কল্পনার জীবন

বাসার দরজায় একটু ধাক্কা দিতেই দরজাটা খুলে গেল । মনের ভিতর একটু খটকা লাগল । ভিতরে ঢুকতেই পুরো শরীর কেঁপে উঠলো । বাসা পুরো নিস্তব্ধ । আরেকটু ভিতরের দিকে যাচ্ছিলাম তখন শরীরে একটি শীতল পরশ অনুভব করলাম । পিছে ফিরতেই কে যেন আমার শরীরের উপর ঝাপিয়ে পড়ল ।
” মিতু, এমন করে না । লক্ষ্মী মেয়ে আমার ।”
”এতো দেরি করলে কেন ?”
” অফিস এ কাজ ছিল ।”
”আমি অফিস এ ফোন করেছিলাম । ওরা বলল তুমি নাকি আজকে আগে বেরিয়েছ ।”
”তুমি অফিস এও ফোন করেছিলে ”
”কেন? আমি কি তোমার অফিস এ ফোন করতে পারি না ?”
” পারো ………………”
” এখন বল কোথায় গিয়েছিলে ?”
” কোথাও না , মামনি ”
”তাহলে এতো দেরি কেন ?”

বাসার দরজায় একটু ধাক্কা দিতেই দরজাটা খুলে গেল । মনের ভিতর একটু খটকা লাগল । ভিতরে ঢুকতেই পুরো শরীর কেঁপে উঠলো । বাসা পুরো নিস্তব্ধ । আরেকটু ভিতরের দিকে যাচ্ছিলাম তখন শরীরে একটি শীতল পরশ অনুভব করলাম । পিছে ফিরতেই কে যেন আমার শরীরের উপর ঝাপিয়ে পড়ল ।
” মিতু, এমন করে না । লক্ষ্মী মেয়ে আমার ।”
”এতো দেরি করলে কেন ?”
” অফিস এ কাজ ছিল ।”
”আমি অফিস এ ফোন করেছিলাম । ওরা বলল তুমি নাকি আজকে আগে বেরিয়েছ ।”
”তুমি অফিস এও ফোন করেছিলে ”
”কেন? আমি কি তোমার অফিস এ ফোন করতে পারি না ?”
” পারো ………………”
” এখন বল কোথায় গিয়েছিলে ?”
” কোথাও না , মামনি ”
”তাহলে এতো দেরি কেন ?”
”অফিস থেকে আগে বেরিয়ে হেটে বাসায় এসেছি তো ।”
” এবার তাহলে বুঝলাম ”
ভিতর থেকে ” মিতু তুই কার সাথে কথা বলছিস ?”
“দাদু বাবা এসেছে ”
মা আমাকে জিজ্ঞাসা করল ,” এতো দেরি কেন?”
আমি বললাম ,”হেঁটে এশিছি তো ”
”হাত,মুখ ধুয়ে খেতে আয় ।”
”মিতু খেয়েছে নাকি ?”
মিতু তৎক্ষণাৎ রেগে গিয়ে বলল ,”আমি কি তোমাকে ছাড়া কোনোদিন খেয়েছি”
”তা ঠিক”
বাসায় আশার পরপরি আমার উপর দিয়ে ঝড় বয়ে যায় । আমার মা ও মেয়ে প্রশ্ন করে আমাকে মেরেই ফেলে প্রায় ।
খেয়েদেয়ে মিতুকে সঙ্গে করে ঘুমুতে গেলাম । ঘুমুতে গেলে আআবার আরেক সমস্যার উদয় হয় । ঘুমপাড়ানি গান গেয়ে মিতুকে ঘুম পারাতে হয় । কতবার ওকে বলেছি আমার গানের গলা শুনলে তুমি এক সপ্তাহ আর ঘুমাতে পারবে নাহ । তবুও সে মানে না ।
এই কাজটা আমাকে আগে করতে হতো না । ওর মা ই আগে এই কাজটা করতো । কিন্তু গত এক বছর আগে ওর মা মারা যায় । ফলে আমাকে এই কাজটা এখন প্রতিনিয়ত করা লাগছে । মাকে এই কাজটা করতে বলেছিলাম । কিন্তু মা মিতুর আগে ঘুমিয়ে পড়ে ।
মিতুকে নিয়ে বড় চিন্তায় আছি । ওর বয়স এখন প্রায় পাঁচ বছর স্কুলে ভর্তি করা লাগবে । কিন্তু ও কোন স্কুলে ভর্তি হতেই চায় না । পরে বহু কষ্টে ওকে রাজি করালাম ।
স্কুলের প্রথমদিন ক্লাস করার পর রাতে সবাই যখন খেতে বসলাম । তখন ওকে জিজ্ঞাসা করলাম ”স্কুল কেমন লাগলো , মামনি ?”
মিতুর ছোট জবাব ” ভাল ”
হটাত করে আমার কানে ভেসে আসলো মিতু বলছে , ” আম্মমু আমাকে খাইয়ে দাও ”
আমি ভাবলাম হয়তো আব্বু বলেছে আমি আম্মু শুনেছি ।তখন আমি বললাম,”মামনি নিজে খেতে শিখো ।”
কোন উত্তর পেলাম না । মাথা একটু উঁচু করেতেই দেখলাম মিতু’র খাওয়া শেষ । ও উঠে ছলে যাচ্ছে । এতো তাড়াতাড়ি ও কোনদিনই খায় না । খায় না বললে ভুল হবে খেতেই চায় না ।
খাওয়ার কাহিনীর রেশ কাটতে না কাটতেই দেখলাম মিতু খাটে গিয়ে ঘুমিয়ে পরেছে । আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম । যে মেয়ে গান না শুনে ঘুমুতে পারে না সে মেয়ে কিনা আজ একাই শুয়ে পড়ল ।
আমার মনে হচ্ছে আমি অসুস্থ হয়ে পরেছি । খুব শিগ্রই ডাক্তার দেখান উচিৎ । মা আজকে সকালে গ্রাম আ চলে গেলেন । কেন গেলেন কিছুই বুঝতে পারছি না । আগে মা মিতু কে স্কুলে নিয়ে যেতেন । এখন আমি ঝামেলায় পরে গেলাম । কিছু করার না পেয়ে এখন আমি ওকে অফিস এ যাওয়ার পথে স্কুল এ দিয়ে যাই আর ওর যখন স্কুল ছুটি হয় তখন ওকে অফিসে নিয়ে আসি । অফিস ছুটির পর একসাথে বাসায় আসি ।
একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠতে দেরি করে ফেললাম । পাশে তাকিয়ে দেখি মিতু নেই । মনে করলাম হয়তো বারান্দায় বসে আছে । গেলাম বারান্দায় দেখি মিতু নাই । তখন আমি ঘাব্রে গেলাম ।পুর বাসা খুজলাম কিন্তু মিতুকে পেলাম না । পরে দেখি বাসার দরজা খোলা । দৌড়ে নিচে গেলাম । নিচে কাউকে দেখলাম না । গাড়ির ছাবি সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলাম তাই গাড়ি নিয়ে ওর স্কুলের উদ্দেশে রউনা দিলাম । স্কুলে গিয়ে দেখি ও ক্লাস করছে ওর সাথে দেখা না করেই বাসায় আসলাম । অফিস এর জন্য প্রস্তুত হয়ে অফিস এ চলে গেলাম । সকালের ঘটনা সম্পর্কে ভাবতে লাগলাম । কার সাথে এই ঘটনা শেয়ার করা যায় । অনেক চিন্তাভাবনা করে সিদ্ধান্ত নিলাম এক সপ্তাহর জন্য ছুটি নিব । বিশ্রাম নিলে হয়তো সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে ।
বাসায় দু – তিন দিন কাটানোর পর ভাবলাম জা চিন্তা করেছিলাম তাই হল । যাকিছু ঘটেছিল শব ছিল আমার হাল্লোসিনাশন । এগুল ভেবে নিজের ঘরে ঠুকছিলাম । হঠাৎ দেখি মিতু যেন কার সাথে কথা কথা বলছে আর খেলছে । এমন সব খেলা যা একা খেলা সম্ভব না । কি করবো বুঝতে পারলাম না । দেখেও না দেখার ভাব করে বিছানায় গিয়ে ঘুমিয়ে পরলাম ।
ঘুম থকে উঠে দেখি মিতু আমাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে আছে ।
হঠাৎ মনে হল একজন মনোবিজ্ঞানীকে দেখালে কেমন হয় ? আমি আর আমার মেয়ে পরেরদিন প্রস্তুত হয়ে ডাক্তারের কাছে রওনা দিলাম । মিতুর ঘরাফেরা শুধু স্কুল থেকে বাসা এইটুকুই আজ বহুদিন পর বাহিরে দেরিয়েছি দেখে ওকে বেশ উল্লাসিত লাগছে । রাস্তার বিভিন্ন জিনিশ দেখে ও কিনতে চাচ্ছিল । আমি সবকিছুই কিনে দিচ্ছিলাম ।
ডাক্তার এর চেম্বারে একটু বেশি সময় নিয়েই পৌছালাম । মেয়েটা আজকে বেশ খুশি । ডাক্তার বলা ঠিক হচ্ছে না । বলা উচিত মনোবিজ্ঞানী । তার নাম মনীষা ।
তার রুমটা অনেক বড় । কিন্তু তাকে দেখলাম রুমের এক কনে বসে থাকতে । তার সামনে আমি মেয়েটাকে নিয়ে বসলাম ।
মনীষা বলল ,”আপনার সাথে তো আমার প্রায় কিছুদিন আগে কথা হয়েছিল । ”
আমি বললাম ,” জি , হ্যাঁ ।”
”আপনি আমাকে সবকিছু খুলে বলেছিলেন ।”
”জি । ”
”দয়া করে আমাকে আবার বলবেন । ”
”কেন ।”
”টেলিফোনে কথা শোনা আর সরাসরি সামনাসামনি বসে কথা বলার মাঝে পার্থক্য আছে । ”
এরপর আমি তাকে সবকিছু বলি ঠিক তেমনি যেমনি তাকে ফোনে বলেছিলাম । কথা বলার মাঝখানে মিতু বেশ বিরক্ত করছিল । তখন আমি রাগ সামলাতে না পেরে ওকে একটা ধমক দেই ।
তখন মনীষা বলে উঠেন ,”আপনি কাকে ধমক দেন ?”
”কেন আমার মেয়েকে ”
”’আপনার মেয়ে কই ?”
আমি মিতুকে কোলে তুলে ডাক্তারকে দেখালাম ।
মনীষা হাসতে হাসতে বলল ,” এইটা কি ?”
” আমার মেয়ে ?”
মনীষা গম্ভীর হয়ে বললেন ,” আমি এখন আপনাকে কিছু কথা বলবো । আপনি মনোযোগ দিয়ে শুনবেন ।কোন প্রশ্ন করার থাকলে আমার কথা শেষ হওয়ার পরে করবেন । ঠিক আছে ।”
একটু নম্র ভাবে বললাম ,”ঠিক আছে ।”
” বিখ্যাত মনোবিজ্ঞানী হোয়ামফেল্ট তার বই dream life -এ কিছু ঘটনা লিখে গেছেন । যার একটি আপনার ঘতনার সাথে মিলে যায় । ঐ ঘটনার প্রেক্ষিতে আপনার ঘটনার বিবরণ দেয়া যায় ।
সেই ঘটনায় আপনার জায়গায় একজন মেয়ে থাকে আর আপনার মেয়ের জায়গায় থাকে একজন ছেলে । এই যা পার্থক্য ।
হোয়ামফেল্ট এই সমস্যার সমাধানে লিখেছেন ,” মেয়েটির ছোটবেলা থেকেই শখ ছিল বিয়ে যে সে বিয়ে করবে , সংসার করবে , তার বাচ্চা হবে ইত্যাদি । কিন্তু এই চিন্তা করতে করতে সে তার কল্পনার জগতে চলে যায় । সে তার কল্পনার এক ছেলেকে বিয়ে করে । সেই শুধু তার স্বামীকে দেখতে পেত । অন্য কেউ দেখতে পেত না বলে ওকে বিভিন্ন রকম কথা বলতো । যার ফলে সে একদিন রাগ করে শহরে চলে আসে । শহরে আসার প্রায় এক বছর পর তার একটি ছেলে হয় । এইটাও তার একটা কল্পনা । প্রকৃতপক্ষে সে নিজের কল্পনার তৈরি রাজ্যে বাস করতে লাগল । তার ছেলের যখন তিন বছর তখন তার স্বামী মারা যায় । এরপর আপনার মত সকল ঘটনা ঘটতে থাকে ।
অর্থাৎ আমরা এখন বলতে পারি আপনার সবকিছুই কল্পনা । আপনার মেয়ে আর আপনার মৃত স্ত্রী উভয়ই আপনার কল্পনা । এখন আপনার কি কিছু বলার আছে?”
”হ্যাঁ, আমার মা যে আমার মেয়ের সাথে কথা বলেছে । এইটার ব্যাখা কি ?”
” আপনার মা কি কখন আপনার মেয়েকে কোলে নিয়েছে বা কোনরুপ স্পর্শ করছে কখনো বলে আপনার মনে পরে ?”
” না, আমার মা কখন আমার মেয়েকে কোলে নেয়নি বা তাকে স্পর্শও করেনি । ”
” তাহলে আপনার মা শুধু আপনাকে সান্ত্বনা দেয়ার জন্য এই কাজটা করেছ । ”
” আপনি কি আমার কথা বুঝতে পারছেন ?”
”হ্যাঁ”
” আপনি এখন আপনার মেয়েকে ডাকুন ।”
আমি তখন মিতু বলে ডাক দিলাম কিন্তু কোন সাড়াশব্দ পেলাম না । চারদিকে তাকিয়ে দেখি মিতু কোথাও নাই ।
গাড়িটা রেখেই হেঁটে হেঁটে বাসায় পৌছালাম । বাসায় ঢুকে দেখি বাসায় আমার শবারঘরে আমার , আমার স্ত্রী আর আমার মেয়ের যে ছবি ছিল তাতে শুধু আমি আছি ।
গোসল করে এশার নামায পরলাম ।এরপর বারান্দায় গিয়ে বসলাম । মোবাইল হাতের কাছে ছিল বলে মাকে ফোনে করলাম ।
প্রথমেই শুরু করলাম ,” মাই তুমি আগেই জানতে সবকিছু ।”
মা বললেন , ” কি জানতাম ?”
”আমার বিয়ে হয়নি, আমার স্ত্রী নেই, আমার মেয়ে নেই । ” এই কথা বলতে গিয়ে আমার কণ্ঠ ভারি হয়ে গেল ।
মোবাইলের ওপাশ থেকে আর কোন শব্দ পেলাম না । শুধু একবার মায়ের কান্নার শব্দ শুনতে পেলাম

১৩ thoughts on “কল্পনার জীবন

    1. আর ভাই আরেকটা জিনিস । আপনাদের
      :ধইন্যাপাতা:
      আর ভাই আরেকটা জিনিস । আপনাদের সবার কমেন্টের শেষে একটি করে বাণী । একটু যদি বুঝিয়ে দিতেন । :চিন্তায়আছি: :চিন্তায়আছি:

  1. গল্প তাইলে লিখেই ফেললেন।
    গল্প তাইলে লিখেই ফেললেন। :p
    অসাধারন হইছে। বুঝাই যাইতেছে কষ্ট কইরা লিখছেন। (y)
    তবে গল্প মনে হয় তাড়াতাড়ি শেষ করতে গিয়া কাহিনী গুলা একটু বেশিই টেনে ফেলছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *