টস

‘টস’ শব্দটা কিছুদিন আগে মার্কেটে চালুর একটা চেষ্টা হয়। সেই প্রাক্তন উপদেষ্টা তাঁর অভিজ্ঞতা থেকে বুঝে গেছেন আসল সমস্যা তৈরি হবে ‘প্রধান’ কে নিয়ে। এবং যেমন অবিশ্বাসের পরিবেশে আমরা আছি, ‘লটারি’ জাতীয় কিছু ছাড়া আমরা সান্ত হব না। যেহেতু চেষ্টাকারী কোন রাজনৈতিক দলের সদস্য না, এবং সরাসরি কারো উপকারে আসবে না, তাই যথারীতি তাঁর এই চেষ্টাটা বিফলে যায়। সরকারী ও বিরোধী দলের কেউই এই তত্ত্বটা মানে নি। বিরোধী দলের ভয়, এখন মেনে নিলে বিদ্রোহী ভাবের সমাপ্তি ঘটবে। সরকারী দল ও চাইছে না এই মুহূর্তে কোন সমাধান তৈরি হউক।

‘টস’ শব্দটা কিছুদিন আগে মার্কেটে চালুর একটা চেষ্টা হয়। সেই প্রাক্তন উপদেষ্টা তাঁর অভিজ্ঞতা থেকে বুঝে গেছেন আসল সমস্যা তৈরি হবে ‘প্রধান’ কে নিয়ে। এবং যেমন অবিশ্বাসের পরিবেশে আমরা আছি, ‘লটারি’ জাতীয় কিছু ছাড়া আমরা সান্ত হব না। যেহেতু চেষ্টাকারী কোন রাজনৈতিক দলের সদস্য না, এবং সরাসরি কারো উপকারে আসবে না, তাই যথারীতি তাঁর এই চেষ্টাটা বিফলে যায়। সরকারী ও বিরোধী দলের কেউই এই তত্ত্বটা মানে নি। বিরোধী দলের ভয়, এখন মেনে নিলে বিদ্রোহী ভাবের সমাপ্তি ঘটবে। সরকারী দল ও চাইছে না এই মুহূর্তে কোন সমাধান তৈরি হউক।
ঢেঁকি এবং স্বর্গকে জড়িয়ে একটা প্রবাদ আছে। ‘টস’ নিয়ে কিছু লেখালেখি করা যায় কিনা সেই খোঁজে নেমে পড়লাম। ইন্টারনেট, উইকিপিডিয়া এমন সব তথ্য ভাণ্ডার। মজার কিছু তথ্য পেলাম। বলাই বাহুল্য এর সঙ্গে রাজনীতির কোন সংশ্রব নেই। টস করে রাজা নির্ধারণ কিংবা সরকার প্রধান নির্ধারণের ঘটনা বোধকরি কখনও ঘটেনি। তবে অনেক খেলাতেই ‘টস’ ব্যাপারটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
প্রথম যে তথ্যটি মজার মনে হল, তা হচ্ছে, ‘টস ভাগ্য’। এই দিক দিয়ে সবচেয়ে অভাগা ছিলেন স্বাধীন ভারতের প্রথম অধিনায়ক লালা অমরনাথ। উপর্যুপরি দশ টি টেস্টে ‘টস’ এ হেরেছিলেন। মজার আরেকটি ঘটনা ঘটেছিল অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ১৯৪৭-৪৮ টেস্ট সিরিজটিতে। পর পর চারটি টসে হারবার পরে পঞ্চম টেস্টের আগে একদিন দেখা গেল লালা অমরনাথ একটি কয়েন নিয়ে মাঠে টস প্র্যাকটিস করছেন। ব্যপারটা নিয়ে মিডিয়া বেশ হাসাহাসি করল। কারণ টসের কয়েন তো ছুঁড়বেন ‘হোস্ট’ টিমের অধিনায়ক, ডন ব্র্যাডম্যান।
ভাগ্যিস ‘টস’ তত্ব ব্যর্থ হয়। কারো টস ভাগ্য কার ভালো এমনটা আবিষ্কার হলে তখন আবার দাবী উঠত ‘অমুক’কে টস করতে পাঠানো যাবে না। কিংবা ‘টস ভাগ্য’ খারাপ এমন একজনকে না পাঠালে বিরোধী পক্ষ টস করতে রাজী হত না। আর কয়েন ছোড়ায় কেউ যদি বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠতে পারেন, তখন আরেক সমস্যা হত, কে কয়েন ছুঁড়বে? তা নিয়ে আবার আন্দোলন, হরতাল, ভাংচুর।
‘টস’ নিয়ে আরেকটা ঘটনাও বোধহয় বলা যায়। ১৯৭৯-৮০ সিরিজ। ভারত বনাম পাকিস্তান। ভারতের হোম সিরিজ। ২-০ তে জিতে এগিয়ে গেছে ভারত। ষষ্ঠ টেস্ট কোলকাতা ইডেন গার্ডেন এ। আসিফ ইকবাল আর গুন্ডাপ্পা বিশ্বনাথ মাঠে নেমেছেন টস করতে। বিশ্বনাথ কয়েন টস করলেন। আসিফ ইকবাল কয়েন টি গড়ানো অবস্থায়ই মাটি থেকে তুলে বললেন, তুমি জিতেছ।
এই নিয়ে অনেক বিতর্ক ওঠে। কেন এই কাজটি করেছিলেন। কিংবা আদৌ করেছিলেন কি না। কারণ আসিফের বক্তব্য ছিল এমনটা আমি করিনি। ‘হেড’ পড়েছিল। একজন ফটোগ্রাফার যিনি মাঠে ছিলেন তিনি টেলিফটোলেন্সে ছবি তুলেছিলেন সেটার। সত্যি ঘটনা কোন দিন জানা যাবে কি না জানি না। তবে যে কারণে বিতর্ক উঠেছিল তা হচ্ছে, টসে কে জিতবে এই নিয়ে নাকি জুয়া হয়েছিল। এবং ধারণা করা হয় পুরো ঘটনার পিছনে জুয়াড়ি এবং উৎকোচ ব্যাপারটা জড়িত।
‘টস’ তত্ত্ব ব্যর্থ হওয়ায় একদিক দিয়ে উপকার ই হয়েছে। পুরো জাতি হয়তো ‘টস’ জুয়ায় আক্রান্ত হয়ে পড়ত। পয়সা খেয়ে টসে হারবার ঘটনা ঘটাও বিচিত্র হত না।
৪ ঠা জুন ১৯৯৯। বিশ্বকাপে সুপার সিক্স এর প্রথম ম্যাচ। ভারত বনাম অস্ট্রেলিয়া। স্থান ওভাল। কিছুক্ষণ আগে টিম মিটিং হয়েছে। সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত টসে জিতলে ব্যাটিং। অধিনায়ক আজহারউদ্দিন মাঠে যাওয়ার আগে সবশেষে কথা বললেন কোচ ববি সিম্পসনের সঙ্গে। ববির দেশ অস্ট্রেলিয়া। টস হল। আজহারউদ্দীন জিতলেন। এবং প্রথমে ফিল্ডিং বেছে নিলেন। প্রথমে ব্যাট করে অস্ট্রেলিয়া করল ২৮২ রান। এবং ম্যাচ জিতল।
কেন আজহারউদ্দীন টিম মিটিঙয়ের বিপরীত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তা আজও রহস্য। ববি সিম্পসন কি দেশপ্রেম দেখিয়ে আজহার কে ভুল উপদেশ দিয়েছিলেন? কোনদিন হয়তো জানা যাবে না। মানুষের মনের ভেতর তো দেখা সম্ভব না।
আমাদের সব রাজনৈতিক দলেই অন্য দল ছেড়ে আসা লোকের অভাব নেই। কে কখন কোন দলের প্রতি আনুগত্য দেখাবেন, কিংবা কোন মতামত কোন দলের উপকারের জন্য দিবেন বোঝা সবসময় সম্ভব নাও হতে পারে। তাই ‘টস’ তত্ত্ব বিফলে যেয়ে একদিক দিয়ে ভালই হয়েছে সেই সব বহুরূপীদের জন্য।
লালা অমরনাথের আরেকটা ঘটনা দিয়েই শেষ করব। ১৯৪৭-৪৮ সিরিজের কথা। পরপর চারটা টেস্ট হেরেছেন। এবং চারটা ‘টস’ ও। পঞ্চম টেস্টে ‘টস’ করতে গিয়েছেন। ডন ব্র্যাডম্যান কয়েন টস করলেন। এর আগের চার টেস্টেই অমরনাথ ‘হেড’ বলেছিলেন। সাধারণতঃ তিনি ‘হেড’ ই ডাকেন। আর সেই সময়ের টেস্টে প্রথমে ব্যাট করাই সুবিধাজনক ভাবা হত। তাই টসে জেতা ছিল খুব জরুরী।
আগের চারবার ‘হেড’ ডেকে হেরে যেয়ে এবার ঠিক করলেন আর না। এবার ‘টেল’ ডাকবো। তাই করলেন, আওয়াজ খুব স্পষ্ট ছিল না। ব্র্যাডম্যান শুনতে পান নি। কয়েন তখন টস করা হয়ে গেছে। মাঠে কয়েন পরে আছে। ‘হেড’ এসেছে। এমন সময় ব্যাডম্যান জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কল কি ছিল? আমি শুনতে পাই নি। সুযোগটা লালা অমরনাথ নিতে পারতেন। কিন্তু তিনি নেন নি। স্বীকার করেছিলেন, এবার আমার কল ছিল ‘টেল’। ‘ট্রু স্পোর্টসম্যানশিপ’। খুব দরকার এ দেশের জন্য, সব রাজনৈতিক দলের জন্য।

৮ thoughts on “টস

  1. আসলেই চমৎকার…
    আগেই

    আসলেই চমৎকার… :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:
    আগেই ইস্টিশন মাস্টারকে অনুরোধ করেছিলাম খেলাধুলা একটা বিভাগ রাখার জন্যে!!

  2. আফনে মিয়া পারেন বটে । এক
    আফনে মিয়া পারেন বটে । এক শিরোনাম লইয়া হাজার জিনিস ঢুকাই দেন ওর মাঝে । কিন্তু শেষ মেষ সেই শিরোনাম থেকে যাই । :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  3. ভালো লাগার মতো একটা পোষ্ট এক
    ভালো লাগার মতো একটা পোষ্ট এক কথায় অসাধরন লাগলো আমার কাছে কারন ভিন্ন কিছুর মজা নিতে সবসময় ভালো ই লাগে …… :থাম্বসআপ:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *