বামধারা : রাজনীতি

এদেশে বামধারার রাজনীতি এখন অনেকটা ম্রীয়মান। ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনে সর্বোচ্চ সততার পরও দিন দিন এই ধারার রাজনীতি সংকুচিত হচ্ছে। পঞ্চাশ, ষাট বা সত্তর দশকে যে রাজনীতির হাত ধরে কৃষক- শ্রমিক ও মেহনতী মানুষ মুক্তির মন্দিরে পৌছাতে চেষ্টা করেছে, যে রাজনীতি সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে বেগবান করেছে; সেই রাজনীতি ও রাজনৈতিক কর্মীরা দিন দিন বিশেষ করে স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে এমন প্রচার প্রপাগান্ডার শিকার হয়েছে যা তাদের অস্তিত্বকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। অথচ সমাজ ব্যবস্থাপনার ভুল থেকে জন্ম নেওয়া সুবাধিবাদী মানুষের দ্বীচারীতা “যেমন মানুষ তেমন শাসক” উপহার দিয়ে গেছে ক্রমাগত।


এদেশে বামধারার রাজনীতি এখন অনেকটা ম্রীয়মান। ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনে সর্বোচ্চ সততার পরও দিন দিন এই ধারার রাজনীতি সংকুচিত হচ্ছে। পঞ্চাশ, ষাট বা সত্তর দশকে যে রাজনীতির হাত ধরে কৃষক- শ্রমিক ও মেহনতী মানুষ মুক্তির মন্দিরে পৌছাতে চেষ্টা করেছে, যে রাজনীতি সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে বেগবান করেছে; সেই রাজনীতি ও রাজনৈতিক কর্মীরা দিন দিন বিশেষ করে স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে এমন প্রচার প্রপাগান্ডার শিকার হয়েছে যা তাদের অস্তিত্বকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। অথচ সমাজ ব্যবস্থাপনার ভুল থেকে জন্ম নেওয়া সুবাধিবাদী মানুষের দ্বীচারীতা “যেমন মানুষ তেমন শাসক” উপহার দিয়ে গেছে ক্রমাগত।

পূর্বের ন্যায় একইরকম রাজনৈতিক কর্মপন্থা, মতাদর্শ, প্রচার-প্রচারণা থাকলেও লাল পতাকা তলে আশ্রয় নিতে মানুষের অনীহাকে বিভিন্ন জন নিজেদের মত করে ব্যাখ্যা করলেও “সুবিধাবাদী মানুষিকতা” ও “মলমূূত্র ছাড়া অন্য কিছুই ত্যাগ না করার আপোষহীন মনোভাব”কে আমি চিহ্নিত করি। ক্ষমতাকেন্দ্রীক রাজনীতি ছাত্র, শ্রমিক, শিক্ষক, পেশাজীবীদের আওয়ামী বা বিএনপিতে ঐক্যবদ্ধ করলেও, ধর্মের দেহাই দিয়ে রগ কেটে, খুন করে ভীত আতঙ্কিত করে আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠার মিছিল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হলেও, মানুষ- মানবতা-নৌতিকতা- জীবনবোধ-অহিংসার ঢাক দেওয়া বামপন্থিরা সঙ্গিহীন হয়েছে প্রতিদিন। ভন্ড, সহিংস, প্রতারক ও প্রতিবিপ্লবীদের পেছনে মানুষের ভিড় বলে দেয় কেমন মানুষিকতার মানুষে ভরপুর এই সমাজ।

রাজনীতি সচেতন মানুষের অসহোযোগীতা অসমর্থন, বিএনপির ডানদিকে ঝুকে যাওয়া, আওয়ামী লীগের আওয়ামী মুসলিম লীগে প্রত্যাবর্তন ইত্যাদি যে শংকর সমাজ বিনির্মান করছে সেই শংকর সমাজই সম্মিলিত ভাবে মানুষ মানবিকতা নৈতিকতা চর্চাকারীদের বিভিন্ন ভাবে দমিয়ে রাখার অপকৌশল চালু রেখেছে। সাম্রাজ্যবাদী-শোষক পুজিপতি বেনিয়াদের প্রতিপক্ষ ঐতিহাসিক ভাবেই সমাজতন্ত্র প্রসূত বামপন্থা ও এর কর্মীরা।

সব বিবেচনায় বামপন্থির বিকল্প হতে পারেন এই সত্যটা সাধারণ-অসাধারণ মানুষরা না জানলেও পূজিপতিরা ঠিকই জানেন। সেই আশংকা থেকে রাষ্ট্রের ধর্ম নিয়ে নিরেপেক্ষ থাকার মতবাদকে ধর্মহীনতা বলে গ্রাম থেকে গ্রামে, নগর থেকে নগরে, শহর থেকে শহরে চড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ধর্ম ব্যবসায়িরা ধর্মের ভিত্তিতে, ডানপন্থিরা আদর্শিক দ্বন্ধে এবং আওয়ামী পন্থিরা শুধুমাত্র নিজের আধিক্যতা বজায় রাখতেই বামপন্থা ও বামপন্থিদের উপর আঘাত করেছে। আঘাত কারীরা ভিন্ন ভিন্ন দলের হলেও তাদের আঘাতের লক্ষ্যবস্তু এক ও অভিন্ন। এই কাজে তারা এমন সমাজ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলে যেখানে শাসক পরিনত হয় শোষকে এবং ধর্ম হয়ে যায় নিপীড়নের হাতিয়ার।

ফলতঃ স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে বামপন্থী কর্মীদের যেমন অত্যাচারিত হতে হয়েছিল তেমনি অত্যাচারিত হতে হয়েছে সামরিক স্বৈরাচার ও অধুনার স্বৈরাচারী পোশাকের গনতান্ত্রিক জামানাতে। নাস্তিক ব্লগারদের বিচার দাবী করা হেফাজতের কমিউনিষ্ট পার্টি অফিসে দুবার আগুন দেওয়া শাসক/শোসক/পুজিবাদি/ধর্মান্দের ভীতির জায়গাকেই নির্দেশ করে মাত্র।

মনন মানবিকতা ও চিন্তার সাবলীলতায় বাম বন্ধুরা অনেকটা অগ্রসারমান। তাদের নিকট বুদ্ধিবৃত্তিক পরাজয় মুলধারার অনেককেই হীনমন্যতায় ডুবিয়ে দেয়। মাথামোটারা বুদ্ধি চর্চা থেকে পেশী চর্চাকে উত্তরনের কর্মপন্থা নির্ধারন করায় সমাজের অধপতন ত্বরান্বিত হচ্ছে। একমাত্র ভালোবাসার প্রতিযোগিতা, ভালোকে আরো ভাল দিয়া ছাড়িয়া যাওয়ার প্রচেষ্টাই পারে অবস্থার পরিবর্তন করতে। নতুবা হালুয়া রুটি শেষে বামদের দিকেই তাকিয়ে থাকতে হবেই অন্যায়ের প্রতিবাদের সূচনা দেখার জন্য।

১৫ thoughts on “বামধারা : রাজনীতি

  1. ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনে

    ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনে সর্বোচ্চ সততার পরও দিন দিন এই ধারার রাজনীতি সংকুচিত হচ্ছে।

    সহমত পোষণ করছি ।

  2. একটা পর্যায় পর্যন্ত এই দেশে
    একটা পর্যায় পর্যন্ত এই দেশে বাম এবং বাম-সমভাবাপন্নদের অবস্থান যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল।…কিন্তু সময়ের পট পরিবর্তনের সাথে সাথে তাদের স্থান তুচ্ছে থেকে তুচ্ছতর হয়ে যায়।…এর জন্য মূল কারন হচ্ছে সাধারন মানুষ থেকে তাদের বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া…নিজেদের মতের প্রতিষ্ঠা,অবাস্তব ভাবে সমাজ পরিবর্তনের কথা… ,ধর্মের বাড়াবাড়ি,এবং সর্বপরি পরগাছা হয়ে টিকে থাকার মানসিকতা তাদের দুর্বলতার মূখ্য কারন…তারপরেও আমাদের মত একটা দেশে বামদের যথেষ্ট সুযোগ আছে যদি তারা তাদের ভুলগুলো শোধরাতে শুরু করে…

  3. ১৯৭৫ পরবর্তী রাজাকারীকরনেই
    ১৯৭৫ পরবর্তী রাজাকারীকরনেই আমাদের সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির সর্বনাশটা হয়েছে…
    সহমত… ভাল লিখেছেন!!

  4. এদেশে বাম রাজনীতির মূল সমস্যা
    এদেশে বাম রাজনীতির মূল সমস্যা আমার কাছে মনে হয় – গনবিচ্ছিন্নতা। গণমানুষের জন্য রাজনীতি করে বলে তারা দাবী করে, অথচ গনমানুষের কাছে তারা নাস্তিক ছাড়া কিছুই না। ইটস ফ্যাক্ট। খুবই দুঃখজনক।

  5. আমার কাছে এখন বাম রাজনীতি মনে
    আমার কাছে এখন বাম রাজনীতি মনে হয় লক্ষ্যবিহীন। ছাত্র ইউনিয়নের সাথে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত এক ভাইকে জিজ্ঞেস করেছিলাম তাদের লক্ষ্য কি। কোনো সদুত্তর পাইনি। আরেকটি সমস্যা হলো ভাঙ্গন। স্বাধীনতার পর অনেক বাম রাজনীতিবিদরাই সুবিধালাভ বা ক্ষমতা লাভের আশায় আদর্শ বিসর্জন দিয়ে ডানদিকে ঝুকেছেন। দলগুলো হয়ে গেছে টুকরো টুকরো। বামপন্থী রাজনীতির মূল আদর্শ কি নাস্তিকতা? অথচ তৃনমূল পর্যায়ের অনেক ছাত্রনেতাকে দেখেছি সমাজে নিজেদের নাস্তিকতাটাই বামপন্থার আদর্শরূপে বেশি প্রচার করে। এইদেশে ‘আমি নাস্তিক’, এইটা প্রচার করে গনমানুষের সমর্থন আদায় করা অসম্ভব।
    একটা জিনিস ভাবতে অবাক লাগে, একটা সময় বামপন্থীরাই মাঠ কাঁপাতো, জনগনের দাবি নিয়ে মাঠে নামতো, এদের অনেকেই এখন আওয়ামী লীগ করে, বঙ্গবন্ধু যে কয়টি আদর্শ নিয়ে দেশ গড়তে চেয়েছিলেন তার একটি ছিলো ‘সমাজতন্ত্র’। অথচ উগ্র আওয়ামীলীগারগনের একদল মুখে ”বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারন করি” বলে ফেনা তুলে। আবার সমাজতান্ত্রিক আদর্শে বিশ্বাসী বামদের গালি দেয়।

  6. এই লেখাটা আবার পড়ার পর মনে
    এই লেখাটা আবার পড়ার পর মনে একটা প্রশ্ন জাগল। আপনি এতো চমৎকার পোস্ট লেখেন, কিন্তু মন্তব্যের বেলায় এমন কিপটুস ক্যান? :শয়তান:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *