তানিয়া, চে গুয়েভারা’র প্রণয়িনী

Haydée Tamara Bunke Bider এর জন্ম ১৯ নভেম্বর ১৯৩৭ সালে। তিনি বেশী পরিচিত ছিলেন তানিয়া অথবা গেরিলা তানিয়া নামে। তিনি ছিলেন আর্জেন্টাইন বংশোদ্ভুত পুর্ব জার্মান কমিউনিস্ট বিপ্লবী এবং গোয়েন্দা। কিউবা বিপ্লবের পরে কিউবান সরকারে এবং ল্যাতিন আমেরিকার বেশ কিছু বিপ্লবে তিনি বিশিষ্ট ভুমিকা রাখেন। বলিভিয়ান বিপ্লবের(১৯৬৬-৬৭) সময় তানিয়াই একমাত্র নারী যিনি চে গুয়েভারার নেতৃত্বে মার্ক্সিস্ট বিপ্লবীদের সাথে বলিভিয়ান সরকারের বিরুদ্ধে বিপ্লব করেছিলেন। সেই বিপ্লবের সময়ই ৩১শে আগস্ট সিআইএ’র পরিচালিত বলিভিয়ান আর্মি রেঞ্জারস এর এক অ্যামবুশে তানিয়া মারা যান।


Haydée Tamara Bunke Bider এর জন্ম ১৯ নভেম্বর ১৯৩৭ সালে। তিনি বেশী পরিচিত ছিলেন তানিয়া অথবা গেরিলা তানিয়া নামে। তিনি ছিলেন আর্জেন্টাইন বংশোদ্ভুত পুর্ব জার্মান কমিউনিস্ট বিপ্লবী এবং গোয়েন্দা। কিউবা বিপ্লবের পরে কিউবান সরকারে এবং ল্যাতিন আমেরিকার বেশ কিছু বিপ্লবে তিনি বিশিষ্ট ভুমিকা রাখেন। বলিভিয়ান বিপ্লবের(১৯৬৬-৬৭) সময় তানিয়াই একমাত্র নারী যিনি চে গুয়েভারার নেতৃত্বে মার্ক্সিস্ট বিপ্লবীদের সাথে বলিভিয়ান সরকারের বিরুদ্ধে বিপ্লব করেছিলেন। সেই বিপ্লবের সময়ই ৩১শে আগস্ট সিআইএ’র পরিচালিত বলিভিয়ান আর্মি রেঞ্জারস এর এক অ্যামবুশে তানিয়া মারা যান।

তানিয়ার জন্ম হয় আর্জেন্টিনার রাজধানী Buenos Aires এ। তারা বাবা Erich Bunnke ছিলেন জার্মান কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য এবং মা Nadia Bider ছিলেন পোলিশ বংশোদ্ভুত। Erich ১৯২৮ সালে জার্মান কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেয় এবং জার্মানিতে যখন নাৎসিরা ক্ষমতায় আসে তখন তিনি আর্জেন্টিনায় চলে আসেন। তানিয়া এবং তার ভাই Olaf যে একটি রাজনৈতিক পরিবেশে বড় হতে পারে সে জন্য তানিয়ার বাবা মা আর্জেন্টাইন কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগদান করেন।

১৯৬০ সালে, ২৩ বছর বয়সে, তানিয়ার সাথে চে গুয়েভারার দেখা হয়। চে তানিয়া এবং কিউবার একটি বাণিজ্য প্রতিনিধি দলের সাথে পুর্ব জার্মানীর একটি শহর লিপজিগ ঘুরছিলেন। চে’র দোভাষী হিসেবে তানিয়াকে নিয়োগ দেয়া হয়েছিলো। যে বিপ্লবের কারণে চে একজন আন্তর্জাতিক আইকনে পরিণত হন সে কিউবান বিপ্লবের গল্পে অনুপ্রাণিত হয়ে তানিয়া ১৯৬১ সালে কিউবাতে চলে আসেন। তানিয়া প্রথমে গ্রামের দিকে নানাধরনের কাজে ভলান্টিয়ার করা, স্কুলগুলোতে শিক্ষাদান এবং বাসস্থান নির্মানে সহযোগীতা করতো। কিউবাতে তানিয়া যার নির্দেশে কাজ করতো তিনি তানিয়ার দক্ষতা,শৃংক্ষলা দেখে তানিয়াকে ব্রিগেড,মিলিশিয়া এবং কিউবার স্বাক্ষরতা অভিযানে অংশ নেয়ার সুযোগ করে দেয়। তানিয়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়, কিউবান মহিলা ফেডারেশন এর দায়িত্বেও কাজ করেছেন।

একসময় তিনি Operation Fantasma তে অংশ নেয়ার জন্য চে’র গেরিলা বাহিনীতে নাম লেখানর সুযোগ পান। চে গুয়েভারার লক্ষ্য ছিলো আর্জেন্টিনা,পেরু, ব্রাজিল, চিলি এবং প্যরাগুয়ে সব মিলিয়ে ওই মহাদেশে একটি বৈপ্লবিক অভ্যুত্থানের সৃষ্টি করা যার মুল স্লোগান ছিলো, “two, three, many Vietnams” যাতে আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো যায়। এরই প্রস্তুতিতে চে গুয়েভারা তানিয়াকে ওয়েস্ট কিউবার Pinar Del Rio তে Dariel Alarcon Ramirez এর অধীনে প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ দেন। চে গুয়েভারা চেয়েছিলেন তানিয়া যেন আত্মরক্ষার ব্যাপারগুলো শিখে নেয় যেমন ছুড়ি,সাবমেশিনগান অথবা পিস্তল চালানো। একইসাথে তানিয়াকে শিখতে হয় কিভাবে টেলিগ্রাফ এবং রেডিওর মাধ্যমে কোডেড বার্তা আদান-প্রদান হয়। তানিয়া তার বুদ্ধিমত্তা,অধ্যাবসায় এবং গুপ্তচর বৃত্তিতে দক্ষতার জন্য কিউবান বিপ্লবীদের মধ্যে প্রশংসিত হন। কেউ কেউ তানিয়ার সম্পর্কে বলেন, “gracious, beautiful and kind, but also very tough.”

তানিয়ার প্রথম মিশন ছিলো ১৯৬৪ সালে। তার কাজ ছিলো বলিভিয়ার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং বলিভিয়ার আর্মির ক্ষমতা সম্পর্কে সংবাদ যোগাড় করা। গেরিলা বাহিনির কাছে তানিয়া ছিলেন অমুল্য একজন ব্যক্তি কারণ তিনি শুধু তার এপার্টমেন্টের দেয়ালে একটি রেডিও লুকিয়ে রেখেছিলেন যা দিয়ে তিনি শুধু হাভানায় ফিদেল ক্যাস্ত্রোকেই না, চে গুয়েভারার গেরিলা বাহিনীকেও অনেকসময় কোডেড মেসেজ পাঠাতেন। এরই মধ্যে অনেকের বিশ্বাসঘাতকতায় তানিয়ার গুপ্তচরবৃত্তির কথা ফাস হয়ে যায়। এবং তানিয়ার জন্য চে’র বিপ্লবী আর্মীতে যোগ দেয়া ছাড়া আর কোন উপায় থাকে না। এইসময়ে তানিয়া গেরিলা দল এর রেশন ব্যবস্থা এবং রেডিও কমিউনিকেশন এর দায়িত্ব পান। কথিত আছে, এই সময়ই বলিভিয়াতে চে এবং তানিয়ার মধ্যে প্রেম শুরু হয়। তানিয়াই ছিলেন গেরিলাদের সাথে বহির্বিশ্বে যোগাযোগের একমাত্র উপায় এবং তাকে ছাড়া গেরিলারা সবধরনের যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তেন। এরফলে চে গুয়েভারা তানিয়া সহ আরো ১৫জনের একটি অসুস্থ দলকে চিকিৎসার জন্য পাঠান।

১৯৬৭ সালের আগস্ট এর ৩১ তারিখে, বিকাল ৫টায় তানিয়াদের গেরিলা দলটি Vado del Yeso তে রিও ডি জেনিরো নদী পার হওয়ার সময় অ্যামবুশে পড়ে। অন্য ৮জন বিপ্লবীদের সাথে তানিয়াকে যখন গুলি করে মারা হয় তখন তানিয়া কোমর সমান পানিতে রাইফেল মাথার উপরে নিয়ে নদী পার হচ্ছিলেন। স্রোত তার দেহ ভাসিয়ে নিয়ে যায় এবং কয়েকদিন পরে বলিভিয়ান আর্মী তাকে উদ্ধার করে। পিরানহার দ্বারা ক্ষত বিক্ষত তার লাশটি আরো কয়েকজন বিপ্লবীদের সাথে একটি কবরেই দাফন করার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু স্থানীয় মহিলারা দাবী করে যেহেতু তানিয়া একজন মেয়ে তাই তার যেন সঠিকভাবে খৃষ্টান পদ্ধতিতে শেষকৃত্ব হয়।

যখন তানিয়াকে রেডিওতে মৃত ঘোষণা করা হয় তখন চে গুয়েভারা একটি জঙ্গল পার হচ্ছিলেন। তিনি বিশ্বাস করেননি তানিয়া মারা গেছে,তিনি ভেবেছিলেন তাকে মানসিকভাবে দুর্বল করার জন্য বলিভিয়ান সরকারের আরেকটি প্রোপাগান্ডা। পরে,ফিদেল ক্যাস্ত্রো যখন তানিয়ার মৃত্যু সম্পর্কে নিশ্চিত হন,তখন তানিয়াকে কিউবান বিপ্লবের নায়ক হিসেবে ঘোষণা করেন।

৯ thoughts on “তানিয়া, চে গুয়েভারা’র প্রণয়িনী

  1. চমৎকার তথ্য সমৃদ্ধ একটি লেখা।
    চমৎকার তথ্য সমৃদ্ধ একটি লেখা। পড়ে মনে হলো চে’ সম্পর্কে কত কমই না জানি!
    :থাম্বসআপ:

  2. ধন্যবাদ… চে-সম্পর্কে কিছু
    ধন্যবাদ… চে-সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য দেয়ার জন্যে…
    চমৎকার তথ্যবহুল পোস্ট!! :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

  3. ধন্যবাদ বাবু ভাইকে চমৎকার
    ধন্যবাদ বাবু ভাইকে চমৎকার পোস্টের জন্য। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *