দৃষ্টান্তঃ দেশী স্টাইল

বাংলাদেশ প্রসঙ্গে কথা বলতে গেলে এশিয়ারই কিছু  রাষ্ট্রের উদাহরণ দিয়ে বলা হয় ,২০/৩০ বছর আগে মালয়েশিয়া কিংবা সিঙ্গাপুরের অবস্থা ও বাংলাদেশের মতই ছিল, ক্ষেত্র বিশেষে বাংলাদেশের অবস্থা ওদের চেয়ে অনেক ভালো ছিল ….. কিন্তু বর্তমানে এমনকি দক্ষিন এশিয়ার স্বল্পোন্নত দেশ গুলো ও  আমাদের সামনে  দৃষ্টান্ত হিসেবে দাঁড়িয়ে গেছে, যেমন শ্রীলঙ্কার শিক্ষার হার ১০০ % কিংবা নেপালের ট্যুরিস্ট বান্ধব স্ট্রাটেজি , যা তাদের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি ইত্যাদি ইত্যাদি …. কিন্তু সে হিসাবে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বা শিক্ষা খাতে মোটেই উন্নতি করতে পারেনাই … তবে আশার কথা হচ্ছে দেরিতে হলেও বাংলাদেশ শীঘ্রই পুরো বিশ্বের সামনে একটা “অনুকরণীয় আদর্শ” হিসেবে আবির্ভূত হতে  যাচ্ছে ….

আমাদের মন্ত্রীরা বিভিন্ন “বালা-মছিবতের” সময়  আমাদের মঙ্গলের জন্য এবং সব মছিবত কাটিয়ে উঠার জন্য  পুরাই স্বত:প্রণোদিত হয়ে খুবই গুরুত্বপুর্ণ কিছু উপদেশ  তথা ‘তরীকা’ ‘নাযিল’ করেন ……. যেমন সাবেক মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঈদের সময় লোক জনকে ঘরে তালা মেরে বাড়ি যাবার নিঃস্বার্থ আহবান জানিয়ে বিপুল পরিমাণ জনপ্রিয়তা “উপার্জন” করেছিলেন গত বছর …… আসলেই মারাত্মক গুরুত্বপূর্ণ ছিল এই উপদেশটা, কারণ দরজায় তালা না মেরে বেরুলে ,বাড়ি থেকে ফিরে এসে  দেখা যাবে, ঘরে কোন কিছুই নাই, পুরাই ধু ধু “সাহারা” মরুভূমি ……. আরো বড় ব্যাপার, এদেশের মানুষ জানতোই না যে “তালা” নামে একটা পদার্থ আসে , যে ঘরের দরজায় না মেরে বেরুলে ঘর আলিবাবার মতো “চিচিং ফাক” হয়ে যাবে ; জাতিকে এরকম ইউনিক আইডিয়া দেয়ায় আমরা তার কাছে চির কৃতজ্ঞ …..

আর বাণিজ্য ফারুক খান তো ‘কিং খান’  স্যরি “কম খান” উপাধি পেয়ে ধন্য করেছেন বাংলা মায়ের আপামর দামাল পাবলিকদিগকে 🙂 :P……….. জ্যামিতিক হারে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস পত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় পাবলিকের নাভিশ্বাস উঠে যাবার সমস্যাটা তিনি তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছিলেন শুধু মাত্র দেড়খানা উপদেশের সৌজন্যে ” আপনারা কম কম খাবেন এবং কম কম বাজারে যাবেন ” !!!!!
কি অসাধারণ এবং সহজ সমাধান !!! এ উপলক্ষে দেশের মানুষ স্বতস্ফূর্ত ভাবে আজীবন তার “পৈশাচিক আত্নার মাগফেরাত ” কামনা করে যাবে…..

যাই হোক,  এই গ্লোবালাইজেশনের জমানায় তাদের ঐতিহাসিক তরীকা গুলোর জনপ্রিয়তা দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে পুরো বিশ্বেই বিপুল ভাবে  সমাদৃত হচ্ছে …..
বিশ্ব ব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টরের বক্তব্য যার অকাট্য প্রমাণ … একটা চ্যানেলের নিউজ হেডলাইনে দেখলাম তিনি বলেছেন “বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু তৈরী করতে পারে” ….!!! কি জ্ঞান গর্ভ এবং বুদ্ধিদীপ্ত পরামর্শ, লাইক এ জেনুইন চুদির ভাই …… বাংলাদেশী থিউরি বাংলাদেশের ওপরই এপ্লাই করে যে আন্তরিকতা  এবং যথাযোগ্য মহানুভবতার পরিচয় দিলেন , তা বৈশ্বিক ইতিহাসেও কলঙ্কাক্ষরে চিরকাল লিখা থাকবে  …..  আশা করি অন্যান্য দেশের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক নেতা কিংবা বিশ্ব ব্যাঙ্ক – আইএমএফ টাইপের জায়ান্ট প্রতিষ্ঠান গুলোর হোমরা চোমড়া কর্তারা ও এ থেকে শিক্ষা নিয়ে বিপুল পরিমাণ  উৎসাহ উদ্দীপনার সাথে এ’রম   ডায়ালগের কঠোর অনুশীলন বিরামহীন ভাবে চালিয়ে যাবেন…….. সারা জীবন অন্য রাষ্ট্র কে আদর্শ রাষ্ট্র হিসাবে ধরে নিয়ে তাকে অনুসরন করার দিন আর নাই, এখন অন্যরাই  আমাদেরকে আদর্শ মেনে শিষ্যত্ব গ্রহণ করবে ….. ভাবতেই গর্বে বুক ভৈরা যায় ….

খালি দুর্নীতিতে শীর্ষস্থান অধিকার কৈরা বৈসা  থাকলে “চৈলত ন” আস্তে আস্তে সব নেগেটিভ সেগমেন্টেই অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে …. পিত্তি জ্বালানো ডায়ালগবাজিতেও বাংলাদেশ অলরেডি শীর্ষ স্থান দখল কৈরা রাখছে,  এখন পুরো বিশ্বকেই এটা শেখানোর পালা…

তথাপি বিশ্বব্যাঙ্কের নবনিযুক্ত কান্ট্রি ডিরেক্টরের এধরনের বালখিল্য ডায়ালগ বাজির স্টাইল এটাই প্রমান করে যে , বাংলাদেশ সঠিক পথেই আছে ; “শিক্ষা যখন দিয়েছি শিক্ষা আরো দেব”, তবু ত্বরিত গতিতে সারা বিশ্বকেই এই ডায়ালগ হাতে কলমে শিখিয়ে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ ……..

৮ thoughts on “দৃষ্টান্তঃ দেশী স্টাইল

  1. “শিক্ষা যখন দিয়েছি শিক্ষা
    “শিক্ষা যখন দিয়েছি শিক্ষা আরো দেব”, তবু ত্বরিত গতিতে সারা বিশ্বকেই এই ডায়ালগ হাতে কলমে শিখিয়ে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ ……..
    :মানেকি: :মানেকি: :মানেকি: :মানেকি: :মানেকি: :মানেকি: :মানেকি:
    সুন্দর করে গঠনমুলক লিখা লিখেন? এইটাতো ফেবু স্ট্যাটাস না!!তাই না?
    একটু শালীন-শৈল্পিক বা সময় উপযোগী করে পোস্ট দেয়ার চেষ্টা করুণ…
    শুরুটা চমৎকার ছিল কিন্তু শব্দ চয়নের দুর্বলতা মান ক্ষুণ্ণ করেছে…
    আশাকরি ভবিষ্যতে যত্নবান হবেন!!

    1. আইছে আমার ব্লগ মাস্টর!! উনার
      আইছে আমার ব্লগ মাস্টর!! উনার মনের ভাব উনি কেমনে প্রকাশ করবেন এইটাও আপনার মত পন্ডিতের কাছ থেইকা শিখতে হৈবো? ব্লগে এসব মাস্টরি চোদানোর আগে শালীনতার একটা সংজ্ঞা দিয়া যাইয়েন…

    2. @তারিক লিংকন –
      -> এইটাতো

      @তারিক লিংকন –

      -> এইটাতো ফেবু স্ট্যাটাস না!!! তাই না?
      =>> ফেসবুক আর ব্লগে লিখার জন্য আলাদা আলাদা নিয়ম কানুন প্রচলিত আছে নাকি  !! জানতাম না তো !! আসলেই আমি একটা গণ্ড মূর্খ , কতো কিছুই যে জানি না !! আপনাদের মত জ্ঞানী গুণী মানুষ দের সংস্পর্শে আইসা জ্ঞানাঅর্জনের প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা চালাই কিছু শেখবার আশায়……… btw এই ব্লগ আর ফেস বুকের জন্য আলদা লিখন পদ্ধতি কী আপনিই পয়দা করছেন ….?? যদি এ ব্যাপারে সবিস্তারে বলতেন তাইলে কৃতার্থ হৈতাম ….

      -> একটু শালীন-শৈল্পিক বা সময় উপযোগী করে পোস্ট দেয়ার চেষ্টা করুণ…
      =>>” শৈল্পিক” ভাবে লিখার মত প্রতিভা আমার এক ফোঁটাও নাই….. ব্লগে লিখতে হৈলে শালীন এবং শৈল্পিক ভাবে লিখতে হবে ,এই আইন  টা ও কি আপনিই প্রসব করছেন ?? ভাই তো দেখি রীতিমতো রত্ন গর্ভা, বহুত ভালো ভালো জিনিসের প্রডাকশন দিছেন ….. ভাই , আপনার স্বহস্তে লিখিত পোস্ট গুলোর মধ্যো যে টা আপনার সব চেয়ে বেশী “শৈল্পিক ” হৈছে সেটার একটা লিঙ্ক দিয়েন ভাই, শিখতে মুঞ্চায় ……

      ->শুরুটা চমৎকার ছিল কিন্তু শব্দ চয়নের দুর্বলতা মান ক্ষুণ্ণ করেছে…
      =>> শব্দ চয়নে “সবলতা” ক্যামনে আনুম ভাই……? কোন কোন শব্দ চয়ন দুর্বল এবং সে জায়গায় কোন কোন শব্দ বসালে সেইটা সুস্থ সবল হিসাবে আপনি গ্রহণ করবেন ? “শব্দ” গুলো শক্তি শালী/ মজবুত করার জন্য নিয়মিত সাতার এবং ব্যায়ামের ব্যাবস্থা করব ভাবতেছি, কোথায় করালে ভালো হবে সে ব্যাপারে পরামির্শ দিয়ে যদি একটু বাধিত করতেন, তাইলে চিরকাল আপনার কৃতজ্ঞতার “নাগপাশে ” আবদ্ধ থাকতাম….. আপনার শব্দ চয়ন এবং জ্ঞানের দৌড় দেখতে মুঞ্চায় ….
      আশাকরি ভবিষ্যতে কারো লিখার সমালোচনার সময় আরো যত্নবান হবেন !

    1. মোশফেক আহমেদ, ভাই আগে আপনেও
      মোশফেক আহমেদ, ভাই আগে আপনেও তো তারিক লিঙ্কনের সাথে একমত প্রকাশ কৈরা লিখছিলেন , “যা বলার তারিক ভাই সব বৈলা দিছে,  তাই আমি আর কিছু বললাম না …. আমি শুধু জানতে চাইব – ভাই এত ডট কেন? দাড়ি-কমা কই? খালি ডট আর ডট” !!!!!!!!!!!!!!!!!”

      কিন্তূ এখন প্রতি মন্তব্য করতে আইসা আমি তো পুরাই বিদিক,  তারিক লিঙ্কনের প্রতি সমর্থন সূচক বাক্য টা ভ্যানিশ কৈরা দিলেন !!!! ভাই যে লাইন টা আপনারে একটু পরে মুইছা ফেলতে হবে,  সেইটা লেইখা এমন জ্ঞানী গুণী টাইপ ভাবর প্রয়োজন টা কি …..!!?
      যাই হোক,  আপনি সম্ভবত এতক্ষণে আপনার উত্তর পেয়ে গেছেন , আর না পেয়ে থাকলে তারিক রে যে উত্তর দিছি ,সেটা একটু কষ্ট করে পড়ে নেবেন , ঐটা আপনের জন্য ও প্রযোজ্য…..

      আর দাড়ি কমা বিষয়ক জিজ্ঞাসার পরিপ্রেক্ষিতে প্রথমেই আপনের প্রতি আন্তরিক সহমর্মিতা জ্ঞাপন করছি, আসলে আমি জানতামই না যে আপনি দৃষ্টি শক্তিহীন ; আপনি হয়ত চমকে উঠেছেন এটা ভেবে- আমি কি ভাবে জানলাম যে আপনি দৃষ্টি শক্তিহীন !!! কিন্তু এতে অবাক হবার বিন্দু মাত্র অবকাশ নাই, খুব সিম্পল ব্যাপার – আমার লিখায় এটলিস্ট ১৫/২০ টা কমা ছিল , অথচ আপনি কোন কমা’ই দেখলেন না !!!! অন্ধ না হলে এতো গুলো কমা কারো চোখ এড়িয়ে যাওয়া অসম্ভব…. নাকি এতো গুলো কমা’তেও আপনার পেট ভরে নাই ?!? সে ক্ষেত্রে ,প্রতিটা শব্দের পর কমা দিলে যদি আপনার পেট ভরে, তাইলে নিঃশর্তে আমি প্রতিটা শব্দের পরই কমা দিতে রাজি আছি…..

      তবু তর্কের খাতিরে ধরেই নিলাম আমার লিখায় কোন দাড়ি কমা নেই ; আমার প্রশ্ন ,কোনো কিছু লিখতে হলে দাড়ি-কমার বন্দোবস্ত “না” করা টা কি ফৌজদারিতে দণ্ড বিধিতে শাস্তি যোগ্য অপরাধ !?? কিংবা শিষ্টাচার বহির্ভুত ? নাকি বাংলা ব্যাকারনে এ সম্পর্কে কঠোর কোনো বিধি নিষেধ আরোপিত আছে……..!!

      আপনের জন্য একটা প্র্যাক্টিকাল উদাহরণ-  আপ্নার নাম মুশ’ফেক’ , যা কিছু টা অপ্রচলিত , আমি মুশ’ফি’ক নাম টা হাজার বার শুনছি,  কিন্তু মুশ’ফে’ক নামটা সৌভাগ্য ক্রমে আজই প্রথম শুনলাম …. আমি কখনো এই নাম টা শুনি নাই, এজন্য এরকম নামের প্রচলন নাই এদেশে,  এই জাতীয় বালখিল্য দাবী আমি কখনোই করবো না ……. কিন্তু আমি যদি কিছুই না বুইঝা আপনার উদ্দেশ্যে আবালের মত বলি — ” যে নিজের নামের বানান টাও ঠিক মতো লিখতে পারে না, সে আসছে ব্লগে লিখতে কিংবা অন্যের লেখার সমালোচনা করতে” ….
      এরকম কিছু লিখলে আপনার নিশ্চই  ভাল্লাগবেনা…. সে ক্ষেত্রে আপনি হয়ত বলবেন, “আমার নামের বানান আমি যেমনে খুশী তেমনে লিখুম,  তুই কোথাকার কোন বকচুদ যে তোর কাছ থেকে আমারে নামের বানান শিখতে হবে ?!!! আর আমি ক্যাম্নে কি করছি, সেই কৈফিয়ত ও কি তোরে দিতে হৈব !?

      ঠিক এই সময়ে আপনার যে অনুভূতি হৈত , আমার এখন ঠিক সে রকম অনুভূতিই হচ্ছে ….!!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *