মৃত্যুর সন্ধানে

আমি মরতে চাই।
কথাটা শুনে ভদ্রলোক কিছুক্ষণ ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে থাকলেন। তারপর বললেন, আমাদের ঠিকানা কোথায় পেলেন
সেদিন বাসে এই লিফলেট টা একজন দিল।
এই বলে লিফলেট টা এগিয়ে দিলাম। রঙ্গিন কাগজে বেশ বড় বড় অক্ষরের শিরোনাম, ‘এখানে সব ধরনের মৃত্যুর ব্যবস্থা করা হয়’।
ভদ্রলোক লিফলেট টা নিলেন। কিছুক্ষণ তাকিয়ে পড়লেন। এরপর আবার আমাকে ফিরিয়ে দিয়ে বললেন,
লিফলেট টা আবার নতুন করে ছাপাতে হবে। তা না হলে, অনেকেই আপনার মত ভুল বুঝবে। তবে আপনি যখন চলেই এসেছেন, দেখি কি করা যায়।
একটু বুঝিয়ে বলবেন?

আমি মরতে চাই।
কথাটা শুনে ভদ্রলোক কিছুক্ষণ ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে থাকলেন। তারপর বললেন, আমাদের ঠিকানা কোথায় পেলেন
সেদিন বাসে এই লিফলেট টা একজন দিল।
এই বলে লিফলেট টা এগিয়ে দিলাম। রঙ্গিন কাগজে বেশ বড় বড় অক্ষরের শিরোনাম, ‘এখানে সব ধরনের মৃত্যুর ব্যবস্থা করা হয়’।
ভদ্রলোক লিফলেট টা নিলেন। কিছুক্ষণ তাকিয়ে পড়লেন। এরপর আবার আমাকে ফিরিয়ে দিয়ে বললেন,
লিফলেট টা আবার নতুন করে ছাপাতে হবে। তা না হলে, অনেকেই আপনার মত ভুল বুঝবে। তবে আপনি যখন চলেই এসেছেন, দেখি কি করা যায়।
একটু বুঝিয়ে বলবেন?
‘কন্ট্রাক্ট কিলিং’ বোঝেন? মানে টাকার বিনিময়ে মানুষ খুন করা, আমরা সেই কাজই করি। সুইসাইড যেহেতু মানুষ নিজেই করতে পারে, তাই এই ব্যাপারটা আমাদের তেমন কোন প্রোগ্রাম নেই। তবে আপনি যেহেতু চলেই এসেছেন, একটা ব্যবস্থা করে দিব।
আমার মনে হয় না আমি ভুল বুঝে এসেছি। আপনাদের কাজ মানুষ মেরে ফেলা, সেই কাজই তো করতে বলছি। এখন কাকে মারতে বলছি সেটা আমার ব্যাপার, তাই না?
আই এগ্রি। বাট এধরনের মৃত্যুর বেশ কিছু সুবিধা আছে। যেমন, পুলিশি ঝামেলা খুবই কম পোহাতে হবে। হয়তো কোন কিলারকে কাজটা না দিলেও চলবে। হয়তো
দেখা যাবে খুব ভালো একটা বিষ জোগাড় করে দিলে আপনি নিজেই কাজটা করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে রেটও কম লাগবে। আই ওয়ান্ট টু মিন, এই অপশানটা নিয়ে আগে ভাবি নি। তাই এই ব্যাপারের রেট ও ঠিক করা নাই। যাই হোক, স্পেশাল কনশেশানে কাজটা করে দিব।
কবে নাগাদ হবে?
খুব দ্রুত চান?
যত দ্রুত হয়। আমরা আর পারছি না।
ডিটেলস টা কি বলা যাবে? যদিও আমরা এ ব্যাপারে জানতে চাই না, তবে যদি এমন হয়, কারো অত্যাচারের কারণে এই কাজ করতে চাচ্ছেন, দেন আমাদেরকে সেই লোক কে মারার কন্ট্রাক্ট দিতে পারেন। যত পাওয়ার ফুলই হোক, আমরা পারবো।
আমি মাথা নেড়ে না বললাম।
আমরা ডিসাইড করে ফেলেছি। আপনি শুধু রেট আর অপশান বলুন।
লোকটা কিছুক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে থাকলো। মনে হচ্ছে আমার প্রতি কেমন একটা মায়া জন্মে গেছে। হয়তো হেল্প করতে চাচ্ছে। আমি সাহস পাচ্ছি না দেখে হতাশ বোধ করছে।
দেখুন, আমরা এমন একটা অফিস দিয়েছি, লিফলেট বিলি করে অ্যাডভারটাইজ করছি, সামনে হয়তো পত্রিকা আর টিভি তেও বিজ্ঞাপন দিব। বুঝতেই পারছেন, আমাদের খুঁটির জোর। আপনার সমস্যা পুরোটা বললে হয়তো আপনাকে ভালো কোন হেল্প করতে পারবো। নিজেকে মারবার জন্য আপনার যে বাজেট, সেই বাজেটেই করে দেব। কি বলেন?
আমি আবার মাথা নাড়লাম।

কি খবর?
পুরা খবর আনসি।
কি খবর?
তেমন কিছু না। ঐ ব্যাটার বউরে রেপ করছে। ওর সামনে। তাতে সেন্টি খাইছে।
ঐ ব্যাটাদের ফালানো যায় না?
যাইবো না ক্যান। রাস্তার মোড়ে বইসা ডাইল খায়। চান্দা চাইছিল ব্যাটার কাছে। দেয় নাই। তারপরে এই কাম করছে ব্যাটারা। ফালাইতে হইলে কন। ফালামু?
না। আগে কথা বলি।
ভদ্রলোকের বাচ্চা তো, এই লাইগ্যাই বেশী বেশী। এই কারণে কেউ সুইসাইড খায়? আর আমরা তো আছি, টাকা দিবো, ফালাইয়া দিমু। শোধ বোধ।
এই কথাটাই তো ব্যাটা বুঝতাছে না। কম রেটে কইরা দিতে চাইলাম, তাও রাজী না।
ফ্রি কইয়া দেখেন, রাজী হইব।
আরে না। প্রতিশোধ নিবো না। থানা পুলিশের ভয় করে নাকি?
করতেও পারে। ভদ্রলোক না? লোকে কি কইব, জানাজানি হইব, এইসব আগে চিন্তা করে। তারপর তো আছে পত্রিকা, একবার চান্স পাইলে আর কথা নাই। রসায়া রসায়া গল্প দিবো আর পত্রিকা বিক্রি করবো।
আজকে আসার কথা, জিজ্ঞেস করে দেখি।
কইয়া দেখেন। অ্যাকসিডেন্ট কইরা মাইরা দিতে পারুম। কেউ সন্দেহও করবো না। পত্রিকায়ও আইব না।
আচ্ছা বলে দেখি।
ঠিক আছে। নতুন কোন কাম?

আজকে ভালো একটা বিষ জোগাড় করে দেয়ার কথা। আরও দুবার আলোচনা হয়েছে। ভদ্রলোক বারবার বোঝাবার চেষ্টা করছেন, যেন সুইসাইড ক্যান্সেল করি। যদি কোন সমস্যায় থাকি উনি হেল্প করবেন। উনার বিশাল নেটওয়ার্ক। কেউ কোন রকম টর্চার করছে কি না, কারো বিরুদ্ধে যদি প্রতিশোধ নিতে চাই কি না, ইনিয়ে বিনিয়ে এইসব কথাই বারবার বলছে।
আমি সিদ্ধান্ত থেকে নড়ব দেখে অবশেষে রাজী হয়েছে ভালো একটা বিষ জোগাড় করে দিতে। আজকে দেয়ার কথা।
কেমন আছেন?
এইতো চলে যাচ্ছে।
আমার জিনিস জোগাড় হয়েছে?
জী। বেশ ভালো জাতের বিষ। খাওয়ার দুই মিনিটের মধ্যেই ঘুম এসে যাবে। আর ঘুমের মধ্যেই মৃত্যু। এর পরের জন্য কিছু কি করতে হবে?
মানে?
মানে ধরুন, পাবলিসিটি চান কি না, পত্রিকায় যদি ছবি সহ ছাপাতে চান এসব আর কি।
না না। চুপচাপ মরতে চাই।
চুপচাপ তো হবে না ভাই। এক বাড়ীতে স্বামী স্ত্রী আত্মহত্যা করেছে, ব্যাপারটা পত্রিকা ওয়ালারা বেশ রসিয়ে ছাপবে। খুন সন্দেহ করে কিছু স্টোরি তো ছাপা হবেই। কেউ আবার স্ক্যান্ডাল এর সন্দেহ ধুকাবে, পরকীয়া প্রেম কিংবা এক্সটরশান এমন কিছু ছিল কি না। লঞ্চ ডুবি কিংবা বড় কোন অ্যাকসিডেন্টে কেউ ইন্ডিভিজুয়ালের খোঁজ নেয় না। তবে এভাবে মরলে নির্ঘাত একটা স্টোরি হবে।
তাহলে?
প্ল্যান ক্যান্সেল করতে পারেন কিংবা অন্য কোন অপশান চুজ করতে পারেন। অ্যাকসিডেন্টে মরতে পারেন। কিংবা যদি বলেন প্রেস ম্যানেজ করতে, সেটাও করা যাবে। কোন মিডিয়াতে খবর টা আসবে না।
সেটাই বরং করেন।
কসট কিন্তু অনেক পড়বে। প্রচুর মিডিয়া, সবাইকে ম্যানেজ করতে প্রায় দুই তিন লাখ লেগে যাবে।
এতো টাকা তো নাই।
দেন?
শান্তিতে মরতেও পারবো না?
মরবেন হয়তো শান্তিতে। তবে যে কারণে মরতে চাচ্ছেন, সে কারণটা আটকাতে পারবেন না।
মানে?
দেখুন, আপনার সম্পর্কে আমি খোঁজ খবর নিয়েছি। ইন ফ্যাক্ট সব ক্ল্যায়েন্ট সম্পর্কেই আমাদের খোঁজ খবর নিতে হয়। আপনার পুরো ঘটনাটা আমি জানি। আপনি চাইলে ঐ ছেলেগুলোকে আমি শেষ করেও দিতে পারি। ইভেন আপনার জন্য আমি কাজটা কন্সেশান রেটে করতেও রাজী আছি। আপনার নিজের জন্য যে বাজেট রেখেছেন, সেই বাজেটেই। আপনি শুধু হ্যাঁ বলুন।
সে তো মেরে ফেলবেন। স্মৃতি কিভাবে মারবো? আমার স্ত্রীর দিকে আমি তাকাতে পারছি না। সারাক্ষণ লজ্জায় কুঁকড়ে থাকছি। নিজেকে দারুণ অথর্ব একজন মানুষ মনে হচ্ছে। ঘটনাটা পুরো পাড়া জানে। সবাই প্রতিদিন আসছে উপদেশ দিতে, পুলিশে বলেন, অমুক থানার ওসি আমার পরিচিত, কেউ ভালো উকিলের খোঁজ দেয়, এসবের জ্বালাতনে রীতিমত অস্থির অবস্থা। কেউ হয়তো সত্যিই হেল্প করতে চায় কেউ আসে বিকৃত একটা আনন্দ পেতে। আসলে এসব থেকেই পরিত্রাণ চাইছি।
দেখুন স্মৃতির ব্যাপারটা হয়তো কিছু করতে পারবো না। ঐ ব্যাটাদের কিলিংটা এমন ভাবে সাজাবো যেন মনে হয় বিষাক্ত নেশা খেয়ে মরেছে, কেউ সন্দেহ করবে না। আর প্রতিবেশী ব্যাপারটা তখন এমনিই কমে যাবে।
থ্যাংকস ফর দ্যা অফার। বাট আই হ্যাভ টেকেন মাই ডিসিশান।
আপনার ওয়াইফ?
জানি না। ধরে নিন ওকে খুন করছি।
এবার লোকটা কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলো। মাথা নিচু করে ভাবল। এরপর চোখ তুলে বলল, আমার একটা রিকোয়েস্ট। দশ দিনের জন্য আপনার প্ল্যানটা একটু পিছিয়ে দিন। আমাকে একটা সুযোগ দিন।
বুঝলাম না।

আর কোন কাজ আছে?
না।
আমার তাহলে কি হবে। আপনি জানেন এই কয়দিন আমি কত শান্তিতে ঘুমিয়েছি। আমার সুইসাইডের ইচ্ছেও চলে গেছে।
ভেরি গুড। তাহলে বিষ আর নিচ্ছেন না।
তা নিচ্ছি না। তবে আমাকে কাজ দিতে হবে।
আমি তো আর কাজ দিবো না।
কেন?
আপনার সঙ্গে তো আমার দশ দিনের ডিল ছিল। আজ দশম দিন।
মানে?
মানে এখন থেকে আপনি খোঁজ আনবেন। লজিস্টিক সাপোর্ট আমি দিব। ধরা যেন না পড়েন, সে ব্যাপারটা আমি দেখবো। যদি তেমন কিছু হয়, থানা পুলিশ আমি সামলাবো। শুধু মানুষ মারার কাজটা আপনার।
এতদিন যা করলাম?
দেখুন, যেদিন আপনি আমার কাছে এসেছিলেন, সেদিনই প্ল্যানটা আমার মাথায় আসে। এরকম ‘কিলিং মিশন’ চালাতে তো আমাকে অনেককেই হাতে রাখতে হয়। থানা, পুলিশ, উকিল থেকে শুরু করে মন্ত্রী, এম পি। কাজ থাকুক আর নাই থাকুক এদেরকে তো মাসে মাসে টাকা আমাকে দিতেই হচ্ছে। ভেবে দেখলাম এই ফাঁকে যদি কিছু ভালো কিলিং করি, মন্দ কি? কিছু অপরাধীও মারি। তবে সমস্যা হত কে বিনে পয়সায় করবে এই কাজগুলো।
সে জন্য আমাকে চুজ করলেন।
এডজ্যাক্টলি। আপনার ভেতর একটা ঘৃণা কাজ করছে। সেই ঘৃণা থেকে আপনি এখন যেকোনো রেপিস্টকে খুন করতে রাজী হয়ে যাবেন। আর সেটা বিনে পয়সায়ই করবেন। এই কয়দিন কষ্ট করে আমি রেপিস্ট খুঁজে দিয়েছি। এখন থেকে এই দ্বায়িত্ব আপনার। পত্রিকা পড়বেন, রেপিস্ট দের নাম ঠিকানা জোগাড় করবেন। প্ল্যান করবেন, কাজ সারবেন। ব্যাস আপনার কাজ শেষ। বাকী আমি সামলাবো।

৫ thoughts on “মৃত্যুর সন্ধানে

  1. এমন অসাধারণ একটি আইডিয়ার
    এমন অসাধারণ একটি আইডিয়ার জন্য আপনাকে :salute:

    সত্যি যদি এমন কাউকে পাওয়া যেতো…

  2. আইডিয়া টা অসাধারন ভাই ।
    আইডিয়া টা অসাধারন ভাই । :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া:

Leave a Reply to সাজ Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *