হোক কলঙ্কের মুক্তি

২০০৫ বা ০৬ সাল। সময় সকাল ১১ টা। ঢাকার একটা নামকরা সরকারি কলেজএর সামনে টঙ এ বসে চা খাচ্ছিলাম। একটা ব্যাপার নজর কাড়ল। একটা ছেলে রাস্তার মাঝখানে দারিয়ে বাস ড্রাইভার এর সাথে কিছু একটা নিয়ে বাহাছ করছে। কাছে এগিয়ে জানলাম সে আরও একটু আগে নামতে চেয়েছিল, ড্রাইভার দাড়ায়নি, প্রতিবাদ করাতে হেল্পার তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে। ওর চেহারা, চাল চলন দেখে আমার অভিজ্ঞতা বলে ছেলেটা সাধারন অর্থাৎ কোন রাজনৈতিক দলের সমর্থক বা হোমরা চমরা ঘরের নয়। তার চোখ ছলছল করছিল। এমন সময়ে দৃশ্যপটে RAB এর আগমন। ওই সময়টা RAB এর IMAGE অনেক গরম গরম। গাড়ি থেকে অফিসার নেমে আলেন আর কিছু জিজ্ঞেস না করেই ছেলে টাকে একটা চর কশালেন। আমি কয়েক মুহূর্তে দৃশ্যপট বদলাতে দেখলাম। মৌমাছির মতো ছাত্ররা ক্যম্পাস থেকে ছুটে এলো। ইট পাটকেল গালাগালির পরে তারা আগুন ধরিয়ে দিল RAB এর টহল গাড়িটিতে। RAB তখন আমার মত দর্শক। এতগুলো ছেলেমেয়ের সামনে, টকবগে তারুণ্যর সামনে “গরম গরম IMAGE” টা টিকল না।

আগুনের সিদ্ধান্ত টা হয়ত ভুলই ছিল। কিন্তু ইতিহাস বলে তারুণ্য যতবার ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে ততবারই কিছু অর্জন করেছে। ৫২ এর ১৯-২০ তারিখের দিকে বড় বড় নেতারা যখন ১৪৪ ধারা আর সরকারের নিশেথাজ্ঞার ভয়ে রাজপথে না নামার সিদ্ধান্ত নিলেন সে সময়ে ২০ তারিখ রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সলিমুল্লাহ হলের পুকুর পাড়ে বসে এই তারুণ্যই নিল একটা ভুল সিদ্ধান্ত। ২১ তারিখে তারা ১৪৪ ধারা ভাঙল। প্রান গেল রফিক, বরকতের। কিন্তু ভুল সিদ্ধান্তই এনে দিল একটা ভাষা, এনে দিল একটা পরিচয়।

মনে প্রানে অন্তরে বিশ্বাস করি ইমরান সরকার, এস এ অরণ্য , লাকিরা ৫ তারিখে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কয়েকটা বুড়ো গাধা, যারা কদিন পর হয়ত বারধক্কের চাপেই মরে যাবে তাদের ফাঁশির দাবিতে নিজের জীবন বাজী রেখেছে, বঞ্চিত করছে তাদের সন্তান, পিতামাতা, জায়াদের। সাকিব তুষ্টি, রিয়েল ওরাও ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তৈরি করেছে ফাঁশির মঞ্চ। নিরঘুম রাত পার করেছে।

আরও মনে প্রানে অন্তরে বিশ্বাস করি এই ভুল সিদ্ধান্ত এবারও ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করুক। মুছে ফেলুক সব অন্ধকার। আলোয় আলোয় ভরিয়ে তুলুক। হোক কলঙ্কের মুক্তি।

৬ thoughts on “হোক কলঙ্কের মুক্তি

  1. সত্যিইতো.…ইতিহাস সাক্ষী আছে
    সত্যিইতো.…ইতিহাস সাক্ষী আছে যতবার তারুন্য ডাক দিয়েছে ততবারই জোয়াড় এসেছে.…আর ততবারই ভেসেছে নষ্ট স্থবির বাঁধ.…ইতিহাস হয়েছে নির্বাক…থমকে দাঁড়িয়েছে সময়…

  2. চমৎকার বলেছেন। কিন্তু আফসোস
    চমৎকার বলেছেন। কিন্তু আফসোস হচ্ছে বুড়ো ধামরাদের সাথে এবার যুক্ত হয়েছে কিছু ধান্দাবাজ নষ্ট তরুণ। যারা শাহবাগের মঞ্চ থেকে ফায়দা উঠিয়ে নিয়ে এখন আওয়ামী লীগের ভরাডুবির জন্য দোষারোপ করছে তারুন্যের এই জোয়ারকে। আশা করি এরা খড়কুটোর মতো ভেসে যাবে “ভুল” সিদ্ধান্ত নেওয়া তারুন্যের জোয়ারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *