‘এরপরে কি?—সমঝোতা?’

অ্যানালাইসিস শুরু হয়ে গেছে। কেন এই বিপর্যয়? পত্র পত্রিকা এখন সয়লাব ‘কারণ দর্শানো’ নোটিশে। প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গেছে কে কত নতুন জাতের কারণ এনে হাজির করতে পারে। কে কখন কি ‘হিন্টস’ দিয়েছিল ‘এমন হতে পারে’, তা বলে নিজের বুৎপত্তির পরিচয় দিচ্ছে। জ্যোতিষ, পাথর বিক্রেতা, হস্তরেখা বিশারদদের লেখালেখি খুব একটা চোখে পরে নি। তবে অনেক পত্রিকারই ভাষা পাল্টাতে শুরু করেছে। প্রখর ঘ্রান শক্তির অধিকারী রা কিছু পূর্বেই কাজটা শুরু করে দিয়েছিলেন। বাকীরা অতি শীঘ্রই শুরু করবেন।

অ্যানালাইসিস শুরু হয়ে গেছে। কেন এই বিপর্যয়? পত্র পত্রিকা এখন সয়লাব ‘কারণ দর্শানো’ নোটিশে। প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গেছে কে কত নতুন জাতের কারণ এনে হাজির করতে পারে। কে কখন কি ‘হিন্টস’ দিয়েছিল ‘এমন হতে পারে’, তা বলে নিজের বুৎপত্তির পরিচয় দিচ্ছে। জ্যোতিষ, পাথর বিক্রেতা, হস্তরেখা বিশারদদের লেখালেখি খুব একটা চোখে পরে নি। তবে অনেক পত্রিকারই ভাষা পাল্টাতে শুরু করেছে। প্রখর ঘ্রান শক্তির অধিকারী রা কিছু পূর্বেই কাজটা শুরু করে দিয়েছিলেন। বাকীরা অতি শীঘ্রই শুরু করবেন।
কারণ দর্শানোর ক্ষেত্রে কিছু আছেন ছদ্ম আওয়ামী স্তাবক গ্রুপ। ‘দারুণ রকমের মৃদু’ কারণ দেখাচ্ছেন। কিংবা ইতিহাস ঘাটাঘাটি শুরু করেছেন। বাহাত্তর থেকেই একদল লোক আওয়ামী লীগ কে ব্যর্থ করতে চেয়েছে। এ তাদেরই কুকীর্তি। কেউ আবার অত পেছনে না যেয়ে গত সাড়ে চার বছরেই সীমাবদ্ধ থাকছেন। কি এমন করেছে যার ফল ভোগ করতে হল? অনেকে কারণ খুঁজে না পেয়ে বরং একটা ষড়যন্ত্রের গন্ধ খুঁজে পাচ্ছেন। অচিরেই হয়তো হেফাজত, বিদেশী শক্তি এমন সব তত্ত্বের দেখা পাওয়া যাবে। মৃদু কণ্ঠে আরও একটা কথা বলার চেষ্টা হচ্ছে, ‘টাকার খেলা হয়েছে’।
নেত্রীর চারপাশের স্তাবকদের অবস্থা এখন কেমন, জানিনা। এই পরাজয়ের খুব নমনীয় কারণের নিরবিচ্ছিন্ন যোগান দিতে হয়তো তারা গুগল করছেন। ‘অপেক্ষাকৃত অভিজ্ঞ নেতৃত্বকে দূরে সরিয়ে রাখা’, ‘নতুন, অনভিজ্ঞ নেতৃত্ব তৈরির চেষ্টা’, ‘দলীয় অন্তর্কলহ’ এমন সব নরম ব্যাপারকে কারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা হয়তো হচ্ছে। শেয়ার বাজার, আবুল হোসেন, পদ্মা সেতু, ছাত্রলীগ এসবকে কারণ হিসেবে দেখালে নেত্রী গোস্যা হতে পারেন। একথা ভেবে হয়তো বুদ্ধিমান কোন নেতা এই কথাগুলো বলছেন না। আপাততঃ তাঁরা নির্বাচনের সুষ্ঠুতার জয়গান করছেন।
তবে বেকুব কিসিমের কিছু নেতা মনের ভুলে ‘আত্মসমালোচনা’ হয়তো করে ফেলতে পারেন। একজন ‘অশনি সংকেত’ ধাঁচের বক্তব্য দিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত বক্তব্যের সারাংশ ‘এই সরকারের আমলেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব’ এই রেকর্ড টা এখনও আরও কিছুদিন চালু রাখা হবে। অর্থাৎ তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে গোঁয়ার্তুমি আরও কিছুদিন চলবে বলেই মনে হচ্ছে। যদিও বিরোধী দল এই কথা কানে তুলছে না, তারপরও একই রেকর্ড বাজিয়ে চলছে সরকারী দল। তবে সরকারকেও পরবর্তী পদক্ষেপ খুবই দ্রুত ঠিক করতে হবে। তত্ত্বাবধায়ক প্রশ্নে ‘ইউ টার্ন’? না এখনও ‘গোঁয়ার্তুমি’?
প্রধানমন্ত্রীর সভাসদ এবং কাছের মানুষদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য সম্ভবতঃ ‘মোক্ষম দেয়াল রচনা’। দেশে কি হচ্ছে, দেশের মানুষ এই সরকার সম্পর্কে কি ভাবছে এসব তথ্যকে আড়াল করে রাখতে এঁরা বেশ পারদর্শী। বিভিন্ন ভাবে যতই বোঝানোর চেষ্টা হোক, ‘তত্ত্বাবধায়ক’ প্রশ্নে দেশের মানুষের মত, সরকারের মতের সঙ্গে মেলে না, তারপরও বিভিন্ন যুক্তি, গত সাড়ে চার বছরের বিভিন্ন নির্বাচনের উদাহরণ, ‘প্রতিটি গনতান্ত্রিক দেশ’ ফর্মুলা দিয়ে তাঁরা এখনও অনড় রয়েছে এই অবস্থানে।
ওদিকে বিরোধী দলের কর্মপন্থা এখনও স্পষ্ট না। জয়ে আনন্দিত, তবে এই জয়কে সুষ্ঠু নির্বাচনের তকমা দিতে রাজী না। ‘জনগণের বিজয়’ পর্যন্ত বলতে আপত্তি নেই। ‘কারচুপির ইচ্ছে ছিল কিন্তু ভয়ে করে নি’ এমন একটা বক্তব্য প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে। তবে এটাও ঠিক, যা করবার খুব দ্রুত করতে হবে। তত্ত্বাবধয়ায়ক সরকার নিয়ে আন্দোলন করবে কি না? আর সে আন্দোলনের পরেও সরকার রাজী না হলে, পরবর্তী নির্বাচনে যাবে কি না? এখন সবাই উন্মুখ হয়ে আছে এই দুটো প্রশ্নের উত্তরের জন্য।
সরকারী মহলের একাংশ হয়তো বুঝতে পেরেছেন, পায়ের নীচে মাটি বেশ নড়বড়ে। যেভাবে বিরোধী দলকে আর জামায়াতের নেতাদের গ্রেফতার আর পিটিয়েছি ওরা ক্ষমতায় আসলে গুণে গুণে প্রতিশোধ নিবে। তাই আরও এক ধরনের আলোচনা শুরু হয়েছে, ‘এখন কি করনীয়’ নিয়ে। ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার সময় কি আর আছে? না অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেছে? এখানে সেখানে, রাস্তার মোড়েও চলছে পর্যালোচনা। তবে সব ছাপিয়ে যে আলোচনা চায়ের আড্ডা জমিয়ে তুলছে, আওয়ামী লীগ এখন কি করবে?
কট্টর আওয়ামী বিরোধীরা মনে করছে কিংবা বলা যায় কট্টর আওয়ামীলীগ ছাড়া প্রায় অনেকেই বিশ্বাস করছে তো হচ্ছে ‘তত্ত্বাবধায়ক তো এই জন্যই দিচ্ছে না। জানে, দিলেই ইলেকশানে হারবে।‘ বলাই বাহুল্য আওয়ামী লীগ ও আপ্রাণ বোঝানোর চেষ্টা করছে, ‘হারতে তাঁদের আপত্তি নাই, তবুও তত্ত্বাবধায়ক সরকারে ফেরত যাবে না। অগনতান্ত্রিক কোন শক্তির হাতে ক্ষমতা দিবে না।‘ তবে সবাই একথাও বোঝে, এক ‘সাব জেল’ ভীতি তাড়া করে ফিরছে আওয়ামী নেত্রীকে। আর দলে যেহেতু সমালোচকদের কোন স্থান নেই তাই নেত্রীর মন রক্ষার জন্য পুরো দল সেই সুরে সুর মেলাচ্ছে।
আগামী কিছুদিন হয়তো বিরোধী শিবিরে চলবে ‘ইউফোরিয়া’। এরপর আবার ‘ব্যাক টু ড্রইং বোর্ড’। বিএনপি হিসেব নিকেশ শুরু করবে কিসে ফায়দা বেশী। ‘আন্দোলন’ না ‘নির্বাচন’। এই ‘ইউফোরিয়া’ কে আন্দোলনে পরিবর্তন করা যাবে কি না? দলের যে ভঙ্গুর অবস্থা, আন্দোলন করতে পারবে তো? আবার এই জয় তাঁদের সাহস ফিরিয়ে দিতেও পারে। বিশেষ করে ‘টেন্ডার বাহিনী’ যদি আশ্বস্ত হয় বিএনপি আসছে তবে এই কয়মাস লাঠিচার্জ আর জেল খাটতে আপত্তি করবে না। অন্য রাস্তা তো নির্বাচন। সেখানে সবচেয়ে বড় ভয়, সরকারী দলের হঠাৎ নির্বাচনের দিনে মতিভ্রম হবে কি না?
আওয়ামী শিবির স্থির হতে হয়তো একটু বেশী সময় নেবে, ধাক্কাটা বেজায় জোরে লেগেছে তো! ততদিন গনতন্ত্রের জন্য এই দলের ত্যাগের মহিমা মুখস্থ করানো হবে। এরপর একসময় শোক কমে আসলে, স্থির হলে তখন বোঝা যাবে তত্ত্বাবধায়ক আসছে? না গোঁয়ার্তুমি থাকছে? আরও একটা ঘটনা ঘটতে পারে। যদিও দুই নেত্রী সম্পর্কে এমন কথা বললে অনেকেই আঁতকে উঠবেন। শব্দটি তাই বাংলা অভিধান থেকেও বিলুপ্ত করার চিন্তা ভাবনা চলছে। শব্দটা শুনেছেন? আচ্ছা বলে দিচ্ছি। ‘সমঝোতা’।

১৩ thoughts on “‘এরপরে কি?—সমঝোতা?’

  1. সমঝতাতো করতেই হবে.…তাই-ই তো
    সমঝতাতো করতেই হবে.…তাই-ই তো হয়ে আস্ছে এতদিন ধরে না হলে পাঁচ বছর পর পর একই বুলি ছোটে কেনো…আর জনগন-ও খুসি।কোন পাঁচ বছর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে এগিয়ে যেতে যেতে ক্লান্ত হয়ে গেলে পরের পাঁচ বছর পরিবর্তনের অঙ্গিকার নিয়ে ইসলাম বাঁচাতে রাস্তায় নামে.…এভাবেই ঘুড়ে ফিরে চলছে খেলা… আর উপর মহলের বাসিন্দারা তো আছেই ওৎপেতে…কোন সময় সুযোগ পাবে…আর খপ করে কামড় বসাবে তেল,গ্যাস,না হয় পানিতে…

  2. আমি কট্টর আওয়ামী পন্থী না।
    আমি কট্টর আওয়ামী পন্থী না। তবে কট্টর জামাত বিরোধী। নির্বাচনি পন্থা নিয়ে একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে আমার মতামত জানাচ্ছি শুধু। অনেকের কাছে আওয়ামী সুরে কথা বলছি বলে মনে হতে পারে। কিন্তু ফ্যাক্ট ইজ ফ্যাক্ট।

    তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন আমাদের দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারনে একটা সময় সাদরে গ্রহন করেছি। কিন্তু কতো কাল এভাবে চলবে? একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় এটা চিরস্থায়ী কোন পন্থা হতে পারে না। মূলত দুই দলের পরস্পরের প্রতি অবিশ্বাসের জায়গা থেকেই তত্ত্বাবধায়ক ফর্মূলার উৎপত্তি। কিন্তু ১/১১ এর সময় আমরা এই ব্যবস্থার অপপ্রয়োগ দেখেছি। আমরা সমসময় ক্ষনিকের চিন্তায় অস্থির থাকি। সুদূরপ্রসারী চিন্তা আমাদের জেনেটিক কোডিং এরি নেই যেন। সত্যিই যদি চাই, দেশে গনতন্ত্র শক্তিশালী হোক, তাহলে তত্ত্বাবধায়ক ফর্মুলা থেকে বের হয়ে আসতেই হবে। আইসিইউ তে লাইফ সাপোর্টে থেকে কতদিন টিকে থাকব আমরা? সংসদে বিরোধী দলের লাগাতার অনুপস্থিতি এবং ৯০ দিন পর পর নাটক আর কতো কাল দেখতে হবে? তারা নিজেরাই গনতন্ত্রের প্রতি আস্থাশীল নয়, তাহলে এই নাটকের মানে কি? চার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের দিন দুপুরেই বিএনপি চিল্লানো শুরু করল ফল পক্ষে নিতে সরকার কারচুপি করছে। কিন্তু দিন শেষে কি দেখলাম? অযথা কেন এই অভিযোগ? বিএনপির মির্জা আব্বাসের কাছে জবাব চাওয়া উচিৎ। মিথ্যে অভিযোগ কেন করলেন তিনি? দেশ পরিচালনাকে কি ছেলে খেলা মনে করে এইসব নেতা? জানি এসব প্রশ্নের উত্তর চাওয়া বোকামি। উনারা সবকিছুর উর্ধ্বে, সব প্রশ্নের উর্ধ্বে।

  3. পোস্ট এর উপর যা বলার আতিক ভাই
    পোস্ট এর উপর যা বলার আতিক ভাই বইলা দিছে । আমার কাছে আপনার বর্তমান পরিস্থিতি এর বিশ্লেষণ টা চমৎকার লেগেছে । পড়ে ভাবছিলাম গল্প পড়ছি যেন , কারন আপনার সব লেখায় – গল্প গল্প গন্ধ থাকে ।

  4. আপনার এই লেখার সাথে বাকি
    আপনার এই লেখার সাথে বাকি লেখার তুলনাই হয় না। চমৎকার রসাত্মক বিশ্লেষণ। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

    এখন সময়ের অপেক্ষা। অনুমান সত্যি হয় নাকি ভেতরে আরও কোন গল্প আছে।

Leave a Reply to মোশফেক আহমেদ Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *