চন্ডীমুড়ার ইতিহাস

গুটি কয়েক বন্ধু মিলে বের হলাম লালমাই পাহাড় দেখবো বলে ৷ লাল পাহাড়ীর দেশে এসে কিছু বাদপরুক সেটা আমরা চাইনি, তাই পড়ন্ত বিকেলে গেলাম চন্ডীমুড়ার চন্ডী মন্দিরে ৷ এখানে এসে বুঝলাম যে বাড়ির পাশের এই পড়শি এতোদিন অজানাই ছিলো:

“চন্ডীমুড়ার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস”

গুটি কয়েক বন্ধু মিলে বের হলাম লালমাই পাহাড় দেখবো বলে ৷ লাল পাহাড়ীর দেশে এসে কিছু বাদপরুক সেটা আমরা চাইনি, তাই পড়ন্ত বিকেলে গেলাম চন্ডীমুড়ার চন্ডী মন্দিরে ৷ এখানে এসে বুঝলাম যে বাড়ির পাশের এই পড়শি এতোদিন অজানাই ছিলো:

“চন্ডীমুড়ার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস”
ইতিহাস প্রসিদ্ধ মহাতীর্থ চন্ডীমুড়া ৷ জাগ্রত শর্বানী মায়ের পাদস্পর্শে রন্জিত কামনা পুর্নকারী মায়ের আশ্রয়স্থল এই পবিত্র মন্দির, কুমিল্লা জেলার অন্তর্গত লালমাই এর উত্তর দক্ষিন প্রান্তে সর্বোচ্চ পাহাড়ের শীর্ষদেশে ইতিহাস খ্যাত চন্ডী মন্দির প্রতিষ্ঠিত৷ মুলতঃকুমিল্লা জেলার লাকসাম,বরুড়া ও কোতয়ালী থানার ত্রিমুখী সীমান্তস্থলে এই পবিত্র স্থানটি অবস্থিত ৷ বর্তমান লালমাই পাহাড়,পুর্বে রোহিতগিরি মতান্তরে লোহিতগিরি পর্বত নামে পরিচিত ছিলো পাহাড়টির (চন্ডীমুড়া) উচ্চতা প্রায় 172 ফুট, মন্দিরের আয়তন 18×24 ফুট উচ্চতা45 ফুট ৷ অতি প্রাচীনকালে অসুরদের সাথে যুদ্ধকালীন সময়ে মা ভগবতি ক্রোধান্বিত হয়ে চন্ডীরুপে উগ্রমুর্তি ধারন করে এই পাহাড়ে লুকায়িত অসুরদের নিধন করেন ৷ মায়ের ক্রোধান্বিত দেহের তাপে এই পাহাড়ের মাটিও লাল হয়ে যায় ৷ সপ্তম শতাব্দীতে বৌদ্ধরাজ দেব খড়গের মহীয়সী রানী প্রভাবতী ছিলেন জন্মগতভাবে হিন্দু বংশোদ্ভুত৷ মায়ের পাদস্পর্শে যেখানে অত্যাচারি অসুরদের নিধন হয়েছিলো,ঠিক সেখানেই রানীর ইচ্ছানুসারে মহারাজ দুটি মন্দির স্থাপন করেন,হেমলিপ্ত অষ্টভুজা চন্ডীমুর্তি তৈরি করে,মহামায়া চন্ডীবিগ্রহ স্থাপন করে আরাধনা চলতে থাকে ৷

ত্রিপুরা সৃতিগ্রন্থ এবং রাজমালা মানিক্য খন্ডে উল্লেখ আছে 17 শ শতাব্দীতে ধ্বংস হয়ে যাওয়া মন্দিরকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন,দ্বিতীয়া দেবী৷ তিনি ছিলেন তখনকার ত্রিপুরা রাজা গোবিন্দ মানিক্যের অগ্রজ জগন্নাথ দেবের দুহিতা যুবরাজ চম্পক রায় এর ভগ্নি৷ পুজা অর্চনা ও ভক্তদের জন্য তিনি একটি দিঘি খনন করেন যা দ্বিতীয়া বা দ্যুত্যা দিঘী নামে পরিচিত৷

কিন্তু কালক্রমে আবার ধ্বংস প্রাপ্ত হয় মন্দির বিভিন্ন কারনে৷ এবার এগিয়ে আসেন শ্রীযুক্ত বাবু নিবারন চক্রবর্তী,মহেশচন্দ্র ভট্টাচার্য(১৩৩৫ সাল,সুত্রঃ ত্রিপুরা সৃতি গ্রন্থ)পুনরায় চন্ডীমুর্তি স্থাপন হয় , শুরু হয় পুজা-অর্চনা ৷ কিন্তু 1919 সালে মুর্তিটি চুরি হয় এবং মন্দির পরিত্যক্ত হয়ে পরে ৷ সবশেষে সপ্নদ্রষ্টা হয়ে 1972 সালে স্বামী আত্মানন্দ গিরি মহারাজ এই মন্দিরে আসেন ৷ সেই থেকে বহু চড়াই উৎরাই পেরিয়ে মন্দিরে পুজা-অর্চনা হয়ে আসছে ৷ (তথ্যসুত্র:শ্রী শ্রী গীতা পরিষদ বাংলাদেশ)।

আপনাকে চন্ডীমুড়ায় অবস্থিত চন্ডী মন্দিরে পৌছতে হলে,প্রথমে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড হয়ে লালমাই বাজার পৌছতে হবে,সেখান থেকে অটো,সিএনজি চেপে পৌছে যাবেন মন্দিরে ,আর হে লাল পাহাড়ির দেশে গেলে লাল পাহাড় দেখতে ভুলবেন না৷ ভালো থাকবেন…।

৯ thoughts on “চন্ডীমুড়ার ইতিহাস

  1. কালের স্মৃতি বিজড়িত এই ধরনের
    কালের স্মৃতি বিজড়িত এই ধরনের একটা স্থান শুধু ধর্মীয় দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ নয় বরং আমাদের ইতিহাসের জন্যো মূল্যবান…আশা আছে.…সুযোগ হলে অবশ্যই যাব।

    1. অথচ জানেন এটা আমার পাশের
      অথচ জানেন এটা আমার পাশের বাড়িরই ছিলো,কিন্তু এর ইতিহাস জানলাম কিছুদিন আগে মাত্র

  2. ধন্যবাদ…
    এই বিষয়ক

    ধন্যবাদ… :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:
    এই বিষয়ক একটা ক্যাটাগরি দেয়া উচিৎ! হতে পারে তা ভ্রমন বা পর্যটন অথবা এমন কিছু…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *