সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভরাডুবিঃ একটি ব্যক্তিগত অনুসন্ধান !

সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভরাডুবিঃ একটি ব্যক্তিগত অনুসন্ধান !

আমার এক গালিবাজ বন্ধু আছে যার তিন লাইন এর কথায় তেরটি শব্দ থাকলে তার মধ্যে পাঁচ ছয়টি শব্দ থাকে ‘চ ধ প ব’ বর্ণ আশ্রয়ে গঠিত । তার প্রিয় একটি গালি মিশ্রিত বাক্য হচ্ছে , ” শালা, দুঃখে বাইঞ্চত হয়ে গেলাম ” বা ” দুঃখে চুদনা হয়ে গেলাম ” ।

চার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের পর সন্ধ্যায় সে ফোন করে জানালো, ” দোস্ত, ভোটের ফলাফলে আমি সাক্ষাৎ বোকাচুদা হয়ে গেছি ”। ওরে রিমাইন্ডার দিয়ে জানতে চাইলাম ক্যান কি হইছে ?


সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভরাডুবিঃ একটি ব্যক্তিগত অনুসন্ধান !

আমার এক গালিবাজ বন্ধু আছে যার তিন লাইন এর কথায় তেরটি শব্দ থাকলে তার মধ্যে পাঁচ ছয়টি শব্দ থাকে ‘চ ধ প ব’ বর্ণ আশ্রয়ে গঠিত । তার প্রিয় একটি গালি মিশ্রিত বাক্য হচ্ছে , ” শালা, দুঃখে বাইঞ্চত হয়ে গেলাম ” বা ” দুঃখে চুদনা হয়ে গেলাম ” ।

চার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের পর সন্ধ্যায় সে ফোন করে জানালো, ” দোস্ত, ভোটের ফলাফলে আমি সাক্ষাৎ বোকাচুদা হয়ে গেছি ”। ওরে রিমাইন্ডার দিয়ে জানতে চাইলাম ক্যান কি হইছে ?

উত্তরে জানালো, ওদের ওয়ার্ড এ আওয়ামী সমর্থিত মেয়র প্রার্থী ৫০০ ভোটের ব্যবধানে জিতছে ,কিন্তু আওয়ামী সমর্থিত কাউন্সিলর হারছে ১৭০০ ভোটের বিশাল ব্যবধানে । ও রাতদিন ভীষণ পরিশ্রম করেছিলো এই কাউন্সিলর কে জেতানোর জন্য । আমি বেশ অবাক হয়ে প্রশ্ন করলাম এইটা ক্যামনে হয় ? হিসাবে তো ওই কাউন্সিলর এর ৫০০ ভোটে জেতার কথা ।

ও এবার ” প ” দিয়ে বাক্য শুরু করতে যাচ্ছিল । পুনরায় রিমাইন্ডার দিলাম কোন কাজ হবেনা জেনেই । যাহোক ওর প্রার্থীর হেরে যাওয়ার পেছনে শানে নযুল এরকম —

১। ভোটার’ রা আঞ্চলিকতার ভিত্তিতে ভোট দিয়েছে । ২। সে কারণে আওয়ামীলীগ – বিএনপির চিরকালীন দ্বৈরথের চেয়ে ভোটারদের নিজ নিজ অঞ্চলের ক্যান্ডিডেড বেশি প্রাধান্য পেয়েছে দল সমর্থিত প্রার্থীর থেকে । ৩। গত সাড়ে চার বছরে আওয়ামীলীগ এর আকাম – কুকাম । যেমন – পদ্মা সেতু, হলমার্ক, শেয়ার বাজার কেলেংকারী, রাষ্ট্রপতি কর্তৃক কুখ্যাত ফাঁসির আসামীর সাধারণ ক্ষমা পাওয়া, সাগর – রুনি হত্যাকাণ্ড, বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ড, লিমন কে নিয়ে নাটক, ছাত্রলীগ, যুবলীগ এর চাঁদাবাজি, টেন্ডার বাজী, খুন খারাবী ।

আমি ওর কাছে জানতে চাইলাম, তাইলে এই যে যুদ্ধপরাধীদের বিচার, গণ জাগরণমঞ্চ তথা শাহাবাগ আন্দোলন এগুলোর কোন প্রভাব পড়লোনা ইলেকশনে ? ভ্রু কুচকে এর জবাব দিলো এইভাবে, ” ধুর বাল, পাবলিকের স্বভাব হইলো পুটু মারা খাওয়া । প্রতি ৫ বছর অন্তর একবার মারা খাওয়া হ্যার অভ্যাস ।

যতোই তুমি সাম্প্রদায়িকতা, মৌলবাদ, জঙ্গিবাদ, জামাত – শিবির নিষিদ্ধের দাবীতে শাহাবাগ কাপায় ফেলনা ক্যান মাদার চো * বাঙালি ঠিক ঠিক কানে সোনা ঢুকাইয়া হেফাজতি গো ভোট দিতে যাবে । আমি বুঝতে পারলাম বন্ধুর মুখ এবং গু * এখন মিলে মিশে একাকার হয়ে আছে । শ্লীল বাক্য পাওয়ার আশা করা আর শীতকালে শিলা বৃষ্টিতে শিল কুড়ানোর অসম্ভব আকাঙ্ক্ষা করা সমান কথা ।

ভাবতে ছিলাম এমন কেন হবে । এর পেছনে অন্তরনিহিত কি কারণ থাকতে পারে । জনগণ কি আসলেই বোকা ।

না জনগণ বোকা নয় মোটেই । তার কাছে জামাত – শিবির নিষিদ্ধের থেকে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস পত্রের মুল্যবৃদ্ধির ফলে তার ক্রয় ক্ষমতা কমে যাওয়া বা নষ্ট হয়ে যাওয়াটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ । যদিও অন্য দল পাওয়ারে আসলে সেই একই অবস্থাই থেকে যায় ।

যুদ্ধপরাধীর বিচার এর চেয়ে তার কাছে তার প্রিয় স্বজনকে অকালে হারানোর যন্ত্রণা এবং বিচার না পাওয়ার হতাশা অবশ্যই কিছুটা বেশি । ভালো রাজনীতি যেমন জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে তেমনি গণ মানুষের ভাগ্য নিয়ে রাজনৈতিক দলের ছিনিমিনি খেলা মানুষের ভাগ্যকে গভীর অন্ধকারে নিক্ষেপ করে ।

কেন আওয়ামীলীগ যুদ্ধপরাধিদের বিচারের রায় কার্যকর নিয়ে কালক্ষেপণ করছে সেটা মানুষ ভালোই বোঝে । এভাবে মানুষের আবেগ কে জিম্মি করে ক্ষমতায় আসা যায় না । এতে হিতে বিপরীত হবার প্রবল সম্ভাবনা থাকে । আমিতো অবাক হবোনা আগামী জাতীয় নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের একটা বিশাল অংশ ভোট কেন্দ্রে না গেলে বা ‘না’ ভোট দিলে ।

একটু আগে আমি বলেছি জনগণ বোকা নয় মোটেই । তবে এই জনগণ মাঝে মাঝে পাবলিক হয়ে যায় যখন সে আফিম খায় । তার বাস্তব উদাহরণ চার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অন্তত দু’ জন প্রার্থীর মেয়র হতে না পারা । খুবই দুঃখজনক !!! জনাব হিরন কে জয়ী করা উচিৎ ছিল বরিশালবাসীর । কারণ তিনি কাজ করেছিলেন । আমরা শুধু রাজনীতিবিদদের দোষ খুঁজে বেড়াই । কিন্তু, যে সৎ ও যোগ্য প্রার্থী তাকে কেন ভোট দেবনা, দল – মত নির্বিশেষে ?

এই যে লোকটি হেরে গেলেন এতে করে তাকে কিন্তু পরের বার যেকোনভাবে জিতে আসতে হবে এই মানসিকতার দিকে ঠেলে দিলাম । তার অর্থ কী দাঁড়ালো আমরা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছি ?

অর্থ, পেশী শক্তির ব্যবহার অপরিহার্য করে তোলার ক্ষেত্রে আমরা যারা সাধারণ জনগণ তাদের ভূমিকা কে ছোট করে দেখলে চলবে না । বিশেষ করে বরিশাল ও রাজশাহীর নির্বাচনে আওয়ামী সমর্থিত প্রার্থীর পরাজিত হবার পর ।

২২ thoughts on “সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভরাডুবিঃ একটি ব্যক্তিগত অনুসন্ধান !

  1. ফেসবুকে আওয়ামী সমর্থিত অনলাইন
    ফেসবুকে আওয়ামী সমর্থিত অনলাইন যোদ্ধারা দেখলাম পরাজয়ের মূল কারন হিসেবে নাস্তিকদের দোষারোপ করছে। হায়রে দলকানার দল…

    1. এদের সাথে আমি কাকের দারুণ
      এদের সাথে আমি কাকের দারুণ সাদৃশ্য খুঁজে পাই । নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন, কাক কোন কিছু লুকোনোর সময় চোখ বন্ধ করে ফেলে, মনে করে পৃথিবীর সবার চোখ বন্ধ হয়ে গেলো । তাতো হয়না । কিন্তু এই তথাকথিত আওয়ামী আবালদের কে বুঝাবে ? ওদের অনলাইন শিয়াল পণ্ডিত যা বলে তার বাইরে কিছু বলার মুরোদ কি তাদের আছে ?

      1. মনের কথাডা কইয়া ফালাইছেন ।
        মনের কথাডা কইয়া ফালাইছেন । এরা গণজাগরণ মঞ্চের নাস্তিকদের দোষারোপ করতাছে । আমি বুঝলাম না মঞ্চে নাস্তিক কে আছিল ? আসিফ রে তো প্রথম কয়েক দিনের পড় আর দেহি নাই । তাইলে … ?

  2. শ্লীল বাক্য পাওয়ার আশা করা আর
    শ্লীল বাক্য পাওয়ার আশা করা আর শীতকালে শিলা বৃষ্টিতে শিল কুড়ানোর অসম্ভব আকাঙ্ক্ষা করা সমান কথা । :হাহাপগে: 😀

    পোস্ট ভালা পাইছি… :তালিয়া: :ধইন্যাপাতা:

      1. অনেকক্ষন। ইনফ্যাক্ট ন্যাতারা
        অনেকক্ষন। ইনফ্যাক্ট ন্যাতারা নিজেদের পাছা বাচাইতেই ফিরিয়ে আনবে না।

  3. রাহাত ভাই, জটিল ল্যাকছেন । তয়
    রাহাত ভাই, জটিল ল্যাকছেন । তয় আমার মনে হয় এইটা আওয়ামীলীগ ইচ্ছে কইরে ছাইরা দিছে । যাতে জাতীয় নির্বাচনে বিম্মপি রে আনতে পারে । মাইনে, একধরণের টোপ কইতে পারেন । এখন দেখনের বিষয় বিম্পি রাজী হয় কিনা !!!

  4. গালি গালাজ যদিও আপনার বন্ধুর
    গালি গালাজ যদিও আপনার বন্ধুর তবু পড়তে গিয়ে কেমন যেন লাগছিলো শুরুতে ।
    চমৎকার বিশ্লেষণী লেখা । ধন্যবাদ আপনাকে । আপনার কবিতা দেখিনা কিছুদিন ।

  5. মদ্দা কথা হইল আমাগো পাবলিক
    মদ্দা কথা হইল আমাগো পাবলিক পাঁচ বছর পর পর বিনোদন চায়..…।এই পাঁচ বছর এই দল চাইলে পরের পাঁচ বছর ওই দল চাইব…এই হইল আমাগো পরিবর্তনের অঙ্গিকার.…পুরা জৎটাই মনে হয় এই দুই দলের মধ্যে আসে.…হা*** আ** জনতা…বাসায় বইয়া বইয়া ভিমরি খাইব…ভাল খার্প বুঝব না আর রাজনীতিরে গাইল্লাইব.…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *