স্বাস্থ্যনীতি- ২০১১, আশীর্বাদ না অভিশাপ?

Internee শেষ হওয়ার পরপরই অভাব শুরু হয় না, হয় ৩-৪ মাস পর থেকে’- কথাটি আমাকে বলেছিলেন এক ভাই। তখন ক্যাবলা কান্তর মত হাসলেও এখন তা বুঝিতে পারছি।
অভাবের সাথে জড়িয়ে আছে নানাবিধ বিড়ম্বনা। এর মধ্যে ১ নাম্বার হল identity সঙ্কট।
কারো সাথে দেখা হওয়ার সাথে সাথে কমন কিছু প্রশ্ন করা শুরু হয়ে যায় ।
এইখানে একটি মাত্র কথোপকথন তুলে ধরছে —-
জনৈকঃ তুমি এখন কথায় আছ ?
আমিঃ আমি এখন আপনার সামনেই আছি।
জনৈকঃ না,বলছিলাম তুমি কোন হাসপাতালে আছ ?
আমিঃ এখনও কোন হাসপাতালে ঢুকিনি ।
জনৈকঃ তাহলে করো কি ? বেকার ? ( ভাব দেখে মনে হয় আমার বেকারত্তে আমার থেকে তারই অন্তর পুরে যাচ্ছে )
আমিঃ জি হা ।

Internee শেষ হওয়ার পরপরই অভাব শুরু হয় না, হয় ৩-৪ মাস পর থেকে’- কথাটি আমাকে বলেছিলেন এক ভাই। তখন ক্যাবলা কান্তর মত হাসলেও এখন তা বুঝিতে পারছি।
অভাবের সাথে জড়িয়ে আছে নানাবিধ বিড়ম্বনা। এর মধ্যে ১ নাম্বার হল identity সঙ্কট।
কারো সাথে দেখা হওয়ার সাথে সাথে কমন কিছু প্রশ্ন করা শুরু হয়ে যায় ।
এইখানে একটি মাত্র কথোপকথন তুলে ধরছে —-
জনৈকঃ তুমি এখন কথায় আছ ?
আমিঃ আমি এখন আপনার সামনেই আছি।
জনৈকঃ না,বলছিলাম তুমি কোন হাসপাতালে আছ ?
আমিঃ এখনও কোন হাসপাতালে ঢুকিনি ।
জনৈকঃ তাহলে করো কি ? বেকার ? ( ভাব দেখে মনে হয় আমার বেকারত্তে আমার থেকে তারই অন্তর পুরে যাচ্ছে )
আমিঃ জি হা ।
জনৈকঃ তাইলে কিছু করো। আর কত দিন মা বাবার ঘাড়ে বসে খাবা । ( আমার মা বাবার বেকার ছেলের চিন্তায় তার ঘুম হচ্ছে না !)
আমিঃ জি চেষ্টা করছি । ( রাগে শরীর জ্বলছে। ভদ্রতার খাতিরে কিছু বলতে পারছি না )
জনৈকঃ তা তুমি কন বিষয়ে specialist ?
আমিঃ এখনও কোন বিষয়ে specialist হয়ে পারিনি ।
জনৈকঃ ও তার মানে simple MBBS । ( অতীব তাছছিল্লের সাথে )
আমিঃ জী হ্যাঁ ।
জনৈকঃ তা আমার একটু পেটে ব্যথা হচ্ছে,কি ওষুদ খাওয়া যায় বলত বাবা । ( এতক্ষণে বাবা ডাক আসিল )
আমিঃ জী আমি তো simple MBBS আমার ওষুধ এ কি আর আপনার সারবে, আপনি ভাল হয় একজন FCPS medicine specialist সাথে যোগাযোগ করুন। আপনি যে মাপের লোক তাতে একজন simple MBBS ডাক্তারের ওষুধ এ আপনার রোগ সারবে না।
Simple MBBS ভাইদের কাছে অনুরোধ যারা আপনাদের সম্মান করতে পারবে না, তাদের দয়া করে treatment করবেন না।

Anik Saha Sreejon এর এ লেখা । পড়ছি আর ভাবছি সাধারণ মানুষের মনে এই সিম্পল এমবিবিএস ধারণাটা ঢোকানোর জন্য দায়ী কে? ডাক্তারদের বিরুদ্ধে যাবতীয় অভিযোগ আসলে কেন ? শিক্ষাছুটি থেকে শুরু করে ইন্টার্নি দুই বছর করার সিদ্ধান্ত সব ক্ষেত্রেই নবীন ডাক্তারদের কেন স্যাক্রিফাইস করতে হচ্ছে সব সময় ?

ইন্টার্নি দুই বছর করা হবে এই গুজব/তথ্য আমি শুনেছি আজ থেকে ৭ বছর আগে যখন মেডিকেল এডমিশন টেস্ট দেই । ২০০৫/৬ সাল । এরপর ২০১১ সালের স্বাস্থ্য নীতিতে ইন্টার্নি দুই বছর করার ধারা যোগ করা হয় শর্তাধীনে । এর আগেও বিভিন্ন লেখায় ডাক্তারদের বিরুদ্ধে সরকারের(আসলে হবে আমলাদের) নানা সিদ্ধান্তে এবং মানবাধিকার মিজানের বাড়াবাড়িতে এবং সাংবাদিকদের লাফালাফিতে আমি ব্যক্তিগতভাবে অদৃশ্য ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করেছি । ইন্টার্নি দুই বছর করা নিয়ে আবার কথা উঠায় আবার পয়েন্ট আকারে লিখছি-

১. স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ সর্বাধিক লাভজনক-বাংলাদেশে বেসরকারী খাতে ৬০% লাভ হয় । আগামী দশ বছরে পার্শ্ববর্তী দেশসহ এশিয়ার কয়েকটি ব্র্যান্ড চেইন হাসপাতাল খুলবে বাংলাদেশে । আমাদের খুব পরিচিত কিছু এনজিও ,পত্রিকা কোম্পানি হবে সে সব হাসপাতালের দেশীয় এজেন্ট ।

২. কম্যুনিস্ট দেশগুলো ছাড়া একমাত্র বাংলাদেশেই সরকারী স্বাস্থ্য সেবা নামকাওয়াস্তে খরচে পাওয়া যায় ।( আমাদের মেডিকেলে মাত্র ১১টাকা দিয়ে টিকিট কাটলে সেই টাকায় হাসপাতালে থাকা খাওয়ার খরচসহ পেট ব্যাথার চিকিৎসাসহ কোলন ক্যান্সারের অপারেশন করা সম্ভব । নিতান্তই গরীব রোগীদের ফ্রিতে হাসপাতালেই পরীক্ষা নিরীক্ষা-POOR FUND এর ওষুধ দেয়া হয়, আর অপারেশনের কোন আলাদা ফি নেয়া হয়না।) এখানেই ঐ এনজিও/পত্রিকা/বিদেশী এজেন্ট চক্রের আপত্তি । তারা এ দেশের শাসনযন্ত্রের মাথাদের প্ররোচিত করে এমন সব নীতি নির্ধারন করার যা মোটা দাগে জনবান্ধব কিন্তু ডাক্তারদের সরকারী চাকরী করতে নিরুৎসাহিত করে । আর শাসকগোষ্ঠী চটকদার গালভরা প্রতিশ্রুতি দেয় স্বাস্থ্য সেবার নামে যা কল্পনাপ্রসূত বাস্তবতা বিবর্জিত ।

৩. শিক্ষাছুটির বাধ্যতামূলক নিয়ম যে রকম সরকারী চাকরীর ব্যাপারে অনেক নবীন ডাক্তারদের মাঝে অনীহার জন্ম দেয় , ঠিক তেমনি ইন্টার্নি দুই বছর এরকম সম্ভাব্য ঘোষণা ডাক্তারী পড়তে ইচ্ছুক ছাত্র-ছাত্রীদের নিরুৎসাহিত করবে । ইতিমধ্যেই অনেক ডাক্তার সরকারী চাকরি ছেড়ে বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে অধিক সুযোগ সুবিধা এবং বেতনে কর্মরত আছেন কেউ বা বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন উচ্চ শিক্ষার জন্য । (এই লাইনের সাথে সাথে ননমেডিকেল পাঠকেরা হই হই করে উঠবেন তাদের বলছি একটা ট্রেইনিং পোস্টে আসার জন্য ডিজি অফিসের পিয়নের কাছে সরকারী ডাক্তারদের যে হয়রানি কিম্বা চিকিৎসক সংগঠনের নেতাদের পেছনে যে জুতোর সোল ক্ষয় করতে হয় তা আপনারা জানেন না , আসছে বিসিএসে নাকি বিশেষ সংগঠনের প্যাডে ডাক্তারদের নামের লিস্ট যাচ্ছে ক্যাডারে সিলেক্ট হতে) সহকারী সার্জন হিসেবে জয়েন করে সারা জীবন পার করে এই পদেই রিটায়ার করেছেন এমন অনেক ডাক্তার আছেন । এমবিবিএসের পর একজন ছাত্রের উচ্চ শিক্ষার ডিগ্রী কমপ্লিট করতে ১০/১২ বছর লেগে যায় অথচ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে ৩ বছর লাগে এমডি শেষ করতে । মধ্যপ্রাচ্যে ভারতীয় ডাক্তারদের ছড়াছড়ি অথচ আমাদের দেশের শ্রমীক পাঠানোর জন্যে সরকারের যত উদ্বেগ দেশের অর্থনীতি লাভবান হত কাদের বেশী পাঠালে ?

৪. প্রতিবছর পাশ করা মহিলা এবং পুরুষ ডাক্তারদের অনুপাত এবং প্রথম বর্ষ সহ সকল বর্ষে মেয়েদের সংখ্যাধিক্য দেখা যায় যা সম্পর্কে নীতি নির্ধারকেরা অবগত আছেন । সরকারী মেডিকেলের সুরক্ষিত ওয়ার্ডে যেখানে মহিলা ইন্টার্নি কাজের জন্য নিরাপদ পরিবেশ পায় না , বেসরকারী ক্লিনিকে কাজ করতে গিয়ে ডাঃ সাজিয়া আফরিন ইভা হত্যার কথা গণমাধ্যম চেপে যায় সেখানে ছাত্রী-মহিলা ইন্টার্নি চিকিৎসকেরা এই সীদ্ধান্তে আতঙ্কিত হবেন এটাই স্বাভাবিক । ফলাফল মেডিকেল শিক্ষাব্যবস্থার পাইপ লাইনে ধ্বস । মহিলা চিকিৎসক গ্রামেগঞ্জে নিয়োগ পেলেও বেতনের ৯০%টাকা উর্ধতন কর্তৃপক্ষের পকেটে দিয়ে অনুপস্থিত থাকতে বাধ্য হন । বঞ্চিত হয় সাধারণ মানুষ , দুর্নাম হয় সরকারী স্বাস্থ্য সেবার কাটতি বাড়ে মিজান সাহেব এবং পত্রিকার ।

৫. তিনি সর্দি জ্বর থেকে শুরু করে জটিল রোগের চিকিৎসা দেন । রাত আটটা- চেম্বারে রোগীর মস্ত লাইন , কয়েক মিনিটে রোগী দেখার কাজ সারেন । রোগীরা মুখে টুঁ শব্দটি করলে মুখে যা আসে তাই বলে দুর্ব্যবহার করেন তিনি । চেম্বারের বাইরে ওষুধ কোম্পানীর লোক গিফট হাতে , ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের লোক কমিশনের প্যাকেট নিয়ে অপেক্ষা করছে । আচ্ছা বলেন তো তিনি কে ? বিনা বেতনে ২৪ ঘন্টা ডিউটি করা অনারারি চিকিৎসক , ১০ হাজার টাকা বেতন পাওয়া ইন্টার্নি(বেতন বেড়েছে কিনা জানা নেই ৬মাস আগে এই বেতনেই ইন্টার্নি করেছি) , নাকি ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ড উপজেলার কোট চাঁদপুর ইউনিয়নের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা(ইউনিয়নের আর কোন কোন প্রথম শ্রেণীর সরকারী কর্মকর্তা কাজ করে বলুন তো) ? সে কল্পিত ব্যাক্তিটি হবেন ১০০তে ১০০ভাগ ক্ষেত্রে একজন সহকারী অধ্যাপক থেকে সিঁড়ির উপরের ধাপ । তিনিই হয়তো মন্ত্রণালয়য়ের নীতি নির্ধারণী সভায় সোচ্চার হবেন-“নানা ডাক্তাররা একদম গ্রামে থাকছেনা , ওখানে ইন্টার্নি পাঠানো একান্ত দরকার অথবা হনারারি চিকিৎসকদের পেছনে খরচ করার মত অর্থ সরকার বাহাদুরের হাতে নেই” ।
অথচ তার সন্ধ্যা বেলা হাসপাতালে ছাত্র পড়ানোর কথা , হনারারি চিকিৎসকদের ট্রেইন করার কথা ।

স্যার আপনারা ব্যক্তিগত লাভের চিন্তা আর কত দিন করবেন ? আজকে থেকে আপনারা ঘোষণা দেন যে একজন এমবিবিএস ডাক্তারের কাছ থেকে রেফার হয়ে না আসা রোগী আপনারা দেখেবন না বা হাসপাতালের নিয়মিত আউট ডোরে দেখা হবে না(ইমার্জেন্সি আওতাভুক্ত না) তাহলে দেখবেন বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে অনেক অরাজকতা কমে যাবে । স্যার আপনারা সরকারকে চাপ দেন হনারারি চিকিৎসকদের বেতন দিতে ,সকল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করে তারপর সকল কন্সাল্টেন্টদের বাধ্যতামূলক কর্মস্থলে থাকতে তাহলে দেখবেন তাদের অধীনস্থ সহকারী সার্জন বাপ বাপ করে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকবে , আপনারা সন্ধ্যা বেলা আমাদের একটু দেখিয়ে দেন আমাদের স্কিল কত বাড়ে দেখবেন । আমরা ইন্টার্নি চিকিৎসকরা কী অসহায় পরিস্থিতিতে কর্মবিরতি দেই কই আপনারাতো কোন দিন নিজের প্রাইভেট প্রায়ক্টিসে কর্মবিরতি দিলেন না । আপনারা আমাদের পিতৃসম , অভিভাবক হয়ে আপনারা আমাদের ভালো মন্দের দায়িত্ব নেন না কোথাকার কোন সুবিধাভোগী আমলা কিম্বা স্টান্টবাজ সরকার দায়িত্ব নেবে ?

স্বাস্থ্য নীতি ২০১১ ২৫(ঙ) ধারা- ইন্টার্নশিপ পর্যায়ক্রমে দুই বছর করার সিদ্ধান্ত বাতিল চাই ।

৬ thoughts on “স্বাস্থ্যনীতি- ২০১১, আশীর্বাদ না অভিশাপ?

  1. বাংলাদেশে ডাক্তার হওয়া একটা
    বাংলাদেশে ডাক্তার হওয়া একটা অভিশাপ। এছাড়া আর কিছু বলার মতো খুঁজে পেলাম না। ঘরে বাইরে সবখানেই বেহাল দশা। এই পোস্টে মন্তব্য খরা দেখেও বুইঝেন, ডাক্তারদের সমস্যা কেও শুনতে আগ্রহী না। অথচ কোন ডাক্তারের ভুল ধরে দিয়ে চৌদ্দ গুষ্টি উদ্ধার করে পোস্ট পড়লে মন্তব্যের বন্যা বইয়ে যেতো। ইটস ফ্যাক্ট…

    1. ভাইরে বেহাল দশার কথা আর বইলেন
      ভাইরে বেহাল দশার কথা আর বইলেন না। গতকাল থেকেই মাথাটা পুরা বিগড়ায় আছে। নিজেরে অভিশপ্ত লাগতেছে।

  2. চমৎকার উপস্থাপনা । ভালই লাগল
    চমৎকার উপস্থাপনা । ভালই লাগল পড়ে । আর বিষয়বস্তু যেহেতু আমার নাহ তাই এর উপর কোন মন্তব্য করলাম না । :খুশি:

  3. হা হা হা হা ..…বেশ!!
    হা হা হা হা ..…বেশ!! বেশ!!
    অনেক আগে একটা কথা শুনেছিলাম, ‘পৃথিবিতে তিন ধরনের পেশাজীবির কখন-ও অভাব হয় না; ডাক্তার, উকিল আর যৌনকর্মী। ‘ হা হা হা হা..…এখন আপনার কথা শুনে বুঝালাম আমি অনেক কিছুই ভুল শুনি।সে যাই হোক..…অবস্থা বেশ বেগতিক বোঝা গেলো..…ডাক্তাররা যে বেকার হয় তা আজ বুঝলাম.…তবে কিছু কিছু বিষয়ে আপনার সাথে একমত হতে পারি নাই…না হ-ওয়াটাই স্বাভাবিক…পাল্টা অনেক প্রশ্ন আছে…সময় বুঝে লিখব অবশ্যই…দয়া করে ব্যাক্তিগত ভাবে দেখবেন না একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে বললাম…না হ-ওয়াটাই স্বাভাবিক…পাল্টা অনেক প্রশ্ন আছে…সময় বুঝে লিখব অবশ্যই…দয়া করে ব্যাক্তিগত ভাবে দেখবেন না একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে বললাম…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *