‘টিকফা চুক্তি’–‘এনজয় ইট’

টিকফা চুক্তি নিয়ে বামপন্থীরা বেশ লাফালাফি শুরু করেছে। কোন কাজ হবে না জানে, তারপরও। তেল গ্যাস নিয়েও কিছুদিন ঘ্যান ঘ্যান করেছিল। ‘মানব বন্ধন’ ‘হরতাল’ করতে যেয়ে লাঠির বাড়িও খেয়েছে। পত্র পত্রিকায় লেখালেখি, টক শো তে প্যাচাল, কি করেনি। পরিণতি? তারপরও এদের সখ মেটেনা। না আছে নিজেদের শক্তি, না আছে একতা। পারে তো শুধু দুইদিন পরে পরে দল ভাঙতে। জনগণের কাছে যে এঁরা হাস্যস্পদ একটা প্রজাতি, একথা এঁরা নিজেরাও বোঝে না। বোঝার মত ঘিলু আছে, তাও মনে হয় না।

টিকফা চুক্তি নিয়ে বামপন্থীরা বেশ লাফালাফি শুরু করেছে। কোন কাজ হবে না জানে, তারপরও। তেল গ্যাস নিয়েও কিছুদিন ঘ্যান ঘ্যান করেছিল। ‘মানব বন্ধন’ ‘হরতাল’ করতে যেয়ে লাঠির বাড়িও খেয়েছে। পত্র পত্রিকায় লেখালেখি, টক শো তে প্যাচাল, কি করেনি। পরিণতি? তারপরও এদের সখ মেটেনা। না আছে নিজেদের শক্তি, না আছে একতা। পারে তো শুধু দুইদিন পরে পরে দল ভাঙতে। জনগণের কাছে যে এঁরা হাস্যস্পদ একটা প্রজাতি, একথা এঁরা নিজেরাও বোঝে না। বোঝার মত ঘিলু আছে, তাও মনে হয় না।
এদের আরও একটা বিদঘুটে ধারণা আছে। এঁরা মনে করে বাংলাদেশটা ‘সার্বভৌম’ একটা দেশ। এদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় যারা থাকে তাঁরা সব সিদ্ধান্ত নিজেরা নেয়। যেসব আন্তর্জাতিক চুক্তি হয়, তা ঠিক করে এদেশের মন্ত্রীপরিষদ। কোন দুনিয়ায় থাকে এঁরা? নির্বাচনের আগে এদেশের নেতারা যে বিদেশী দুতাবাসে যাওয়া আসা শুরু করে, তা কি এমনিই করে? বিদেশে যেয়ে যে এদেশের নেতারা নালিশ দিয়ে আসে, তা কেন দেয়? বিদেশী নেতাদের সঙ্গে একান্ত বৈঠকে কি দেশ নিয়ে আলোচনা করে?
শুধু এদেশের কথা কেন বলছি, তৃতীয় বিশ্বের কোন দেশটা ‘সার্বভৌম’? আছে কারো ক্ষমতা আমেরিকার বিরুদ্ধে কথা বলার? আমেরিকা কোন কিছু চাইবে আর কেউ দিবে না, এমন ক্ষমতা কার আছে? হয় সোজাসুজি দিবে নইলে আফগানিস্তান কিংবা ইরাক স্টাইলে নেবে। হয় নিজে আক্রমণ করবে নইলে জাতিসংঘের ঘাড়ে চড়ে করবে। ইচ্ছে হলে ‘অবরোধ’ দিবে, ইচ্ছে হলে ‘নো ফ্লাই জোন’ দিবে। কিছুদিন থেকে শখ চেপেছে আমাদের সবার চিঠি পড়ার। ‘অ্যাপল’ ‘ইয়াহু’ ‘গুগল’ সবাইকে বলে দিল, ‘তোমাদের সার্ভারে ঢুকতে চাই’। ‘জী হুজুর, তাই হবে’ বলে সবাই রাজী হয়ে গেল। কার ঘাড়ে কয়টা মাথা।
আর এসব করার জন্য খুব ভালো একটা ফর্মুলা পেয়েছে। ‘টেরোরিজম’। এই যুক্তির বিরোধিতা করেছেন কি আপনিও হয়ে যাবেন ‘টেরোরিস্ট’। ‘হয় তুমি আমার সাথে নয় ওদের সাথে’। ফলে ওদের যা চাই, তাই দিতে আপনি বাধ্য। নইলে হঠাৎ একদিন আবিস্কার হবে বাংলাদেশে প্রচুর ‘টেরোরিস্ট’ আনাচে কানাচে লুকিয়ে আছে। আফগানিস্তান থেকে ট্রেনিং ও নিয়ে এসেছে। যে কোন সময় এঁরা আমেরিকা আক্রমণ করতে পারে। অতএব, ‘অ্যাকশান’।
কিছুদিন আগে ‘ইউটিউব’ খুলে দিতে হয়েছে। যে কারণে বন্ধ করা হয়েছে, তাঁর কোন সুরাহা ‘ইউটিউব’ করে নি। সেই ‘ভিডিও’ তাঁরা সরায় নি। আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, ‘আমাদের মুরোদ’। আমাদের মত দেশের লোকজন ইউটিউব না দেখলে ওদের কিছু যায় আসে না। কাজটা অবশ্য করা হয়েছিল কিছু ছাগলের ভ্যা ভ্যা থামানোর জন্য, সেদিক দিয়ে চিন্তা করলে কাজটা সার্থক হয়েছে। ভ্যা ভ্যা শুধু থামে নি, ইউটিউব খুলে দেয়ার পরও কোন আন্দোলন আর নেই।
‘টিকফা’ র যে কয়টি ব্যাপার নিয়ে ঘ্যান ঘ্যান হচ্ছে তাঁর একটি মেধাস্বত্ব। এই ব্যাপারটা আজ হোক কাল হোক আমাদের মেনে নিতেই হবে। ‘টিকফা’র কবলে পরে মানি আর ‘ডাবলু টি ও’ র শর্তের কারণে মানি। সোজাসুজি মানলে বিদেশী ঋণ পাব, না মানলে পাবো না। মোদ্দা কথা, যেদিন আমেরিকা সিদ্ধান্ত নেবে আমাদের আরও একটু বেশী ছিবড়ে করে খাবে, সেদিন তাঁরা খাবেই। একে একে সব কিছুর পেটেন্ট তাঁরা নিজ নামে করতে শুরু করে দিয়েছে। ‘জেনেটিক্যালি মডিফাইড’ ফুড এর বীজ আপাততঃ সস্তায় দিচ্ছে। আমরাও ‘বীজধান’ রাখার সিস্টেম থেকে ‘বীজ কেনা’ সিস্টেমে চলে যাচ্ছি। একসময় আমরা এর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়লে, তখন আসল প্ল্যান চালু করবে।
ওদের জন্য কাজটা আরও সহজ হয়ে গেছে কারণ আসলে এদেশকে বিক্রি করতে আমরা অনেকেই রাজী। রাজনৈতিক নেতারাও বুঝে গেছেন, তাঁরা যে যত কম দামে বিক্রি করতে রাজী হবে, প্রভুরা তাঁকে সরকারে বসাতে তত বেশী আগ্রহী হবে। সেই সরকারের কোন দোষ তাঁদের চোখে পড়বে না। তাঁর বিরুদ্ধে মানবাধিকার কর্মীরাও কিছু বলবে না কিংবা বললেও আমেরিকা তাতে কর্ণপাত করবে না। সেই দেশের নির্বাচনে কারচুপি হলেও তাঁরা দেখতে পাবে না। সে দেশে ‘কু’ হলেও তা হবে দেশের স্বার্থে।
‘ইউটিউব’ এর সঙ্গে ঝগড়ায় যাওয়ার আগে নিজেরা কেন একটা বিকল্প তৈরি করছি না। প্রয়োজনীয় সব ভিডিও দিয়ে ভরপুর আমাদের নিজস্ব একটা বিকল্প তৈরির মেধা কি নেই? আছে। কিন্তু তা করতে পরিশ্রম করতে হবে। একটা নেতৃত্ব চাই, যার একটা ভিসন থাকবে। যে ভবিষ্যৎ দেখতে পাবে। আজ থেকে দশ বছর পরে কি হতে যাচ্ছে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। এই মেধা যাদের আছে তাঁদের অনেকেই এখন ঐসব দেশে বসে ‘ওবামা’ কে ‘আমাদের প্রেসিডেন্ট’ বলছে।
দেশ বিক্রির আরও একটা সুবিধাজনক উপায় আছে। কিছুদিন পরে পরে ‘ওমরাহ্‌’ করার নাম করে সৌদি কিংবা পরোক্ষে আমেরিকার আশীর্বাদ আনতে যাওয়া। ইদানীং শুরু হয়েছে চিকিৎসার নাম করে সিঙ্গাপুর যাওয়া। নির্বাচন এর সময় ঘনিয়ে আসলে এর সঙ্গে যোগ হবে রাষ্ট্রদূত দের বাসায় ‘চা’ কিংবা ‘ডিনার’ খাওয়া। আর খেতে না দিলে ‘সৌজন্য’ সাক্ষাৎ বলে অভিমান প্রকাশ করা হয়।
এ কাজগুলো লুকিয়ে চুরিয়ে করার দরকার কি? ‘টিকফা’ এর শর্ত গুলো প্রকাশ করলেই বা আমাদের কি করার আছে? ভোট তো এই দুই দলকেই দিতে হবে। আর দুইজনই তো দেশ বিক্রি করতে রাজী। কেউ কম করবে আর কেউ বেশী এমনও তো না। বিনিময়ে শুধু একটাই আবদার করবে, ‘আমাকে ক্ষমতায় বসাতে হবে’। সে আবদার তো আপনারা দুজন জানিয়েই দিয়েছেন। এখন অপেক্ষা করুন কার দিকে মুখ তুলে তাকায়।
আর আমরা? আমাদের জন্য একটা উক্তি উনারা আবিস্কার করেছেন। ‘হোয়েন রেপ ইস ইনেভিটেবল, এনজয় ইট’। আমরা তো জানিই আমাদের কপালে কি লেখা আছে। ঘ্যান ঘ্যানে আন্দোলন না করে বরং এনজয় করার চেষ্টা করলে কেমন হয়?

১২ thoughts on “‘টিকফা চুক্তি’–‘এনজয় ইট’

  1. রয়ে সয়ে কন একটু ভাই !! নিরস
    রয়ে সয়ে কন একটু ভাই !! নিরস কেন আপ্নে এত !!! 😀 সত্য কথা কইতে গেলেও রস ঢাইলা রসগোল্লা বানাইয়া কইবেন । :হাসি:
    বায় দা ওয়ে পোস্ট ভাল্লাগছে কিন্তু !!!!! :চশমুদ্দিন: :চশমুদ্দিন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *