শুধুই অবাস্তব তবুও এমন

ঘরে দুইদিন ধরে বাতি জ্বলেনা। বাহির বাড়িতে বাতি জ্বালানো বাধ্যতামূলক না হলে সেটা খুলে এনে ঘরে লাগানো যেত। জানালা খুলে দিলে কিছু আলো আসে তাতেই চলে যাচ্ছে। খাবার সময় দোয়াত ধরাতে হয়, যত তাড়াহুড়ো করে খাওয়া যায় সেটাই করে যাচ্ছেন রশীদ।

এই গ্রামের যিনি সর্বময় কর্তা তার নির্দেশে রশীদকে একঘরে করা হয়েছে। সারাদিন টিনের বেড়া দেয়া বাড়ির উঠোনে বসে, শুয়ে সময় পার করতে হয়। সদর দরজায় তালা লাগানো। দুইদিন ধরে এই অবস্থা। ঘরে বাজার আজ শেষ হয়ে যাবে। এখন অনেক রাত। জোনাকিরা উড়ে বেড়াচ্ছে চারিদিক। ঘরে পাখা নেই, গরমে বিছানা ঘামে ভিজে যায় একটু শুয়ে থাকলেই।


ঘরে দুইদিন ধরে বাতি জ্বলেনা। বাহির বাড়িতে বাতি জ্বালানো বাধ্যতামূলক না হলে সেটা খুলে এনে ঘরে লাগানো যেত। জানালা খুলে দিলে কিছু আলো আসে তাতেই চলে যাচ্ছে। খাবার সময় দোয়াত ধরাতে হয়, যত তাড়াহুড়ো করে খাওয়া যায় সেটাই করে যাচ্ছেন রশীদ।

এই গ্রামের যিনি সর্বময় কর্তা তার নির্দেশে রশীদকে একঘরে করা হয়েছে। সারাদিন টিনের বেড়া দেয়া বাড়ির উঠোনে বসে, শুয়ে সময় পার করতে হয়। সদর দরজায় তালা লাগানো। দুইদিন ধরে এই অবস্থা। ঘরে বাজার আজ শেষ হয়ে যাবে। এখন অনেক রাত। জোনাকিরা উড়ে বেড়াচ্ছে চারিদিক। ঘরে পাখা নেই, গরমে বিছানা ঘামে ভিজে যায় একটু শুয়ে থাকলেই।

গ্রামের শেষ মাথায় একটা নদী আছে। নদীর পাড় ঘেষে আখের ক্ষেত ছিল রশীদের, সেখানে টং পেতে থাকত আর ক্ষেত পাহারা দিতো। একদিন মাঝরাতে খুব আলো জ্বলে উঠে টং ঘরে। ঘুমের মাঝে রশীদ টের পায় কেউ ওকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে আছে। উঠেই ঝলমল করা রংবেরং বাতি দেখে ও ভাবে স্বপ্ন দেখছে কিন্তু না ওকে ঘিরে আছে একটা নারী। ভয় পেয়ে নিচে নামতে গিয়ে চোখ ধাধিয়ে যায় ওর। কোথাও কোন ক্ষেত নেই, নদীটা অনেক দূরে সরে গেছে। পেছন থেকে নরম একটা হাত ওকে জড়িয়ে ধরে। কতদিন পর রশীদের ঘুম ভেঙেছিল সে তা জানেনা।

বাদামি সামিয়ানা টাঙানো হয়েছে উচু করে। একটা মাঠের মাঝখানে গোল মঞ্চ। চারিদিকে খড় বিছিয়ে দেয়া হয়েছে মানুষজন বসবার জন্য। রাত এগারোটার দিকে লোকে লোকারণ্য হয়ে যায় মাঠটি। রশীদ একা মঞ্চে উঠে। সাদা ফতুয়া ও লাল সুতোর সিল্কের প্যান্ট পরা রশীদকে জোকারের মত লাগছে। সবাই হাতে তালি দিচ্ছে। মাইক হাতে একা নাটকের সংলাপ বলতে থাকে।
ভোর পর্যন্ত একটা মানুষ কোন কথা না বলে রশীদের বকবকানি শুনে যায়। আযান দিলে রশীদ নামে মঞ্চ হতে। সবাই খুব খুসী। এলাকায় এমন একজন বুদ্ধিমান ও জ্ঞানী বক্তা আছে এটা সবাই পুরো খবর রটে যায় জেলার প্রত্যেকটি থানায়। রশীদের বাড়িতে দিনের পর দিন অচেনা মানুষ আসতে থাকে ওকে একনজর দেখার জন্য

ঢাকা শহর থেকে কয়েকটা গাড়ি এসে থামে গ্রামের স্কুলমাঠে। সাদা চামড়ার একজন বিদেশী মহিলা কয়েকজন ভার্সিটি পড়ুয়া ছেলেমেয়ে। এরা রশীদকে খুজতে এসেছেন। গ্রামের বাচ্চাকাচ্চার গাড়ি দেখে ভিড় জমিয়েছে। চারপাশে যারা ছিল তারাও ভিড়ের চারিদিকে জমে গেল।

ঘটনার পরিশিষ্টে এই বিদেশী মেহমানদের ডাকা হলো চেয়ারম্যানের বাড়িতে। রশীদ আসলে সবাই যার যার দিকে চোখ চাওয়াচাওয়ি করতে লাগলো। রশীদ কিছুই জানেনা যেন এমন ভাব করছে। কিছুতেই সে শহরে যেতে রাজি নয়। সে কোন অভিনয় জানেনা, কোন বক্তৃতা দেয়ার ক্ষমতা তার নেই। রশীদ রাগ করে বাড়ি চলে গেল, চলে গেলেন অতিথিরা। একঘরে করা হল রশীদের উদ্ধত আচরণের জন্য।

খাওয়া দাওয়া সেরে রশীদ কিছুক্ষণ বিছানায় বসে থাকে, গরমে তার প্রাণ চলে যায়। আলোকিত সেই বর্ণালী আসছেনা। জানালার বাইরে জোনাক জ্বলছে। দরজা খুলে কিছুক্ষণ উঠানে পায়চারি করতে থাকে রশীদ। হঠাত করে মাঝরাত হয়ে যায়, ঘরের ভেতর আলো জ্বলে উঠে। রংধনুর সাত রং ঘরের দেয়ালে শোষিত হয়। সে ঘরে প্রবেশ করে, দরজাটা নিজে থেকে বন্ধ হয়ে যায়।

৬ thoughts on “শুধুই অবাস্তব তবুও এমন

    1. আমি নিজেও কিছু বুঝিনি, কিছু
      আমি নিজেও কিছু বুঝিনি, কিছু একটা লিখতে চেয়েছিলাম এর ভেতর দিয়ে কিন্তু হয়নি

  1. অনেক দিন পর লিখলেন! খারাপ না।
    অনেক দিন পর লিখলেন! খারাপ না। গল্পের প্রধান জিনিস কিন্তু টুইস্ট। এটা আনতে হবে কৌশলে। আপনি অবশ্য আগে বেশ কয়েকটা ভাল গল্প লিখেছেন অন্য একটা ব্লগে। পরেরটার জন্য অপেক্ষায় থাকলাম।

    1. অনেকদিন পর, লিখতে না লিখতে
      অনেকদিন পর, লিখতে না লিখতে ভুলে গেছি কিভাবে লিখতাম, বেশি সময় লিখিনা তাই এটাকে ঠিক হয়ত ফুটিয়ে তুলতে পারিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *