একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রাম শহরের নির্যাতন কেন্দ্র ও বদ্ধভূমি (পর্ব-১)

১৯৭১এ পাক বাহিনী সমগ্র বাংলাদেশ জুড়ে তাদের যেই নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালায় তার সাক্ষী আমার আজো দেখতে পাই এই বাংলার মাটিতে। তাদের থাবায় এই বাংলা পরিবর্তিত হয়েছিল নরকে। যার স্মৃতি আমরা আজো ভুলতে পারিনি। আর পাক বাহিনী কার্যক্রমের বিরাট একটি অংশ ছিল বানিজ্য নগরী চট্টগ্রাম কেন্দ্রিক। কিছুদিন আগে চট্টগ্রামের নির্যাতন ও বধ্যভূমির একটি তালিকা দিয়েছিলাম। আজ থেকে সেই তালিকার প্রতিটি নির্যাতন কেন্দ্র ও বধ্যভূমির বিবরণ সমেত বিস্তারিত প্রকাশ করছি।



১৯৭১এ পাক বাহিনী সমগ্র বাংলাদেশ জুড়ে তাদের যেই নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালায় তার সাক্ষী আমার আজো দেখতে পাই এই বাংলার মাটিতে। তাদের থাবায় এই বাংলা পরিবর্তিত হয়েছিল নরকে। যার স্মৃতি আমরা আজো ভুলতে পারিনি। আর পাক বাহিনী কার্যক্রমের বিরাট একটি অংশ ছিল বানিজ্য নগরী চট্টগ্রাম কেন্দ্রিক। কিছুদিন আগে চট্টগ্রামের নির্যাতন ও বধ্যভূমির একটি তালিকা দিয়েছিলাম। আজ থেকে সেই তালিকার প্রতিটি নির্যাতন কেন্দ্র ও বধ্যভূমির বিবরণ সমেত বিস্তারিত প্রকাশ করছি।
*******************
১। চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজঃ চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ ছিল পাকসেনাদের সামরিক নিয়ন্ত্রন কেন্দ্র। এখান থেকেই তারা পুরো শহরকে নিয়ন্ত্রন করত। সার্কিট হাউজের বিশেষ কয়েকটি কক্ষ ছিল নির্যাতনের জন্য। এখানে ইলেক্ট্রিক চেয়ারে বসিয়ে নির্যাতন করা হত। এছাড়াও নারী নির্যাতনের জন্য আলাদা ২টি কক্ষ ছিল। সেই ২টি কক্ষ ছিল দোতলায়। একটি কক্ষে শহরের সুন্দরী মেয়েদেরকে জোর করে তুলে এনে রাখা হত। আরেকটি কক্ষ ছিল সুসজ্জিত। সেখানে বাছাই করা মেয়েদেরকে উচ্চপদস্থ অফিসারদের জন্য এনে রাখা হত। আর অফিসাররা মেয়েদেরকে প্রতিরাতে পালাক্রমে ধর্ষণ করত। এরপর সেই মেয়েরা গর্ভবতী হয়ে গেলে তাদেরকে বাইরে পাঠিয়ে দেয়া হত হত্যা করার জন্য। সার্কিট হাউজ মূলত ছিল
ক। বাঙ্গালী নির্যাতন কেন্দ্র
খ। নারী নির্যাতন কেন্দ্র
গ। বধ্যভূমি
ঘ। শহর নিয়ন্ত্রন দপ্তর
তত্‍কালীন সময়ে এই সার্কিট হাউজের সার্বিক দায়িত্বে ছিল ক্যাপ্টেন নেওয়াজ মাহমুদ নজর। আর সেখানে তার সাথে সহযোগী সংগঠন হিসেবে ছিল মুসলীম লীগ, জামাতে ইসলামী আর ইসলামী ছাত্রসংঘ। স্বাধীনতার পর এখান থেকে দুশতাধিক নারীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। আর সেই সাথে উদ্ধার করা হয় শতাধিক নির্যাতিত তরুণকে। আর ইলেক্ট্রিক চেয়ারে যাদের নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে তাদের অসংখ্য মাথার খুলি সার্কিট হাউজের সংলগ্ন গর্তে পাওয়া গিয়েছিল।
_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
আমি ব্লগিং জগতে নতুন। তাই ভুল থাকা স্বাভাবিক। ভুল গুলি নিজ গুণে ক্ষমা করে দিবেন আশা করি।

২০ thoughts on “একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রাম শহরের নির্যাতন কেন্দ্র ও বদ্ধভূমি (পর্ব-১)

  1. খুবই চমৎকার কাজ
    খুবই চমৎকার কাজ করেছেন..…এটাকে রীতিমত একটা দলিল হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে.…অনেক পরিশ্রম করেছেন আরেকটু ভাল হয় যদি কিছু ওই স্থানের কয়েকটি ছবি আর স্থানীয় বা প্রত্যক্ষদ্শীর্দের ভাষ্য দেয়া যায়।

  2. মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। আসলে
    মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। আসলে মোবাইল থেকে পোষ্ট দিয়েছি তো তাই ছবি দিতে পারিনি।

  3. কাজটি প্রশংসা যোগ্য।
    কাজটি প্রশংসা যোগ্য। পরবর্তীতে সম্ভব হলে সূত্র উল্লেখ করে দিবেন। পরবর্তী পোস্টের অপেক্ষায়। :ফুল:

  4. আমি কিন্তু চট্টগ্রামের
    আমি কিন্তু চট্টগ্রামের বাসিন্দা। কিন্তু সার্কিট হাউস সম্পর্কে এতোটুকু জানতাম না। তথ্য পেয়ে ভালো লাগলো। চালিয়ে যান। পরবর্তি পোস্টের অপেক্ষায় রইলাম 🙂

  5. এক কথায় দারুন। ধন্যবাদ আপনাকে
    এক কথায় দারুন। ধন্যবাদ আপনাকে যে আপনি আপনার কথামতো সিরিজ চালিয়ে যাচ্ছেন। একটা চমৎকার দলিল তৈরী হচ্ছে আপনার হাত ধরে।

    ব্লগ কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ থাকবে যদি ব্লগার আশরাফুল করিম চৌধুরী উনার এইসকল শক্তিশালী তথ্য সমৃদ্ধ পোস্ট অন্যকোন ব্লগে পোস্ট না করে থাকেন তাহলে তাকে যেন উৎসাহিত করার ব্যবস্থা গ্রহন করেন।

  6. ভাল উদ্যোগ নিঃসন্দেহে। চালিয়ে
    ভাল উদ্যোগ নিঃসন্দেহে। চালিয়ে যান। তবে পর্বগুলো আরেকটু বড় করে দিলে খুব ভাল হয়।

  7. চমৎকার পোস্ট। জায়গাগুলোর একটু
    চমৎকার পোস্ট। জায়গাগুলোর একটু বর্ণনা, সাথে একাত্তরের সংশ্লিষ্ট জায়গার কিছু ইতিহাস যোগ করলে ভালো হয়। সাথে ছবি থাকলে তো সোনায় সোহাগা। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

    1. ধন্যবাদ। পরবর্তীতে চেষ্টার
      ধন্যবাদ। পরবর্তীতে চেষ্টার ত্রুটি থাকবেনা। আর মোবাইল থেকে ছবি দেয়া যায়না।

  8. তারপরও চট্টগ্রামের মাটিতে তথা
    তারপরও চট্টগ্রামের মাটিতে তথা বাংলাদেশের মাটিতে সা.কা. চৌধূরীরা সদর্পে ঘুরে বেড়ায়, গ্রেফতার হলেও এদের দাপট কমে না, এরা এখনও মনে করে আদালত এদের কিছুই করতে পারবে না। এরা এখনও স্বপ্ন দেখে আইনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে বেরিয়ে আসার। বিচারের নামে চলে রাজনীতির আর ভোট ভাগাভাগির হিসেব নিকেশ। আর বিচারের আশায় আমাদের মত আমজনতাদের হার-হাভাতের মত অপেক্ষা করতে হয়।

    1. যতদিন আমরা চুপ ছিলাম ততদিন
      যতদিন আমরা চুপ ছিলাম ততদিন পর্যন্ত এটাই কি স্বাভাবিক ছিলনা? বাঙ্গালীর কি আশ্চর্য গুণ! জেনে বুঝে ঘুমিয়ে থাকা!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *