ভেলেন্তিনাকে হাজারো সালাম

আজ বিশ্ব বাবা দিবসের ছায়ায় আড়ালে পরল মানব ইতিহাসে প্রথম নারী হিসেবে যিনি মহাকাশে যাত্রা করেন তার মহাকাশ যাত্রার ৫০বর্ষপূতীঁ। মুখে আমরা নারীজাগরন, নারীবাদ, সমঅধিকারের কথা ঠিকই বলে বেড়াই। অথচ মিডিয়া গুলো নারীকে ব্যবহার করে পণ্য হিসেবে। ছেলে দের সেভিংক্রিম বা ফোমের বিজ্ঞাপনের মডেল করা হয় সুন্দরী মহিলা দের। কোন ব্যপারে মেয়েদের অংশগ্রহণ থাকলে পত্রিকা গুলোতে এমনভাবে কাভারেজ দেয় যেন দেখে মনে হবে নারীদের একক অংশগ্রহণ। আজকের পত্রিকায়ও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। অথচ ভেলেন্তিনা তেরসকোভাকে নিয়ে কোন পত্রিকায় তেমন কোন আগ্রহ দেখলাম না।

আজ বিশ্ব বাবা দিবসের ছায়ায় আড়ালে পরল মানব ইতিহাসে প্রথম নারী হিসেবে যিনি মহাকাশে যাত্রা করেন তার মহাকাশ যাত্রার ৫০বর্ষপূতীঁ। মুখে আমরা নারীজাগরন, নারীবাদ, সমঅধিকারের কথা ঠিকই বলে বেড়াই। অথচ মিডিয়া গুলো নারীকে ব্যবহার করে পণ্য হিসেবে। ছেলে দের সেভিংক্রিম বা ফোমের বিজ্ঞাপনের মডেল করা হয় সুন্দরী মহিলা দের। কোন ব্যপারে মেয়েদের অংশগ্রহণ থাকলে পত্রিকা গুলোতে এমনভাবে কাভারেজ দেয় যেন দেখে মনে হবে নারীদের একক অংশগ্রহণ। আজকের পত্রিকায়ও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। অথচ ভেলেন্তিনা তেরসকোভাকে নিয়ে কোন পত্রিকায় তেমন কোন আগ্রহ দেখলাম না।
যে মেয়েটার বাবা ট্টাকটর চালাইত আর মা কটনমিলে চকরি করত। ১৮ বছর বয়সে যাকে স্কুল ছাড়তে হয়েছে, আর যোগ দিতে হয়েছে মায়ের সাথে কাজে । অথচ বাংলাদেশের টিভি নিউজ পেপার গুলোর তেমন কোন উদ্যোগ চোখে পড়ল না।
নারী শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে হলে এ পথে আগে যারা হেটে গেছে তাদেরকে চিনিয়ে দিতে হবে। না হলে তারা শাহস পাবে কোথা থেকে। একটা মেয়ে, যে দেখেছে তার আশপাশের মেয়েদেরকে দেখেছে তার স্বামীর কাছ থেকে দশ টাকা হলেও চেয়ে নিয়ে কাজ চালাতে , সে মেয়েটা কিভাবে স্বপ্ন দেখবে বড় হয়ে সে বিশ্বজয় করবে? এটা অসম্ভব। তবে আমিএমন একটা নতুন প্রজন্মকে নিয়ে চিন্তা করছি যাদের মায়েরা ঘরে এবং বাইরে সমান ভাবে কাজ করছে। এদের বেশির ভাগই বিভিন্ন গার্মেন্টসের কর্মী

৬ thoughts on “ভেলেন্তিনাকে হাজারো সালাম

  1. সবগুলো রেফারেন্স নিউজের আপনি
    সবগুলো রেফারেন্স নিউজের আপনি লিঙ্ক দিতে পারতেন এতে করে লিখাটি আরও শক্তিশালি হত… ভাল লেগেছে, চমৎকার বিশ্লেষণ ও উপলব্ধি!! :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:
    কিন্তু এই সমাজ কবে জাগবে?

  2. [লেখাটা বাবা দিবস প্রসঙ্গ
    [লেখাটা বাবা দিবস প্রসঙ্গ দিয়ে শুরু হয়েছে আর লেখাটা ভেলেন্তিনাকে নিয়ে। এখানে ভেলেন্তিনার বাবাকে আরো একটু বেশি আনলে ভাল লাগত। আমি ২/১ লাইন লেখার লোভ সামলাতে পারছিনা। নিজ গুনে ক্ষমা করবেন।]
    ভেলেন্তিনার বাবা ছিল ট্টাকটর ড্রাইভার। পরবর্তীতে সোভিয়েত রেড আর্মির ট্যাঙ্ক লিডার। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ভেলেন্তিনার বাবা ভ্লাদিমির তেরেস্কভ নিহত হন যখন ভেলেন্তিনা তেরেস্কভার বয়স মাত্র দুই। ভেলেন্তিনার মহাকাশ যাত্রা শেষে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হল ‘আপনি সোভিয়েত ইউনিয়নকে যে সেবা দিয়েছেন তার বিনিময়ে সোভিয়েত সরকার কিভাবে আপনাকে ধন্যবাদ জানাতে পারে?’ ভেলেন্তিনা সোভিয়েত সরকারকে আহবান করেছিল তার বাবা যেখানে যুদ্ধে নিহত হয়েছিল সে স্থানটি খুঁজে বের করে দিতে। সোভিয়েত সরকার ভেলেন্তিনার আহবানে সাড়া দিয়ে ভ্লাদিমির তেরেস্কভের নিহত হওয়ার স্থানটি খুঁজে বের করে। ফিনল্যান্ড এর লেমেটি নামক স্থানের রাশিয়ান সীমান্তে ভ্লাদিমির তেরেস্কভের স্মরণে একটি স্মৃতিসৌধ আছে। এখানেই যুদ্ধে নিহত হয়েছিলেন প্রথম নারী মহাকাশচারী ভেলেন্তিনা তেরেস্কভার বাবা।

    1. লেখাটুকু জুড়ে দেবার জন্য
      লেখাটুকু জুড়ে দেবার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

      এলেখাটা ১৬তারিখ সকালে যখন আমি আমার বাসা থেকে ঢাকা ইম্পিরিয়াল কলেজের পথে যাচ্ছিলাম তখন লেখা।
      সেখানে ভেলেন্তিনার মহাকাশ যাত্রার ৫০ বছর উপলেক্ষে ডিসকাশন প্রজেক্টের আয়োজনে তার ব্যপারে ও মহাকাশ চর্চার ইতিহাস নিয়ে কিছু বলার জন্য যাচ্ছিলাম। হাতে ছিল একটা স্ক্রিপ্ট। আমার লেখা না, লেখাটা ছিল বিজ্ঞান বক্তা ও লেখক আসিফের। আর ঐ লেখাটা তিনি সম্ভবত সামহোয়ারইন ব্লগে পোষ্ট করে ছিলেন। আরা আরেক জন বিজ্ঞান কর্মী ও বিজ্ঞান লেখক, সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম এর দায়িত্ব ছিল ভেলেন্তিনার জীবনী ও মহাকাশ যাত্রায় নারীদের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করার।
      ফলে আমি আর তার জীবনী নিয়ে লিখি নাই। যদিও রাতে আমার ধারনা ছিল তার আসার সম্ভাবনা 50-50তাই হাতে লিখে নিজের মত করে একটা ব্যকাপ স্ক্রিপ্ট রেডি করে ছিলাম। কিন্তু মৌলিকতা বজায় রাখতে আমি তাকে আর তার জীবনীটুকু আর হাইলাইট করি নাই।

      আসলে এ লেখাটা লেখার সময় আমার মধ্যে একটা ক্ষোভ কাজ করেছে। হাতে প্রথম আলো পত্রিকাটা ছিল, আর প্রথম পৃষ্টার সিটি নির্বাচনের একটা লাইনের ছবি বড়করে ছাপানো ছিল। যেখানে দেখা গেছে মহিলারা লাইন ধরে ভোট দেবার জন্য অপেক্ষা করছে। আর বিনোদন পাতায় ছিল ‘আবার বাবা হচ্ছেন জনপ্রিয় বাবা শাহরুখ’
      এইসব দেখে কিছুটা রাগ নিয়েই এ লেখাটা লেখেছি।
      পরে রাতে আসিফ ভাই ফোন করে বললেন লেখাটা নাকি তার ভাল লেগেছে, তাই আমি লেখাটা পরে এখানে পোষ্ট করেছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *