হুজুগ…!

– রবিন ভালো করে দেখো,দেখতে পাও?
– জি মামা,একদম পরিস্কার।।
– দাড়ি দেখতে পাও?
– জি মামা,দাড়িতে যে মেহেদী করা হয়েছে সেটাও দেখা যাচ্ছে,
– চশমাটা কি পরিস্কার দেখা যাচ্ছে না?
– চশমার ফ্রেম পর্যন্ত পরিস্কার মামা,
– একদম তার চেহারা কি না বলো,
– জি,জি মামা,
– বলো এগুলো কিসের আলামত?
– মনে তো হচ্ছে খুবই কঠিন আলামত মামা,
– দেশ আর দেশ থাকবে না বুঝলা?গজবে পরিনত হবে।
-হুমমমম।


– রবিন ভালো করে দেখো,দেখতে পাও?
– জি মামা,একদম পরিস্কার।।
– দাড়ি দেখতে পাও?
– জি মামা,দাড়িতে যে মেহেদী করা হয়েছে সেটাও দেখা যাচ্ছে,
– চশমাটা কি পরিস্কার দেখা যাচ্ছে না?
– চশমার ফ্রেম পর্যন্ত পরিস্কার মামা,
– একদম তার চেহারা কি না বলো,
– জি,জি মামা,
– বলো এগুলো কিসের আলামত?
– মনে তো হচ্ছে খুবই কঠিন আলামত মামা,
– দেশ আর দেশ থাকবে না বুঝলা?গজবে পরিনত হবে।
-হুমমমম।

…কথা হচ্ছিলো আমাদের বাড়িওয়ালার ছেলের সাথে।বয়সে আমার চেয়ে ১০/১২ বছরের বড় বিধায় তাকে মামা সম্বোধন করতে হয়।জীবনের চড়াই-উৎড়াই পার হতে গিয়ে এমন ডিগবাজি খেয়েছেন যে এখন আর সোজা হতে পারছেন না।এলাকায় আমার মত আরো কিছু ভাগ্নে আছে তার।সারাদিনে তার প্রধান কাজ হলো এসব ভাগ্নেদের খুঁজে খুঁজে বের করা আর কাউকে পাওয়া মাত্রই তার সাথে বিশেষ একপাক্ষিক আলোচনায় বসা।একপাক্ষিক আলোচনায় তিনি নিজে ব্যাতিত অন্য কেউ কথা বলার সুযোগ পায় না।বাকি সবার কাজ হলো তার কথা শোনা এবং জি,জি,সেটাই,সেটাই করা।
মামা এককালে ব্যাপক শিবির করতেন এবং শিবিরের প্রতি এখনো তার একপ্রকার অন্ধটান বিদ্যমান।।তার সাথে আমার উপরিউক্ত কথোপকথন হচ্ছিলো বাংলার ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সে রাতে,যে রাতে মেশিনম্যানখ্যাত বিখ্যাত পাকিস্তানি নভঃচারী দেলু সাঈদী চাঁদে প্রথমবারের মত অবতরণ করেন। :ভেংচি: দেলুর এই চন্দ্রবিজয়ে আমাদের মামা অত্যাধিক আহ্লাদিত হয়ে পরেন এবং সেই আহ্লাদের কিছু পরিমান বিনামূল্যে বিতরণ করতেই তিনি রাত ১২.৩০টার সময় আমাদের বাসায় এসে তুমুল ডাকাডাকি করে আমাকে ঘুম থেকে উঠিয়ে ফেলেন :চিন্তায়আছি: এবং ছাদে চাঁদ দেখাতে নিয়ে যান।সদ্য ঘুম ভাঙ্গা চোখ ডলতে ডলতে,মনের সকল বিরক্তিভাব অতিকষ্টে গোপন করে উঠলাম তার সাথে ছাদে, চাঁদে দেলুর হাসি দেখতে :আমিকিন্তুচুপচাপ: ।।

বলা বাহুল্য জীবনের প্রথম দিন থেকে চাঁদ যেমন দেখেছি ঐ দিনও চাঁদ সেরকমই ছিলো।কোথাও দেলু মিয়া ছিলো না।কিন্ত সে কথা তাকে বলতে গেলে ঐ রাতে আমার আর বাসায় আসা লাগতো না।দেলু দেখাতে তিনি আমাকে ছাদ থেকে হয়তঃ চাঁদেই নিয়ে যেতেন। যদিও একবার ভেবেছিলাম তাকে ব্যাপারটা খুলে বলি।কিন্ত পরক্ষণেই ভাবলাম, যে লোক কোন কিছু না দেখেও বলছেন যে সব পরিস্কার,তাকে আর আমি নতুন করে কি বুঝাবো?

পুরানো topic নতুন করে তুলতাম না।কিন্ত এখানে আমার কিছু প্রশ্ন আছে বিধায় Topic টা আবার তুললাম।
আমি জানি যে,আমাদের দেশের মানুষগুলোর বেশীরভাগই হুজুগে মাতাল।কোন একটা ব্যাপার, সেটা যতই অযৌক্তিক হোক,শুধুমাত্র হুজুগ থাকলেই তারা ওটা নিয়ে লাফাতে থাকে।এমনকি মাত্রাতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করতেও পিছ পা হয় না। তাদের কাজ-কর্ম দেখলে, কথা-বার্তা শুনলে মনেই হয় না যে তাদের নিজস্ব কোন চিন্তা,চেতনা,বিচার,বুদ্ধি কিছু আছে।
প্রশ্ন হলো, এরকমটা কেন? সমস্যাটা কোথায়?
মানসিকতায়,শিক্ষায় নাকি রক্তে?

৫ thoughts on “হুজুগ…!

  1. একটা লাইন মনে পড়লঃ
    তুমি কি

    একটা লাইন মনে পড়লঃ
    তুমি কি আমি কি
    বাঙ্গালী বাঙ্গালী
    তোমার আমার মার্কা কি
    হুজুগ হুজুগ।

    হা হা হা হা হা ..…
    হো হো হো হো ..…।
    খি খি খি খি ..……

  2. হুজুগে বাঙ্গালি । জাতি গত
    হুজুগে বাঙ্গালি । জাতি গত সমস্যা।

    তবে আগেই পরিচয় দিয়েছেন মামা শিবির এর পাঙ্খা আর কি বললব

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *