আমাদের সভ্য হতে অনেক দেরি হচ্ছে। এটা সবাই এখন জীবন দিয়ে উপলব্ধি করছেন।

এ কথা এখন আর নিশ্চিত নয় যে, নির্বাচন সুষ্ঠু হলেই সব সময় যোগ্য প্রার্থী জয়ী হবেন। এর জন্য দরকার সভ্য নির্বাচন। কারণ যেকোনো সভ্য জাতির নির্বাচনে শান্তি যেমন থাকবে, তেমনি যোগ্য প্রার্থীরাও জয়ী হবেন। আমাদের অবকাঠামো নির্বাচন সুষ্ঠু করতে পেরেছে। কিন্তু সভ্য করতে হলে দায়িত্ব সাধারণ ভোটারদের নিতে হবে। পাশ কাটাতে হবে দুষ্ট প্রার্থীর অপকৌশল। ভোট দেয়ার প্রার্থী চিহ্নিত করতে হবে খুব সাবধানে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অপপ্রচার ছাড়াও আরো কিছু অপসংস্কৃতি আছে, যেগুলো আমাদের নির্বাচনী সভ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। যেমন- নিজের পাড়ার লোককে ভোট দিতে হবে, তা তিনি যোগ্য হন বা অযোগ্য। একইভাবে ভোট দিতে চান নিজের গোত্রের মানুষকেও। এ-জাতীয় সংস্কৃতির কারণে দিনের পর দিন বড় এলাকার অযোগ্য প্রার্থী নির্বাচিত হন। ছোট এলাকার যোগ্য প্রার্থী রয়ে যান আলোচনার বাইরে। এখান থেকে বের হওয়ার জন্যও ভোটারদের ভূমিকাই হবে প্রধান। আসলে, গণতন্ত্রেরই এই নিয়ম। ভোটারের দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি। এটি গণতন্ত্রের সবচেয়ে ভালো দিক। কারণ, বেশির ভাগ ভোটার যা চাইবেন, তা-ই হবে। বেশির ভাগ মানুষের সিদ্ধান্ত প্রাধান্য পাওয়ার দুর্বল দিকও আছে। সিদ্ধান্ত যদি ভুল হয়, তা্হলে এর খেসারত ভোটারদেরই দিতে হয়। আর এটা যদি স্থানীয় সরকার নির্বাচন হয়, তাহলে বিপদ আরো বেশি। কারণ, ভুল প্রার্থী নির্বাচন করার কারণে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হন ভোটাররা। ধরা যাক, কোনো এলাকায় অপকৌশল করে জয়ী হলেন কোনো মিথ্যাবাদী প্রার্থী। অন্তত পাঁচ বছর ওই মিথ্যাবাদীর কাছ থেকে প্রত্যয়নপত্র নিতে হবে এলাকার প্রতিটি তরুণকে। ওই মিথ্যাবাদীই চিহ্নিত করবেন মানুষের জীবনাচরণের ভালো-মন্দ। আমি অবশ্য হতাশ নই। এখনো বিশ্বাস করি, নিশ্চয়ই আমাদের ভোটাররা ভোট দেয়া শুরু করবেন অঙ্ক কষে। ধরতে পারবেন সব অপপ্রচার। ভোট দেয়ার আগে প্রার্থীদের অতীত নিয়ে বসবেন এবং বর্তমানের সঙ্গে মিলিয়ে ভোট দেবেন। নির্বাচন স্থানীয় সরকারের হলে প্রার্থীর যোগ্যতা বিচার করবেন স্থানীয় মানদণ্ডে। আর সেটা যদি এই সিটি নির্বাচন থেকে শুরু হয়, অবাক হব না। কারণ, আমাদের সভ্য হতে অনেক দেরি হচ্ছে। এটা সবাই জীবন দিয়ে উপলব্ধি করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *