অনুগল্প সমগ্র – ১

১.
জীবনে প্রথমবারের মতো গেলাম এক খালার বাসায় বেড়াতে। খালাতো বোন সুন্দরী তরুণী। সারাদিন বাসার সবাই আমার প্রতি খুব আগ্রহ দেখালো, খালাতো বোন ছাড়া। দূর সম্পর্কের সুন্দরী খালাতো বোন আমাকে দেখে হলো বিরক্ত। বিরক্ত হয়ে বিকেল বেলা আমার সামনে এসে জিজ্ঞেস করলো, “আপনার নাম কি মফিজ?” আমি অবাক হয়ে বললাম, “মফিজ হবে ক্যান!” সুন্দরী বললো, “তাহলে আপনার পেছনে মফিজ লেখা ক্যান?” পরক্ষনেই বুঝতে পারলাম, কেও একজন মোটা কালিতে সুন্দর করে মফিজ লিখে শার্টের পেছনে আমার অজান্তেই লাগিয়ে দিয়েছে। হলাম বিব্রত। ফোস করে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ার শব্দ পেয়ে রুমে ঢুকলেন খালা।



১.
জীবনে প্রথমবারের মতো গেলাম এক খালার বাসায় বেড়াতে। খালাতো বোন সুন্দরী তরুণী। সারাদিন বাসার সবাই আমার প্রতি খুব আগ্রহ দেখালো, খালাতো বোন ছাড়া। দূর সম্পর্কের সুন্দরী খালাতো বোন আমাকে দেখে হলো বিরক্ত। বিরক্ত হয়ে বিকেল বেলা আমার সামনে এসে জিজ্ঞেস করলো, “আপনার নাম কি মফিজ?” আমি অবাক হয়ে বললাম, “মফিজ হবে ক্যান!” সুন্দরী বললো, “তাহলে আপনার পেছনে মফিজ লেখা ক্যান?” পরক্ষনেই বুঝতে পারলাম, কেও একজন মোটা কালিতে সুন্দর করে মফিজ লিখে শার্টের পেছনে আমার অজান্তেই লাগিয়ে দিয়েছে। হলাম বিব্রত। ফোস করে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ার শব্দ পেয়ে রুমে ঢুকলেন খালা। হাসি হাসি মুখে বললেন এক কাপ চা খেতে। খালাতো বোন চা এনে ছেড়ে দিলো আমার সামনে। চায়ের কাপ ভেঙ্গে গিয়ে টুং টাং আওয়াজ তুললো। আওয়াজ পেয়ে পুনরায় রুমে ঢুকলেন খালা। মলিন মুখে বললেন, “চায়ের কাপটা ভেঙ্গেই ফেললে বাবা?” আমি পুনরায় হলাম বিব্রত। ফোস করে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লাম। দীর্ঘশ্বাসের আওয়াজ আমার কানে বাজলো অনেকক্ষণ। রাতে খাবার টেবিলে গিয়ে দেখা গেল খাবার নেই। সবাই যার যার মতো খেয়েদেয়ে ঘুমুতে চলে গেছে। হলাম মর্মাহত। মন খারাপ করে রুমে এসে দেখি খাটের ওপর দূর সম্পর্কের সুন্দরী খালাতো বোন চিৎপটাং হয়ে ঘুমুচ্ছে। তাকে ডেকে তুলতে গেলাম, এমন সময় “কররররর!” আওয়াজ তুলে রুমের দরজা খুলে গেল। রুমে ঢুকলেন খালা, খালু আর লাল চোখ ওয়ালা খালাতো ভাই। কটু দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো, “এই রুমে তো তোমার থাকার কথা না বাবা! তুমি এখানে ক্যান! যাও পাশের রুমে গিয়ে ঘুমাও!” সকাল বেলা কাকের কা কা ডাকে ঘুম ভেঙ্গে গেলে দেখা গেল বাসায় খুব হইচই। বাসা থেকে কয়েক ভরি সোনাদানা হাওয়া হয়ে গেছে আজ রাতে। সবাই কেমন জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে আমার দিকে! আমার মরে যেতে ইচ্ছে করছে। দরজা বন্ধ করে আধঘন্টা কাঁদলাম। কাপর-চোপর গুছিয়ে নিজের বাসায় ফিরে আসতে রুম থেকে বের হয়ে দেখি বাসায় কত্ত পুলিশ! তাই দেখে আমি মাথা ঘুরে পড়ে যেতে যেতে একবার শুধু শুনলাম, কয়েক ভরি সোনাদানার সাথে লাল চোখ ওয়ালা খালাতো ভাই আর পাশের বাসার মিথিলাও হাওয়া হয়ে গেছে! জ্ঞান ফেরার পর চোখ মেলে দেখলাম সুন্দরী খালাতো বোন আলতো করে মাথায় পানি ঢেলে দিচ্ছে।
খালাতো বোনের চোখ থেকে এক ফোটা জল টুপ করে বালতির পানির সাথে মিশে গেল।

২.
“মালটা দ্যাখ! ফাটাফাটি মাল!”
সুন্দরী মেয়েদেরকে ‘ফাটাফাটি মাল’ ভদ্র ছেলেরা বলেনা। কাওকে বলতে শুনলে আমার মেজাজ বিগরে যায়। বন্ধুর পিঠে ধুম করে একটা কিল বসিয়ে দিয়ে কর্কশ স্বরে বললাম, “শালার বাচ্চা শালা! মেয়েদের দেখলেই মন খালি আঁকুপাঁকু করে?” বন্ধু আমার কঠিন কিলকে সহজ ভাবে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়ে হাসি হাসি মুখে বলে, “সুন্দরের কদর দিতে যারা জানেনা, তাঁরা অকৃতজ্ঞ!” আমার হাতের আরেকটা কিল খাওয়ার আগেই পাশে কারও উপস্থিত টের পাই। চেয়ে দেখি রেগেমেগে অস্থির হয়ে যাওয়া একজন সুন্দরী বাঘিনীর মতো করে তাকিয়ে আছে। আমি ভয় পেয়ে কয়েক দফা ঢোক গিলে বন্ধুকে বলি, “চল ভাই এখান থেকে। আমার মা আজকে তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরতে বলেছে”। বন্ধুর কাছ থেকে কোনো প্রতিউত্তর না পেয়ে পেছনে তাকিয়ে দেখি বন্ধু আমার লাপাত্তা! আমার বুকের ধুকধুকুনির শব্দ শুনতে পায় দেয়ালের ওপর বসে থাকা দুইটা কালো রঙের কাক। তারপর তাঁরা ভয় পেয়ে উড়ে যায় দূরে। নীল রঙের আকাশে। আমি ভয় পেয়ে উড়ে যেতে না পেরে দাঁড়িয়ে থাকি। আর সুন্দরী চিৎকার করে বলে উঠে, “মেয়েদেরকে মাল বলেন? কান ফাটিয়ে দেব!” আমি যে কথাটা বলিনি, তা আর তাকে বোঝানো যায়না। না বোঝাতে পারা কষ্টগুলো কান্না হয়ে যায়। তারপর চোখের কোনায় ঝিলিমিলি করে। কাঁদি সারাদিন, কাঁদি সারারাত। মা বলে, হয়েছেটা কি বল না! আমি বলি, সব কিছু তো আর বলা যায়না মা! অনেক রাতে, কেঁদেকেটে বালিশ ভেজানোর এক ফাঁকে ফোন আসে,
“আসলে কি বলে যে স্যরি বলা যায়! কালকে একবার ক্যান্টিনে আসবেন প্লিজ! চা খেতে খেতে স্যরি বলা যাবে”।

চোখের জল পেটে ঢুকে যায়। তারপর, এক চিলতে হাসি হয়ে ফুটে ওঠে আমার ঠোটের কোনায়।

৩.
কোনো এক বিকেল বেলা মেয়েটাকে প্রথম দেখেছিলাম দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আইসক্রীম খেতে। ভাব জমানোর আশায় আমিও একটা আইসক্রীম কিনলাম। তারপর তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে খাওয়া শুরু করলাম। কি বলে কথা শুরু করা যায়, এই ভেবে কেটে গেল আধঘন্টা। তারপর দেখা গেল মেয়েটা চলে গেছে। পড়ে আছে তাঁর সদ্য খাওয়া আইসক্রীমের কাঠি। তারপর কেটে গেছে অনেকদিন। দেখিনি কোথাও তাকে। ভাবতে ভাবতে অতঃপর না ভাবতে না ভাবতে একসময় দেখা গেল তাঁর চেহারা আমি ভুলতে বসেছি। ভুলে যাওয়ার আশঙ্কায় আমার মন খারাপ হয়। এমন সময় হঠাৎ একদিন দেখা গেল মেয়েটা আমাদের বাসায়। আমি আর ভেবে পাইনা কিছু। ছোটবোন এসে বলে তাঁর বান্ধবী হয়। আমি খুশিতে বাকবাকুম! ছোটবোনকে নিজের রুমে বসিয়ে রেখে একলা গেলাম একলা বসে থাকা মেয়ের কাছে। আশেপাশে কিছুক্ষণ ঘুরাঘুরি করতে না করতেই মেয়েটার যাবার সময় হয়ে গেল। আমার আর ভাব জমানো হলোনা। তারপর থেকে কতদিন, কত সকাল বিকেল কেটে গেছে তাঁর খোঁজে খোঁজে, পিছু পিছু। ছোটবোনকে রেগুলার দিয়ে আসি কলেজে। আমার আর হয়না বলা কিছু একটা। তারপর কেটে যায় আরও কিছুদিন। অতঃপর, হঠাৎ একদিন বলে বসে আমাকে, “কিছু একটা বলতে চান?” আমি এদিক-ওদিক তাকাই আর ঘাড় চুলকে বলি, “না মানে, আপনি সেদিন আইসক্রীম খেয়ে আইসক্রীমের কাঠিটা ফেলে এসেছিলেন!” একথা শুনে মেয়েটা রাগ হয়। রাগ হলে লাল হয়। লাল হলে দেখতে ভালো লাগে। অনেক ভালো লাগে। যা আগে কখনো দেখা হয়নি আমার।

১১ thoughts on “অনুগল্প সমগ্র – ১

  1. খারাপ না!
    তবে ২নং-এ তরুনী না

    খারাপ না!
    তবে ২নং-এ তরুনী না হয় কোন ভাবে তার ভুল বুঝতে পারলো… কিন্তু আপনার মোবাইল নাম্বার পেলো কোথায়?
    :কনফিউজড:

    1. একই ভার্সিটিতে যেহেতু পড়ি,
      একই ভার্সিটিতে যেহেতু পড়ি, সেহেতু মোবাইল নাম্বারটা পাওয়া কঠিন কিছু না। অথবা খোজ নিলেও পেয়ে যেতে পারে!

  2. চমৎকার লাগল। প্রশ্ন যেটা
    চমৎকার লাগল। প্রশ্ন যেটা মাথায় এসেছিলো সেটার উত্তর অলরেডি এহসান ভাই নিয়ে দিয়েছেন। ৩ নম্বরটার ভাষা অনেকটাই রবীন্দ্রনাথের স্টাইলের হইছে। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *