আপনি কোন জাতি?

তর্কটা শুরু হয়েছিল অন্য একটা প্রসংগে। কিন্তু সেটা গিয়ে শেষ পর্যন্ত গড়ালো “জাতির পিতায়”! ওনার বক্তব্য- মুসলমানদের জাতির পিতা ইব্রাহিম (আঃ), যারা বলে শেখ মুজিব- তারা কাফের!
আমি বললামঃ কে কবে দাবী করলো শেখ মুজিব মুসলমান জাতির পিতা?
তাহলে ওনাকে জাতির পিতা বলে কেন?
আশ্চর্য! ওনাকে বলা হয় বাঙ্গালী জাতির পিতা। বাঙ্গালী কি শুধু মুসলমানই নাকি, আর কোন ধর্মের লোক নাই? বাঙ্গালী জাতির পিতা শেখ মুজিব, আর মুসলমান জাতির পিতা ইব্রাহিম (আঃ), ঠিকই তো আছে! এখানে কাফের হওয়ার কি হলো?
ওনার সোজা কথা- জাতির পিতা একজনই হবে; দুইজন না! পিতা আবার কয়জন হয়?

তর্কটা শুরু হয়েছিল অন্য একটা প্রসংগে। কিন্তু সেটা গিয়ে শেষ পর্যন্ত গড়ালো “জাতির পিতায়”! ওনার বক্তব্য- মুসলমানদের জাতির পিতা ইব্রাহিম (আঃ), যারা বলে শেখ মুজিব- তারা কাফের!
আমি বললামঃ কে কবে দাবী করলো শেখ মুজিব মুসলমান জাতির পিতা?
তাহলে ওনাকে জাতির পিতা বলে কেন?
আশ্চর্য! ওনাকে বলা হয় বাঙ্গালী জাতির পিতা। বাঙ্গালী কি শুধু মুসলমানই নাকি, আর কোন ধর্মের লোক নাই? বাঙ্গালী জাতির পিতা শেখ মুজিব, আর মুসলমান জাতির পিতা ইব্রাহিম (আঃ), ঠিকই তো আছে! এখানে কাফের হওয়ার কি হলো?
ওনার সোজা কথা- জাতির পিতা একজনই হবে; দুইজন না! পিতা আবার কয়জন হয়?
আমার আর তর্ক করার রুচি হলো না। পিতা কয়জন হয়- এই প্রশ্ন করলে তো বলতে হয় অলরেডি দুইজন হয়ে গেল! একজন জন্মদাতা আরেকজন জাতির পিতা!
বাস্তবিক- আমাদের পিতা অনেক! জন্মদাতা বাবা, শ্বশুর আব্বা এবং উকিল বাপ! শিক্ষক পিতৃতুল্য! আবার ছোট ভাগ্নে-ভাতিজাদেরও ডাকা হয় বাপ! তাছাড়া মানব জাতির আদি পিতাও তো একজনকে বলা হয় (এডাম/আদম/মনু/…) বাপের কি শেষ আছে? আন্ডারগ্রাউন্ডে তো রিতিমত গডফাদারও থাকে!

তবু একেবারে চুপ থাকতেও পারলাম না। বললাম- তা আপনার জাতীয়তা কোনটা? আপনি কি নিজেকে বাঙ্গালী মনে করেন না?
উনি দম্ভের সাথে বললেন- আমার প্রথম এবং একমাত্র পরিচয় আমি মুসলমান জাতি! আর কোন জাতিতে আমি বিশ্বাস করি না…!
তা বেশতো- আপনি যখন পাসপোর্ট বা বায়োডাটা বানাবেন তখন জাতীয়তা (Nationality)-এর ঘরে লিখে দিয়েন “মুসলমান”!
উনি তবু তর্ক করতে লাগলেন। বয়োজেষ্ঠ্য হওয়ার কারণে আমি আর কথা বাড়ালাম না।
কিছু লোকের স্বভাবই হচ্ছে একরোখা তর্ক করা। স্বম্ভবত এই প্রজাতির প্রাণীদের জন্যই “ছাগু” শব্দটার উদ্ভব!

আসলে জাতের ব্যাপারটা বেশ জটিল। তাই বলে গুবলেট করে ফেলার মত কিছু নয় নিশ্চয়ই। স্থান-কাল-পাত্র বিশেষ আমাদের জাত বিভিন্ন হতে পারে। যেমন প্রথমতঃ আমরা মানুষ; কুকুর বা ছাগল জাত নই। দ্বিতীয়তঃ পৃথিবীতে অনেক মানুষ আছে, ভৌগলিকভাবে আমি বাংলাদেশী জাতি। তারপরে আমি ধর্মীয় ভাবে মুসলমান বা হিন্দু বা… হিন্দুদের মধ্যে আছে আবার ব্রাহ্মন-ক্ষত্রিয়-নমঃশূদ্র… ইত্যাদি। আবার সাদা-কালো বা মঙ্গোলিয়ান-ভোটচীনিয় এসবও কী কী যেন আছে জাতিভেদে! জাতের কি আর শেষ আছে? এক কথায় তো বলা মুশকিল “আমি কোন জাতি?”

এজন্যই বোধ হয় লালন বলেছিলেনঃ
“জাত গেল জাত গেল বলে
একি আজব কারখানা…”

২১ thoughts on “আপনি কোন জাতি?

  1. খুব সময়োপযোগী, “স্পর্শকাতর”
    খুব সময়োপযোগী, “স্পর্শকাতর” এবং “বিতর্কিত” (!?!??) একটি বিষয় খুব অল্প পরিসরে, সহজ ভাষায় প্রকাশ করেছেন| গত ৫ই এপ্রিলের পর থেকে অজ্ঞাত ভাইরাসের কারণে বাংলাদেশে মুসলমান জাতি গোষ্ঠির সংখ্যা খুব দ্রুত বাড়তে থাকে| ৬ই মে দিবাগত রাতের আচমকা “টোটকা” পর থেকে এই ভাইরাসের প্রভাব ভোজবাজির মত মিলিয়ে যায়| আফসোস, আফসোস!!! অনেক “মুরুব্বি”র স্বপ্ন ভঙ্গ হয়| আবারও আফসোস, আফসোস!!! যাই হোক, আমিও মুসলমানি পাসপোর্টের আইডিয়াটা তুলেছিলাম, ব্যাপক মাইন্ড খেয়েছেন অনেকে| থাক সে কথা, আমরা না হয় জাতি হিসাবে ভেতো-বাঙালিই থাকি| ওনারা পরকাল সাইজ করুক, আমরা বেকুবের দল না হয় এই ট্যাপ-টুপ খাওয়া দেশটার জঞ্জাল সাফ করি, কি বলেন?

    বি: দ্র: লেখাটা খুব সুস্বাদু হয়েছে| :ফুল:

  2. একটা কথা বলে রাখা ভালো। আমি
    একটা কথা বলে রাখা ভালো। আমি ধর্ম বিরোধী না। বরং বলা ভালো আমি একজন practicing Muslim। কিন্তু আমি মনে করি নাস্তিকতা একটি ব্যাক্তিগত জীবন দর্শন যেখানে সৃষ্টিকর্তার কোন অস্তিত্ব নেই| এই দর্শনে বিশ্বাস করা না করা ব্যাক্তিগত অভিরুচি| কোন ব্যাক্তি যদি সৃষ্টিকর্তাহীন একটি পৃথিবী কল্পনা করে সেটা সম্পূর্ন তার ব্যাক্তিগত ব্যাপার। কিন্তু যারা ধর্মকে আক্রমন করে, আর যারা ধর্ম রক্ষার নামে আক্রমন করে তাদের উভয়কেই আমার মৌলবাদী মনে হয়| কারণ, এরা দুই দলই নিজেদের বিশ্বাসের বাইরে কিছু মানতে চান না| আক্রমন-প্রতি আক্রমন কোনদিন শান্তি আনে নি, আনবে না| আর ধর্মকে যে ব্যাবহার করে তাকে দিয়ে ধর্মকে বিচার করা ঠিক না| কিন্তু ধার্মিকের নাস্তিককে গালি দেওয়া বা নাস্তিকের ধার্মিককে গালি দেওয়াটা বোধ হয় কোন দর্শন না, এটা কাদা ছোড়াছুড়ি বই আর কিছুই নয়| আপনারা কি বলেন?

  3. নিজে কানা পথ চেনে না, পরকে
    নিজে কানা পথ চেনে না, পরকে ডাকে বারংবার
    এসব দেখি কানার হাটবাজার… :মানেকি: :ক্ষেপছি:

    1. বাংলার হিন্দু, বাংলার
      বাংলার হিন্দু, বাংলার খ্রিষ্টান, বাংলার এথেইস্ট, বাংলার বৌদ্ধ, বাংলার মুসলমান, আমরা সবাই বাঙালি| কিন্তু গোলমালটা বাধে তখনই যখন আমরা নিজেদের বিশ্বাসটা অন্যের উপর চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করি আর সেটা নিয়ে কাদা ছোরাছুরি করি| কেউবা করি অন্ধ বিশ্বাসের কারণে, আবার কেউবা করি টাকার কারণে| পার্থক্য এতটুকুই| কিন্তু ফলটা হয় ভয়াবহ|

    2. “একমাত্র পরিচয়” কথাটা ঠিক
      :হয়রান:

      “একমাত্র পরিচয়” কথাটা ঠিক পছন্দ হয় না…
      মানুষ খুব বিচিত্র প্রাণী। কাজেই তার পরিচয়েও বৈচিত্র থাকাটাই স্বাভাবিক।
      সে যাগ্‌গে! ব্যক্তিগত মতামত থাকতেই পারে। আমি সবার বিশ্বাসকেই :salute: জানাই।

  4. সহজ কথা যায় না বলা অতি
    সহজ কথা যায় না বলা অতি সহজে…
    কথাটা মাঝে মাঝে ভুল মনে হয়!! :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:
    ভাল লাগল… কিন্তু মানুষতো বুঝে না :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি:

  5. জুম্মার দিন বাদ দেন। অন্যান্য
    জুম্মার দিন বাদ দেন। অন্যান্য দিন মসজিদে লোক খুঁজতে হারিকেন জ্বালানো লাগে, ফজরের ওয়াক্তের কথা বাদই দিলাম। এই হচ্ছে মুসলমান বাঙালির ধার্মিক হওয়ার নমুনা।

    1. ধার্মিক হওয়াটা খুব ভালো
      ধার্মিক হওয়াটা খুব ভালো ব্যাপার।
      ধার্মিক হওয়ার চেষ্টা করাটাও প্রসংশনীয়…
      কিন্তু ধার্মিক হবার ভান করাটা খুব নিন্দনীয়!
      এজন্যই বোধ হয় বলা হয়-
      Don’t act like honest, be honest.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *