মন্ত্রী, এমপিরা কুকর্ম করে সরকারকে ভরাডুবির দ্বারপ্রান্তে এনে ফেলেছে। ফেসবুকে সুশান্ত দাস গুপ্তের একটি পোষ্ট দেখুন, তিনি ইউজারদের নিজ নিজ এলাকার সংসদ সদস্যদের অবস্থা সম্পর্কে জানাতে অনুরোধ করেছিলেন। ৯৯% উত্তরই এসেছে নেতিবাচক, প্রায় সবারই একই অভিযোগ, “দুর্নীতি”। http://m.facebook.com/644374256/timeline/story?ut=2&hash=-7779680868674595553&wstart=0&wend=1372661999&ustart&refid=17
দুদকের হাতে পর্যাপ্ত ক্ষমতা দিলে মন্ত্রী এমপিরা এতটা স্বেচ্ছাচারী হতে পারতো না, সরকারকেও শেষ সময়ে কেলেঙ্কারী নিয়ে এতটা বেকায়দায় পড়তে হতো না। কিন্তু কে শোনে কার কথা। আমরা চুনোপুটি, সরকারের উচ্চপর্যায়ের মহাজ্ঞানীরা আমাদের কথা শুনবে কেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *