:::… আমার ছুটু কাল …::: || পর্ব ১ ||

|| আমার বন্ধু জাহাঙ্গীর ||


|| আমার বন্ধু জাহাঙ্গীর ||

ক্লাস সিক্সে থাকতে ঘটছিলো একটি করুন কাহিনী ।। এটা অবশ্য আমারে নিয়া না ।। তবে ক্লাসের অনেকগুলা পোলা আর একটা মাইয়ারে নিয়া কাহিনী ।। আমরা যখন ক্লাস সিক্সে উঠি তখন ‘সাগরিকা’ নামের একটা মাইয়া আমদের সাথে ভর্তি হয় ।। মাইয়াটা অনেক কিউট আর __ ছিল ।। আমাদের তখন ৫ মাসের মতো ক্লাস হইছে ।। এর ভিতরেই পোলারা সবাই মাইটারে প্রপোজ করা শেষ ।। সবাই প্রপোজ করলেও সরাসরি কেও করে নাই , সবাই চিঠির মাধ্যমে করছে ।। কিন্তু মাইয়াটা কাওরে হাঁ কয় নাই ।। তাই সবার মধ্যে অশান্তির সিমা ছিল না ।। আমাদের ক্লাসে ‘জাহাঙ্গীর’ নামে একটা পোলা আছিলো ।। ও মাইয়াটারে পছন্দ করত ।। কিন্তু মাইয়াটা পাত্তা দিত না ।। ঐ একমাত্র পোলা যে কিনা মাইয়াটারে সরাসরি প্রপোজ করছে ।। কারন ও চিঠি লিখতে পারত না ।। ঐ জাহাঙ্গীরের বাসা আবার আমাদের বাড়ির পাসেই ছিল ।। তাই আমি ওরে ভালভাবেই জানতাম ।। এর পরেও জাহাঙ্গীর সাগরিকারে ডিস্টার্ব করত ।। এভাবে অনেক দিন গেলো ।। জাহাঙ্গীর হাল ছাড়ার পাবলিক না ।।

কিন্তু একদিন ঘটলো আরক কাহিনী ।। সকালে অংক ক্লাসের সময় সাগরিকা স্যারের কাছে একটা চিঠি দিল ।। স্যার চিঠিটা পড়লেন ।। আমাদের ক্লাসের ক্যাপ্টেন ছিল তখন তহিদুল ।। স্যার তহিদুলরে ডাকলেন ।। ডাইকা কি যেন বললেন ।। আমরা শুনতে পাই নাই ।। তখন দেখি তহিদুল রুমের বাইরে চলে যাইতেছে ।। আমরা ভয় পাইয়া গেলাম ।। কি হইব এখন এই ভাইবা ।। আমি চিন্তা করতাছি এই চিঠিটা কার ।। কি দিছে সাগরিকে এই চিঠি ।। কিছুই মিলাইতে পারতেছি না ।। কিন্তু একদিকে আমার সাহস আছে যে আমি দেই নাই চিঠি ।। তাই মনে মনে একটু সাহস পাইলাম ।। কিন্তু এই ভাইবা ভয় পাইতাছি যে স্যার যখন জিজ্ঞাসা করবো এই চিঠি কে দিছে সাগরিকাকে ।। তখন তো কেও স্বীকার করবো না ।। তাইলে তো স্যার সাবাইরে একগরা পিটাইব ।। তখন আমার পাঁশে ছিল জাহাঙ্গীর ।। আমি জাহাঙ্গীরকে জিজ্ঞাসা করতে যাইয়াও করি নাই ।। কারন ও চিঠি লিখতে জানে না ।। কিছুক্ষণ পর তহিদুল ৫-৬ টা বেত বাধা একটা অনেক মোটা লাঠি নিয়া আসলো ।। তখন তো ভয়ে পেন্টে প্রসাব করার অবস্থা ।। এই বেতের বারি খাইলে নিশ্চিত মইরা যামু ।। এই চিন্তায় প্রায় সবার চোখে পানি আইসা যাওয়ার অবস্থা ।। কয়জন তো ভয়ে কাইন্দাও দিছে ।।

তখন স্যার সবার উদ্দেশ্যে বলল ‘ এই চিঠি কে দিয়েছে সাগরিকাকে ’ ।।
তখন কেও কোন কথা কইল না ।। স্যার আরেক বার জিজ্ঞাসা করলেন ‘ যে এই চিঠি দিয়েছে সে যদি স্বীকার করে তাহলে তাকে কিছু বলা হবে না , আর যদি আমাকে কষ্ট করে বের করতে হয় তাহলে তাকে মেরে এই সব বেত ভাঙবো ’ ।।

এই কথা শুইনা আমি সবার কথা জানি না কিন্তু আমি তো প্রায় মইরা গেছি ।। কিন্তু কেও কোন কথা বলল না ।। তখন স্যার সাগরিকাকে ডাক দিল এবং জিজ্ঞাসা করলো তাকে এই চিঠিটা কে দিছে ।। তখন সাগরিকা স্যারের কাছে ফিসফিস কইরা কি যেন বলল ।। আমারা সুনি নাই ।।

তারপর স্যার আমার দিকে লাঠি দিয়া ইসারা কইরা বলল ‘ এইদিকে আয় ‘ ।।
তখন আমি দারালাম কাঁদো কাঁদো মুখে ।। সবাই আমর দিকে হা করে তাকাই আছে ।। তখন স্যার বলল ‘ তোকে না , তোর পাসের টা , জাহাঙ্গীর এই দিকে আয় ‘ ।।
তখন আমি কি যে খুশি হইছিলাম ।। ভাষায় প্রকাশ করার মতো না ।। ভিতরে ভিতরে অনেক ভালো একটা ফিলিংস বাট বাইরে তার উল্টাটা ।। মানে কাঁদো কাঁদো চেহারা ।। তখন জাহাঙ্গীর স্যারের ডেস্কের সামনে গেলো ।। তখন স্যার জাহাঙ্গিরকে বলল-

স্যারঃ তুই সাগরিকাকে চিঠি পাঠায়ছিস ?
জাহাঙ্গীরঃ না স্যার ( কাঁদো কাঁদো কন্থে )
স্যারঃ তাহলে সাগরিকা তোর কথা বলল কেন ?
জাহাঙ্গীরঃ স্যার আমি জানি না । সত্যি আমি জানি না ।
স্যারঃ তুই জানিস না মানে । তুই না দিলে ও কেন তোর কথা বলল ?
জাহাঙ্গীরঃ সত্যি আমি জানি না ।
স্যারঃ তুই নাকি ওকে ডিস্টার্ব করতিস ?
জাহাঙ্গীরঃ :'(
স্যারঃ কথা বলস না কেন ?
জাহাঙ্গীরঃ জি স্যার
স্যারঃ তাহলে তো তুই ওকে এই চিঠিটা দিয়েছিস
জাহাঙ্গীরঃ সত্যি না স্যার । মা বাপের কসম । আল্লাহ্‌র কসম । স্যার আমি লিখি নাই । স্যার আমি চিঠি লেখতে পারি না ।
স্যারঃ তুমি চিঠি লেখতে জানো না তাই না !! একটা মেয়ের পিছনে সারা দিন ঘুর ঘুর করো । আর এখন ধরা খেয়ে বল কিছু জানো না । আজকে তো প্রেম করার স্বাদ মিটিয়ে দেব ।

এই বলে স্যার ওকে মাইর শুরু করলো ।। জাহাঙ্গীর ও মাগো ও মাগো করে চিল্লায়তে লাগলো ।। আমরা সবাই ভয়ে মাথা নিছ করে কাদতে লাগলাম ।। ওকে মারতে মারতে সব লাঠি ভেঙ্গে গেলো ।। তখন স্যার তহিদুলকে দিয়ে আরও লাঠি আনালেন ।। তখন আমি বলতে পারবো না কতটা লাঠি আনানো হয়েছিল ।। প্রায় ২০ মিনিটের মতন মারলেন ।। আসে পাসের ক্লাসের সব টিচার স্টুডেন্ট চলে আসলো ।। লাঠি সব ভাঙ্গা শেষ হলে স্যার ওকে বললেন-

স্যারঃ বল তুই চিঠিটা লিখিছিস

কিন্তু জাহাঙ্গীরের উত্তর দেওয়ার মতন কোন অবস্থা ছিল না । ও ফ্লোরে পরে শুধু মা মা বলে কাদতেছিল ।। সাথে আমরাও কাদতেছিলাম ।। এই কথা মনে পড়লে এখন আমার চিৎকার করে কাদতে ইচ্ছা করে ।। সেই থেকে জাহাঙ্গীর আর কোন দিন স্কুলে আসে নি ।। জাহাঙ্গীর কে এভাবে কুত্তার মতন মারল তবুও কেও প্রতিবাদ করার মতন ছিল না ।। পরে স্যারের কিছু হয় নাই ।। স্যারকে কেও কিছুই বলে নি ।। জাহাঙ্গীর ৫-৬ দিনের মতো হসপিটালে ছিল ।। আমরা কেও ওকে দেখতে যাইনি ।। কারন ওর কাছে যাওয়ার মত আমাদের সাহস ছিল না ।।

কিন্তু সাগরিকা কেন জাহাঙ্গীরের নাম বলল ।। সাগরিকা জানত জাহাঙ্গীর চিঠি লিখতে পারে না ।। আমারা সবাই জানতাম ।। কিন্তু কেন সাগরিকা এমন করলো ।। আমি আজও সেই প্রশ্নের উত্তর খুজে পাইনি ।। এখনো না ।।

ভালো থাকিস জাহাঙ্গীর বন্ধু আমর ।। অনেক ভালো ।। অনেক

ফেসবুক লিঙ্কঃ https://www.facebook.com/notes/%E0%A6%86%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%AB-%E0%A6%B2%E0%A7%80/-%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%9B%E0%A7%81%E0%A6%9F%E0%A7%81-%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B2-%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC-%E0%A7%A7-/667783289905172

৯ thoughts on “:::… আমার ছুটু কাল …::: || পর্ব ১ ||

  1. স্কুল লাইফটা কি মাইয়াগো
    স্কুল লাইফটা কি মাইয়াগো পিছনেই শেষ করছেন নাকি? :হাহাপগে:
    পর্ব-১ পর্ব-৩ এর পরে ক্যা? :ভাবতেছি:

    1. না ভাই এতটা না ।। কিন্তু ঐ
      না ভাই এতটা না ।। কিন্তু ঐ সময়ের কথা মনে পড়লে কিছু কিছু পংটা তায়পের কথাই মনে পরে ।। এই আর কি ।।
      ২ , ৪ কামিং সুন 😀

  2. হাসাইতে হাসাইতে মাইরা
    হাসাইতে হাসাইতে মাইরা ফালাইছে। :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :মাথাঠুকি: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *