খুন ও ইজ্জত

বাংলাদেশের টেলিভিশনগুলোতে প্রচারিত ১ ঘন্টার সংবাদে- রাজনীতি বিষয়ক(২০ মিঃ); সরকারের বিভিন্নখাতে উন্নয়ন বিষয়ক(১০ মিঃ); বহিঃরাষ্ট্র বিষয়ক(৭ মিঃ); অপকর্ম বিষয়ক যা না বললেই নয়(৮ মিঃ); খেলাধুলা বিষয়ক(৫ মিঃ), বাজার ও শেয়ার বিষয়ক(৬ মিঃ) ও বিজ্ঞাপন বিরতি(৪ মিঃ)!! এর অন্তরালেও প্রতি মিনিটে জন্ম নিচ্ছে শতশত খবরাখবর যা শতকরা ৮০% মানুষের জানার অজান্তেই রয়ে যায়৷৷ হত্যা, ধর্ষণ, রাহাজানি নিত্য বাংলার পাঁচালি!! খুন হওয়া সন্তানের রক্ত মায়ের আঁচলেই শুঁকিয়ে যায়, ধর্ষিতার আত্মচিৎকার ক্ষণিকের বাতাস ভারি করে জলবায়ু হয়ে মেঘেই মিলিয়ে যায় কিংবা শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে হাহাকারে কাটায় শতশত পরিবার৷৷ এ বিষয়ে নেই মিডিয়ার তৎপরতা, সরকার বা রাষ্ট্রগুরুদের মাথা ব্যাথা আর পাবলিক তো ঝুঁকে বাঙ্গালী৷৷

অথচ আমরা (ব্লগার ও বিভিন্ন সোসাল নেটওয়ার্কিং ব্যবহারকারী) যখন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ঘটে যাওয়া অমানবিক খবর তুলে আনি কিংবা দেশের জনতার স্বার্থে উন্নয়নমূলক আলোচনা করি, বিচার চাই ধর্ষকের, হত্যাকারীর, নোংরা রাজনীতিবিদের, যুদ্ধাপরাধীর, স্বমস্বরে উচ্চারিত করি প্রতিবাদের কন্ঠ; তখনই পাইকারী দরে আমদানি ঘটে মিডিয়ার, টনক নড়ে রাষ্ট্রগুরুদের, সমালোচনার বিষ্ফোরন ঘটে পুরো বাংলায়, তরুনের মাঝে দেয়া হয় ব্রেনওয়াস, সরকারকে কাপানো হয় শাস্তি চাই, খ্যাত করা হয় নাস্তিক ব্লগার উপাধী দিয়ে!! আমরা সন্তান হারানো মায়ের কষ্ট বুঝি,বুঝি ধর্ষিতার আত্মচিৎকার, সহায় সম্বল হারানো অসহায় মানুষের আহাকার৷৷

প্রতিদিন গড়ে চারটে খুন হলে ধর্ষিত হয় দশজন নারী, এমনকি যৌন নির্যাতনেরও শিকার হয় বার বছরের কোন ছাত্র৷৷ খুনের রক্ত ছুরি ও পিপড়েতেই ভোজন হয়, ধর্ষকের পায়জামায় লেগে থাকে ধর্ষিতার রক্ত; বিচারের দাবি থানার প্রথম গেটেই বিতারিত, সমাজ ও বিচারের অনিশ্চয়তায় আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয় কত ধর্ষিত মা-মেয়ে-বোন-স্ত্রী!!

এ সমাজে স্থান নেই কোন ধর্ষিতার, বিচার নেই কোনো ধর্ষকের৷৷ আইন বিষয়টা বইয়ের খাতাতেই সুন্দর মানায়, বাস্তবে তা রাষ্ট্রগুরুদের পা চাটা কুত্তা৷৷ ধর্ষণের পর খুন, অথচ জামিনে ছাড়া পায় ধর্ষক ও খুনি৷৷ সমাজে গুরুরা ফতোয়া দেন, মেয়েটি ধর্ষিত হয়েছে তার নিজের পোশাক ও চালচলনের জন্য৷৷… তাইলে খানকির পুত গুরু, পর্দা কি পারছে ধর্ষণ বন্ধ করতে?? পশুর মত দল বেধে বাড়িতে গিয়ে মায়ের সামনে মেয়েকে গণ ধর্ষণ করে এসেছে তোদের সন্তানরা, পারস না এর বিচার চাইতে৷৷ ধর্ষণ বিষয়টা ওঠলেই আসে ধর্মীয় ফতোয়া৷৷ কেনরে…. এত কেন?? তোদের ঈশ্বর কি পারছে কোন নারীর ঈজ্জত রক্ষা করতে?? কোন ধর্ষকের শাস্তি দিতে?? তোদের ঈশ্বরের কান কি এতই কালা, ধর্ষিতার চিৎকার তার কানে পৌছায় না!! নাকি ধর্ষক ও ধর্ষিতার ধর্ষণ উপভোগ করেন উনি??

হে ধর্ষিত নারী…… তোমার সুবিচার নেই এ সমাজে, নেই ঈশ্বরের কাছেও!! চোখ মেলে দেখ, সেই ঈশ্বরের ইজ্জত রক্ষা করার দায়িত্ব মানুষের হাতে৷৷ তারা সর্বদা ব্যস্ত কিভাবে ঈশ্বরের ইজ্জত রক্ষা করা যায়, তার অপমানকারির গর্দান কাটা যায়!! যে ঈশ্বর নিজের ইজ্জত রক্ষা করার ক্ষমতা রাখেন না,তিনি তোমার ইজ্জত রক্ষা করবেন কিভাবে??
আমরা সত্যের পূজারি, কথিত নাস্তিকরা আছি তোমার পাশে৷৷ দূর্বল হইও না, একদিন তোমার সুবিচার পাবে…. এই বিশ্বাস দিচ্ছি!!

আমরাও যদী চুপ করে বসে থাকি তাহলে হয়তো; কর্মস্থলে ফোন কলের ওপাশ থেকে বলবে, তোর ওমুক-তমুক খুন হয়েছে কিংবা রাতে ঘরে ফিরে দেখব আমারও পরিবারের কেও একজন ধর্ষিত হয়ে ফাঁস দিয়েছে সিলিং ফ্যানে আঁচল বেধে৷৷

অন্যায়-অত্যাচার প্রতিবাদে যদি সন্ত্রাস হতে হয় তবে তরুনদের সন্ত্রাস হওয়া উচিত৷৷ আমি আছি প্রথম সারিতে, ঘৃনা জমে গেছে নোংরা সমাজে, অতিস্ঠ হয়ে গেছি শিক্ষিত মূর্খদের মাঝে থেকে….. একটা বিপ্লব প্রয়োজন!!!!

৪ thoughts on “খুন ও ইজ্জত

  1. আমাদের সমাজ ব্যবস্থার সাথে
    আমাদের সমাজ ব্যবস্থার সাথে ধর্ষণ শব্দটা আস্তে আস্তে মিশে যাচ্ছে সবাই এইটা নিয়ে কথা বলতে পারে কিন্তু প্রতিবাদ করার সাহস নেই কারো তাইতো আসামী আদালত থেকে হাসি মুখে জামিন নিয়ে চোখে কালো সানগ্লাস লাগিয়ে বের হয়ে বুক ফুলিয়ে বলে ” আমি ধর্ষক “……।। ভালো লিখেছেন

  2. হ্যা একটা পরিবর্তনের প্রয়োজন
    হ্যা একটা পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে.…সমাজকে পরিবর্তিত হতে হবে আমাদের মতো করে.…এভাবে আতংকের মাঝে বেঁচে থাকাকে জীবন বলে না…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *