ফ্যাসাদে বিরোধী দল

বেশ ফ্যাসাদে পরে গেছে বিরোধী দল। তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাবে? না ক্ষান্ত দিবে? ক্ষান্ত দিলে প্রশ্ন দেখা দিবে, এতদিন তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে জ্বালাও পোড়াও আর হরতাল কেনো দেয়া হল। আর আন্দোলন করে নির্বাচন বয়কট করলে, প্রায় নিশ্চিত জয় পায়ে ঠেলে দেয়া হবে। মাঝামাঝি মুখ রক্ষার একটা কিছুর সন্ধান বোধহয় শুরু হয়ে গেছে। ঠিক কতটুকু হলে ‘শ্যাম কুল’ দুটোই রক্ষা হয় সেই পর্যালোচনা হয়তো এখন চলছে।

বেশ ফ্যাসাদে পরে গেছে বিরোধী দল। তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাবে? না ক্ষান্ত দিবে? ক্ষান্ত দিলে প্রশ্ন দেখা দিবে, এতদিন তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে জ্বালাও পোড়াও আর হরতাল কেনো দেয়া হল। আর আন্দোলন করে নির্বাচন বয়কট করলে, প্রায় নিশ্চিত জয় পায়ে ঠেলে দেয়া হবে। মাঝামাঝি মুখ রক্ষার একটা কিছুর সন্ধান বোধহয় শুরু হয়ে গেছে। ঠিক কতটুকু হলে ‘শ্যাম কুল’ দুটোই রক্ষা হয় সেই পর্যালোচনা হয়তো এখন চলছে।
সিটি কর্পোরেশান নির্বাচন গুলো নিয়ে জনগণের মনের অবস্থা ছিল বেশ মজার। ধরেই নিয়েছিল, নির্বাচন করতে হয় তাই করা। আসলে তো ফলাফল ঠিক করেই রেখেছে সরকারী দল। কারচুপির অভিযোগ যেন না ওঠে তাই চারটার ভেতর দুটো জিতবে আর দুটো হারবে। আর এই হারাটাও হবে ইচ্ছাকৃত। দেখানোর চেষ্টা হবে, সরকার সুষ্ঠু নির্বাচন করানোর ব্যাপারে বেশ আন্তরিক। আর যে দুটো জিতবে সেখানেও কারচুপি বেশ সতর্কতার সঙ্গে করবে যেন কেউ বুঝতে না পারে। শুধু দেখার ব্যাপার ছিল কোন দুটো।
ঘটনা তেমনটা ঘটলো না। নির্বাচনের রায় যখন আসতে শুরু করলো, তখন প্রথমটায় ছিল অবিশ্বাস। চারটাতেই হারবে? কোনটায় ই কি জেতার চেষ্টা করবে না? একসময় যখন স্পষ্ট হয়ে গেল আওয়ামীলীগ সবগুলোতেই হারছে, তখন প্রশ্ন জাগছিল, কত বাজে ভাবে হারে। সেটাও ধীরে ধীরে স্পষ্ট হতে লাগলে আলোচনার বিষয় পাল্টে যেতে লাগলো, ‘হারবে না? শেয়ার বাজার, ছাত্রলীগ, টেন্ডার বাজি, আবুল হোসেন, পদ্মা সেতু, দুর্নীতি এসব মানুষ তো আর ভুলে যায় নি?’
তবে সমস্যা দেখা দিবে এখন বিএনপি ক্যাম্পে। ‘কারচুপি’ হবে ধরে নিয়ে বেশ কিছু হুমকি ধামকি দিয়ে রেখেছিল। মনে মনে হয়তো চেয়েছিল বিএনপি হারুক, আর তখন কারচুপির ইস্যু নিয়ে রাজপথ গরম করা যাবে। হয়তো কিছু হরতাল আর মিছিলের ও প্রস্তুতি ছিল। এরপর সেই আন্দোলনকে নির্বাচন পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হত। উল্টোটা হলে কি করবে, সেই প্ল্যানিং ছিল কি না, তা স্পষ্ট না। ‘নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে’ এমন বক্তব্য দিবে কি না সেই ব্যাপারেই দ্বিধা দন্দে ভুগছে। ‘জনগণ কারচুপি করতে দেয় নি’ এমন একটা অবস্থান বেস ‘ফেস সেভিং’। এই লাইনে আপাততঃ এগোবে, সরকারকে নসিহত দিবে ‘তত্ত্বাবধায়ক’ সরকারের দাবী মেনে নেয়ার। কিন্তু না মানলে কি করবে, তা খুব স্পষ্ট না। বিশেষ করে এই জয়ের পরে নির্বাচন বয়কট এর মত সিদ্ধান্ত নেবে বলে মনে হয় না।
বিএনপি এবার কি করবে সেটাই এখন দেখার বিষয়। আওয়ামীলীগ ছাড় দেবে না, এমন অবস্থানে এখন পর্যন্ত অনড়। এই ফলাফলের পরে আওয়ামীলীগের অবস্থানে নড়চড় হবে কি না কিংবা আন্দোলন করলে সরকার তাঁদের দাবী মানবে কি না এমন একটা দোটানায় পড়তে যাচ্ছে বিএনপি। আন্দোলন করার শক্তি তাঁদের নেই, তা তাঁরা বুঝে গেছে। আবার জনগণ এই সরকারের ওপর বীতশ্রদ্ধ এটাও দিবালকের মত পরিষ্কার। ফলে নির্বাচনে গেল জয় প্রায় নিশ্চিত। এমন একটা ‘প্রায় জিতে যাওয়া’ নির্বাচন বয়কট করা খুব বুদ্ধিমানের কাজ হবে কি না—এই প্রশ্ন এখন বিএনপি শিবিরে।
বিএনপিকে ‘দ্বিধা’য় ফেলাই কি আওয়ামী শিবিরের প্ল্যান? আওয়ামীলীগ কি এটাই চাইছিল? খুব সুন্দর, সুষ্ঠু একটা নির্বাচন করে ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের’ দাবীকে অপ্রয়োজনীয় প্রমাণের চেষ্টা? ‘ভোটের হাওয়া এখন বিএনপির পালে’ এমন একটা ব্যাপার যদি স্টাব্লিশ করা যায়, তবে বিএনপি হয়তো আন্দোলনে না গিয়ে, নির্বাচনে অংশ নিবে। ফলে ‘আন্দোলনের পরে নির্বাচন হলে জয় নিশ্চিত’ প্রতিষ্ঠিত এই ফর্মুলা তে না যেয়ে স্বাভাবিক একটা নির্বাচনে যেতে আপত্তি করবে না। আর ‘নির্বাচনে কারচুপি’র চেষ্টা করবে কি না সেই ব্যাপারটা গৌণ হয়ে যাবে।
এই নির্বাচনগুলো একটা ব্যাপার বুঝিয়ে দিয়েছে, জনগণ এই সরকারের ওপর ক্ষিপ্ত। ‘যুদ্ধাপরাধী দের বিচার’ আর ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’ এসব ইস্যু তুলে খুব সহজেই নিজেদের অপকর্ম ঢাকবার চেষ্টা খুব একটা বাজার পাবে না বোঝা গেছে। তাঁর চেয়েও বড় কথা, এই কাজগুলো যে কেবল ভোটের জন্য করছে, তাও স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে। কিছু রায় দিয়ে, আর কিছু রায় ঝুলিয়ে রেখে পরবর্তী নির্বাচনের ইস্যু বানানোর চেষ্টাটা জনগণ খুব ভালো ভাবে নেয় নি, তা স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছে। এই ব্যাপারে আওয়ামীলীগ কে নতুন ভাবে ভাবতে হবে।
হাতে কিছু সময় আছে। ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’ করা সম্ভব কি না এই চিন্তা হয়তো শুরু হয়ে গেছে আওয়ামী শিবিরে। জাতীয় পার্টি মনে হচ্ছে বিএনপি শিবিরে যোগ দিতে যাচ্ছে। ফলে সঙ্গে থাকছে কেবল বামেরা। ওদেরও অবস্থা এমন কিছু শক্ত না। ফলে প্রায় একাই নির্বাচন করতে হবে। আর ওদিকে বিশাল জোট। যদিও এর বেশিরভাগই ‘নাম সর্বস্ব’ দল তারপরও ‘ধর্ম ভিত্তিক’ দলগুলো র একটা ‘ভোট ব্যাংক’ আছে। সঙ্গে যোগ হতে যাচ্ছে ‘আন্টি ইঙ্কাম্বেন্সি’ ফ্যাক্টর।
‘ফ্লোটিং ভোটার’ দের সমর্থন যে আওয়ামী শিবির হারিয়েছে তা তাঁরা বুঝে গেছে। তত্ত্বাবধায়ক নিয়ে গোঁয়ার্তুমি ও যে জনগণ পছন্দ করে নি তাও অনেকটাই স্পষ্ট। ‘টেন্ডার বাজী’ আর ‘সীমাহীন দুর্নীতি’ বিএনপি করবে না এমনটাও না। তারপরও বিএনপিকে জনগণ ভোট দিচ্ছে, কেবল ‘আওয়ামী লীগ’ কে প্রত্যাখ্যান করার জন্য। এই ব্যাপারটা বিএনপিও যদি বোঝে আর সাবধান হয়ে চলে, তবে অন্ততঃ গনতন্ত্রের জন্য মঙ্গল।
সামনের কিছুদিন খুব গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে। বিএনপি কি সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে, তাঁর ওপর নির্ভর করছে দেশের রাজনীতি কোন পথে চলবে। আওয়ামী শিবির কি করবে? ‘তত্ত্বাবধায়ক’ প্রশ্নে নমনীয়তা দেখাবে? না গোঁয়ার্তুমি চালিয়ে যাবে? ‘দারুণ সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে’ এই বলে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের চেষ্টা চালিয়ে যাবে? ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’ শুরু করবে? না ‘কেবল চারটি শহরের মানুষের মত’ বলে পাশ কাটাবে?

৭ thoughts on “ফ্যাসাদে বিরোধী দল

  1. এই ব্যাপারটা বিএনপিও যদি বোঝে

    এই ব্যাপারটা বিএনপিও যদি বোঝে আর সাবধান হয়ে চলে, তবে অন্ততঃ গনতন্ত্রের জন্য মঙ্গল।

    কি বুঝবে বি এন পি — !!! ওরা ক্ষমতায় আসা মানে জামায়াত আসছে ।। হেফাজত আসছে !!!!! যুদ্ধাপরাধীরা মুক্তি পাচ্ছে । !!!!!!!!!!!!! গনতন্ত্রের মঙ্গল কেমনে হইল বুঝি নাহ । আর বাঙ্গালির স্বভাবই তো অইতা যে – ৫ বছর তারা এক কুকুর এর ঘেও ঘেও শোনে , পরের বছর পুরাতন কিন্তু নতুন কুকুর আনে । :ক্ষেপছি:

    1. বলেছি বেশী দুর্নীতি করলে
      বলেছি বেশী দুর্নীতি করলে তাঁদেরও তারান হবে– এটা যদি বুঝে চলে। আর বিএনপি কে আসতে না দেয়ার দ্ব্যিত্ব ওঁত আওয়ামী দের– আর সেটা করতে হবে ভালো ভাবে দেশ চালিয়ে– তা না করলে এই হবে।

  2. বি এন পি ক্ষমতায় আসলে আমাদের
    বি এন পি ক্ষমতায় আসলে আমাদের আর ঘর থেকে বের হওয়া লাগবেনা।জামাতরা কোপায় মারবে।বি এন পি কিন্তু একা পুরা ১৮ দল ,১৮টা সন্ত্রাসের দল

    1. এই কথাগুলো যাদের মনে রাখা
      এই কথাগুলো যাদের মনে রাখা দরকার তাঁরা থোরাই কেয়ার করে? তাঁদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ‘টেন্ডার’

  3. বিএনপিকে জনগণ ভোট দিচ্ছে,
    বিএনপিকে জনগণ ভোট দিচ্ছে, কেবল ‘আওয়ামী লীগ’ কে প্রত্যাখ্যান করার জন্য

    যথার্থ বলেছেন! খেলা জমবে আরও, দেখি কি হয়!!
    ভাল লেগেছে আপনার বিশ্লেষণ… :রকঅন: :রকঅন: :রকঅন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *