:::… আমার ছুটু কাল …::: || পর্ব ৫ ||

আমি তখন ক্লাস এইটে পড়ি ।। খালি এইটে উঠছি আর কি ।। নাই কোন পড়াশোনার চেষ্টা , নাই কোন পড়াশোনার তেষ্টা ।। আছিলাম খালি জাওরামি নিয়া ।। এক কথায় জাওরামির যত গুলা চ্যাপটার সব গুলা ঠুতস্ত করার লইগা প্রাণপন চেষ্টারত একটি গ্যাং এর লিডার সরূপ ।। সাথে আছিলো অনেক গুলা পোংটা সদস্য ।। কেও ছিল মাইয়া পটানোর জন্য এক্সপার্ট ( মাইয়া পটানো এক্সপার্ট ছিল দুই ধরনের, * নিজের ক্লাসের মাইয়া পটানো এক্সপার্ট * অন্য ক্লাসের মাইয়া পটানো এক্সপার্ট ) ।। . কেও ছিল নকল করার এক্সপার্ট ।। কেও ছিল পরীক্ষায় খাতা নামক একটুকরা চিকন বইয়ের ন্যায় বস্তূ দেখাতে এক্সপার্ট ।। কেও ছিল চিকন বই পইরা সেই আহ উহ টাইপের গল্প শোনাইতে এক্সপার্ট ।। কেও ছিল বাজি ধইরা কয়েক মিনিটের মধ্যে __ দিয়া __ ফালাইতে



::: এক্সপার্ট গ্যাং সমগ্র :::

ঘটনাঃ ১ – || অণ্ডকোষে কলমের গুতা ||

আমি তখন ক্লাস এইটে পড়ি ।। খালি এইটে উঠছি আর কি ।। নাই কোন পড়াশোনার চেষ্টা , নাই কোন পড়াশোনার তেষ্টা ।। আছিলাম খালি জাওরামি নিয়া ।। এক কথায় জাওরামির যত গুলা চ্যাপটার সব গুলা ঠুতস্ত করার লইগা প্রাণপন চেষ্টারত একটি গ্যাং এর লিডার সরূপ ।। সাথে আছিলো অনেক গুলা পোংটা সদস্য ।। কেও ছিল মাইয়া পটানোর জন্য এক্সপার্ট ( মাইয়া পটানো এক্সপার্ট ছিল দুই ধরনের, * নিজের ক্লাসের মাইয়া পটানো এক্সপার্ট * অন্য ক্লাসের মাইয়া পটানো এক্সপার্ট ) ।। . কেও ছিল নকল করার এক্সপার্ট ।। কেও ছিল পরীক্ষায় খাতা নামক একটুকরা চিকন বইয়ের ন্যায় বস্তূ দেখাতে এক্সপার্ট ।। কেও ছিল চিকন বই পইরা সেই আহ উহ টাইপের গল্প শোনাইতে এক্সপার্ট ।। কেও ছিল বাজি ধইরা কয়েক মিনিটের মধ্যে __ দিয়া __ ফালাইতে এক্সপার্ট ।। কেও ছিল হাতের মাপ নিয়া কার __ কত বড় সেইটা মেজার করার এক্সপার্ট ।। কেও ছিল কোন মাইয়ারে দেইখা তার __ এর সাইজ কইতে পারার এক্সপার্ট ।। কেও আছিল টাকা খরচ করায় এক্সপার্ট ।। কেও আবার কোন মাইয়ার ফিগার দেইখা সে কি এই পর্যন্ত __ করছে কিনা সেইটা নির্ভুল ভাবে বইলা দেওয়ার এক্সপার্ট ।। কেও আবার কলমের গুতায় এক্সপার্ট ।। অনেকে অনেক ধরনের এক্সপার্ট ছিল ।। মানে এক্সপার্ট গ্যাং ।।

তো আমার এইসব এক্সপার্ট বন্ধুদের নিয়াই আমার আজকের লেখাটা ।। হতবা সব একসাথে লেখা সম্ভব না ।। এক এক করে আশা করি সব এক্সপার্টের কথাই আপনাদের শুনাব ।। আজকে সব থেকে বিপদ জনক এক্সপার্টের বিফল কর্মের কথা শোনাবো ।।

আমাদের ক্লাসের এক জন উতুর বুতুর টাইপের পোলা আছিলো ।। তার নাম ছিল ‘ আরিফ ‘ ।। . সে আছিলো টাকা খরচ করায় এক্সপার্ট ।। আরেক টা কাজ সে খুব ভালো কইরা পারত ।। স্যার যখন ক্লাসে আসতো তখন আমাদের সব্বাইরে খারাইয়া সালাম দিতে হইত ।। আর স্যার যখন বসতে কইত তখন বসতাম ।। আসলে এই নিয়ম টা বেশীরভাগ যারা সামনের বেঞ্চেতে বসতো তাগো লইগাই প্রযোজ্য ছিল ।। এই জন্য আমাগো প্রবলেম হইত না ।। কারন আমারা ব্যাক বেঞ্চার ছিলাম ।। কিন্তু কিছু কিছু স্যার আসলে আমাদের দারাইতে হইতই বাংলা টিচার তার মধ্যে অন্যতম ।। স্যারের নাম ছিল ‘ জনাব মহর আলী স্যার ‘ ।। .সারা দিন কবিতা লিখতেন ।। ক্লাসে আইসাও কবিতা লিখতেন ।। তার ক্লাসের সময় আমরা দাঁড়াইতাম ।। কিন্তু তার বসতে বলার আগেই বইসা পরতাম ।। মানে উঠতাম আর বসতাম এই আর কি ।। কিন্তু আরিফ, সবার চাইতে আগে উঠত এবং সবার আগে বসতো ।। মানে ন্যানো সেকেন্ডের মধ্যে কাজ টা করত ।। স্যার বসতে বলার আগেই ধপ্পাস কইরা বইসা পরত ।। এর ভিতরে আমাদের মধ্যে অনেক প্রতিযোগিতা হইত, কে আগে উঠতে এবং বসতে পারে ।।

একদিন বাংলা স্যার ক্লাসে ঢুকল ।। আমরা সবাই দাড়াইলাম ।। কিন্তু যেই বসতে যাব হঠাৎ ‘ ও মাগো ‘ একটা চিৎকার ।। সাথে সাথে সবাই পিছনের দিকে তাকাইলো ।। আমি ছিলাম পিছনের বেঞ্চের এক বেঞ্চ আগে ।। আমি হঠাৎ কইরা দেখলাম ‘ কবির ‘ নামের একটা ফ্রেন্ড রুমের পিছনের দরজা দিয়া দিল এক দৌর ।। এক দৌরে কোথায় যেন হারায় গেলো ।। তখন সাথে সাথে স্যার চিল্লাই উঠলো-

স্যারঃ কি হইছে ?? কি হইছে ??
আমিঃ স্যার কবির ক্লাস থেকে দৌর মারছে ।
স্যারঃ কেন ?
আমিঃ স্যার জানি না ।

পিছনের বেঞ্চেতে ‘ আরিফ ‘ আর ‘ কবির ‘ বইসা ছিল ।। তখন পিছনে তাকাই দেখলাম ‘ আরিফ ‘ ছোটো আওয়াজ কইরা ‘ ও মাগো ও মাগো ‘ কইয়া কান্তাছে ।। আমি কইলাম-

আমিঃ কি হইছে রে তোর ?
আরিফঃ ও মাগো , অমাগ :'(
আমিঃ স্যার !! আরিফ কাদতেছে
স্যারঃ কিরে কাদতেছিস কিসের জন্য ?? ( এই বইলা স্যার পিছনের বেঞ্চের দিকে আসলো )

তখন পাশ থাইকা শামিম চিৎকার কইরা কইল-

শামিমঃ স্যার স্যার রক্ত 🙁
স্যারঃ কোথায় রক্ত :O
শামিমঃ স্যার, আরিফের বেঞ্চের নিচে

তখন আমরা আরিফের বেঞ্চের নিচের দিকে তাকায় দেখি অনেক রক্ত ।। বেঞ্চ থাইকা রক্ত পরতাছে ।। তখন আমি তারাতারি কইরা আরিফের মাথায় ধরলাম ।। স্যার তখন রক্ত দেইখা সাথে সাথে কইল-

স্যারঃ ওরে ডাক্তারের কাছে নিয়ে চল

তখন আমরা তিন চার জন ধইরা রুম থাইকা বাইর কইরা দৌড়ানের মতো কইরা নিয়া জাইতাছি ।। এর মধ্যে আমি আরিফরে জিজ্ঞাসা করলাম-

আমিঃ কবির তোরে কি করছে ??
আরিফঃ ও মাগো ও মাগো
আমিঃ কি করছে ক
আরিফঃ কলম দিয়া গুতা মারছে ( কাঁদতে কাঁদতে )

তখন আর বুঝা বাকি থাকল না কেন কবির পিছনের দরজা দিয়া দৌর মারছে ।। এই চিন্তা করতে করতে আমরা ওরে ডাক্তারের কাছে নিয়া গেলাম ।। ডাক্তার চেম্বার আমাদের স্কুলের পাসেই ছিল ।। ডাক্তারের নাম ছিল ‘ রায়হান ডাক্তার ‘ ।।. আমাদের পিছন পিছন স্যার সহকারে অনেক পোলাইন আসছে ।। কিন্তু ডাক্তারের কাছে নিয়া পরলাম আরেক জালায় ।। কলমের গুতা লাগছে ওর পাছাতে ।। কিন্তু ও কিসুতেই পেন্ট খুলতে রাজি না ।। তখন ডাক্তার বলল-

ডাক্তারঃ তুমি যদি পেন্ট না খুলো তাহলে আমি কিভাবে বুঝব কোথায় কি হইছে
আরিফঃ ও মাগো ও মাগো আমি পেন্ট খুলতাম না
ডাক্তারঃ তুমি যদি পেন্ট না খুলো তাহলে আমি তোমাকে কিছুই করতে পারবো না । তোমাকে পেন্ট খুলতে হবে
আরিফঃ ওদের যাইতে বলেন । তারপর খুলবো

কথাটা শুইনা আমি টাস্কি খাইলাম ।। এইডা আমি কি হুনলাম ।। আরিফ আমাগো লজ্জা পাইতাছে ।। আমারা তখন ২ জন ভিতরে ছিলাম ।। এই জন্য ও পেন্ট খুলতে রাজি হয় নাই ।। কিন্তু ঐ সালা অন্য সময় ঠিকই পেন্ট খুইলা __ কত বড় হইছে দেখাইত ।। আর এখন লজ্জা পায় ।। যাই হোক আমরা দুইজন বাইরে বাইর হইয়া আসলাম ।। তখন ডাক্তার দরজা বন্ধ কইরা ট্রিটমেন্ট শুরু করলো ।। এর ভিতরে পোলাপাইন যত ছিল আস্তে আস্তে প্রায় সবাই চইলা গেলো ।। আমরা ছিলাম শুধু ১৫ জনের মতো ।। মানে ঐ এক্সপার্ট গ্যাং সদস্য ।। প্রায় ৩০ মিনিট পর ডাক্তার ভিতর থাইকা বাইর হইলেন ।। তখন আমাদের ‘ মহর আলী ‘ স্যার ডাক্তাররে জিজ্ঞাসা করলেন-

স্যারঃ কি হইছে ডাক্তার ওর ?? ও এখন কেমন আছে ??
ডাক্তারঃ তেমন কিছু না । ও এখন ভালই আছে । আর সমস্যা নাই । কিন্তু খারাপ কিছু হইতে পারত । আচ্ছা ওর এখানে আঘাতটা কি দিয়ে হয়েছে । আঘাতটা লাগলো কিভাবে ??
আমিঃ কলম দিয়ে । আচ্ছা আঙ্কেল খারাপ কিছু হইতে পারত মানে বুঝলাম না
ডাক্তারঃ ওর যেই যায়গায় আঘাত লাগছে মানে কলমের গুতা টা যেই যায়গায় লাগছে ওইটা অণ্ডকোষের চামড়ার ভিতর দিয়ে কলমটা চলে গেছে সেফ ভাবে । কিন্তু যদি ওইটা অণ্ডকোষে লাগত তাহলে ও মারা যেতে পারত । আল্লাহ্‌র রহমতে এমন কিছু হয় নাই । ঐ জায়গা টা সেলাই করে দেওয়া হইছে । অল্পদিন রেস্ট নিলে ঠিক হয়ে যাবে

আমরা তো শুইনা অবাক । এইটা কি হুনলাম । আমরা মনে করছিলাম পাছায় লাগছে । এখন তো দেহি পুরা মেশিনে । তখন সাহস কইরা ডাক্তাররে জিগাইতে পারলাম না যে , ওর ___ এর কোন সমস্যা হইছে নাকি । তখন আমরা ওর সাথে দেখা করতে যাই । যাইয়া কি আর সিম্পেথি দেখামু ।।। হাসতে হাসতে একেক জনের দম আটকানো অবস্থা । একেক জনের একেক রকম কথা ।। কেও বলতেছে ‘ দোস্ত আরেকটু হইলে তো তোর __ কাইটা বাদ দিতে হইত ‘ , ‘ তোর তো বিয়া করা সম্ভব হইত না ‘ ।।. আরও অনেক কথা ।।

এর ভিতরে ওর আব্বু কে খবর দেওয়া হয়েছিল । কিছুক্ষণের মধ্যে ও আব্বু চইলা আসলো ।। আইসা ওরে নিয়া যায় ।। আমারাও চইলা আসলাম ।।

৪-৫ দিনের মধ্যেই আমার সাথে কবিরের দেখা হয় বাজারে ।। তখন কবিরে সাথে আমার কিছু কথা হইল-

আমিঃ কিরে স্কুলে আসস না কেন ?
কবিরঃ আর যামু না । পড়াশোনা আর করমু না
আমিঃ কেন ?
কবিরঃ স্কুলে গেলে স্যার অনেক মারব । ভাই আমি মাইর খাইতে যাইতে পারমু না । এর থাইকা ভালো ঢাকা যামু গা । ভাই কইছে আমারে ঢাকা নিয়া গেরেজে কাম দিয়া দিব ।
আমিঃ তোর ভাই ঢাকা কি করে ?
কবরঃ শুনছিলাম গার্মেন্টসে কাম করে ।
আমিঃ আচ্ছা ঐদিন কি হইছিলরে আরিফের সাথে ?
কবিরঃ আরে তেমন কিছু না । আমি আর ও পিছনের বেঞ্চে বইসা ছিলাম । স্যার যখন আসলো ও উইঠা দারাইল । আমি দারাই নাই । আমি এমনিতেই সয়তানি কইরা ওর নিছে কলম ধরছিলাম । কিন্তু সালা যেই তাড়াতাড়ি উঠে আর বসে আমি কলম টা সরাইতে সুজগ পাই নাই । আমারও একটা ভুল হইছিল আমি দেহি নাই যে কলমের ক্যাপ আমার এই হাতে আছিলো । যখন ও চিক্কুর দিল আমি সাথে সাথে কলম টা নিয়া দৌর মারছি ।
আমিঃ দোস্ত কলম টা কি করছস ?
কবিরঃ ঐ দিনই ফালায় দিছি
আমিঃ ও 🙁 ।. তবুও যাইস দোস্ত স্কুলে । স্যার মনে হয় কিছু কইব না
কবিরঃ না আমি যামু না আর । ঢাকা যামুগা

এর পর আমি আর কিছু বলি নাই ওরে ।। আমি চইলা আসলাম ।।

কিছু দিন রেস্ট নেওয়ার পরেই আরিফ ভালো হয়ে যায় ।। আবার আমাদের সাথে ক্লাস শুরু করে ।। ক্লাসে আসার পর আমরা ওর পেন্ট খুইলা দেখালাম কোথায় কেমনে কি হইছে ।। তখন ওরে বল্লমা-

আমিঃ তুই সেই দিন আমাদের সামনে পেন্ট খুললি না কেন ?
আরিফঃ আরে এমনি । কেন জানি লজ্জা লাগতেছিল 🙂

যাই হোক আমরা আবার সেই আগের মতই হইয়া গেলাম ।। কিন্তু সেই কবির কে আর স্কুলে দেখতে পাই নাই ।। শুনছি কিছু দিন পর নাকি ও ঢাকায় চইলা যায় ।। তবে প্রায় ৯ বছর পর ওর সাথে আমার দেখো হয় ।। দেখলাম আগের চাইতে স্বাস্থ্য বারছে ।। মোটা হইছে ।। বিয়াও করছে ।। তখন দুইজন আগের সেই কথা নিয়া অনেক হাসাহসি করলাম ।।

ফেসবুক লিঙ্কঃ https://www.facebook.com/notes/%E0%A6%86%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%AB-%E0%A6%B2%E0%A7%80/-%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%9B%E0%A7%81%E0%A6%9F%E0%A7%81-%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B2-%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC-%E0%A7%AB-/668124199871081

১ thought on “:::… আমার ছুটু কাল …::: || পর্ব ৫ ||

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *