সীমায় বন্দী

দেশীয় রাজনীতি লইয়া একটু ভাবনা করা দরকার। লেখনীর শুরুতে বলিয়া রাখি- আমাকে ভাবুক ভাবিয়া অনুগ্রহ বশে ভাবনায় পড়িয়া যাইবেন না।

ভাবিলামঃ এইযে আওয়ামীলীগের পরাজয় হইল- এইটা কি আওয়ামীলীগের পরাজয় ছিল নাকি আওয়ামীলীগ হারিলো এইটা একটু ভাবা দরকার। অথবা এইযে বিনপির জয় হইল- ইহা কি বিএনপির জয় ছিল নাকি বিএনপি জিতিলো এইটাও একটু ভাবা দরকার। এবং এইটাও ভাবা দরকার- এইযে ‘জয়-পরাজয়’ শব্দ দুইটা, এই দুইটা শব্দ কেন প্রকারান্তরে শুধুমাত্র ‘আওয়ামীলীগ-বিএনপি’ কে অক্ষ বিবেচনা করিয়া নিয়ত ঘুরপাক খাইতেছে। এবং আমাদিগের আরো ভাবা দরকার- এই অর্থহীন ঘুরপাক কতখানি স্বতঃসিদ্ধ এবং চেতনার



দেশীয় রাজনীতি লইয়া একটু ভাবনা করা দরকার। লেখনীর শুরুতে বলিয়া রাখি- আমাকে ভাবুক ভাবিয়া অনুগ্রহ বশে ভাবনায় পড়িয়া যাইবেন না।

ভাবিলামঃ এইযে আওয়ামীলীগের পরাজয় হইল- এইটা কি আওয়ামীলীগের পরাজয় ছিল নাকি আওয়ামীলীগ হারিলো এইটা একটু ভাবা দরকার। অথবা এইযে বিনপির জয় হইল- ইহা কি বিএনপির জয় ছিল নাকি বিএনপি জিতিলো এইটাও একটু ভাবা দরকার। এবং এইটাও ভাবা দরকার- এইযে ‘জয়-পরাজয়’ শব্দ দুইটা, এই দুইটা শব্দ কেন প্রকারান্তরে শুধুমাত্র ‘আওয়ামীলীগ-বিএনপি’ কে অক্ষ বিবেচনা করিয়া নিয়ত ঘুরপাক খাইতেছে। এবং আমাদিগের আরো ভাবা দরকার- এই অর্থহীন ঘুরপাক কতখানি স্বতঃসিদ্ধ এবং চেতনার বিবর্তনে এহেন ঘুরপাকের কোনো বিশেষ উপকারীতা আছে কিনা।
ভাবনার উপসংহারে পদার্পণ যদিচ এই ভাবনার প্রস্তাবিত শিরোনাম নহে তদুপরি কতিপয় অনুসিদ্ধান্তে উপনয়ন এমত ভাবনার ইতিতে আসিবে বৈকিঃ

এখন; এইযে লীগের পরাজয়, এইটা নিয়া একটু ভাবনায় মশগুল হই- যদিও আমার ইত্যকার ভাবনার পূর্বেই অনেক বিদ্ধান তাহাদের ভাবনা ভাবিয়া ফেলিয়াছেন এবং আমাকেও তদানুযায়ী ভাবিবার জন্যে অনুপ্রাণিত করিয়াছেন তথাপিও আমি অনুপ্রাণিত হইতে না পারিয়া তাহাদের ভাবনার রূপরেখা নিয়াই বরং ভাবিতে শুরু করিলাম। আমার পূর্বেকার জনৈক চিন্তাপ্রসবকারী-চিন্তুক জানাইলেন, ‘এইযে লীগের পরাজয়, এই পরাজয় লীগকে তাহাদের ভুল সম্পর্কে সচেতন করিবে’। জনৈক চিন্তুকের অনুসারীবৃন্দ এক বাক্যে তাহার সহিত সহমত জানাইয়া আগাইয়া আসিলেন। আরেক জনৈক সুশীল প্রগতির দাবিদার-চিন্তুক জানাইলেন, ‘এই পরাজয় আমাদের স্মরণ করিতে বাধ্য করে দেশে মৌলবাদের অস্তিত্ব কতটা শক্তভাবে আছে’। অধিক শোকে মুহ্যমান কেহ আবার একত্রিত হইবার দাবিও তুলিলেন। সত্যি বলিতে- জনৈক চিন্তা উদ্রেককারী চিন্তুকদের চিন্তা-চেতনার গতিরেখাই মূলত আমার চিন্তার বিষয়বস্তু। এই মর্মে আমি জনৈক প্রথমজনের নিকট ফিরিয়া গেলাম- তাহার কথার সারমর্ম হইলঃ লীগ তাহাদের ভুল বুঝিতে পারিয়া পুনরায় ভুল না করিবার ব্যাপারে সচেতন হইবে। এর অর্থ দাঁড়ায় জয়ের ব্যাপারে লীগ যেন আর ভুল না করে; অনেকাংশে আখাংকার মতই। অর্থাৎ কি করিলে লীগের পরাজয় এড়ানো যাইবে সেইদিকে ইঙ্গিত করিলেন। একটু গভীরে তাকাইলে- তিনি লীগকেই জয়ী দেখিতে চাহিলেন, এইযা। ইহাতে দোষের কিছু নাই আবার আছেও। এখন, এইযে চাওয়া কিংবা ভাবনার এহেন মেরুকরণ- এর পেছনের কারণটা কি? এই ভাবনার গভীর বোধখানা তিনি কি আমাদিগকে জানাইতে পারিবেন? পারিলেও তাহার অর্বাচীন মূল্যবোধ আমরা কেন গ্রহণ করিব? এবং তাহার মূল্যবোধ যে অর্বাচীন এই ব্যাপারে আমাদিগের কি কোনরূপ সন্দেহ পোষণ করা উচিত হইবে? ইত্যবসরে আমরা জনৈক সুশীলের নিকট ফিরিয়া আসিলাম। তিনি জানাইলেন এবং আমরা জানিলাম- এই পরাজয়ের মাধ্যমে মৌলবাদীদের শক্ত অবস্থানের কথা। যাহা তিনি জানাইতে পারিলেন না কিংবা জানানোর চেষ্টা করিলেন না তাহা হইল- এই পরাজয় যদি জয় হইত তাহা হইলে মৌলবাদীদের অবস্থান কতটা নড়বড়ে হইত; আদৌ হইত কিনা। প্রশ্নঃ এই পরাজয় অথবা জয় যাহা লীগকে নির্দেশ করে তাহার সহিত মৌলবাদের শক্ত এবং নরম অবস্থান কতটা সম্পর্কিত? লীগের ভাবনায় এই শক্ত-নরম অবস্থান দুইটার কোন ঠাঁই আছে কিনা? জনৈক সুশীলের এহেন ভাবনা লীগের দরবারে কি শুধুই রাজনৈতিক নহে? অন্তত আমাদের দৃষ্টিতে কি আমরা তাহাই মনে করি না? অতঃপর একত্রিত হইবার দাবি রইল। কিন্তু কেন একত্রিত হইতে হইবে, এবং কেন? কাহার স্বার্থে? কেহ কেহ বলিবেন- যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের স্বার্থে। কিন্তু আমাদিগের চক্ষু বলিয়া কি কিছু থাকিতে পারে না? যদি তাহাই হইবে- আসিফের কেন জামিন মেলে না, সে কি যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে কথা বলেনাই? এই বিচার কি আসিফেরও কাম্য ছিল না? অতএব আমরা কি বুঝিলাম কিংবা আমাদিগের কী বুঝা উচিত?

এইবার বিএনপির জয় লইয়া একটু ভাবি। এইযে বিএনপির জয় হইল- আমার বন্ধু তালিকায় থাকা খুব বেশী জনকে উল্লাস করিতে দেখিলাম না। কিন্তু একজন থার্টি ডিগ্রী এঙ্গেলে জানাইলেন- ‘ধর্মান্ধ নহে ধর্মভীরু জনতার জয় হইল’। কেহ কেহ আধো বদনে জানাইলেন- নির্বাচনের ইঁদুর দৌড়ে বিএনপির আগাইয়া থাকার কথা। এখন, ঐযে থার্টি ডিগ্রী এঙ্গেল- এইটা কিন্তু খুবই ভয়াবহ। এইযে ক্ল্যাসিফিকেশন- ‘ধর্মান্ধ এবং ধর্মভীরু’ এই টার্মটা কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যদি অবজ্ঞা করিয়াও ধরিয়া লই যে ধর্মভীরু মানেই ধর্মান্ধ তাহা হইলেও কিন্তু এই সমস্যার কোনো সমাধান হইবে না। আবার যদি ধরিবার চেষ্টা করি যে- ‘ধর্মভীরু মানেই ধর্মান্ধ নহে’, এই বোধও কিন্তু আমাদিগের মাঝে বিশেষ কোনো আশার সঞ্চার করিতে পারে না। ইহা একটি ভাবিবার বিষয় যদিচ সত্যিকারের সমাধান বলিয়া যাহা বুঝায় ইহার বেলায় তাহা প্রয়োগ করিবার মত উপযুক্ত পরিবেশ আমরা সৃষ্টি করিতে সমর্থ হই নাই। নির্বাচনের ইঁদুর দৌড়ে বিএনপির অবস্থান লইয়া আমি কিংবা আমরা না ভাবিলে বিশেষ কোনো ক্ষতি-বৃদ্ধি হইবে কি? হইলেও আমাদিগের কিছু করিবার আছে কি?

এখন প্রশ্ন হইল কেন আমরা শুধুমাত্র বিএনপি-লীগের জয়-পরাজয় লইয়া ভাবিব? কেনই-বা রাষ্ট্রক্ষমতার দাবিদার শুধুমাত্র বিএনপি-লীগ হইবে? কেন? আমাদিগের চেতনার বিবর্তন কি প্রশ্নসাপেক্ষ? আমরা কি নিজেদেরকে এহেন চরিত্রহীন দুই লম্পট দলের দাস বলিয়া প্রতিষ্ঠিত করিবার তরে মরিয়া? আমাদিগের বোধ-চেতনা-ভাবনা-স্বকীয়তা-মতামত-মুল্যবোধ-স্বাধীনতা-অধিকার কি মরিয়া শ্মশান ঘাটে ধুইয়া মুছিয়া গিয়াছে? যদি তাহাই হয় তবে ঠিক আছে।

৪ thoughts on “সীমায় বন্দী

  1. ভাই আমাদের দেশে স্বশিক্ষিত
    ভাই আমাদের দেশে স্বশিক্ষিত মানুষের বড্ড অভাব !!! আর যে দেশের লাখ মানুষ হেফাজত এর মত ভন্দিও ইসলামিক দলকে সাপোর্ট করে , যুদ্ধপরাধিদের পীর / ফেরেস্তা সমতুল্য মনে করে সে জাতির বিবেক কি এত সহজে জাগ্রত হবে !!!!!!!! বি এন পি – লীগ এর আবর্তনে আতকে আছি আমরা শুধুই এই জন্য ।

  2. আহা! আহা! সাধু!
    আহা! আহা! সাধু! সাধু!
    অত্যইন্ত সত্য বচন!!!
    লজ্জাস্কর বিষয় হইলেও ইহা সইত্য যে আমাঅর দ্বী-জাতীয় তত্ত্ব হইতে আজ-ও বিহির হইতে পারি নাই…এমন নহে যে চেষ্টা হয় নাই বা ইচ্ছা নাই…ইচ্ছাও বারংবার হইয়াছে এবং তাহার নিমিত্তে চেষ্টাও করিয়াছি…কিন্তু ফলাফল ডিম্ব… কারন আমাদিগের চেষ্টা সার্বজীন ছিল না…যে গুটিকয়েকের মধ্যে চেষ্টার অবকাশ ছিল তাও আবার বিভিন্ন গণতান্ত্রিক এবং অগণতান্ত্রিক উপায়ে বারে বারে ধুলিষ্যাৎ হইয়াছে যাহার কারণবশত চেষ্টাকারী আশাহত হইয়ে বা লোভে পইরা নিজেকে আবহমান ধারার সাথে ভাসাইয়া দিয়াছে.…ফলে ফলাফল পুরায় ডিম্বই রহিয়া গিয়াছে.…

  3. আহা! আহা! সাধু!
    আহা! আহা! সাধু! সাধু!
    অত্যইন্ত সত্য বচন!!!
    লজ্জাস্কর বিষয় হইলেও ইহা সইত্য যে আমাঅর দ্বী-জাতীয় তত্ত্ব হইতে আজ-ও বিহির হইতে পারি নাই…এমন নহে যে চেষ্টা হয় নাই বা ইচ্ছা নাই…ইচ্ছাও বারংবার হইয়াছে এবং তাহার নিমিত্তে চেষ্টাও করিয়াছি…কিন্তু ফলাফল ডিম্ব… কারন আমাদিগের চেষ্টা সার্বজীন ছিল না…যে গুটিকয়েকের মধ্যে চেষ্টার অবকাশ ছিল তাও আবার বিভিন্ন গণতান্ত্রিক এবং অগণতান্ত্রিক উপায়ে বারে বারে ধুলিষ্যাৎ হইয়াছে যাহার কারণবশত চেষ্টাকারী আশাহত হইয়ে বা লোভে পইরা নিজেকে আবহমান ধারার সাথে ভাসাইয়া দিয়াছে.…ফলে ফলাফল পুরায় ডিম্বই রহিয়া গিয়াছে.…

Leave a Reply to প্রহসন Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *