কাকলী

– আমি আর এই সম্পর্কটা এগিয়ে নিতে পারব না।
– কেন?
– আমার বাসায় সবাই ম্যাডাম সম্পর্কে জেনে গেছে। তোমার পরিবারকে আমার বাসার কেউ মেনে নিতে পারবে না, সাথে তোমাকেও না।
– মা সম্পর্কে কি জেনে গেছে?
– স্ক্যান্ডেলগুলো কোন একভাবে মায়ের কানে গেছে।
– কিসের স্ক্যান্ডেল? হেড টিচারের সাথে মায়ের শুধু একটা প্রেমের সম্পর্ক আছে। এর বেশি কিছু তো না।
– ঐটাই স্ক্যান্ডেল।তোমার বাবার সাথে ডিভোর্স- সব মা জানে এখন।
– মা বাবার সাথে সম্পর্ক ভেঙ্গে হেড টিচারের সাথে প্রেম করেছে- এইটাই স্ক্যান্ডেল? তাহলে তো আরতির সাথে সম্পর্ক ভেঙ্গে আমার সাথে যে সম্পর্ক করেছ এটাও তোমার স্ক্যান্ডেল।

– আমি আর এই সম্পর্কটা এগিয়ে নিতে পারব না।
– কেন?
– আমার বাসায় সবাই ম্যাডাম সম্পর্কে জেনে গেছে। তোমার পরিবারকে আমার বাসার কেউ মেনে নিতে পারবে না, সাথে তোমাকেও না।
– মা সম্পর্কে কি জেনে গেছে?
– স্ক্যান্ডেলগুলো কোন একভাবে মায়ের কানে গেছে।
– কিসের স্ক্যান্ডেল? হেড টিচারের সাথে মায়ের শুধু একটা প্রেমের সম্পর্ক আছে। এর বেশি কিছু তো না।
– ঐটাই স্ক্যান্ডেল।তোমার বাবার সাথে ডিভোর্স- সব মা জানে এখন।
– মা বাবার সাথে সম্পর্ক ভেঙ্গে হেড টিচারের সাথে প্রেম করেছে- এইটাই স্ক্যান্ডেল? তাহলে তো আরতির সাথে সম্পর্ক ভেঙ্গে আমার সাথে যে সম্পর্ক করেছ এটাও তোমার স্ক্যান্ডেল।
– আমি তর্কে যাব না। আমার পরিবার মেনে নিবে না আর তাই আমি এ সম্পর্ক রাখতে পারব না। আমি যখন সম্পর্ক রাখতে চাই না তুমি নিশ্চয়ই জোর করতে পার না?
– আমি জোর করছিও না, শুধু বুঝাতে চাচ্ছি আমার মা কোন স্ক্যান্ডেলে জড়ায়নি। আর তুমি যখন রাখতে চাও না। আমিও আর আগাবো না।
– আসি তাহলে। তবে একটা কথা তোমাকে ভালবেসেছিলাম।
– এই কথা বলতেই ডেকেছিলে?
– হ্যাঁ।
– বিদায়।
– আল্লাহ হাফেজ।
প্রতনু চলে যেতে লাগল। রতসী তাকিয়ে আছে মাঠের শেষ পর্যন্ত যতদূর প্রতনুকে দেখা যায়। প্রতনু চোখের আড়াল হতেই রতসীর গাল বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়তে লাগল। এতক্ষণ বেশ শক্ত ছিল সে। কিন্তু প্রতনু চোখের আড়াল হতেই কেমন এক শুণ্যতা তাকে ঘিরে ধরল। রতসী তাড়াতাড়ি চোখের পানি মুছল যেন কলেজের অন্য কারো চোখে না পড়ে। দ্রুত পায়ে ক্লাসের দিকে আগাতে থাকল। বীজগণিত ক্লাস। সৈকত স্যারের। জটিল সংখ্যা বুঝাচ্ছেন। রতসীর মাথায় কোন পড়াই ঢুকছে না। ক্লাসে থাকতে ইচ্ছে করছে না। মাথাটাও কেমন ঝিম ঝিম করছে। রতসী পেট ব্যাথার অযুহাত দিয়ে একটা আবেদনপত্র লিখল। রতসীকে সৈকত স্যার তার মায়ের কাছে পাঠালেন। কাকলী মেয়ের পেট ব্যাথার কথা শুনে রতসীকে একাই বাসায় যেতে বললেন। রতসী বাসায় ফিরেই দরজা আটকে কাঁদতে থাকল। বাসায় কেউ নেই। চিকার করে কাঁদছে রতসী কিন্তু কেউ শুনতে পারছে না। রতসী এমনই চাচ্ছিলো। তাই মাকে ফেলেই মিথ্যে অযুহাত দিয়ে বাসায় ফিরেছে। বিকেল পর্যন্ত রতসী এভাবে কাঁদল। এরপর কাকলীর বাসায় ফেরার শব্দ শুনে সে চুপ মেরে গেল। কাকলী রতসীর ঘরের দরজা বন্ধ দেখে আর মেয়েকে বিরক্ত করল না। সে তার ঘরে গিয়ে নিজের মত কাজ করতে লাগল। কিছুক্ষণ পর রাতুল ফিরল। রাতুল বাসায় এসেই মায়ের কাছে খাবার চাইল। কাকলী রান্নাঘরে গিয়ে সব খাবার আগের মতই দেখে একটু অবাক হল। রতসী কখনো দুপুরে ভাত না খেয়ে থাকে না। নিজের মত খেয়ে নেয়। কাকলী কলেজ মিটিং-এ দুপুরের খাবার খেয়ে ফেলেছিল বলে এটা লক্ষ্য করেনি। রাতুলের ভাত বেড়ে কাকলী মেয়ের ঘরের দিকে এগুলেন। বেশ কয়েকবার রতসীকে ডেকেও কোন সাড়া পেলেননা। চিন্তায় পড়ে গেলেন। রতসীর বড় কোন সমস্যা হল না তো? তিনি একটু পর আরো জোরে জোরে ডাকতে থাকলেন। রতসী এবার সাড়া দিল
– আমি ঠিক আছি। অল্প ব্যাথা আছে। চিন্তা কর না।
– কিছু খাবি না? দুপুরে খাসনি তো।
– পরে খাব।
কাকলী নিশ্চিন্ত হয়ে ফিরে আসে। নিজের কাজে মন দেয়। রতসী মায়ের চিন্তা আড়াল করে নিঃশব্দে কাঁদতে থাকে।

কিছুদিন পরে রতসী ফোনে লিরার সাথে সেদিনের ঘটনা নিয়ে গল্প করছিল। কাকলী বারান্দায় কাপড় নাড়তে এসেছিল। তখন রতসীর কিছু কথা শুনে সে থমকে দাঁড়ায়।
– প্রতনুর সাথে সেদিনিই সম্পর্ক ভেঙ্গে ফেলেছি। তোকে সম্পর্ক জোড়া লাগানোর চেষ্টা করতে হবে না। তুই পুরোটা জানিস না আর আমি তোকে জানাতেও চাই না। সুতরাং আগ বাড়িয়ে কিছু করার দরকার নেই।
– …………………
– প্রতনু তোকে ওর কথাগুলো বলেছে। তুই ওর ভাবনার ভুলগুলো ধরিয়ে দিতে পারবি। কিন্তু আমারটা পারবি না। আমি প্রতনুর মত নিচু মানসিকতার ছেলের সাথে সম্পর্ক রাখতেও চাই না।
– …………………
– লিরা, আমার মায়ের ঘটনা তোরা তেমন কিছুই জানিস না। তোরা কেবল মানুষের কানে কানে ছড়ানো কথাগুলোই জানিস। আমি জানাতেও চাই না। জানালেও তোদের কাছে মায়ের নামে ওকালতি মনে হবে। তবে একটা কথা জেনে রাখ মা কোন ভুল করেনি।
– …………………
– হ্যাঁ, স্যারের সাথে মায়ের সম্পর্ক ছিল, মা তার স্টুডেন্টদের সাথেও নলে নলে কথা বলে। মাকে গলানো সহজ। সুন্দরী বলে অনেকেই মাকে পটানোর চেষ্টা করে আর মা মুচকি হাসি দিয়ে বসে থাকে। এর মানে এই না যে মা পটে যায়। আর যদি পটেও থাকে তাতেই বা কি? এগুলো কি স্ক্যাণ্ডেল? নাকি মা ডিভোর্সি সেটা স্ক্যাণ্ডেল?
– …………………
– লিরা, তোদের মত যে যে পরিবার রসিয়ে রসিয়ে মায়ের ঘটনাগুলোকে স্ক্যান্ডেল বলে সেসব পরিবার আমার মাকে মেনে নিবে না, এটাই স্বাভাবিক। তাদের সাথে আমারও মিল হবে না, এটাই বাস্তব। আর প্রতনুর চলে যাওয়ায় সেদিন কষ্ট পেয়েছি, কিন্তু এখন মেনে নিয়েছি। প্রতনুর জন্য এখন আর কষ্ট হয় না। সো, আমার কথা ভেবে তোকে সম্পর্ক ঠিক করতে হবে না। অন্তত আমার কথা ভেবেই চুপ করে বসে থাক।
– ……………
– রাখি।
রতসীর কথা শেষ হলে কাকলীও তার ঘরে চলে যায়। বিছানায় বসতে বসতেই রাতুল চিল্লিয়ে উঠে ‘ক্ষিদা লাগসে, আম্মু’। কাকলীর চোখের কোণে আসা পানিটুকু মুছে রান্নাঘরের দিকে চলে যায়। রাতুল, কাকলী, রতসী একসাথে ভাত খেতে থাকে। রতসী বরাবরই কম কথা বলে, অনেক সময় কথাই বলে না; চুপচাপ খেয়ে নিজের ঘরে চলে যায়। খাবার পুরোটা সময় ধরে রাতুল একাই কথা বলে। মাঝে মাঝে কাকলী তাল মিলিয়ে ‘হ্যাঁ’ ‘না’ বলে বা উপদেশ দেয়। আজকেও রাতুল কথা বলে চলেছে। তার ভার্সিটির গল্প, প্রেমিকার কথা, ছাত্রের দুষ্টুমি আরো অনেক কিছু। কিন্তু আজকে কাকলী বা রতসীর কারোরই রাতুলের কথার দিকে মন নেই। রাতুল হঠা সেটা খেয়াল করে মাকে খোঁচা মারল।
– কি আম্মু? কোন কথা বলছ না যে?
– না শুনছি। তুই বল।
– কচু শুনছ। কি হয়েছে বলবে?
– না রে কিছুই হয় নি।
– হুমমম… না বলতে চাইলে ঠিক আছে।
– আরে না। তোদের স্যারের কথাই একটু ভাবছিলাম।
– তোমরা বিয়ে করে ফেললেই তো পার। আমাদের আর এতিমের মত থাকতে হয় না।
বলেই রাতুল হেসে দিল। কাকলীও তাল মিলিয়ে একটু হাসল। শুধু রতসী হাসল না। তার এসব কথা অসহ্য লাগছে। যদিও সে নিজেও বুঝতে পারছে। অসহ্য লাগার মত কিছুই ঘটেনি, তার মেজাজ খারাপ বলে সব কিছুতেই বিরক্তি ধরেছে। তবু সে রাগ কমাতে পারল না।
– দেখি, চারদিকে অনেক সমস্যা। এমনিতেই অনেক কথা শুনতে হয়। বিয়ে করলে আবার নতুন সমস্যা হবে হয়ত।। দেখি কি করা যায়।
– ইচ্ছেই মূল কথা। ইচ্ছে থাকলে এই সমস্যাগুলোও কিছু না।
এই কথাটা শুনে কাকলী কেমন যেন একটা ধাক্কা খেল। ২৬ বছর আগে বিয়ে নিয়ে এই একি কথা রাফাত বলেছিল। একই ভাবে। রাতুলকে তো কাকলী রাফাতের মত করে বড় করেনি। রাফাতের ছোঁয়া থেকেও দূরে রাখতে চেষ্টা করেছে। এমনকি রাতুল রাফাতকে বা হিসেবে কেন মানুষ হিসেবেও একদম পছন্দ করে না। পৃথিবীতে রাতুলের সবচেয়ে অপছন্দের মানুষ হল রাফাত। তাহলে? কেন এভাবে বলল?। হঠাতই মনকে শক্ত করল কাকলী। শুধু একই ঢঙ্গে বলা একটি বাক্য থেকে সে কেন ভাবছে রাতুল রাফাতের মত হয়ে গেছে? না। একটু আগের বিমর্ষতাই তাকে এখন রাফাতের ঘোরে ফেলে দিচ্ছে। রাতুল কখনোই রাফাতের মত না। ভাবতে ভাবতে সে খাওয়া শেষ করে উঠে পড়ে। নিজের মনকে অন্যদিকে সরিয়ে নিতে কাকলী ছাত্রদের খাতা দেখায় মন দেয়। কিন্তু তার বারবার রাফাতের কথা মনে পড়তে থাকে। পুরনো স্মৃতিগুলো একের পর এক চোখের সামনে ভাসতে থাকে। কাকলী খাতা দেখায় মন দিতে চায় কিন্তু পারেনা, উলটো ভুল হতে থাকে। বিরক্ত হয়ে কাকলী খাতা রেখে উঠে পড়ে। বিছানায় গা এলিয়ে দেয়। রাফাতের চিন্তা মাথা থেকে সরিয়ে একটু ঘুমাতে চায় সে। পুরনো আবেগগুলো মনে করে সে আর নিজেকে ছোট করতে চায় না, কষ্ট পেতে চায় না। কিন্তু চোখ বন্ধ করতেই রাফাতের মুখটা ভেসে উঠে। আগের ঘটনাগুলো একের পর এক স্পষ্ট হতে থাকে। কাকলী খুব চেষ্টা করে, কিন্তু মনের কাছে হেরে যায়।

কাকলীর বাবা আগে ই.পি.আর-এ চাকরী করত।মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে গেলে তিনি মুক্তিবাহিনীর সাথে যুক্ত হন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হবার প্রায় দেড় মাস পর পাইকগাছায় পাকবাহিনী আক্রমণ করে। তখন কাকলীর বাবা তার পরিবারকে রংপুরে দুঃসম্পর্কের এক আত্মীয়ের বাসায় চলে যেতে বলেন। সেখানেই রাফাতের সাথে প্রথম পরিচয়। রাফাত কাকলীর দুঃসম্পর্কের মামাতো ভাই। কাকলী দেখতে বেশ সুন্দর ছিল। গায়ের রঙ ফর্সা, স্নিগ্ধ চেহার। পড়ালেখায়ও ভাল ছিল। এসব কারণে অনেক ছেলে কাকলীকে পছন্দ করত। কাকলী যে খুব শক্ত ব্যক্তিত্বের ছিল তা না। তার দুর্বলতা সেখানেই। ছেলেদের এসব পছন্দের কথা শুনে কাকলি কিছু বলত না। হেসে চলে যেত। মুখের উপর কখনোই না বলতে পারত না। রাফাত অবশ্য এদের দলে ছিল না। কাকলীকে রাফাতের ভাল লেগেছিল। কিন্তু কখনো রাফাত এটা প্রকাশ করত না। শুধু তাই না রাফাতের যেদিকটা কাকলীকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করে তা ছিল দায়িত্বশীলভাবে কাকলীকে এড়িয়ে চলা। যুদ্ধের বাকি সাড়ে সাত মাস কাকলী রাফাতদের বাসায় থেকেছে। এরমধ্যে রাফাত বাসা থেকে পালিয়ে যুদ্ধে চলে যায়। সেখানে একবার পাকিস্তানীদের হাতে ধরাও খায়। কিন্তু বয়স বেশি কম আর ভাল উর্দু বলতে পারত বলে, কম অত্যাচার করে ছেড়ে দিয়েছিল। মাঝে দু’বার বাসা এসেছিল। ‘আর যাব না’, ‘আর যাব না’ বলে আবারো যুদ্ধে চলে গিয়েছিল। এই দুইবারই রাফাত এসেছিল আরো সঙ্গী জোগাড় করতে আর ফাঁকে আপনজনদের দেখে যেতে। কাকলী রাফাতের সব খবর পেত শীলার কাছ থেকে। শীলার বড় ভাইও রাফাতের সাথে যুদ্ধে গিয়েছিল আর ওরা একই ক্যাম্পে থাকত।কাকলী রাফাতকে নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তা করত তখন। যুদ্ধ শেষ হবার পরও বেশ কয়েকমাস কাকলীরা রাফাতদের বাসায় ছিল।রাফাত যখন যুদ্ধ শেষে বাড়ি ফিরে তখনো কাকলীর সাথে তেমন কথা বলত না। কাকলী কথা বলাত্র বিভিন্ন সুযোগ খুঁজত কিন্তু রাফাতের অনাগ্রহ দেখে দমে যেত। রাফাত যখন অন্যান্য ছেলেদের সাথে মাঠে কাবাডি খেলত কাকলী বাড়ির উঠোনে বসে দূরের মাঠের দিকে তাকিয়ে থাকত, গাছে উঠে সবাই আম, জাম্বুরা পারত কাকলী নিচে দাঁড়িয়ে কেবল রাফাতের পারা আম, জাম্বুরাগুলোই কুড়িয়ে তুলত- এরকম করে একটা সময় রাফাতের প্রতি কাকলীর দুর্বলতা ধরে ফেলে।

কাকলী উঠে বসে। তার চোখের কোণে দু’ফোটা পানি। কাকলী চোখের পানি মুছে বাথরুমের দিকে এগিয়ে যায়। মুখে একরাশ পানির ঝাপটা দেয়। আয়নার দিকে তার হতাশ প্রতিচ্ছবিটির দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে। তখনো মাথায় পুরনো কথাগুলোই ঘুরপাক খাচ্ছে। কাকলী মুখে আরো কয়েকবার পানির ঝাপ্টা দেয়। ফিরে এসে বিছানায় বসে।

রাফাতও যে কাকলীকে পছন্দ করত সেসব উড়ো খবরও কাকলীর কানে কম আসত না। এরকম খবর শুনলেই কাকলীর মন খুশিতে ভরে উঠতো। রাফাতকে সে ভালবাসে, রাফাতও তাকে ভালবাসে, মনে মনে কাকলী তাদের ভালবাসার সংসারও কল্পনা করে নিত; নিজে নিজেই লজ্জা পেত আবার খুশিও হত। এরকম সময় কাকলীর বাবা রংপুরে ফিরে আসে। একটা কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পড়ানো শুরু করেন এবং আলাদা বাসা নেন। এদিকে রাফাতও মির্জাপুর ক্যাডেটে ভর্তি হয়ে রংপুর ছেড়ে চলে যায়। রাফাত আর কাকলীর দেখা বন্ধ হয়ে যায়। কাকলী তখন খুব কষ্ট পায়। রাফাত তাকে কিছু না বলেই কেন বিদায় নিল? কেন কোন প্রস্তাব দিল না? রাফাত কি তাহলে তাকে ভালবাসেনি? সব মিথ্যা কথা? এরকম হাজারো প্রশ্নের সাথে কাকলীর দিন কাটতে থাকে। একবছর পর রাফাত আবার ফিরে আসে। রাফাতের বাবা-মা ক্যাডেটের হোস্টেলে পড়ানোর খরচ ঠিকমত দিতে পারতেন না। তাই রাফাত ফিরে এসে রংপুর কলেজে ভর্তি হয়। কাকলীর বাবা ঐ কলেজেই পড়াতেন। একদিন সুযোগ করে কলেজে গিয়ে কাকলী রাফাতের সাথে দেখা করে। তার দুর্বলতার কথা বলে আর রাফাতকে একের পর এক প্রশ্ন করে। রাফাত মৃদ্যু হেসে শুধু বলে, ‘আমি তোমাকে ভালবাসি’। কাকলীর গাল বেয়ে আনন্দোশ্রু ঝরতে থাকে, রাফাত মুছে দেয়। এভাবেই ওদের সম্পর্কটা শুরু হয়। তখন কাকলীর চোখে অনেক রঙ্গিন স্বপ্ন। রাফাত প্রায়ই বোঝাতো পরিবারের সমস্যা, নিম্নবিত্ত পরিবারের অভাবের কথা, ওদের সমপর্ক মেনে না নেবার বিভিন্ন দিক। কিন্তু স্বপ্নের রঙ্গিন ভূবনে এই সব সমস্যা বর্ণহীন হয়ে যেত। এরপর রাফাত রাজশাহী চলে যায়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন নিয়ে পড়তে শুরু করে। কাকলীর পড়ালেখা রংপুরেই চলতে থাকে। ঈদ বা অন্যান্য ছুটিতে রাফাত রংপুর আসলে ওদের দেখা হত আর বাকি সময় চিঠি দিয়েই কথা হত। কত রতীক্ষা একেকটা চিঠির জন্য! একেকটা চিঠির সাথে আসত হাজারো রঙ্গিন বার্তা।

কাকলীর চোখ থেকে এবার অঝোর ধারায় পানি পড়তে থাকে। কাকলী অনবরত চোখ মুছতে থাকে। আরেকবার চেষ্টা করে মাথা থেকে এসব চিন্তা ঝেড়ে ফেলতে কিন্তু পারে না। কান্নাও থামেনা।

রাফাত পড়ালেখা শেষ করে রংপুরে ফিরে আসে। বিসিএস দিয়ে কোর্টে চাকরী নেয়। কাকলীর বাবার সুত্র ধরে তখন রংপুর কলেজে পড়ানো শুরু করে দিয়েছে। কিছুদিন পরে কাকলী রাফাতকে বিয়ের কথা বলে। কাকলী এবার একটু ভয় পেতে থাকে। স্বপ্নের রঙ্গিন ভুবনকে পিছনে ফেলে কাকলী তখন প্রায় বাস্তব সমস্যার মুখোমুখি। রাফাতকে কাকলী ভয়ের কথা বলতেই রাফাত কাকলীর হাত চেপে ধরে বলে, ‘ইচ্ছেই মূল কথা। ইচ্ছে থাকলে এই সমস্যাগুলোও কিছু না।’ রাফাত কাকলী দু’জনেই জানত তাদের কারো পরিবার এই সম্পর্ক মেনে নিবে না। তাই পালিয়ে বিয়ে করে ওরা। বিয়ে হয়ে গেছে’ শুনে কাকলীর পরিবার মেনে নিলেও রাফাতের পরিবার কিছুতেই কাকলীকে মেনে নেয় না। কাকলীর কাঁধে পুরো সংসারের ভার পড়ে। একরাশ প্রত্যাশার জালে আনাড়ি হাতে স্বপ্ন বুনতে শুরু করে। খড়ির উনুনের চুলোয় ঠিকমত রাঁধতে পারেনা। উনুনের ধোঁয়ায় স্বপ্নের আকাশে কাল মেঘ জমে। রাফাতের পরিবার সে সুযোগে বৃষ্টি ঝরায়। নিজের পরিবারের কাকলী কখনো বৈষম্যের স্বীকার হয়নি। কিন্তু এখানে পদে পদে বৈষম্য। সব ক্ষেত্রে বৌ হিসেবে লক্ষ্মী হয়ে থাকার বৈষম্য। লক্ষ্মী না হতে পারলে লিলিথ হবার অপবাদ- সবই সহ্য করার চেষ্টা করে কাকলী। কিন্তু খাপখাইয়ে নিতে পারেনা। কিছুতেই প্রত্যাশা পুরণ করা সম্ভব হয় না। প্রথম দিকে রাফাতের সহানুভূতির হাতই কাকলীর স্বপ্নমাখা চোখদু’টোকে বাঁচিয়ে রেখেছিল। কিন্তু রাতুল জন্মানোর দু’বছর পর রাফাত বদলে যায়। পরিবারের সবার সামনে রাফাত কাকলীকে সামান্য বিষয়ে বকতে শুরু করে, তার দোষ-ত্রুটি আগের মত মেনে নেয় না, আধিপত্য খাটাতে থাকে, সহানুভূতির হাতটাও মিলিয়ে যায়। কাকলী নিজেও শূণ্যে মিলিয়ে যায়। একটা সময় রাফাতের সত্ত্বা হারিয়ে যায়। রাফাত পৌরষত্ব খাটাতে শুরু করে। বাইরে গেলে কাকলীকে সাজতে দেয় না। খুব রঙ্গিন শাড়ি পড়তে দেয় না। একবার কি হল- কাকলী ননদের শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে গেছে সুন্দর করে সেজে লাল লিপস্টিক দিয়ে। ওখানে একভদ্রলোক কাকলীর প্রশংসা করে বলে, তাকে খুব সুন্দর লাগছে। রাফাতের চোখ তাতে রক্তবর্ণ হয়ে যায়। রাফাত এক মুহূর্ত অপেক্ষা না করে কাকলীকে ফেলে বাড়ি ফিরে আসে। রাতুলের বিষয়েও রাফাত কাকলীর কোন সিদ্ধান্ত পছন্দ করত না। কাকলী এই পরিবেশেই খাপখাইয়ে নিতে চেষ্টা করে। কিন্তু রাফাতের আচরণ দিনকে দিন আরো বেশি খারাপ হতে থাকে। রতসী জন্মানোর পর কাকলী নতুন ভোরের স্বপ্ন দেখে নিজেকে মানিয়ে নেবার চেষ্টা করে। কিন্তু সমস্যা আরো বেড়েই চলে। রাফাতের হঠাত হাত খালি হতে শুরু করে। কাকলী রাফাতকে সাহায্য করার জন্য অর্থকাঠামোর হাল ধরে। রাফাতের সাথে কাকলীর সম্পর্ক তখন আরো খারতাপ হয়। রাফাত কাকলীকে প্রতিদন্দ্বী ভাবতে শুরু করে। কাকলীর বাজার করা কোন খাবার খেত না রাফাত, কাকলীর বাড়ি যেতে চাইত না, কাকলীর কিনে দেওয়া পোশাক পরত না। কাকলীর সাথে সম্পর্ক যত খারাপ হয় তত রাফাতের কানে বিষ ঢালতে থাকে ওর পরিবার। কাকলী দিনে দিনে খেই হারিয়ে ফেলে। হতাশায় দিক্বেদিকজ্ঞানশুণ্য হয়ে পড়ে। এই অচেনা রাফাতের মাঝে চেনা রাফাতকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে। কিন্তু কোন লাভ হয় না। কাকলী সহকর্মীদের, প্রতিবেশিদের প্রসংশায় যে মুচকি হাসি হাসত রাফাতের পরিবার তা অনেক বাড়ীয়ে রাফাতকে জানাত। এসব শুনে রাফাত কাকলীকে এড়িয়ে চলতে শুরু করে, ওর সাথে কথা বলা বন্ধ করে দেয়। কাকলী রাফাতকে বোঝাতে চায় রাফাত কিছু হয়নি এমন ভঙ্গি করে এড়িয়ে যায়। সিগারেট ও নেশা করা শুরু করে। কাকলী রাফাতকে অনেক বোঝাতে চায়, চাকরীও ছেড়ে দিতে চায়। কিন্তু কোন কিছুতেই রাফাত রাজি হয় না, পালটা জবাব দিয়ে বলে, ‘চাকরি ছাড়লে তো আর স্বভাব ছাড়বে না।’ রাফাতের পরিবার কাকলীকে আরো বেশি ছোট করতে থাকে। কাকলী সম্পূর্ণ একা হয়ে পড়ে। নিজেকে অতলে হারিয়ে ফেলতে থাকে। আর মেনে নিতে পারে না। বাবার বাড়ি ফিরে আসে। ওখানেই থাকা শুরু করে। রাফাতের অপেক্ষায় প্রহর গুনতে থাকে। কিন্তু রাফাত তাকে ফিরিয়ে নিতে আসে না। বেশ কিছুদিন পর কলেজে নতুন হেডস্যার আসে। হেডস্যারের সাথে কাকলীর খাতির হয়ে যায়। একসময় হেডস্যার কাকলীর প্রতি দূর্বল হয়ে পড়ে। কাকলীর খোঁজ নিতে থাকে। কাকলী সম্পর্কে সব জানতে পারলে তিনি কাকলীকে সাহায্য করতে চায়। কাকলী কিছু না বলে পুরনো মুচকি হাসির মাঝেই সেই সাহায্যের হাতকে এড়িয়ে যায়। কিন্তু এই ঘটনা কিছুদিনের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ে ‘স্ক্যান্ডেল’ নামে। মানুষ বাড়িয়ে বলতে থাকে। ঘটনা রাফাতের কানে আসে। রাফাত ডিভোর্স চায়। কাকলী শেষবারের মত চেষ্টা করে রাফাতকে সব বুঝিয়ে সম্পর্ক ঠিক করতে কিন্তু রাফগাত কিছু না শুনেই চলে যায়। পরদিন ডিভোর্স পেপার পাঠিয়ে দেয়। কাকলী অবাক হয় না। তার মনে শুধু কিছু প্রশ্ন ঘুরতে থাকে। রাফাত কীভাবে অচেনা মানুষের মুখের কথা বিশ্বাস করে এতদিনের সম্পর্ক ভেঙ্গে ফেলতে চাইল? রাফাত কেন তার কোন কথাই শুনতে চায় না? রাফাত কীভাবে রাতুল-রতসীর কথা না ভেবেই ডিভোর্স দিতে রাজি হল? বাবা হিসেবে রাফাতের কোন দায়িত্ব নেই? এমনকি রাফাত বা রাতুল কারো প্রতি রাফাত কোন দাবি করেনি। এবার কাকলীর রাগ চেপে যায়। কাকলী একাই রাতুল-রতসীকে বড় করতে পারবে কিন্তু রাফাত একা থাকতে পারবে তো? কিন্তু কাকলী রাগ ধরে রাখতে পারে না। আরো কয়েকবার রাফাতের মুখোমুখি হয়। রাফাতকে বুঝিয়ে বলতে চায়। কিন্তু রাফাত কিছুই শোনে না। শুধু ডিভোর্স পেপারে সাইন করে ফিরিয়ে দিতে বলে। কাকলী এক পর্যায়ে হার মেনে নেয়। কাকলীর গায়ে ডিভোর্সি অপবাদ লেগে যায়। কেন জানি কলেজের আর কোন শিক্ষকই কাকলীকে পছন্দ করে না। একসময় যাদের সাথে খুব খাতির ছিল তারাই আজ তার কুতসা রটায়। সবাই কাকলীকে বাঁকা চোখে দেখতে থাকে। কাকলীর এগুলোতে যত কষ্ট লাগে তার চেয়ে অনেক বেশি কষ্ট হয় যখন এসবের জন্য রাতুল আর রতসীকে কথা শুনতে হয়। রাতুলের চেয়ে বেশি চিন্তা রতসীর জন্য হয়। মধ্যবিত্ত পরিবারের ডিভোর্সি ঘরের মেয়ে। সমাজ সবচেয়ে বেশি কথা ওকে শুনাবে। রাতুলকে গড়ে তুলতে পারলে ব্যক্তিত্ব দিয়ে ও নিজেই নিজের জায়গা করে নিতে পারবে। কিন্তু রতসী? ও যতই শক্ত ব্যক্তিত্ব নিয়ে গড়ে উঠুক, আমাদের সমাজ তো ওর ব্যক্তিত্ব আলাদাভাবে দেখবে না। এই সমাজে নারীর ব্যক্তি পরিচয় দেখা হয় পরিবারের দিকে তাকিয়ে। তাছাড়া অনবরত রাতুল-রতসীকে এসব কথা শুনতে হয়। কেউ ওদের কথা বললে প্রথমেই বাবা-মার ডিভোর্সের ব্যাপার তোলে। ওদেরকে নিয়েও নেতিবাচক ধারণা করে। ওদের মনের আকাশ হতাশার কালো মেঘে ঢেকে যায়। কাকলী ওদেরকে এই কষ্ট পেতে দেখে নিজেও কষ্টো পায়। রাতুল ভাল আছে। ক্ষোভভরা বুকে তাকে ছেলে-মেয়ের কষ্ট দেখে পুড়তে হয় না। কাকলী ভাবে; আরো বেশি রেগে যায়। হেডস্যার কাকলীর পরিবর্তন লক্ষ্য করে। কাকলীর ব্যাপারগুলো বুঝতে পারে। কাকলীকে নিরব সহানুভূতি দিতে থাকে। কাকলী এবার আর এড়িয়ে যায় না। একসময় হেডস্যার তার দূর্বলতার কথা বলে। কাকলী রাজি হয় না। তিনি তারপরও কাকলীকে সাহায্য কজরে যান। কাকলীর কষ্টের সময় পাশে থাকেন। তিন বছর তার সাহায্য নিয়ে কাকলী এতটাই ঋণী আর দূর্বল হয়ে পড়ে যে নিজেই তার প্রেমে পড়ে যায়। তার নামে আবার নতুন ‘স্ক্যান্ডেল’। এবারো কষ্ট রাতুল-রতসীর জন্য। রাফাতের প্রতি ঘৃণা আরো বেড়ে যায়। যদিও রাতুল-রতসী এগুলো কথায় কষ্ট কমই পেত। মাকে নিজেদের চোখে ক্ষয়ে যেতে দেখেছে তারা। তাই মায়ের প্রতি অপার ভালবাসা তাদের আর বাবার প্রতি অসীম ঘৃণা জন্মেছিল। তবু মা হিসেবে কাকলী মেনে নিতে পারত না। কেন জানি রাফাতকে খুঁজে পেয়ে মুক্তি পেতে চাইত। কিন্তু কল্পনার রঙ বাস্তবে ধরা দিত না। বাস্তবের রঙ হয়ে হেডস্যারই সাহায্য করতেন।

কাকলী এখন বাচ্চা মানুষের মত কাঁদছে। মুখে বালিশ চেপে। বালিশের কভার খামচে ধরে মাঝে মাঝে চিৎকার দিচ্ছে। মেঝেতে পা আঁছড়ে মারছে। চোখের সামনে অপার শুণ্যতা। চারপাশ থেকে একাকীত্ব ঘিরে ধরেছে। কাকলী কেঁদে চলেছে। আরো জোরে। হঠাৎ বালিশের উপর বের হয়ে থাকা কপালের অংশে ঠোঁটের শীতল স্পর্শ। কাঁধে সহানুভূতির দু’টি হাত। চোখ তুলে দেখে কাকলী। সহানুভূতির সেই মুখ। বালিশ ছেড়ে তাকে জড়িয়ে ধরে কাকলী। মুখ দিয়ে অস্ফুট স্বরে বেরিয়ে আসে, ‘আবির!’।

১৮ thoughts on “কাকলী

  1. কিছুই বলার নেই…
    যত চিৎকার

    কিছুই বলার নেই…

    যত চিৎকার করি, যতই আওয়াজ তুলি… সমাজের নির্মম বাস্তবতার কাছে আমরা সত্যি পরাধীন!

    তবুও কাকলীরা স্বপ্ন দেখুক… কেউ একজন কাকলীদের পাশে এসে দাঁড়াক।

  2. ভালো লাগল। একটানে পড়ে ফেললাম।
    ভালো লাগল। একটানে পড়ে ফেললাম। শেষে এসে একটু খটকায় পড়ে গেলাম। হু ইজ আবির? হেডস্যার?

  3. গল্পটা পড়া শুরু করছি সেই
    গল্পটা পড়া শুরু করছি সেই দুপুরে , তারপর বিরতি । এখন শেষ করলাম । চমৎকার একটা গল্প । :থাম্বসআপ:

  4. এক কথায় অসাধারণ…
    এক কথায় অসাধারণ… :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:
    সমাজের খুঁতগুলো খুঁতযুক্ত মানুষেরা কখনও বদলাতে পারবে না!!

    দুইটা প্রশ্নঃ
    ১) হ্যাঁ।
    – বিদায়।
    – আল্লাহ হাফেজ।
    প্রতনু চলে যেতে লাগল। রতসী তাকিয়ে… সবাই হিন্দু তাই আল্লাহ হাফেয না হয়ে খোদাহাফেজ বা গুডবাই হলেই ভাল হত!!

    ২) “কাকলীর বাবা আগে ই.পি.আর-এ চাকরী করত”!! তৎকালীন ইপিআরে হিন্দু সৈনিক বা অফিসার ছিলই না বললে চলে। অন্যকোন সরকারি চাকুরি হলে আরও ভাল হত!!

    এমন আরও কিছু ছোট-খাট ভুল থাকলে শুধরে কোন পত্রিকায় জমা দিয়ে দেখতে পারেন! :salute:

    1. আমি কিন্তু মুসল্মান হিসেবে
      আমি কিন্তু মুসল্মান হিসেবে লিখেছিলাম। কাকলী নামের জন্য মনে হতে পারে। কিন্তু আমার নিজের নামটাও হিন্দু ধাঁচের হওয়ায় আর নাম শুনে হিন্দু মনে করার ব্যাপারটাকে ভুলে গিয়ে লেখা। মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ।

      1. ভাই আজও আমরা হিন্দুয়ানী বলে
        ভাই আজও আমরা হিন্দুয়ানী বলে একটা শব্দ ‘জল’ কে সাম্প্রদায়িকতায় ফেলে দিয়ে ‘পানি’ পান করছি তাই সন্দিহান ছিলাম!! অন্যথায় ব্যাপক হয়েছে… :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

        1. সন্দেহ থাকাই যৌক্তিক। কিন্তু
          সন্দেহ থাকাই যৌক্তিক। কিন্তু এই সাম্প্রদায়িকতা থেকে বেরিয়ে আসা দরকার। আপনার মন্তব্য পড়ে বেশ ভাল লাগল। ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *