বাবাকে ইদানিং খুব মিস করি

তসলিমা নাসরিন সম্পর্কে আপনি যত কথাই বলেন না কেন? সত্য কথা বলে বলে আমি তাকে বরাবরই পছন্দ করি,
একবার তিনি বিশ্ব নারী দিবসে একটা কথা বলে ছিলেন, ‘বছরের ৩৬৪ দিন হল পুরুষের আর একটা মাত্র দিন হল নারীর।’

তার কথার সাথে তাল মিলিয়ে আমি বলতে চাই , বছরের ৩৬৩ দিন হল সন্তানের আর একদিন মাযের আর দিন বাবার।
আজ বিশ্ব বাবা দিবস। বাবাকে অতটা মিস কখনোই করি নাই। কিন্তু ইদানিং কালে কেন জানি তাকে খুবই মিস করি।

তসলিমা নাসরিন সম্পর্কে আপনি যত কথাই বলেন না কেন? সত্য কথা বলে বলে আমি তাকে বরাবরই পছন্দ করি,
একবার তিনি বিশ্ব নারী দিবসে একটা কথা বলে ছিলেন, ‘বছরের ৩৬৪ দিন হল পুরুষের আর একটা মাত্র দিন হল নারীর।’

তার কথার সাথে তাল মিলিয়ে আমি বলতে চাই , বছরের ৩৬৩ দিন হল সন্তানের আর একদিন মাযের আর দিন বাবার।
আজ বিশ্ব বাবা দিবস। বাবাকে অতটা মিস কখনোই করি নাই। কিন্তু ইদানিং কালে কেন জানি তাকে খুবই মিস করি।
কেন এমনটা হচ্ছে আমার সাথে? বাবা নামের কেউ যদি আমার সামনে এসে আজ এত বছর পর দাঁড়ায় আমি কী তাকে স্বাভাবিক ভাবে গ্রহন করতে পারব? মুখদিয়ে কেন জানি এ শব্দটা বের হতে চায় না। মা শব্দটাতে মাত্র একটা অক্ষর আর বাবা শব্দে দুটো অক্ষর বলেই কী শব্দ টা আমার কাছে এত ভারী লাগে?
২০০৫সাল থেকে নির্বাসনের জীবন আমার আর এরও প্রায় ১বছর আগে পরিবার আর সমাজ হতে বিচ্ছিন্য আমি। এর আগে যখন মায়ের কাছে থাকতাম তখন বাবার কথা মনে আসলেও মায়ের দিকে তাকিয়ে তা মনে করতাম না। কারন এ মানবী মাত্র ২১ বছর বয়সেই তার স্বামীকে হারিয়ে আমাদের তিন ভাই বোনকে আগলে বাঁচার স্বপ্ন দেখেছে। আর আমাদেরকেও স্বপ্ন দেখার শিক্ষা দিয়েছেন। আর তাই বাবাকে ছাড়াই বাঁচতে শিখেছি। আর একটা বিষয়ও চিন্তা করতাম বাবার কথা তুললে মা কিছুটা অন্য মনস্ক হয়ে পরেন। আরোপরে, যখন হাসি আর কান্নার তফাত্‍ বুঝতে শিখেছি আর কষ্ট আর অনন্দকে ভাগ করতে শিখেছি তখন আর মায়ের সামনে বাবা শব্দটা উচ্চারনও করিনি কোন দিন। কলমটা হারিয়ে গেলে দুই ভাইবোন কলম অদল বদল করে ক্লাশ করেছি যতদিন পেরেছি। ক্লাশ করে স্কুলের বাড়ান্দায় দাঁড়িয়ে থাকতাম তার জন্য। আর সাথের অন্য ছেলে মেয়ে গুলো ফেলে রেখেই চলে আসত। আর গ্রামের নিংশঙ্গ দুপুরে ভুতুরে ঝোপের ভেতর দিয়ে খুবই ভয়ে ভয়ে একা বাড়ি আসতাম। বাবার উপস্থিতি মিস করতাম যখন সহপাঠিদের বাবারা প্রায়ই টিফিনের সময় তাদের সাথে দেখা করত। নিজ হাতে টিফিন কিনে খাইয়ে দিত তখন। এ থেকে পরিত্রানের একটা ব্যবস্থাও করে ফেলেছিলাম। আর তা হল টিফিনে ঘণ্টা পড়ার পর পরই দৌড়ে ক্লাশ হতে বেরিয়ে যেতাম স্কুলের আঙিনা থেকে দূরে অনেকটা পথ হেটে চলে যেতাম কোন এক জায়গায় যেখানে কাঠবিড়ালীদের অবাদে বিচরন। মনে হত এরা যেন আমাকে কেয়ার করছে না। তাদের সাথে সময় কাটিয়ে অনেক সময় ফিরে এসে দেখতাম ক্লাশে স্যার আমার জন্য বেত নিয়ে দাড়িয়ে আছে। আবার কোন কোন দিন যদি আগে চলে আসতাম তখন স্কুল ঘরের পেছনে একা একা ঘাসের উপর বসে থাকতাম। আবার হয়ত বা পাশের কোন বাশ বনে কাঠবিড়ালীর খোজ করতাম।

প্রথমিক বৃত্তি পরীক্ষা দিতে পারিনাই। স্কুলের শর্ত ছিল যারা যারা বৃত্তি পরীক্ষায় অংশনিবে কাল যেন তোমাদের অভিবাবক বা বাবা এসে দেখা করেন। কিন্তু আমি বাবা পাব কোথায়? স্কুলে যেতে হয় প্রয় আধঘণ্টা হেটে এতদূরের পথ? হেটে গিয়ে কে আমার জন্য স্কুলে যাবে? তার পরও শাহস করে মাকে বলে ছিলাম। এক কাকা যাবেন বলে রাজীও হলেন। কিন্তু মনে আছে সেই দিন প্রচণ্ড বৃষ্টি হয়। দুপুরে আমাদের ক্লাশ আমি এক ফাঁকে স্কুলে চলি গিয়েছিলাম। সেই দিন আমার হয়ে কেউ স্কুলে যায়নি। ক্লাশ শেষে স্যারকে জিগ্যাস করেছিলাম। কেউ এসেছেন কী না। স্যার খাতা দেখে বললেন কেউ অসে নি। আমি কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি চলে এসেছিলাম। মা সান্তনা দিয়ে ছিল আবার ভয়ও দেখিয়েছিল এই বলে যে বৃত্তি পরীক্ষা দিতে আড়াইহাজার যেতে হয়। সেখানে তুমি একা একা যাবে কীভাবে?

এখন যখন কেউবলে জান আমি ক্লাশ ফাইভে বৃত্তি পেয়েছিলাম। তখন আমার মনেপরে আরে আমিতো বৃত্তির জন্য কখনো কোন পরীক্ষাই দেইনি। আর তাকে বুকফুলিয় বলি আমি ভাই অত ভাল ছাত্র ছিলাম না আর তাই স্কুল থেকেই আমাকে অংশ গ্রহণ করতে দেয়নি।এ ভাবেই প্রাইমারী পাশ দিয়ে যখন হাইস্কুলে যাই সেখানেও একই অবস্থা। তবে তখন স্কুলের তিনতলার কোন নির্জন ক্লাশে গিয়ে বসে থাকতাম।

কিন্তু সমাজ বিচ্ছিন্ন হবার পর আবার বাবার অভাব অনুভব করতে থাকি। মেসের অন্যান্য ছেলেদের বাবা মায়েরা ফোন করে যখন তাদের খোছখবর নিত তখন ফিল করতাম আমার খোজ নেবার কেউ নাই। মাসে একবার এসে দেখে যেত কিন্তু উচ্চমাধ্যমিক পড়ার দুই বছরের মধ্যে আমাকে দখতে বাড়ি থেকে একবার আমার মেসে কেউ গিয়েছিল। তখন ফিল করি বাবার অনুপস্থিতি।
আর এখন যখন ফজরের নামাজের পর আমার রুমমেটের ফোনে কল আসে আর রিংটোনটা শুনে সে বিরক্ত হয় তখন বুঝি আমাকেতো কেউ ফোন করে ঘুম ভাঙাবে না।

আজ বাবা দিবস, বাবার কাছথেকে আমার এ দেহও প্রাণটা ছাড়া আর কিছুই আমি পাইনাই। আর তার এই দুটো স্মৃতিই আমি বহন করে চলেছি। আর কিছু দেবার মত সময় সে পায় নাই।
পাড়ার দাদী দের কাছে শুনি, তিনি নাকি তার বিনিময়ে আমাকে এ দুনিয়ায় এনেছিলেন। তখন মনে মনে আক্ষেপ হয় আহ্ কি দরকার ছিল আমাকে? আমি না এসে তিনিই যদি থাকতেন, তাহলে হয়তো আমার মা আর বোনদের জীবন আরেকটু সুন্দর ও সুখী হত।

৫ thoughts on “বাবাকে ইদানিং খুব মিস করি

  1. পোস্ট সম্পর্কে কিছু বলব না ।
    পোস্ট সম্পর্কে কিছু বলব না । তবে সতত বাবাকে ইদানিং খুব মিস করি কেননা সে দূরে আছে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *