রাত ও বিরাতে

সামনে পাঁচতলা দালান ।ছাদে পাঁচটি ডিশ এন্টেনার ।মাঝে একটি সরু খুঁটি ।খুঁটিতে প্রায় একটি পাখি বসে থাকে ।ঠিক দোয়েল পাখির মত কিন্তু আকারে অনেক বড় ।পাখির নাম নিয়ে ভাবনায় পড়ি।অর্ক বলে দেখতে নাকি কোকিলের মত আমি তর্কে জড়াই না ।আমি জানি অচিন পাখি নামে।দালানের নিচে পাঁচটি গাড়ি আঁকাবাঁকা করে সাজানো।রাত তেমন বেশী না ভোঁর হতে শুরু করলো ।আমি জানালার কাঠে হেলান দিয়ে দাড়াই।চারো দিকে শুনশান নীরবতা ।সবাই গভীর ঘুমে মগ্ন ।আকাশ আজ গম্ভীর সাদা কালো মেঘে ছেয়ে আছে। দূরে লেকের ধারে ল্যাম্প পোস্ট। বাতি জ্বলছে ।সাদা নীল আলো লেকের পানিতে খেলা করছে ।একে অন্যকে ছুয়ে দিয়ে দূরে সরে যাচ্ছে ।কিসের টানে আবার নিকটে আসছে ।তাকিয়ে আছি খুব একটা খারাফ লাগছে না ।রাস্তায় কে যেন হাঁটাহাঁটি করছে ।মৃদু আলোতে ছায়া দেখতে পারছি না ।পরীদের ছায়া পড়ে না আর ওদের ছায়া দেখতে নেই। পরীদের রূপ সুধা পান করতে হয়।স্বাদ যেন তেঁতো মিষ্টির এপিঠ ওপিঠ ।আমি তাকিয়ে আছি, পরীর চোখ জ্বলছে তাতে নাম না জানা আলো ।চমকে উঠলাম অচিন পাখির ডাকে । চমকে উঠলাম কিন্তু ভয় পেলাম না ।রাতের বেলা ভয় পেতে নেই। মনে হল অনেক চেনা কেউ পাখির মাঝে আত্মা হয়ে এসেছে ।যেন বলছে তাঁকে ছুয়ে দিতে ।আমার ছোঁয়ায় নাকি বিশ্ব খাঁচা থেকে মুক্তি পাবে সে ।হাত বাড়ালাম স্পর্শের আগে উড়ে গেল ।বলে গেল জগতের মায়া ছাড়তে পারছে না তাই আরও কিছু দিন থাকতে চায়। নিচে তাকিয়ে দেখি পরী হাত বাড়িয়ে ডাকছে ।এই ডাকাডাকি অনেক দিনের ।আমি সাড়া দেই না ।সে চায় মানুষের মাঝে ঘুরে বেড়াতে ।আর আমি চাই আকাশে ।সে আমায় উড়তে গিয়ে পড়ে যাওয়ার ভয় দেখায় ।আমি দেখাই ডানা কাটার ।ছোট কালে অনেক শুনতাম পরীরা মানুষের মাঝে চলে এলে তাদের ডানা কেটে নেওয়া হত যেন আর পরীর দেশে ফিরে যেতে না পারে ।তাই তাঁকে কষ্ট দেই না বঞ্ছিত করতে চাই না তার উড়াউড়ি থেকে ।পরী আমায় জাদু করবে বলে ভয় দেখায় ।বলি জাদু আমায় সয় না পরে আবার তোমার না ক্ষতি হয় ।ভোঁর হতে শুরু করলো ।দিনের প্রথম লাল আভা দেখতে পেলাম ।পরী অভিমান নিয়ে চলে যাচ্ছে ।বললাম আবার দেখা হয়ে হয়তো প্রদোষকালে নয়তো স্বপনে বা যেদিন আত্মা হয়ে ফিরে যাবো তোমাদের মাঝে……………

২ thoughts on “রাত ও বিরাতে

Leave a Reply to তারিক লিংকন Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *