নারী শয়তানের মনুষ্য রূপ (ধর্মানুসারে)

মহাভারতের পাশাখেলার আসরে দ্রৌপদীর অপমান নিয়ে গালভরা তাত্ত্বিক
আলোচনা করি।
কিন্তু রাস্তায় উলঙ্গ পাগলি দেখে তাঁর শরীরে কোনও কাপড়ের আবরণ দেওয়ার
চেষ্টা করি ?

আমরা ,এই জনগন একসময় ভরা বাজারে ক্রীতদাসীকে প্রায় উলঙ্গ
করে,নিলামে ডেকে বিক্রয় দেখেছি।বালবিধবার ঝুঁটি ধরে চুল কাটা দেখেছি।
যুগান্ত পেরিয়ে সেই আমরাই ডাইনি সন্দেহে বাঁশ



মহাভারতের পাশাখেলার আসরে দ্রৌপদীর অপমান নিয়ে গালভরা তাত্ত্বিক
আলোচনা করি।
কিন্তু রাস্তায় উলঙ্গ পাগলি দেখে তাঁর শরীরে কোনও কাপড়ের আবরণ দেওয়ার
চেষ্টা করি ?

আমরা ,এই জনগন একসময় ভরা বাজারে ক্রীতদাসীকে প্রায় উলঙ্গ
করে,নিলামে ডেকে বিক্রয় দেখেছি।বালবিধবার ঝুঁটি ধরে চুল কাটা দেখেছি।
যুগান্ত পেরিয়ে সেই আমরাই ডাইনি সন্দেহে বাঁশ
দিয়ে পিটিয়ে পুড়িয়ে মারা দাখছি চুপটি করে।
নিউটনের গতিসূত্রে বলে, প্রত্যেক ক্রিয়ার সমান ও বিপরীত
প্রতিক্রিয়া থাকে।কিন্তু এই জনগণের ৯৯%-এর সামনে কোনও
ঘটনাক্রিয়া ঘটলে তাদের কোনও প্রতিক্রিয়া হয় না।প্রতিক্রিয়াহীন
‘মেরা জনগণ মহান’-এর সামনে নিউটনো ফেল।

@ পুরুষতন্ত্র সমাজ কায়েম করতে ধর্মের ভূমিকা ছিল অপরিসীম ।নারী গৃহবন্ধ
হবে সতীত্ব রক্ষায় ।
নারী কখনো একটি বেশি স্বামী গ্রহণ করতে পারবে না ।এক স্বামীর বহু
স্ত্রী থাকলেও একটি স্বামীই তাদের জন্য যথেষ্ট( ঐতরেয় ব্রাহ্মণ ৩৫।৫।২।৪৭)
।উদ্বাহতত্ত্বে বলেছেন-যে ব্যাক্তি তিন বিবাহ করে চতুর্থ বিবাহ
না করে ,সে সাত কুল পাতিত করে,তাহার ভ্রুণহত্যা প্রায়শ্চিত্ত করা আবশ্যক ।
বুঝুন তাহলে হিন্দু শাস্ত্রের একচোখামী নারী আর পুরুষের বেলায় ।শতপথ
ব্রাহ্মণে নারীকে পুরুষের অনুপথগামিনী বলেছেন ।
মনুসংহিতায় ৮ম অধ্যায় ৩৭১ শ্লোকে বলেছেন-যে নারী নিজের পতিকে পরিত্যাগ
করে পরপুরুষের সাথে মিলিত হবে ,তাকে বহু লোকের সামনে কুকুর দিয়ে খাওবে ।
পরোক্ষণে মনু ৫ম অধ্যায় ১৫৪ শ্লোকে বলেছেন-স্বামী দুঃশীল পরনারীতে উপগত
হয়,এক বিদ্যাদি গুনবর্জিত হলেও সতী স্ত্রীর কর্তব্য সেই
স্বামীকে উপেক্ষা না করে দেবতার মত তাঁর সেবা করা ।ছিঃ মনু
আপনি না ভগবানের পুত্র ।আপনার বিচার সমাজ বিকাশের নোংরা ইতিহাস ।
এভাবেই বারবার ধর্ম নারীকে ছোট করেছে ।
চীনদেশে একটা প্রচলিত প্রবাদ আছে ‘জ্ঞানে যেমন পুরুষের
শোভা বৃদ্ধি করে অজ্ঞানে তেমনী স্ত্রীলোকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে ‘।
( ইন্দ্রাগান্ধী মমতা মাদামকুরী বেগম
রোকেয়া লতা হাসিনা খালেদা জিয়া এঁনাদের সৌন্দর্য জ্ঞানে ,অজ্ঞানে নয় )
আসল কথা স্ত্রীলোককে অজ্ঞান
বানাতে পারলে পুরুষতন্ত্রকে শক্তিশালি করা যায় ।স্ত্রীলোককে অশিক্ষত
রাখার জন্য শাস্ত্রে হুকুম দিয়েছে ।দাবিয়ে রাখার শাস্ত্র তৈরী করেছে মনু
পরাশর মোজেজ পল ।তাঁরা বলেছে স্বাধীনতা পুরুষের জন্য নারীর জন্য নয় ।
নারীর মূল্য পুরুষ কখনো বুঝার চেষ্টা করেনি ।তোমরা নারীরা যাদের ভগবান
ভেবেছো,সেই ভগবান তোমাদের কে অপমান অত্যাচার ঘৃণা উপহার দিয়েছে ।
তা না হলে ভগবান শঙ্করাচার্য বলতে পারেন ,’ নারী নরকের দ্বার ‘।সেই
দ্বারে প্রবেশ করেছে সমস্ত পৃথিবীর মানুষ ।

বাইবেলে বলেছেন-root of all evil.
।অর্থাত্ সমস্ত অমঙ্গল জনকের মূল।কারা নারীরা ।তাই ৫৭৮ খৃঃ আহুত ওসিয়ায়
ক্রীশ্চান ধর্মসঙ্গে স্থির করেন স্ত্রী লোকের আত্মা নেই ।( তবে কি স্ত্রীলোক
জড় পদার্থ )

ইসলামের বেহেশত শুঁড়িখানা আর বেশ্যাপল্লী বই কিছুই নয় ।এখানে যৌনসুখ ও
ইন্দ্রিয় সুখ ভোগ করার অধিকারী মানুষের বিশেষ সুবিধাভোগী শ্রেনী পুরুষ ।
বেহেশতের হৃরেবা সৌন্দর্যে সূর্য,চন্দ্রকেও মলিন করে ।পুরুষদের জন্য

বেহেশতের সুখ বিষয়ে কোরান বলেছে- “ওদের সঙ্গিনী দেব আয়তনযনা হৃর ।
“[ সুরা দুখান:৫৪] সাবধানীদের জন্যে রয়েছে সাফল্য ; উদ্যান, দ্রাক্ষা,
সমবয়স্ক উদ্ভিন্নযৌবনা তরুনী এবং পূর্ণ পান পাত্র ।[সুরা নাবা ;৩১-৩৪] এই
আয়তনয়না অসামান্য সুন্দরী হৃরদের সঙ্গে বেহেশতে আসা পৃথিবীর
স্বর্গসুন্দরীরা যে হবে অনাঘ্রাত ফুল এবং বেহেশতে আসা পুরুষবাই জীবনের
প্রথম পুরুষ ,সে নিশ্চিন্ততার প্রতিশ্রুতি ও রয়েছে কোরানে [সুরা রহমান : ৫৬]
কল্পিত স্বর্গ বেহেশতে নারীদের কোনো স্থান নেই ।বরং কুরানে মেয়েদের
বক্ষ,কেশ,বাহু ও পা ঢাকার জন্য হিজব নেকাব ,বোরকা ব্যবহারের জন্য ।
এনাকি ইসলামী শরিয়ত ।কেন কোরান তো সাবধানী পুরুষদের জন্য বেহেশতে লোভ
দেখিয়েছে ।তারপরও নারীকে আবৃত ।

এমন কি মুসলিম নীতি নির্দেশক গ্রন্থ হাদিসে বলা হয়েছে ,” নারী শয়তানের রূপে আসে আর শয়তানের রূপে যায়”

৮ thoughts on “নারী শয়তানের মনুষ্য রূপ (ধর্মানুসারে)

  1. এখানেই ইতি নয়.…ইতিহাস আরো
    এখানেই ইতি নয়.…ইতিহাস আরো বেশি অমানুষিক।সতিদাহ,দেবদাশী,জহর এই ধরনে প্রথার দ্বারা যুগে যুগে নারী-পুরুষের মাঝে প্রেম-ভালবাসার ইতি টানার অপচেষ্ট চালানো হয়েছে.…ভালবাসার পরিবর্তে সেখানে যুক্ত করা হয়েছে ত্রাস,আতংক এবং বিকৃত ধর্মীয় প্রথার কিছু বিকৃত মানসিক বিকারগ্রস্থ মানুষের জন্য আমরা বারে বারে সভ্যতার নামে বন্য হয়েছি।

  2. তারপর মানুষ ধর্ম ধর্ম করে।
    তারপর মানুষ ধর্ম ধর্ম করে। চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়ার পরও মানুষ মূর্খই থেকে যায়। কীভাবে যে বলে ধর্মে নারীদের মর্যাদা দিয়েছে… বুঝি না। দাসী হওয়া মানেই মনে হয় মর্যাদা দেওয়া। :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি:

  3. ধর্মের জন্ম হয়েছিল মানুষের
    ধর্মের জন্ম হয়েছিল মানুষের জন্য। মানুষের মনুষত্ব রক্ষার জন্য।

    কিন্তু যুগে যুগে সর্বদাই রক্ষকরা ভক্ষক হয়েছেন। যেমনি ভাবে একটা চমৎকার নিরপেক্ষ জনগণ বান্ধব শ্রেণীবৈষম্যহীন সংবিধান এক সময় শাষকের সাফাই গাইতে শুরু করে!
    তেমনিভাবে ধর্ম ব্যবহারিত হয়েছে ধর্মযাজকদের স্বার্থ রক্ষায়… আর স্বভাবতই সেই ধর্মযাজকদের অনেকেই যতটা না মানুষ ছিলেন তারচেয়ে বেশি পুরুষ ছিলেন!

    শুধু নারীর প্রতিই নয়, ধর্মকে স্বার্থোদ্ধারের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয় রাজনীতিতে, ক্ষমতা বা সম্পদ দখলে, যুদ্ধাপরাধীর বিচার ত্বরান্বিত করতে… আরো কত জায়গায়!
    সে দোষের দায়ভারও বুঝি ধর্মেরই? হবে হয়তো!

    “নিশ্চয়ই জ্ঞানীদের জন্য রয়েছে আলামত” …(~আল-কোরআন)

    কিন্তু হায়- তেমন জ্ঞানী কোথায় সমাজে?
    :কনফিউজড:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *