একজন মহিলার সম্ভ্রম এবং কালো বিচ্ছুর মত একটি কীট!!!!

–আম্মা টাকা দাও। পনেরশ।
–টাকা কি করবি?
–কলেজে টেস্ট পরীক্ষা, ফী দিতে হবে। না দিলে পরীক্ষা দিতে দিবে না। আর পরীক্ষা দিতে না দিলে এইচ.এস.সি দিতে পারব না।
–কবে নাগাদ লাগবে?
–কালকে।
–আচ্ছা কালকে নিস।
–মনে করে কিন্তু।
–আচ্ছা ঠিক আছে।


–আম্মা টাকা দাও। পনেরশ।
–টাকা কি করবি?
–কলেজে টেস্ট পরীক্ষা, ফী দিতে হবে। না দিলে পরীক্ষা দিতে দিবে না। আর পরীক্ষা দিতে না দিলে এইচ.এস.সি দিতে পারব না।
–কবে নাগাদ লাগবে?
–কালকে।
–আচ্ছা কালকে নিস।
–মনে করে কিন্তু।
–আচ্ছা ঠিক আছে।

কথা গুলো বলেই সাঈম ঘর থেকে বের হয়ে গেল। বের হবার সময় তাদের বেড়া দিয়ে বানানো ঘরটা একটু কুরমুর আওয়াজ করল। সাঈমের মা অর্থাৎ নাঈমা খাতুন শুয়ে ছিলেন, তাঁর মাথা ধরেছে। ছেলে এসে কথা গুলো বলে মাথা ব্যাথা আরো বাড়িয়ে দিল। টাকা কোথায় পাবেন? বলে তো দিয়েছেন যে কালকে দিবেন। কিন্তু তাঁর কাছে তো টাকা নাই। টাকা থাকলে কি আর এই বস্তিতে থাকতেন? তিনি চিন্তা করছেন কিভাবে তাঁর ছেলের টাকা দেবেন। ছেলেটা এস.এস.সি তে গোল্ডেন পাওয়া ছাত্র। বড়লোকের ছেলেরা যেখানে এসির মধ্যে বসে A পায় সেখানে সাঈম রি বস্তিতে থেকে হাত পাখার বাতাসে পড়া-লেখা করে গোল্ডেন পেয়েছে। এই ছলের পড়া লেখা কি বন্ধ করে দেয়া যায়? কিন্তু টাকার অভাবে প্রায় বন্ধ হয়ে যাবার অবস্থা। গত ৪ মাস হল তাঁর কলেজের বেতন দেয়া হয় না। প্রিন্সিপাল সাহেবও কয়েকবার তাঁকে ডাকিয়ে নিয়েছেন। কথা বলেছেন। কিন্তু প্রত্যেকবারই বলে দেন যে আগামীবার আর হবে না। কিন্তু ঠিকই হয়েছে। লোকটা ভালয সেজন্য মনে হয়। নাঈমা খাতুন টাকার চিন্তা করতে করতেই ঘুমিয়ে পড়লেন।

ঘুম ভাঙ্গল সন্ধ্যার পর। লোড শেডিং চলছে। ঘরে গাড় অন্ধকার। তিনি চোখ দুটো কচলালেন। নাহ ঘরে কেউ নেই। দরজা দিয়ে হালকা আলোর একটা রেখা ঘরের মধ্যে পড়ছে। তিনি হঠাৎ একধরণের প্রশান্তি অনুভব করলেন। মৃত্যুর আগে যে ভয় থাকে ঠিক তাঁর বিপরীত। সাঈম ঘরে এসে ঢুকল সাতটার দিকে। হাতে একটা বিরাট বড় বই। নাঈমা খাতুন জিজ্ঞাসা করলেন কিসের বই? সাঈম বলল যে তাঁর বন্ধু নতুন গাইড কিনেছে, ঐটা আজ রাতের দেখার জন্য এনেছে। নাহ ছেলেটা আর এভাবে কত দিন অন্যের বই ধার করে এনে পড়বে? এভাবেই যদি অন্যের অনুগ্রহে চলতে হয় তাহলে সৃষ্টিকর্তা কুকুর বানিয়েই পাঠাতে পারতেন। এই সব হাবিজাবি চিন্তা ঘুরছে নাঈমা খাতুনের মাথায়। তিনি উঠে গেলেন। কলসে রাখা পানিতে মুখ ধুলেন।

–টাকার কোন ব্যাবস্থা করলা?
–নাহ, দেখি।
–না বললে তো হবে না, আম্মা। পরীক্ষা দিতে দিবে না।
–জানি তো। দেখি কি করা যায়।

সাঈম মুখ কালো করে ফেলল। মনে মনে ধরেই নিয়েছে যে তাঁর মা টাকা জোগাড় করতে পারবে না। নাহ তাই কিছু করতে হবে, আর কত তাঁর মায়ের ঘাড়ের উপর বসে থাকবে?

ওপর দিকে সাঈমা চিন্তা করছেন কি করা যায়। তিনি মনে মনে চিন্তা করে নিলেন, বস্তির মালিক বা সর্দার রাইজুলের সাথে কথা বলতে পারেন। লোক ভাল কিন্তু কিঞ্চিত মুখ খারাপ। বললে হাজার দুই টাকা দিলেও দিতে পারেন। এই কথা ভেবেই নাঈমা এক গ্লাস পানি খেলেন। জাবেন রাইজুলের কাছে। আর কোন উপায় নেই।

রাইজুল ইসলাম। ৪৫ বছর বয়স। বসে আছেন তাঁর চৌকির উপর। একটা মোটা কালো বিচ্ছু চৌকিতে বসে আছে। সারা বস্তিতে কারো বাসায় টিভি নেই কিন্তু একমাত্র রাইজুলের বাসায় টিভি আছে। তাঁর হাতে জলন্ত বেনসন লাইট। নাঈমা তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। টিভিতে শিলা কি জাওয়ানি বাজছে। রাইজুল ইসলাম খুব মুগ্ধ হয়ে উদ্ভট নাচ দেখছেন।

–কি চাও?
–ভাই, কিছু টাকা দরকার।
–কি? ট্যাকা? ট্যাকা দিয়া তুমি ক করবা? বাল ফালাইবা? বাল ফালাইতেও অবশ্য ট্যাকা লাগে।
–না, ঐ, আমার ছেলের পরীক্ষা। ফিস দেয়া লাগবে। টাকা দিতে না পারলে পরীক্ষা দিতে পারবে না। পরীক্ষা দিতে না পারলে তাঁর জীবন ধ্বংস হই যাবে।
–তাই ন্যাকি?
-জ্বি।
–কত?
–পনেরশ।
–পনেরশ তো ম্যালা টাকা। দিবা কবে?
–কিস্তিতে দিয়ে দিব।
–হুন, তুমারে একটা কথা কই। আমার মন দিল বড় আছে। তুমারে পনেরশ না দুই হাজার দিমু। মাগার আমার একটা কাজ কইরা দিতে হইব। পারবা?
–জ্বি পারব।
–ভাইবা, কও।
–জ্বি?
–হুন, তোমার পতি নাইক্কা। মাগার শরীর তো ভালই বানাইস। এক্কেবার ****। কারো হাতও পড়ে নাই। মজা পামু লাগে!

নাঈমা আর কোন কথা বললেন না। ঘৃণা নিয়ে বের হয়ে গেলেন। রাইজুল সে সময় তাঁর বেনসনে সুখটান দিল। অপেক্ষা করবে সে।
সারা রাত নাঈমা ঘুমাতে পারলেন না। মাথায় শুধু রাইজুল ইসলামের কথাগুল ঘুরছে। একজন মানুষ কিভাবে এত নীচ হতে পারে?

পরদিন সকাল দশটা পঞ্চাশ। নাঈমা বসে আছেন সাঈম এর কলেজের প্রিঞ্চিপালের রূমে। প্রিন্সিপাল আড়চোখে তাঁকে দেখছেন। আর অবাক হচ্ছেন এই মহিলার নীচতা আর ধৈর্য দেখে। কোন মানুষ এত দিন কিভাবে ফ্রি চলতে চায়। আজ কিছু কড়া কথা বলবেন।

–আপনাকে, কিভাবে সাহায্য করতে পারি?
–স্যার, আমার ছেলের পরীক্ষা।
–তো আমি কিভাবে সাহায্য করতে পারি? প্রশ্ন লাগবে?
–না, না। ওর ফি দিতে সমস্যা হচ্ছে।
–ফি, দিতে না পারলে পড়বে না।
–কি বলেন স্যার? ও অনেক ভাল ছাত্র।
–ভাল ছাত্র দিয়ে কি আমি ঘাস কাটাব?
–স্যার আপনি এইরকম ব্যাবহার করছেন কেন? আপনি একজন শিক্ষক।
–কি বলতে চান? আমি খারাপ ব্যাবহার করছি? যদি তাই হয় তাহলে আপনি তো গত ৪-৫ মাস ধরে আমাদের সাথে খারাপ ব্যাবহার করছেন।
–ঠিক বুঝলাম না।
–৪ মাস হয়ে গেল কোন টাকা পয়সা দেন নাই। ফ্রি চলতেসেন। আমাদের এইটা কোন সরকারী বা দাতব্য সংস্থা না। যে ফ্রি খাইতেই থাকবে , খাইতেই থাকবেন।
–স্যার একজন ভাল ছাত্রকে পড়ান আপনাদের কর্তব্য। আপনারা যদি এই রকম ব্যাবহার করেন তাহলে শিক্ষার্থীরা কি শিখবে?
–এখন আপনি আমাকে, এই কলেজের প্রফেসরকে ব্যাবহার শিখাবেন?
–যদি প্রয়জোন হয় তাহলে তাই শিখাব।
–ইউ, ফিলথি বিচ। গেট আউট। দেখি তর ছেলে কিভাবে পরীক্ষা দেয়। গত চার মাসের বকেয়া এবং ফাইন সহ টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত কিভাবে তোর সো মাচ ফাকিং গুড স্টুডেন্ট ছেলে পরীক্ষা দেয় আমি দেখতে চাই। গেট দা ফাক আউট অফ হিয়ার।

নাঈমা চলে আসলেন। কোন প্রিন্সিপাল থেকে এই ব্যাবহার তিনি আশা করেন নি। ছেলে কে ভাল কলেজ হিসেবে এই আধা সরকারী কলেজে ভর্তি করিয়েছিলেন। নাহ ভুল হয়ে গিয়েছে। ছেলে কে বললেন তাঁর গত ৪ মাসের বেতন আর বকেয়া সহ কত হয় জেনে আসতে। সাঈম এসে বলল ৫৫০০ টাকা। নাঈমা সাঈম কে বড়ি চলে যেতে বললেন। নাঈমা টাকার ব্যাবস্থা করতে যাবেন।

–কি ঠিক করলা? রাইজুল জিজ্ঞাসা করলেন
–ঠিক করসি আপনি আমাকে ৫৫০০ টাকা দিবেন।
–এত টাকা দিয়ে একবার? নাহ সম্ভব না।
–ঠিক আছে। আপনার যা ইচ্ছা। যতবার চান। কিন্তু টাকা এখনই দিতে হবে।
–ঠিক আছে, নিবা। আরো দিব। কিন্তু কাছে আসো।

নাঈমা শুয়ে আছেন। তাঁর উপর রাইজুল নামক বিচ্ছুটা কিলবিল করছে। নাঈমা এক পলকে চালার দিকে তাকিয়ে আছেন। ভোতা অনুভুতি কাজ করছে।

নাইমার হাতে ৬০০০ টাকা। রাইজুল খুশি হয়ে ৫০০ টাকা বেশী দিয়েছে। তিনি দাঁড়িয়ে আছেন তাঁর ছেলের সামনে। বললেন,
–যা, টাকা দিয়ে আয়। পরীক্ষা দে, ভাল মত। জীবনে বড় হতে হবে। টাকা কামাতে হবে। টাকা ছাড়া চলতে পারবি না।

সাঈম জিজ্ঞাসা করেছিল, কিভাবে তাঁর মা এই টাকা পেল। নাঈমা কিছু বললেন না। শুয়ে পড়লেন।

৩ দিন পর। নাঈমা দাঁড়িয়ে আছে রাইজুলের সামনে। রাইজুল শলা দিয়ে তাঁর দাত পরিষ্কার করার আপ্রান চেস্টা করছে আর খুব সুক্ষ ভাবে নাঈমার দেহ পর্যবেক্ষন করছে। একটু পরেই এই দেহের উপর সে চড়াও হবে। ঘাড়ে কামড় দেবে……………..

১১ thoughts on “একজন মহিলার সম্ভ্রম এবং কালো বিচ্ছুর মত একটি কীট!!!!

  1. ভাই আপনি বলেন তো আমাদের
    ভাই আপনি বলেন তো আমাদের স্বজাতী ভাইয়েরা এতটা *** মী হয় কেমনে???
    ওরা কি আসলেই কোন নারীর পেট থিকা বাইর হইসে নাকি কোন *** ** য়া থিকা.…

    1. ভাই এরা কোথা হতে বের হয়েছে তা
      ভাই এরা কোথা হতে বের হয়েছে তা আমার জানা নাই। সত্যিই কি এরা একজন মানুষের যেভাবে জন্ম হয়, সেভাবেই জন্মগ্রহন করেছিল তা আমি জানি না। ভাল থাকবেন

  2. হায় বাস্তবতা…
    বানানের দকে

    হায় বাস্তবতা…
    বানানের দকে মনোযোগ দিন। আর একজন বস্তিতে বসবাসকারী মহিলার মুখের ভাষা এতো শুদ্ধ হওয়ার কথা না। কিছুটা আঞ্চলিকতা থাকা উচিত ছিল।

    1. ভাই, বানান তিনবার চেক করেছি।
      ভাই, বানান তিনবার চেক করেছি। মোবাইল থেকে দেই তো!!!

      আর খেয়াল করে থাকবেন যে সাঈম এর পিতা নাই। মায়ের ভাষা শুদ্ধ হবার পেছনে সাঈমের পিতার কিছু কারুকার্য আছে। সেটা যে কেন লিখলাম না, নিজেই বুঝতে পারছি না।
      মতামত দেয়ার জন্য ধন্যবাদ

  3. মায়ের স্থানে তার পিতা থাকলে
    মায়ের স্থানে তার পিতা থাকলে কি করত ? চুরি ছিনতাই খুন ? এটাই বাস্তবতা ।

  4. নির্মম বাস্তবতা । জীবনের
    নির্মম বাস্তবতা । জীবনের অনেকগুলা সংজ্ঞার মধ্যে এটা একটা । :দীর্ঘশ্বাস: :দীর্ঘশ্বাস: :দীর্ঘশ্বাস: :দীর্ঘশ্বাস: :দীর্ঘশ্বাস: :দীর্ঘশ্বাস:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *