ভিনগ্রহের প্রাণীদের(এলিয়েন) ম্যাসেজঃ দি আউ সিগন্যাল।


ভিনগ্রহের প্রাণীদের অস্তিত্ব নিয়ে মানুষের আগ্রহের শেষ নেই।অনেকেই, এমনকি বেশ কিছু বিজ্ঞানী মহলও বিশ্বাস করে ভিনগ্রহের প্রাণীরা অবশ্যই আছে।এবং তাদের অস্তিত্বের প্রমাণও অতি উৎসাহীরা ইতিমধ্যে যোগার করে ফেলেছে।অনেক প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা, ছবি ইত্যাদি দিয়ে ইউরোপ-অ্যামেরিকার অনেক পত্রিকা অনেক খবর ইতিমধ্যে ছেপেছে।এসব খবরের মধ্যে বহুল প্রচারিত খবর হল যে, তারা ভিনগ্রহের প্রাণীদের ব্যবহিত মহাকাশযান দেখেছে।রাতে বা দিনে, দিগন্তের কোনায়,মাথার উপর ইত্যাদি স্থানে দেখতে পাওয়া এসব মহাকাশযানের নিখুঁত বর্ণনা পাওয়া যায়।ভিনগ্রহের প্রাণীদের মহাকাশযানের কিছু সুন্দর নাম আছে যেমন- ফ্লাইং সসার, UFO(Unidentified flying object) বা অজানা উড়ন্ত বস্তু।এসব কারণে একটি মহল UFO বা ভিনগ্রহের প্রাণীদের অস্তিত্বে বিশ্বাস করে এবং তাদের তোরজোড় দাবি ভিনগ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব অবশ্যই আছে।

ফ্রাংক ড্রেক এর সেই বিখ্যাত সমীকরণের সাহায্যে হিসাব কষে দেখান যায় আমাদের মহাবিশ্বে কতগুলো বুদ্ধিমান সভ্যতা থাকা সম্ভব।সমীকরণটির নাম ড্রেক সমীকরণ’’।সমীকরণটি নিচে দেওয়া হলঃ

N = R* . Fp .Ne . Fe . Fi . L

এখানে N = মহাবিশ্বে বুদ্ধিমান সভ্যতার সংখ্যা ।
আমি সমীকরণের বিস্তারিত বর্ণনায় গেলাম না।তবে সমীকরণের N এর মান শুনলে রীতিমত অবাক হবেন।কারন সমীকরণটি বলছে মহাবিশ্বে ১৮২ মিলিয়ন বুদ্ধিমান সভ্যতা থাকা সম্ভব।আর ঠিক এ কারণেই SETI নামে একটি সংস্থা বহির্বিশ্বের প্রাণ ও সভ্যতা নিয়ে গবেষণা করে চলছে।এই সংস্থার কাজ হল বহির্বিশ্বের প্রাণ ও সভ্যতা নিয়ে গবেষণা করা।তাছাড়াও FUFOR নামে ভার্জিনিয়ার আলেকজান্দ্রিয়ায় একটি ফাউন্ডেশন আছে, যারা এই সংক্রান্ত গবেষণার জন্য ফান্ড সংগ্রহ করে।

যাই হোক এবার কাজের কথায় আসি।সর্বপ্রথম ভিনগ্রহের প্রাণীদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় ১৯৭৪ সালে।এই দিনে আটলান্টিক মহাসাগরের ক্ষুদ্র দ্বিপ পুয়টরিকোর ১০০০ ফুট প্রতিফলক পৃষ্ঠের আরিসিব টেলিস্কোপ দিয়ে ২৬০০০ আলোকবর্ষ দূরে হারকিউলিক্স এর M13 নক্ষত্রপুঞ্জের উদ্দেশে একটি বার্তা প্রেরণ করা হয়।এই বার্তার মধ্যে ১৬৭৯ টি পয়েন্ট ছিল।এই সংখ্যাটি বেছে নেওয়া হয়ছিল এই কারনে যে, এটি শুধুমাত্র প্রাইম নাম্বার ২৩ ও ৭৩ এর গুণফল।এখন এটিকে যদি ভিনগ্রহের প্রাণীরা রিসিব করে তাহলে এটিকে শুধুমাত্র ২ ভাবে সাজাতে পারবে।এক ২৩ টি সারি ও ৭৩ টি data column অথবা ৭৩ টি সারি ও ২৩ টি data column।প্রথম বিন্যাসটির কোন অর্থ হবে না, কিন্তু দ্বিতীয় বিন্যাসের সাহায্যে এমন একটি ছবি তৈরি হবে যা বর্ণনা করবেঃ- আমাদের সৌরজগত, মানুষের রাসায়নিক গঠন ও পৃথিবীর মানুষের সংখ্যা।তারপর আরও কয়েকটি বার্তা বিভিন্ন গ্রহের উদ্দেশ্যে পাঠান হয়।

এত গেল ভিনগ্রহের প্রাণীদের উদ্দেশ্যে পাঠান আমাদের বার্তা।এবার আসি আসল কাহিনীতে।আসল কাহিনীটি ঘটেছিল ১৯৭৭ সালের ১৫ ই আগস্ট।জেরি এহম্যান নামে একজন বিজ্ঞানী ওহায়ও স্টেট ইউনিভার্সিটির পারকিন্স অবজারভেটরিতে SETI project এ কাজ করছিলেন। তিনি ওহায়ওর big ear টেলিস্কোপের সাহায্যে বহির্বিশ্ব থেকে আসা সংকেত অনুসন্ধানের কাজ করছিলেন।এটি ছিল খুবই অপ্রত্যাশিত, তাই সংকেতটি পাবার পর তিনি অনেক হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন।Sagittarius নক্ষত্রপুঞ্জ থেকে আসা এই বহির্জাগতিক সংকেতটি ছিল 1420 MHZ এর।এবং এটার Duration ছিল ৩৭ সেকেন্ড।সংকেতটি পাবার পর তিনি এতই হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন যে সিগন্যাল পেপার এর উপর লিখেছিলেন wow! আর তাই এই বিখ্যাত সিগন্যালটির নাম হয়েছে “দি আউ সিগন্যাল”(The wow! signal)।কিন্তু আসল কথা হল, আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুসারে এই ফ্রিকোয়েন্সিতে সংকেত প্রেরণ করা নিষিদ্ধ।আর যদি ধরি, সেটা প্রাকৃতিক উৎস থেকে যেমন- কোন গ্রহ থেকে আসা Thermal emission; তবে সেটাও সম্ভব না।কারন এগুলো সবসময়ই আরও অনেক বেশি ফ্রিকোয়েন্সিতে আসবে।আর সংকেতটি যদি ঐ নক্ষত্রপুঞ্জ থেকে আসে তাহলে তা হবে একটি শক্তিশালি মহাকাশিয় ঘটনা বা এভাবে বলা যেতে পারে যে এটি সৃষ্টি হয়েছে ভিন গ্রহের কোন সভ্যতা দ্বারা এবং তা অবশ্যই অতিবৃহৎ ও শক্তিশালী কোন ট্রান্সমিটারের দ্বারা।এখন যদি কেউ বলেন যে এটি কোন ভিনগ্রহের সভ্যতা দ্বারা সৃষ্ট নয় তবে তাকে আরেকটি প্রশ্নের উত্তর অবশ্যই দিতে হবে যে- তাহলে ঐ সিগন্যালের উৎস কোথায়?

এবার একটু সঙ্কেতের কোডটির দিকে লক্ষ্য করি।কোডটি ছিল আলফা নিউমেরিক এবং লেখার পর সেটি দাড়ায় – 6EQUJ5।এখানে এটি একটি এনার্জি ফ্লাস্কের Variation কে নির্দেশ করে।এখানে একটি স্পেস প্রতিনিধিত্ব করে ০-১,যেকোনো নাম্বার ১-১০,এবং এলফাবেট ১০-৩১ এর মধ্যে।আর সবচে অবাক করা বেপারটি হল কাকতালীয় ভাবে সিগন্যালটি ছিল ১৪২০ MHZ এর।যে ফ্রিকোয়েন্সিতে কিনা হাইড্রোজেন এটম Resonance Line শো করে।তাই বেপারটি যথেষ্ট অবাক করার মত।

যাই হোক, ১৯৭৭ সালের পর থেকে শত শত অনুসন্ধান করেও ঐ wow! Signal এর অনুরূপ কোন সিগন্যাল এর সন্ধান এখনও পাওয়া যায় নি।তার অর্থ এই নয় যে সেটা ভিন গ্রহের প্রাণীদের থেকে আসে নি।কারন সরূপ বলা যায়- ঐ অহায়র big ear telescope এর সাহায্যে আমাদের জানা মহাকাশের ১০০০০০০ ভাগের একভাগ মাত্র জানা সম্ভব।তাছাড়াও এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ বেপার,যদি কোন ভিন গ্রহের সভ্যতা থেকে থাকে আর সেখান থেকে যদি এরকম কোন সংকেত পাঠান হয় তবে তা অবশ্যই এ রকম সীমিত আকারেই পাঠান হবে।আর ঐ বিশাল রেঞ্জের মধ্যে ছোট কোন সঙ্কেত ধরতে পারাটা সত্যিই অনেক অসম্ভব একটা ব্যাপার।তাই এরকম সংকেত ধরতে হলে আমাদেরকে অবশ্যই অনেক ধৈর্যশালী হয়ে অপেক্ষা করতে হবে।তবে অনেকের মতে এসব সংকেত দূষণ ছাড়া আর কিছুই নয়।যাই হোক,কেউ এলিয়েনদের অস্তিত্বতে বিশ্বাস করুক বা না করুক, সবকিছু বিবেচনা করলে এই wow! Signal এর বিশেষ তাৎপর্য অবশ্যই আছে।

লেখাটি পূর্বে জিরো টু ইনফিনিটি তে প্রকাশিত।এই ব্লগ এর নিয়ম পরিপন্থী হোলে মুছে দেওয়া হবে।আমার জানা মতে বেশীরভাগ মানুষই এলিয়েন সম্পর্কে অনেক ভুল ধারনা রাখে।কেউ কেউ মনে করে এলিয়েন একটা মামুলি ব্যাপার।যেন, ওনার খালাতো ভাই এর দুই একখান এলিয়েন গার্লফ্রেন্ড আছে।আবার অনেকের ধারনা, এলিয়েন থাকা কোনভাবেই সম্ভব না।অন্য গ্রহে আবার প্রাণ থাকাও সম্ভব না।উনারা আশরাফুল মাকলুকাত।আর তাই সব গ্রহ নক্ষত্র উনাগো হইয়া গেছে।আবার অনেকের ধারনা হইল, ওইসব এলিয়েন-টেলিয়েন কিছু না।দুই একটা জীন থাকলে থাকতে পারে।কই জানি স্পষ্ট কইরা লেখা আছে।উনি পড়ছে।লেখাটি লেখার উদ্দেশ্য ছিল , এমন একটা আর্টিকেল লেখা যেটা পড়লে মানুষ বুঝতে পারে, আসলে কেমন হওয়া সম্ভব।জানিনা উদ্দেশ্য সফল হইছে কিনা?দেশটা যে হারে মাথামোটা ছাগু-হাগু দিয়া ভর্তি!হেতেরা কইব ওই আও সিগন্যাল জীনের কারসাজি।

Reference:
1.http://en.wikipedia.org/wiki/Wow!_signal
2.http://news.discovery.com/space/alien-life-exoplanets/the-wow-signal-130524.htm
3.http://www.damninteresting.com/the-wow-signal/
4.http://channel.nationalgeographic.com/channel/chasing-ufos/articles/what-is-the-wow-signal/
5.http://www.sciencedirect.com/science/article/pii/S0019103513000791
6.http://www.realclearscience.com/blog/2012/12/the-wow-signal-a-sign-of-alien-intelligence.html

১৩ thoughts on “ভিনগ্রহের প্রাণীদের(এলিয়েন) ম্যাসেজঃ দি আউ সিগন্যাল।

  1. আউ না তো। এটাকে বলে ”ওয়াও
    আউ না তো। এটাকে বলে ”ওয়াও বার্তা”। এডিট করে দেন
    পড়তেছি। পড়া শেষ হলে বাকি মন্তব্যটুকু করব

    1. ভাই বাকি মন্তব্য তো আর করলেন
      ভাই বাকি মন্তব্য তো আর করলেন না।পথ চেয়ে বসে আছি। :জলদিকর: :জলদিকর: :জলদিকর:

      //////////////////////////////////////////////////////////////////////////////////////////

  2. হুম…আপনি আর-ও কিছু রেফারেন্স
    হুম…আপনি আর-ও কিছু রেফারেন্স যুক্ত করলে সুবিধা পাওয়া যেত…যাই হোক ধন্যবাদ…চালিয়ে যান.…

    😀

    1. আমি তো এইখানে কোন রেফারেন্সই
      আমি তো এইখানে কোন রেফারেন্সই যুক্ত করি নাই :ভেংচি: আপনি পাইলেন কই? পরামর্শের জন্য অনেক ধন্যবাদ।আমি রেফারেন্স যুক্ত করে দিচ্ছি।

      ///////////////////////////////////////////////////////////////////////////////////////////

  3. @আনিস রায়হান
    ভাইজান, ওয়াও রে

    @আনিস রায়হান
    ভাইজান, ওয়াও রে অনেকেই অনেক ভাবে উচ্চরন করে।ব্রিটিশ,অ্যামেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ান ইংরেজি উচ্চারণ ভিন্ন ভিন্ন।ওয়াও রে আউ ও বলা যায়।মূল্যবান পরামর্শের জন্য ধন্যবাদ।

    ///////////////////////////////////////////////////////////////////////////////////

  4. হিমাংশু দা অনেক ভাল
    হিমাংশু দা অনেক ভাল লাগল…
    মহাকাশ নিয়ে কাউকে লিখতে দেখে খুবই ভাল লাগছে!!
    আপনি যদি ড্রেক’এর সমীকরণের সব কিছু ব্যখ্যা করতেন তবে নতুন পাঠকদের জন্যে খুব ভাল হত! আমি তাই আপনার লিখটাকে আরও শক্তিশালী করতে একটু যোগ করতে চাই! চাইলে আপনি সম্পাদন করে যুক্ত করে দিতে পারেন (;))…
    ড্রেকের সমীকরণ হচ্ছে এমনঃ
    N = R* . Fp .Ne . Fe . Fi . L
    যেখানে;
    N = আমাদের ছায়াপথ মিল্কিওয়ে (Milky Way Galaxy) সম্ভাব্য সভ্যতার সংখ্যা…
    আর,
    R* = মিল্কিওয়ে ছায়াপথে প্রতি বছর নক্ষত্র সৃষ্টির গড় সংখ্যা,
    Fp = একটা নক্ষত্রকে ঘিরে গ্রহ পাবার সম্ভাবনা বা ভগ্নাংশ
    Ne = এরকম গ্রহ থাকলে প্রাণ সৃষ্টি হতে পারে এমন গ্রহের সংখ্যা
    Fe = প্রাণ সৃষ্টি হতে পারে এমন গ্রহ থাকলে সত্যি সত্যি প্রাণের বিকাশ হবার সম্ভাবনা বা ভগ্নাংশ
    Fi = সত্যি সত্যি প্রাণের বিকাশ হলে সেগুলো বিবর্তনের ধারায় বহির্জগতের সাথে যোগাযোগের বুদ্ধিমত্তা অর্জনের সম্ভাবনা বা ভগ্নাংশ
    L = যে সময় পর্যন্ত সেই বুদ্ধিমান প্রাণী টিকে থাকতে পারে বলে ধরে নেয়া যায়!!

    এইসকল ভগ্নাংশ আর ফ্যাক্টরের গুনফলই নির্ধারণ করে N অর্থাৎ আমাদের ছায়াপথ মিল্কিওয়ে (Milky Way Galaxy) সম্ভাব্য সভ্যতার সংখ্যা..
    আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আবারও…

  5. লিংকন ভাই আপনাকে অনেক
    লিংকন ভাই আপনাকে অনেক ধন্যবাদ, সমীকরণের বর্ণনা করার জন্য। আসলে কি ভাই আমি ইচ্ছা করেই সমীকরণের বিস্তারিত বর্ণনা করি নাই।কারন লোকজন বেশি বড় আর সমীকরণ যুক্ত লেখা পড়তে চায় না।বিরক্ত হয়।স্স্টিফেন হকিং তার এক বইতে লিখছে একটি করে সমীকরণ বাড়ানো মানে পাঠক সংখ্যা একটু একটু করে কমানো।আমিও এই কথাটা বিশ্বাস করি,তাই বিস্তারিত দেই নাই।মাইনষের গালি খাওনের শখ নাই। :হয়রান: এখন ভালই হইছে, সমীকরণের বিস্তারিত কেউ পড়তে চাইলে আপনার মন্তব্য থেকে পড়তে পারবে।বর্ণনা যুক্ত করার জন্য অনেক ধন্যবাদ ভাই।

    ///////////////////////////////////////////////////////////////////////////////////

  6. নতুন কিছু জানলাম। জানার নাই
    নতুন কিছু জানলাম। জানার নাই শেষ। তারিক ভাইয়ের জানার পরিধি দেখে অবাক হই। উনি কি মানুষ নাকি এলিয়েন? :কনফিউজড:

    1. ভাই সত্যি কইতাছি কিছুই বুঝি
      ভাই সত্যি কইতাছি কিছুই বুঝি নাই, কেন এই কথা বললেন বলছেন।
      :কনফিউজড: :কনফিউজড: :কনফিউজড: :কনফিউজড:
      //////////////////////////////////////////////////////////////////////////////////

  7. খুব ভাল লাগল।তারিক ভাই আতিক
    খুব ভাল লাগল।তারিক ভাই আতিক ভাইয়ের উত্তর পেলাম না।আপনি কি মানুষ

Leave a Reply to অমিত লাবণ্য Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *