পার্কস্ট্রিটের ধর্ষিতা সুজেট, স্যালুট তোমায়

“ধর্ষণ সমাজের লজ্জা, ধর্ষিতার নয়। এভাবে মুখ ঢেকে থাকব কেন? আমি ক্রিমিনাল নই তবু কেন মুখ ঢাকব? জঘন্য অপরাধের শিকার আমি। আমার মুখ ঝাপসা করবেন না। নাম, পরিচয় জানাতে লজ্জাবোধ করি না।”

কথাগুলো ভারতের সাহসি নারী সুজেটের। গতকাল মঙ্গলবার ভারতের এক টিভি চ্যানেলে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এইকথাগুলো বলেন।


“ধর্ষণ সমাজের লজ্জা, ধর্ষিতার নয়। এভাবে মুখ ঢেকে থাকব কেন? আমি ক্রিমিনাল নই তবু কেন মুখ ঢাকব? জঘন্য অপরাধের শিকার আমি। আমার মুখ ঝাপসা করবেন না। নাম, পরিচয় জানাতে লজ্জাবোধ করি না।”

কথাগুলো ভারতের সাহসি নারী সুজেটের। গতকাল মঙ্গলবার ভারতের এক টিভি চ্যানেলে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এইকথাগুলো বলেন।

গতবছর ৫ ফেব্রুয়ারি কোলকাতার পার্কস্ট্রিটে চলন্ত গাড়িতে নির্মম ধর্ষণের শিকার হন ভারতীয় এই তরুণি। যে পার্কস্ট্রিট চরম বিপর্য়ের দিকে তাঁকে ঠেলে দিয়েছিল, সেই গ্রাউন্ড জিরো থেকেই শুরু হল নতুন আত্ম নির্মাণ। এক নতুন লড়াই।

সমাজের প্রচলিত নিয়মের বিরুদ্ধে পদাঘাত হানলো মেয়েটি। ‘সংস্কার’ নামক সমাজে নারী নির্যাতনের আরেক হাতিয়ারকে লাত্থি মেরে দূরে ঠেলে দিয়ে টিভি চ্যানেলের সামনে আত্মপ্রকাশ করলো । ধর্ষনের মতো নিকৃষ্ট অপরাধ করে ধর্ষক সমাজে বুক ফুলিয়ে চলে, আর ধর্ষিতাকে লুকাতে হয় মুখ। এমন সমাজকে বৃদ্ধাংগুলি দেখিয়ে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করলো পার্কস্ট্রিটের সুজেট।

সাধারণ মানুষের অসাধারণ লড়াইয়ের কথা আমাদের প্রেরণা জোগায়। ২০১২ পাঁচই ফেব্রুয়ারি ধর্ষনের শিকার হয় সুজেট । ঘটনার পর তিনি এতটাই মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন, যে থানায় যাওয়ার কথাও ভাবেননি। আত্মীয়ের পরামর্শে অভিযোগ যখন জানাতে গেলেন, ততক্ষণে তিনদিন পেরিয়ে গিয়েছে। পানশালা থেকে বেরিয়ে গাড়ির ভিতর ধর্ষণ। তাই চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন দুই পুলিস অফিসার।

এরপর আরও বড় আঘাত। খোদ মুখ্যমন্ত্রী পার্কস্ট্রিটের ঘটনাকে সাজানো ঘটনা বললেন। তারপর থেকে ধেয়ে এসেছে একের পর এক বাক্যবাণ। ধর্ষণ যে হয়েছে, তা বলেছিলেন একজন। ব্যস। তারপরে ইনিও যুগ্ম কমিশনার অপরাধ থেকে বদলি হয়ে গেলেন বারাকপুরে ডিআইজি ট্রেনিং পদে। দময়ন্তী সেনের বদলির পর থেকেই অথৈ জলে পার্ক স্ট্রিট ধর্ষণ কাণ্ডের তদন্ত। ঘটনার পর একবছর পেরিয়ে গেলেও মূল অভিযুক্ত এখনও ফেরার।

মন্দ মেয়ের তকমা। আশপাশের লোকেদের ভুরু কোঁচকানো দৃষ্টি। লজ্জা, ভয়, আতঙ্ক আর সঙ্কোচ। সব মিলিয়ে এক দুর্বিষহ পরিস্থিতি। চাকরি খুইয়ে আর্থিক অভাব সেই সঙ্কটকে আরও তীব্র করে। কিন্তু দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে মা লড়াই ছাড়েনি। সম্প্রতি একটি চাকরিতেও যোগ দিয়েছেন সুজেট। তাও আবার নারী কল্যাণের কাজে। সুজেট জানিয়েছেন নিজের অভিজ্ঞতা থেকে অন্যান্য নির্যাতিতাদের সমস্যা উপলব্ধি করতে চান তিনি।

এতদিন সুজেটের ঝাপসা, ঘষা, ঘষা ছবি দেখা যেত। অস্পষ্ট এক অবয়ব, যার শুধু আউট লাইনটুকুই বোঝা যায়। কিন্তু আর কত! কামদুনির পরিত্যক্ত জমি লাগোয়া খালের ধারে কুড়ি বছরের এক তরুণীর দেহ উথালপাথাল করে দিল সুজেটের হৃদয়।

তখন এই ধর্ষনের প্রতিবাদে কামদুনি, গাইঘাটা, গেদে, সব ক্ষোভে ফুসছে। আর পারলেন না সুজেট। গৌতম বুদ্ধ বলেছিলেন, আত্মদীপ ভব। সুজেটও সেটাই করলেন। নিজেই নিজের প্রদীপ হলেন।

অন্তরালবর্তিনী থেকে আলোকবর্তিকা হয়ে ওঠার কাজটা মোটেই সহজ ছিল না। পোড়া বাংলায় মেয়েদের সম্মান আজ ধুলোয়। তাই সুজেট নিজেই নিজের ঝাপসা বর্ম ছিন্ন করলেন। এখন তিনি এক অনির্বাণ দীপশিখা। শ্রদ্ধা ও স্যালুট জানায় মেয়েটি । :salute:

সুজেটের সেই ঐতিহাসিক সাক্ষাৎকার
http://zeenews.india.com/bengali/videos/park-street-rape-victim_2375.html

তথ্যসুত্রঃ জি নিউজ

১৬ thoughts on “পার্কস্ট্রিটের ধর্ষিতা সুজেট, স্যালুট তোমায়

  1. পোড়া বাংলায় মেয়েদের সম্মান
    পোড়া বাংলায় মেয়েদের সম্মান আজ ধুলোয়।
    আরও কয়েকটি লাইন যোগ করি

    …পোড়া বাংলায় মেয়েদের সম্মান আজ ধুলোয়,
    ছেড়া বাংলায় মানবতা আজ চূলোয়!
    বাংলার বিবেক আজ নির্বাসনে,
    আর? আর? তথাকথিত
    সুশীলের সুবচন আজ শ্মশানে…

  2. পথপ্রদর্শক সুজেট তোমার প্রতি
    পথপ্রদর্শক সুজেট তোমার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা … :salute: :salute: :salute:

  3. জ্বলন্ত এক অনুপ্রেরনা ।
    জ্বলন্ত এক অনুপ্রেরনা । :salute: :salute: :salute: :salute:

    ধর্ষনের মতো নিকৃষ্ট অপরাধ করে ধর্ষক সমাজে বুক ফুলিয়ে চলে, আর ধর্ষিতাকে লুকাতে হয় মুখ

    এই কালচার থেকে বের হয়ে নারী সমাজ প্রতিবাদী হয়ে উঠলে ধর্ষণ প্রথা চিরতরে নির্মূল হওয়ার রাস্তা পরিস্কার ।

    1. তবে আমাদের সমাজের চিরাচরিত
      তবে আমাদের সমাজের চিরাচরিত ব্যার্থতা আইনের প্রয়োগ না হওয়া, এই কালচার থেকে সবার আগে বেরিয়ে আসা দরকার। ধর্ষক একটাকেও যদি ফাসিতে ঝুলানো যেত তাহলে এই প্রবনতা অনেক কমতো। কিন্তু হায়, আমাদের দেশের আইনই আমাদের সাথে উপহাস করে। ধর্ষনের পর হত্যা না হলে অপরাধীর ফাঁসি হবে না। কী হাস্যকর আর হতাশাজনক

  4. এই ঘটনা যখন ঘটে সেইসময়ে আমি
    এই ঘটনা যখন ঘটে সেইসময়ে আমি কলকাতাতেই ছিলাম। কি দিন কি রাত অধিকাংশ কলকাতার সংবাদ মাধ্যমগুলোর মূখ্য সংবাদ ছিলো এটি। সবচাইতে উল্লেখযোগ্য হলো স্টার নিউজ এতো পরিমাণ খেটেছে সুজেটের জন্য যা কিনা আসলেই প্রশংসনীয়। অথচ যেই স্টার নিউজই কিন্তু কলকাতার বর্তমান মূখ্যমন্ত্রীর পক্ষে নির্বাচনে সাফাই দিয়েছিলো সেই স্টার নিউজের বিরুদ্ধেই মূখ্যমন্ত্রী মুখ খুলেছিল। আরো তাজ্জবের ব্যাপার মমতা ম্যাডাম যখন বিরোধী দলীয় নেতা ছিলো তখন শুধু কলকাতা নয় বরং পশ্চিম বঙ্গের কোথাও ধর্ষণ হলেই সেখানে যে কোন রাজনৈতিক নেতার আগে মমতা ম্যাডাম পৌছে যেতো অথচ সুজেটের ঘটনাকে শুধু সাজানো বলেই ক্ষান্ত হয়নি মমতা ম্যাডাম বরং একই সময়ে এক আদিবাসী মহিলা ধর্ষিত হলে মমতা ম্যাডাম বলে উঠেন ঐ মহিলার দোষেই মহিলাটি ধর্ষিত হয়েছিল।

    সবশেষে এসে এটুকুই বলব সমগ্র ভারত ধর্ষণের বিরুদ্ধে যতটা সোচ্চার তার সিকিভাগও আমরা নই। যদি হতাম তাহলে আজ শুধু মানববন্ধন করে মুখের বুলি আউড়ে সংবাদ মাধ্যমে নিজেদের খোমা দেখিয়ে স্টার সেজে ঘরে বসে থাকতাম না।

    1. সুমিত ভাই,
      আজ আমাদের নারীরা

      সুমিত ভাই,
      আজ আমাদের নারীরা শুধু ধর্ষিত না!
      আমদের বিবেক আমাদের দেশপ্রেম আমাদের রাজনীতি আমাদের শিক্ষানীতি আমাদের অর্থনীতি আমাদের সমাজনীতি সবই আক্রান্ত আর কূপমণ্ডুকতায় ধর্ষিত…
      একটা আলোকিত দিনের অপেক্ষায়, তা আসবে দীর্ঘসংগ্রামের পথ ধরে!!
      আর আমি মনেকরি সেই সংগ্রামের শুরু হয়েছে ১৯৯১ সালে………

    2. মমতার কথা কী বলবো! ক্ষমতায়নের
      মমতার কথা কী বলবো! ক্ষমতায়নের যত উপরেই যাক না কেন এরা পুরুষতন্ত্রের দাসত্বই করে যাবে।
      যেমন আমাদের দেশে। প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেত্রী, স্পিকারের মত পদ আগলে থাকলেও ধর্ষনের মতো নিকৃষ্ট অপরাধের শাস্তি হয় না। আজব দেশে বসবাস করি!

  5. স্যালুট সুজেটকে। আমাদের
    স্যালুট সুজেটকে। আমাদের মিডিয়ার প্রতি একটা দাবী- ধর্ষকের ছবিসহ বিস্তারিত বিবরণ ফলাও করে প্রচার করুন, ধর্ষনের রগরগে বর্ননা নয়।

  6. দারুন এবং অসাধারন।
    নিঃসন্দেহে

    দারুন এবং অসাধারন।
    নিঃসন্দেহে তিনি স্যালুট পাবার যোগ্য…

    এ ধরনের চিন্তাধারাকে আমরা যত দ্রুত স্বাগতম জানাতে পারবো, পাশে দাঁড়াতে পারবো, তত দ্রুত ধর্ষণ নামক সামাজিক ব্যাধিটা দূর হবে…

  7. সুটেজের সাক্ষাতকারটি আজ
    সুটেজের সাক্ষাতকারটি আজ বিবিসি তে ও
    প্রচারিত হয়েছে । একথা নির্দিধায় বলা যায়
    হাজারো ধর্ষিতা নারীর আইডল হচ্ছে সুটেজ ।
    সুটেজের এই মনোবল, আত্মবিশ্বাস
    সত্যি আমাকে মুগ্ধ করেছে ।কিন্তু, এর একটু
    নিতিবাচক দিক ও আছে । আমাদের সংস্কৃতিতে আমাদের
    ধর্ষিতা মেয়েরা যদি সুটেজকে আইডল
    হেসেবে মেয়েরা দেখে বা আইডল হিসেবে নেয়
    তাহলে তারা ধর্ষন পরবর্তী বেচে থাকার
    অনুপ্রেরণা হয়তো পাবে কিন্তু
    সংস্কৃতিতে একটি অসভ্যতা হয়তো ঢুকে যাবে ধর্ষকরা বার বার পার পেয়ে যাবে আর
    ধর্ষিতারা চক্ষু লজ্জা হারিয়ে এক ভয়াবহ
    অসভ্যতা ডেকে আনবে ।অবশ্যই ধর্ষিতাদের
    বেচে থাকতে হবে, সুটেজকে আইডল
    হিসেবে নেয়া যেতে পারে কিন্তু তার
    আগে উচিত আইন করে, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করে ধর্ষন এবং ধর্ষনের
    চেষ্টাকে সমূলে নির্মুল করা ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *