গল্প – গাঁজাখোর মিরাজ ভাই

জীবনে একদিনের জন্য আকাশে উড়তে পারলাম না । আমার পাশে যে ছেলে হা করে বাতাস খাচ্ছে সে বেশ কয়েকবার আকাশে উড়েছে । কাহিনী এইখানেই দ্যা এন্ড নয় একদিন নাকি সে আকাশ থেকে আমার মাথায় পিচিক করে পানের পিক ছুড়ে দিয়েছে । । আমি অবশ্য কিছু টের পাই নি । এই ধরনের উড়াউড়ি একজন টের পায় । যে উড়ে সে একা । অন্য কেউ না ।
-অনু , দিবা নাকি একটা টান


জীবনে একদিনের জন্য আকাশে উড়তে পারলাম না । আমার পাশে যে ছেলে হা করে বাতাস খাচ্ছে সে বেশ কয়েকবার আকাশে উড়েছে । কাহিনী এইখানেই দ্যা এন্ড নয় একদিন নাকি সে আকাশ থেকে আমার মাথায় পিচিক করে পানের পিক ছুড়ে দিয়েছে । । আমি অবশ্য কিছু টের পাই নি । এই ধরনের উড়াউড়ি একজন টের পায় । যে উড়ে সে একা । অন্য কেউ না ।
-অনু , দিবা নাকি একটা টান

স্বঘোষিত পাইলট মিরাজ ভাই আমার দিকে কল্কী বাড়িয়ে দিল । আমার কল্কীতে টান দিতে ইচ্ছা করছে না , মিরাজের কানপট্টি বরাবর টেনে চড় দিতে ইচ্ছা করছে । কিন্তু আমি হাসি মুখে বললাম — “ না ভাই , আমি টান দিব না । আপনি টানেন । দরকার পরলে বলবেন , আমি ব্যাকগ্রাউন্ড সাউন্ড দিব – আরও জোরে হেইউ … জোরসে টানো হেইউ … টানোরে টানো হেইউউ , টানায় জলিশা মুড আসবে “

তুমি মিয়া মানুষটা বহুত মজার আছো

মিরাজ ভাই খিলখিল করে হাসে । আরেকটা লম্বা দেখে টান দেয় । মুখ চেপে ধোঁয়া বুকে জমিয়ে রাখে । ধীরে ধীরে ধোঁয়া ছাড়ে ! তার দৃষ্টি এখন অন্যরকম । এ দৃষ্টি ঘাড় যেন বাঁকা করে প্রশ্ন ছুড়ে দেয় – আচ্ছা ব্রাদার ! কি আছে এই বালের দুনিয়ায় , বলতে পারেন ? আই থিং আছে শুধু টাঙ্গাইলের শাড়ি দিয়ে বানানো পাচ বাই সাড়ে তিন হাত খেতা আর বানানো শিমুল তুলার বালিশ । খেতা আর বালিশ । নাথিং এলস । এম’আই রাইট ? প্লিজ টেল মি । এম আই রাইট অর রং ! প্লিজ টেল মি ব্রাদার “

এই ধরনের মানুষকে কিছু বলে লাভ নাই । তিনি নিজে যেটা বলবেন সেটাই ঠিক । আমি বললেও ঠিক আমি না বললেও ঠিক ।

তবে ঠিক কথাটা নিজে কতোটা ঠিক সেটা নিয়েও একটা যুক্তি তর্কে বসা যায় ।
‘ ঠিক ‘ জিনিসটা কিন্তু আসলে আপেক্ষিক । ঠিক শব্দটা নির্ভর করবে ব্যাক্তিবিশেষের নিজস্ব চিন্তাধারার উপর । মিরাজ ভাইয়ের দুনিয়া খেতা আর বালিশের দুনিয়া । এইকথাটা ভুল সেটা আমি , এই অনু কিভাবে বলবো ? আবার এই কথা ঠিক সেটাই বা কিভাবে বলবো ! আমার কাছে দুনিয়া মানে ” রানু নামের মেয়েটি “ এই কথাটা ঠিক , কিন্তু সেটা কি মিরাজ ভাই স্বীকার করে নিবেন ? উত্তর নেগেটিভ । তাহলে এক দুনিয়া কয়ভাগে ভাগ হয়ে গেল ! মিরাজের দুনিয়া , অনুর দুনিয়া । আরও কেউ সাথে থাকলে তারও একটা দুনিয়া । অর্থাৎ দুনিয়া বাড়ছে , “ ঠিক “ মতাবাদের সঠিক রাস্তা বাড়ছে । সেইসাথে ক্যাচাল বাড়ছে ! মাথা ঘুরছে

— অনু , সাতার কাটতে পারস ?

জি না মিরাজ ভাই , পারি না

–দূর চুদির ভাই , পারস কি ? সাতার কাটতে পারস না , আকাশে উড়তে পারস না , মাটিতে বুক দিয়ে দৌড়াইতে পারস ? না , এইটাও পারস না । তুই পারস কি , বাল !

আমি মাটিতে বুক রেখে দৌড়াবো কেন ! আমি কি সাপ ? এই কথা এখন মিরাজ ভাইকে বলে লাভ নাই । তিনি এখন টালের দিকে অগ্রসর হচ্ছেন । ধীরে ধীরে তার টালামী বাড়ছে । মিরাজ ভাই এখন আমাকে তুমি থেকে তুই করে বলা শুরু করেছে । বোনাস হিসেবে ‘ চুদির ভাই ‘ শুনিয়ে দিয়েছে । এই সময়টা মারাত্মক , এখন উনার কোন কথার বাইরে চুল পরিমান নড়াচড়া করা যাবে , করলেই ঠাশ করে চড় বসিয়ে দিবে । মিরাজ ভাইয়ের আসমানে উড়তে আর বেশীক্ষন দেরী নেই ।

— তুই আগামী মাসে সত্য সত্য মেস ছেড়ে দিবি ?
জী বস
মাঝে মাঝে আসিস । একসাথে আকাশে উড়মু

জী বস

মাথা নষ্ট ! একবার এই মেস ছেড়ে গেলে আমাকে আর কে পায় ? গাঁজাখোর রুমমেটের সাথে প্রায় একমাস যাবত বসবাস করছি ; এইটা শুনেই তো বন্ধুবান্ধব আমার দিকে কামন ক্যামন করে জানি তাকায় । ক্লোজ আপ দিয়ে দাঁত ঘষে গেলেও বলে – এই তোর মুখ থেকে ভুড়ভুড় করে গাঁজার স্মেল আস্তাছে , পিছনের বেঞ্চে গিয়া ব । কয়েক অতি উৎসাহী কয়েকজন বলে রেখেছে – দুস !! তুই আমার মায়ের পেটের দুস ! একদিন তোগর আসরে দাওয়াত দে , দেখিস আমি কেমন ইশটীক ফাটাইতে পারি । তব্দা খাইয়া যাবি । মাগার , তুমি দিনে কয়টা ফাটাস ?

আমি আর পারছি না । রুমে যাওয়া মাত্র গাঁজার গন্ধ ! যখন তখন মিরাজ ভাইয়ের টাকা ধার চাওয়া ( এখন পর্যন্ত তিনি কোন শোধ করে নাই , করবে বলেও মনে হয় না , এই টাকা Gone ) রাতে জোর করে ছাঁদে ঢেকে আসমানে উড়াউড়ি দেখানো ।
ভার্সিটির বড় ভাই । না পারছি সহ্য করতে না পারছে মুখ ফুটে কিছু বলতে ! আমি ফাস্ট ইয়ার ফাস্ট সেমিস্টারের ছেলে ফেল্টু মারতে মারতে কোন মতে ৪র্থ ইয়ারের সুবিখ্যাত গাঁজাখোর বড় ভাইকে কি বা বলতে পারি । আর কিছুদিন পরেই মেস ছেড়ে দিচ্ছি , ভাবতেই শান্তি ।

অনু , এই অনু , ঘুমাই গেলি
জী না ।
একটা উপদেশ দিতাছি , মনোযোগ দিয়া শুন –
জী বস

— “ কক্ষনো কোন কিছুতে বেশী মনোযোগ দিস না । সব কিছু আলগা আলগা রাখবি । আই মিন লুস । বেশী মনোযোগ দেয়া মানেই তুই কট । ডিরেক্ট আমার মতো কট

তা তো অবশ্যই । তুমি যে কতো ভয়াবহ কট সেটা ইতিমধ্যে জেনে গেছি । তিন তিনবার সেমিস্টার ড্রপ । সারাদিন গাজা নিয়া পড়ে থাকা । কোন বন্ধু নাই , চান্স পাইলেই দেনার দায়ে রাস্তা ঘাটে খাও মাইর । বাসার সাথে সম্পর্ক প্রায় নষ্ট । এক মামা মাঝে মধ্যে এসে মেস ভাড়া আর কিছু টাকাপয়সা দিয়ে যায় । তুমি তো মিয়াভাই সেই মাপের কট ।

–এই অনু , আমাকে একটু জড়িয়ে ধরবি ভাই । খুব কষ্ট লাগছে রে

হটাত এই টাইপের কথায় আমি হকচকিয়ে গেলাম । আমাকে কিছু বুঝতে না দিয়েই মিরাজ নামের একদম রোগা হাড় বের হওয়া ছেলেটা ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে মতো কাঁদছে । আমি ভালো থতমত খেয়ে গেছি । এমন কি হল ! আগে তো এমন কিছু দেখেনি কখনো ! এ বাচ্চাদের মতো কাদে কেন ?

আমি মিরাজ ভাইকে জড়িয়ে ধরলাম । তিনি গুটিসুটি হয়ে আমার বুকে মাথা দিয়ে আছে । মিরাজ ভাইয়ের কান্নায় আবার গেঞ্জি ভিজে যাচ্ছে । মিরাজ ভাই কান্নার ধকল সামলাতে পারছে না ।
মিরাজ ভাই বারবার বলছে – “ অনু কখনো কোন কিছুতে বেশী মনোযোগ দিস না , আমার মতো হয়ে যাবি রে , একদম নষ্ট হয়ে যাবি “

২৪ thoughts on “গল্প – গাঁজাখোর মিরাজ ভাই

  1. ছ্যাঁকা খাইলেই গাঁজা বা মদের
    ছ্যাঁকা খাইলেই গাঁজা বা মদের নেশা ধরতে হবে এটা বাঙ্গালীকে শেখালো কোন শালায় ?

  2. গল্প বলার স্টাইলটা অনেক
    গল্প বলার স্টাইলটা অনেক প্রাঞ্জল ।

    “ অনু কখনো কোন কিছুতে বেশী মনোযোগ দিস না , আমার মতো হয়ে যাবি রে , একদম নষ্ট হয়ে যাবি “

    — এই বাক্যটা অনেকটা আপ্ত বাক্যের মতো শোনাল । মিরাজ ভাই’র এই উক্তি কোন গভীর ক্ষত থেকে বুঝা গেলো না । কিছুটা ইংগিত পেলেও চলতো । ছোট গল্প বা অনুগল্প যা-ই হোক না কেন, মূল বিষয়কে অবশ্যই কোন না কোনভাবে পাঠকের বোধের সীমানায় এনে রাখতে হবে । আমি তাই মনে করি ।

    1. না , তবে এইখানেই ছেড়ে দেয়া
      না , তবে এইখানেই ছেড়ে দেয়া দরকার মনে হল , তাই

      ধন্যবাদ প্রাজ্ঞ প্রাবন্ধিক

  3. আপনার লেখার স্টাইল ভাল। যাকে
    আপনার লেখার স্টাইল ভাল। যাকে বলে সাবলীল। আপনার Sense of humor দারুন। খুব সুক্ষভাবে humor টাকে আপনি গল্পের ভাঁজে ভাঁজে ঢুকিয়ে দিয়েছেন। এটা বেশ কঠিন একটা কাজ। খুব মনোযোগ দিয়ে পড়ছিলাম। উপভোগও করছিলাম। কিন্তু কেমন যেন হঠাৎ করে শেষ হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল একটা অনেক মজার গল্পের বই পড়ছিলাম, কিন্তু অনেকখানি পড়ার পর দেখা গেল শেষের পাতা কয়টা কে যেন ছিঁড়ে ফেলেছে। নতুন লেখার অপেক্ষায় থাকলাম। আশা করি আগামীবার শেষের পাতাগুলোও থাকবে। শুভেচ্ছা রইল।

    1. অনেক সাজানো মন্তব্য , ধন্যবাদ
      অনেক সাজানো মন্তব্য , ধন্যবাদ ইকরাম ফরিদ চৌধুরী
      পাতা ক্ষয়ে যাওয়ার বিষয়টা পরবর্তীতে মাথায় রাখবো 🙂

  4. আমার কাছে খুব ভাল লাগলো। গল্প
    আমার কাছে খুব ভাল লাগলো। গল্প এমনই ভাল। গল্প মাথায় চলতে থাকবে, শেষ হবে না…
    :থাম্বসআপ:

  5. “ অনু কখনো কোন কিছুতে বেশী

    “ অনু কখনো কোন কিছুতে বেশী মনোযোগ দিস না , আমার মতো হয়ে যাবি রে , একদম নষ্ট হয়ে যাবি “

    চমৎকার… আগে মিস করেছি!! Trainspotting চলচ্চিত্রটির কথা মনে পরে গেল!!
    সিফাত ভাই আপনার এই মুভি দেখা বাঞ্ছনীয়… তাড়াতাড়ি দেখে ফেলুন!!

    1. ডেনি বয়েলের মুভি খুঁজে খুঁজে
      ডেনি বয়েলের মুভি খুঁজে খুঁজে দেখি , আমার খুব পছন্দের একজন ডিরেক্টর

      মুভিটা দেখা হইছে — অসাধারণ বললেও ভুল হবে । মুগ্ধ হয়ে দেখার মতো মুভি

      ধন্যবাদ তারিক ভাই 🙂

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *