পাবলিক বাস ও আমার চেতনায় শাহবাগ

কাদের মোল্লার রায়ের আগের কিছু কথা আমি তখন ইস্কাটনে থাকি।
প্রতিদিন সকাল বিকাল পাবলিক বাস বলাকা প্রভাতী বনশ্রী চড়ে অফিসে যাই।খেয়াল করতাম আমাদের দৈনন্দিন জীবনে পাবলিক বাস একটি বিরাট অংশ ।

কাদের মোল্লার রায়ের আগের কিছু কথা আমি তখন ইস্কাটনে থাকি।
প্রতিদিন সকাল বিকাল পাবলিক বাস বলাকা প্রভাতী বনশ্রী চড়ে অফিসে যাই।খেয়াল করতাম আমাদের দৈনন্দিন জীবনে পাবলিক বাস একটি বিরাট অংশ ।
কত প্রকারের পাবলিক দেখা যায় এই বাসে।উচু নিচু কাল ফর্সা কত ঢঙের মানুষ।কতই তাদের নমুনা।বাসে বেশির ভাগ যাত্রা হত দারিয়ে দাড়িয়ে ।চেপটা হয়ে বাসে চড়ে যাওয়া অনেকটা যুদ্দই বলা চলে।যারা এর ভিতর দিয়ে যান কেবল তারাই বুঝবেন কি যাতনা এ বিষে।কখনও হাল্কা কথা বার্তা কখনও আবার জটিল বিষয়ে নিয়ে আলোচনা হয় বাসের মধ্যে।মহিলা সিটে পুরুষ বসে আছে।হয়ত মহিলা যাত্রি উটে দেখল নির্ধারিত সিটে পুরুষ বসে আছে।কোন কোন পুরুষ হয়ত চক্ষু লজ্জায় উটে পরে।আবার কিছু পাবলিক নিরভিকারে বসেই থাকেন।
যেন এ সিটের মালিক তিনিই।এ নিয়ে ক্যাচালও হয় অনেক।আবার ভাড়া নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই।
–এই যে ভাড়া দেন।
–পড়ে আয়
–না এখন দেন
–দেখচ না চেপটা হইয়া গেছি দাড়াতেই পারছি না
–আমি কি করমু উটেন ক্যা
–কথা বাড়াবি না… চলবে।
আমি শুধু পাবলিকের কথাবার্তা ও আচরণ খেয়াল করি।
যদি কখনো রাজনৈতিক আলাপ উটে ।তাইলেত হইছে।
তবে অধিকাংশ পাবলিকের মধ্যে এক জায়গায় খুব মিল পাওয়া যায়।
তা হচ্ছে কাররই রাজনীতি পছন্দ না।তাদের মতে এই বড় দু দলই দেশের ক্ষতি করছে।এই দলগুলু আমাদের ভাল মন্দের কোন মূল্য দেয় না।
আমি চিন্তা করি কি দিয়ে বানানো আমাদের এই বাঙালি জাতি।এত সহনশীল জাতি আর কোথাও আছে ।যদি সহনশীলতা রপ্তানি করা যেত।তবে নিশ্চিত আমাদের দেশ বৈদেশিক মুদ্রায় ভরে যেত।তা সম্ভব না।
রায় হল।কাদের মোল্লার যাবতজিবন দণ্ড।অফিস ফেরত সবাই মিলে শুধু এই আলাপ আর ধিক্কার দিচ্ছে।সবার মাঝে হতাশা।বাসের ভিতর কেবল এই আলাপ। কিছু জনতা আবার চুপ।বাসায় এসে টিভির নিউজ পড়ে মনটা আরও খারাপ হল।ইচ্ছে হচ্ছিল দেয়ালে মাথা টুকি।রক্তাত্ত হল হৃদয় কোন কিছু দিয়ে নিজেকে শান্ত করতে পারছি না।
সন্ধায় আড্ডাতে গেলাম মুবারকের চায়ের দকানে।সবাই এক আলাপেই মশগুল।
এক কথাই আমরা কেউ মেনে নিলাম না।আর কীইবা করতে পারি।আইন আদালত নিয়ে আমাদের কথা বলাও নিয়ন্ত্রিত।তাই আমরা অসহায়।
পরের দিন আড্ডায় ‘ঘুড়ি তুমি কার আকাশে উড়’জনপ্রিয় এই গানের স্রষ্টা সোমেশ্বর অলি আস্তে আস্তে বলল খবর আছে।সে আবার সমকালে লিখালিখিও করে,লুতফুর হাসান আসল একটু পড়ে সেও কবি সাংবাদিক গীতিকার তিনি মুলত আড্ডার প্রান।খুব রশিয়ে সবকিছুর বর্ণনা দিতে পারে।বলল…।
–কাম হইছে
–কি কাম হইছে?
–একটা কিছু হইব এভার
–কি হইব কন না?
–শাহবাগে তো পুলাপাইন রায়ের বিরুদ্ধে বইচে।
–সোজা কথা এ রায় মানি না।
–ভাই কন কি পাবলিক কেমন ২০/২৫ জন
–হতাশ হয়ে কইলাম এতে কিছু হবে
–কস কি মমিন?দেখনা কি হয়।
খুব একটা ভরশা পেলাম না।তবে মনে শান্তি আসে এই ভেবে যে,বাঙ্গালি কখনই না লড়ে হার মানতে পারে না।এখনও আমাদের আত্মা বেঁচে আছে।টিভি খুলে নিউজ খুজে বেড়াই শাহবাগের নিউজ আছে সব জায়গাতেই।
কিছু ব্লগার আর ছাত্ররা মিলে শাহবাগে চিৎকার করে বলছে এই রায় মানি না।ফাঁশি চাই।খুব একটা জোর পাইনা।তবুও ভাবি মন্দের ভাল।
পরের দিন টিভি খুলে চক্ষু বিস্ফারিত।শাহবাগ জমে উটছে।
রায়ের বিরুদ্ধে সবার অবস্থান।কাদের মোল্লার ফাঁশি চাই। সারা শরীর আমার কেঁপে উটল।আনন্দে চোখে পানি চলে আসল।
পরের দিন মানুষ আর মানুষ।টিভিতে শাহবাগ দেখি আর লাফাই।এসব দেখে আমার বাচ্চা দুইটিও লাফায়।কি আনন্দ আকাশে বাতাসে।কি বলব বহুদিন পড়ে একটি অনাবিল সুখ বয়ে গেল।আমার শাহবাগ লোকে লোকারণ্য।সব শ্রেণীর মানুষ চলে এসেছে।একেই বলে জনবিস্ফোরণ।আমার আত্মা জুড়ে শুধুই শান্তি আর শান্তি।আমার দেশ জয় বাংলা।
ধন্যবাদ আমার দেশের এই জনতাকে।জাতি হিসেবে আমি আবার গর্বিত হলাম।
কয়েকদিন পড়ে………

পরবর্তী অংশ কি ছিল……?

১৪ thoughts on “পাবলিক বাস ও আমার চেতনায় শাহবাগ

  1. আমার মনে আছে- যেদিন (১২
    আমার মনে আছে- যেদিন (১২ ফেব্রুয়ারী) বিকেলে তিন মিনিট নিরবতা পালনের ঘোষণা দেয়া হলো। আমি স্বপ্নেও ভাবিনি এমন একটা দৃশ্য দেখবো। আমার অফিস তখন উত্তরার হাউজ বিল্ডিং-এ।
    ঠিক চারটায় এক সাথে রাস্তার সবগুলো গাড়ি থেমে গেল। সবগুলো মানুষ দাঁড়িয়ে পড়লো। প্রতিটি বাড়ির ছাদে, অফিসে, দোকানে… সবগুলো মানুষ একসাথে চুপ হয়ে গেল!
    আমার হার্টবিট থেমে গিয়েছিল যেন! কোন এক অজানা আবেগে আমার চোখে পানি এসে পড়েছিল! এই অবেগের উৎস আমি জানি না…
    হুমায়ূন আহমেল-এর “জ্যোসনা ও জননীর গল্প” এর শেষ লাইনটাই বার বার মনে হচ্ছিল-
    আহারে! আহারে!

    কিন্তু সত্যি এখন ভুলে গেছি…

    পরবর্তী অংশ কি ছিল…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *