মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের কাছে খোলা চিঠি..

শ্রদ্ধেয় স্যার,
আপনার প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা, ভালবাসা অপরিসীম। আপনি আমাদের অহংকার। প্রগিতশীল প্রতিটি আন্দালনের প্রেরণা। এই দাবিতেই আপনার কাছে করুন আবেদন, আপনাকে ‌’মহব্বত আলী’র চরিত্রে দেখতে চাই না। হযরত শহাজালাল বিশ্বিবদ্যালয়ে সংবাদ পরিবেশন এবং সহকর্মীকে অন্যায় শাস্তির হাত থেকে রক্ষা করার অপরাধে তিনটি জাতীয় দৈনিকের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে আপনার নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটির মাধ্যমে শাস্তি দেওয়ার যে আয়োজন চলছে, তা আমাদের বেদনাহত করছে….আমি একটি বিশ্বিবদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম, ছাত্র থাকা অবস্থায় জাতীয় দৈনিকের সংবাদদাতাও ছিলাম। বিশ্বিবদ্যালয়ের প্রশাসন কে নিবিড়ভাবে দেখার সুযোগ আমার হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক পর্যায়ে যত অনিয়ম হয়, তার মধ্যে অন্যতম প্রধান

শ্রদ্ধেয় স্যার,
আপনার প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা, ভালবাসা অপরিসীম। আপনি আমাদের অহংকার। প্রগিতশীল প্রতিটি আন্দালনের প্রেরণা। এই দাবিতেই আপনার কাছে করুন আবেদন, আপনাকে ‌’মহব্বত আলী’র চরিত্রে দেখতে চাই না। হযরত শহাজালাল বিশ্বিবদ্যালয়ে সংবাদ পরিবেশন এবং সহকর্মীকে অন্যায় শাস্তির হাত থেকে রক্ষা করার অপরাধে তিনটি জাতীয় দৈনিকের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে আপনার নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটির মাধ্যমে শাস্তি দেওয়ার যে আয়োজন চলছে, তা আমাদের বেদনাহত করছে….আমি একটি বিশ্বিবদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম, ছাত্র থাকা অবস্থায় জাতীয় দৈনিকের সংবাদদাতাও ছিলাম। বিশ্বিবদ্যালয়ের প্রশাসন কে নিবিড়ভাবে দেখার সুযোগ আমার হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক পর্যায়ে যত অনিয়ম হয়, তার মধ্যে অন্যতম প্রধান হচ্ছে, শিক্ষক নিয়োগ। আমার বিশ্বাস, আপনিও দ্বিমত করবেন না। সেই অনিয়ম নিয়ে প্রথম আলোর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি একটা রিপোর্ট করেছিল…এই অপরাধে আপনার নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি, তদন্তের আগেই ওই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিকে সাময়িক বহিস্কার করল! এটা কি মুহম্মদ জাফর ইকবালের বিবেচনা, না’কি ‘মহব্বত আলী’র বিচার বলে ধরে নেব? পত্রিকায় রিপোর্ট ছাপা হলে প্রতিবাদ পাঠানোর রেওয়াজ আছে, মামলা করার বিধান আছে। প্রথম আলো প্রতিবাদ ছেপেছেও। তারপরও শুধুমাত্র বিশ্বিবদ্যালয় প্রতিনিধি বিশ্বিবদ্যালয়ের একজন ছাত্র হওয়ার কারনে তার উপর বিশ্বিবদ্যালয় প্রশাসন ক্ষমতার অপব্যবহার করল? লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবালের কোন উপন্যাস, গল্প, কিংবা কলাম লেখার অপরাধে কি শিক্ষক মুহম্মদ জাফর ইকবালের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার রাখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন? সাংবাদিকরা সরকার, প্রশাসন, সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরে,তাহলে কি আপনার দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে প্রতিটি অনিয়মের রিপোর্টের জন্য সাংবাদিকদের উপড় চড়াও হবে প্রশাসন, সরকার? তাহলে কি প্রেস কাউন্সিল তুলে দেওয়া হবে? প্রতিবাদ ছাপানোর রীতি বন্ধ করা হবে? বিশ্বিবদ্যালয় প্রশাসনে যারা থাকেন তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের ছাত্র-সাংবাদিক বলতে পছন্দ করেন। কারন ‘ছাত্র’ শব্দ যোগ করলে উচ্চ বংশীয় হিসেবে তারা আধিপত্য করতে পারেন। দুর্ভাগ্য আমাদের! সমাজের বিবেক মুহম্মদ জাফর ইকবালও শেষ পর্যন্ত সেই আধিপত্যবাদী শিক্ষকদের দলেই যোগ দিলেন!
প্রথম আলোর প্রতিনিধির প্রতি অন্যায় সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্দোলনে নেমেছিলেন তার দুই সহকর্মী, সমকাল এবং ডেইলী স্টার প্রতিনিধি সহ অন্যরা। অনশন, স্মারকলিপি, নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন। এই আন্দোলন করার অপরাধে তাদেরও ডাকল মুহম্মদ জাফর ইকবালের তদন্ত কমিটি…যেদিন তদন্ত কমিটির সামনে হাজির হতে বলা হল, তার আগের দিন সমকাল প্রতিনিধি টানা অনশনের কারনে প্রচন্ড অসুস্থ। ডেইলি স্টার প্রতিনিধি সহ অন্য সহকর্মীরা মিলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। সুস্থ হওয়ার পর তারা মুহম্মদ জাফর ইকবালের সঙ্গে দেখাও করলেন, অথচ বিষয়টি জানার পরও মুহম্মদ জাফর ইকবালের কমিটি প্রথম দিন দেখা না করার অপরাধে তাদেরও অভিযুক্ত করল। সর্বশেষ জানা গেল, অনিয়ম নিয়ে রিপোর্ট করার দায়ে প্রথম আলো প্রতিনিধি কে এক বছর এবং তার পক্ষে আন্দালন করার জন্য সমকাল এবং ডেইলি স্টার প্রতিনিধি কে ছয় ,মাস মেয়াদে বহিস্কার করার জন্য সুপারিশ করেছে মুহম্মদ জাফর ইকবালের তদন্ত কমিটি!
যদি এই শাস্তি সিন্ডিকেট অনুমোদন করে তাহলে জাতির সামনে একটি খুব খারাপ দৃষ্টান্ত স্থাপিত হবে। বিশ্বিবদ্যালয় পর্যায়ে সাংবাদিকতা অসম্ভব হয়ে পড়বে। আর এই খারাপ দৃষ্টান্ত স্থপনের মুখ্য ভূমিকা থাকবে তদন্ত কমিটির প্রধান হিসেবে মুহম্মদ জাফর ইকবালের!
শ্রদ্ধেয় স্যার,
আপনি নিশ্চয় জানেন, আমরাও জানি, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতির চেয়েও দশগুন নোংরা হচ্ছে শিক্ষক রাজনীতি। সামান্য একজন হাউজ টিউটর হওয়ার জন্য কত রকম নোংরা রাজনীতি চলে নিজের সামনে তা দেখেছি। শিক্ষক রাজনীতি অনেক বেশী নোংরা বলেই ছাত্র রাজনীতি এত ভয়ংকর হয়ে উঠছে। মুহম্মদ জাফর ইকবাল হতে পারতেন শিক্ষক রাজনীতির কলুষতা দূর করার আন্দোলনের নায়ক। অথচ সেই শিক্ষক রাজনীতির চোরাবালিকে টিকিয়ে রাখার অন্যতম মুখ্য কারিগরে পরিণত হতে যাচ্ছেন আমাদের প্রাণ প্রিয় লেখক, হৃদয়ের খুব কাছের মানুষ মুহম্মদ জাফর ইকবাল। এটি মেনে নিতে পারছি না। শ্রদ্ধার উচ্চতম আসনে থাকা মুহম্মদ জাফর ইকবাল কে, ‌’মহব্বত আলীর একদিনে’র মহব্বত আলী হিসেবে দেখতে চাই না। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে জাতীয়ভাবেই স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য তা বড় হুমকি হয়ে দাড়াবে..সাংবাদিকরা ভুল কিংবা আইনের উর্ধ্বে নয়, কিন্তু তার জন্য প্রচলিত আইনেই প্রতিকারের ব্যবস্থা আছে। কিন্তু এর বাইরে গিয়ে নিজেদের অনিময়, দূর্নীতি ঢাকার জন্য হযরত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিশ্বিবদ্যালয় পর্যায়ে স্বাধীন সাংবাদিকতার পথ চিরতরে বন্ধ করার জন্য মুহম্মদ জাফর ইকবালের মত মহান ব্যক্তিকে ব্যবহার করার যে জঘন্য রাজনীতি বেছে নিয়েছে, তার বিরুদ্ধে শুধু সাংবাদিক মহল নয়, সচেতন সব মহলের একযোগে প্রতিরোধ গড়ে তোলা দরকার এখনই…শুধুমাত্র তিন জন শিক্ষার্থীকে অন্যায় শাস্তির থেকে রক্ষা করা নয়, স্বাধীন সাংবাদিকতা কে রক্ষা এবং অতি চেনা, অতি কাছের, প্রিয় মুহম্মদ জাফর ইকবালের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধার আসন ধরে রাখারো লড়াইও হবে এই প্রতিরোধ। আশাকরি মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যার, আপনিও সমাজের সবচেয়ে অগ্রসর মানুষের একজন হিসেবে এই প্রতিরোধে অংশ নেবেন।

রাশেদ মেহেদী
০৯.০৬.২০১৩

২৯ thoughts on “মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের কাছে খোলা চিঠি..

  1. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল
    মুহাম্মদ জাফর ইকবাল স্যার,

    আপনার ছাত্র হ-ওয়ার সৌভাগ্য আমার হয় নাই।কিন্তু আপনি আমার পছন্দের ব্যাক্তিত্বদের একজন।জানি না কি হয়েছে বা যা হয়েছে তার কতটুকুই বা সত্য।তবে বুঝতে পারছি যা ঘটেছে তা ভীষন কোন অশনি সংকেত।বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক প্রতিনিধিরা শুধু ছাত্রই নয় বরং সাংবাদিক ও বটে…আবার শুধু সাংবাদিক-ও নয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ও।যেদিক দিয়েই দেখা যাক তারা বিশ্ববিদ্যালয়েরই অংশ…তাই খুব সাধারন দৃষ্টিতেই বলা চলে ক্যাম্পাসের মান-সম্মানের সাথে তাদের নিজেদের মান সম্মান-ও জড়িত। এখানে যে কোন অন্যায়ের বিরুদ্ধে তারা সোচ্চার.…গঠনমূলক সমালোচনা তারা করবে…একজন ছাত্র হিসেবে তাদের যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি দাবী থাকে তেমন সাংবাদিক হিসেবে তাদের থাকে দায়িত্ব।এমতাবস্থায় আপনার কমিশনের এমন ভুমিকা সত্যই ভয়ের কারন…এই অন্যায় যদি বন্ধ না হয় তাহলে ভবিষ্যতে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাড়ানো প্রতিটি স্বরকেই রুদ্ধ করে দেয়া হবে…যা স্বৈরাচারের নামান্তর এবং আমাদের কোনভাবেই কম্য নয়

  2. এই পোস্ট স্টিকি হওয়ার কারনটা
    এই পোস্ট স্টিকি হওয়ার কারনটা জানতে চাই। পুরাই একরোখা এবং অস্বচ্ছ একটা লেখা। সেই সাংবাদিকেরা যেই রিপোর্ট করেছিল তা সত্য না মিথ্যা সেটা অবশ্যই জানার দাবী রাখে। লেখক সেদিকে না গিয়ে সরাসরি দোষ জাফর ইকবাল এর ঘাড়ে চাপায় দিল। মত প্রকাশের স্বাধীনতার নাম করে যা ইচ্ছে তাই লেখার কোন সুযোগ নাই।সুতরাং লেখকের অবশ্যই সেইদিকটা নিয়ে বিস্তারিত বলা উচিত ছিল। ছাত্র নাম করে অপরাধ হালাল করার চেষ্টা, সিমপ্যাথী পাওয়ার চেষ্টা পুরোন। আর ছাত্র সাংবাদিক হলে তার দায়িত্ব আরো বেশী বলেই মনে করি। অথচ সেই দায়িত্বের দিক এড়িয়ে শুধুই অধিকার নিয়ে উচ্চকন্ঠ।

    1. জনাব ভবঘুরে,
      আপনার সুবিধার

      জনাব ভবঘুরে,
      আপনার সুবিধার জন্য নীচে লিংক সহ প্রথম আলোতে প্রকাশিত বহুল আলোচিত সংবাদটি তুলে দিলাম। আপনার নিশ্চয় মনে আছে কিছুদিন আগে ইস্টিশন ব্লগেই ‌’লোকাল বাসের মরণ রেস ও দায়িত্বহীন সাংবাদিকতার ময়নাতদন্ত’ শিরোনামে একটি পোস্ট লিখেছিলাম, যেখানে সাংবাদিকতার নানা দুর্বল দিক ও দায়িত্বহীনতার চিত্র তুলে ধরেছিলাম পেশাগত ঝুকি সত্বেও। আপনি তখন নিজেই ওই পোস্ট স্টিকি করার পরামর্শ দিয়েছিলেন মন্তব্য লিখে। এই মুহুর্তে আমি সিলেটে। গত প্রায় দশদিন সিলেটে আছি সিটি নির্বাচনে পেশাগত দায়িত্বপালনের জন্য। এর আগে প্রথম আলো গত ১৪ এপ্রিল শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে অনিয়মের খবর প্রকাশের পর ওই দিনই প্রথম আলো প্রতিনিধিকে বিশ্বিবদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য নির্বাহী আদেশে(তদন্ত ও সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত ছাড়াই) সাময়িক বহিস্কার করার পর আমি ফেসবুকে একটি স্ট্যাস্টাস দিয়েছিলাম। এবার সিলেটে আসার পর এক সপ্তাহের বেশী সময় ধরে খোজ-খবর নোয়ার পর সম্পর্কিত তথ্যগুলো সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েই আমি এই খোলা চিঠি লিখেছি। হুট করে কিছু শুনে, প্রভাবিত হয়ে দায়িত্বহীনভাবে লিখিনি। প্রতিটি পেশায় দায়িত্বহীনতা যেমন আছে, দায়িত্বশীলতাও আছে। কিন্তু আপনি ঢালাও মন্তব্য করেছেন সাংবাদিকদের সম্পর্কে, এটা দু:খজনক। মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের কাধে কিছু চাপানো হয়নি, স্বাধীনতার নাম করে যা ইচ্ছে তাই লেখা হয়নি, তথ্যানুসন্ধান করে সুনির্দিষ্টভাবে লেখা হয়েছে। বরং আপনার মন্তব্যে কোন কিছু যাচাই ছাড়াই সাংবাদিকদের সম্পর্কে ঢালাও বিষোদগার করা হয়েছে। আর লেখায় আমি এটাও বলেছি, যদি প্রথম আলো প্রতিনিধি অসত্য কিংবা ভুল সংবাদ প্রকাশ করে তাহলে প্রেস কাউন্সিলে কিংবা প্রচলিত আইনে মামলা করা যেত। কিন্তু শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বলে তার বিরুদ্ধে উপাচার্যের নির্বাহী আদেশে কোন তদন্ত ছাড়াই শাস্তি ঘোষণা করা হবে, এটা চরম অন্যায়, বিশ্বিবদ্যালয় কর্তৃপক্ষের চরম দায়িত্বহীন আচরণ। মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যার প্রতিবদেন প্রকাশের দিন গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধানের দায়িত্ব পেয়েই কোন তদন্ত না করে ওই দিনই প্রথম আলো প্রতিনিধিকে সাময়িক বহিস্কারের সুপারিশ করেছিলেন! এ ধরনের চরম দায়িত্বহীন আচরণ জাতির বিবেক মুহম্মদ জাফর ইকবালের কাছে আশা করা যায়! এর পরের ঘটনা পোষ্টে লিখেছি। আমার আপত্তি এখানেই-সাংবাদিকতার জন্য ছাত্র হিসেবে কাউকে শাস্তি দেওয়া যায়না , যেমন লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবালের কোন লেখার জন্য বিশ্বিবদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে সেটাও যুক্তিযুক্ত হবে না। দেওয়ানী মামলায় অভিযুক্ত কাউকে কি ফৌজদারি আইনে বিচার করা যায়?

      শিক্ষক নিয়োগে নীতিমালা লঙ্ঘন
      শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি | তারিখ: ২২-০৪-২০১৩
      • ০ মন্তব্য
      • প্রিন্ট
      • ShareThis



      « আগের সংবাদপরের সংবাদ»
      শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা লঙ্ঘন করে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) একজনকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষকদের একটি পক্ষের আহ্বায়কসহ কয়েকজন শিক্ষকের চাপে উপাচার্য এ নিয়োগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
      বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান (বিএমবি) বিভাগে সম্প্রতি দুজন প্রভাষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এতে রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ও আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষকদের এক অংশের আহ্বায়ক মোহাম্মদ ইউনুছের পছন্দের প্রার্থী, তাঁর অভিসন্দর্ভ (থিসিস) শিক্ষার্থী মোস্তফা কামাল মাসুদ আবেদন করেন। মাসুদ এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৩ দশমিক ৭৫ এবং এইচএসসিতে জিপিএ ৩ দশমিক ৯০ পেয়েছেন। নীতিমালা অনুযায়ী, প্রভাষক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীকে এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ-৪ এবং এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ-৪ থাকতে হয়।
      বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কয়েকটি সূত্র জানায়, গত ১ জানুয়ারি প্রভাষক পদে নিয়োগের বাছাই বোর্ডের সভা হয়। এ বোর্ডে বিশেষজ্ঞ হিসেবে অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউনুছ, বিভাগীয় প্রধান হিসেবে সাইফুল ইসলাম সদস্য ছিলেন। সভায় কৌশলে বিদ্যমান শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা উপস্থাপন করা হয়নি। তাই তাঁরা বাছাই বোর্ডের সভায় মাসুদের নাম সহজেই সুপারিশ করতে পারেন। পরে সিন্ডিকেটের ১৭৭তম সভায় বিষয়টি ধরা পড়লে বাছাই বোর্ডের সুপারিশ ফিরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু বিষয়টি সিন্ডিকেটের ওই সভায় তোলা হয়নি দেখিয়ে পরের বৈঠকে তোলা হয়। এ বৈঠকে (১৭৮তম) প্রভাষকের বিজ্ঞাপিত দুই পদে মনির উজ্জামান ও আহসান হাবীব নামে দুজনের নিয়োগের পাশাপাশি মাসুদের নিয়োগ অনুমোদন দেওয়া হয়।
      উপাচার্যের কার্যালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, সিন্ডিকেটের ওই বৈঠকের দুদিন আগে উপাচার্যের কার্যালয়ে সিন্ডিকেট সদস্য কবির হোসেন, প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান সাইফুল ইসলাম, তাঁর স্ত্রী সিন্ডিকেট সদস্য রোখসানা বেগমসহ কয়েকজন শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা এড়িয়ে মাসুদকে কীভাবে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া যায় তা নিয়ে আলোচনা করেন। মোহাম্মদ ইউনুছসহ ওই শিক্ষকদের চাপে অবৈধভাবে মাসুদকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
      এ ব্যাপারে মোহাম্মদ ইউনুছ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ওই নিয়োগের ব্যাপারে আমি কোনো সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলব না।’ সিন্ডিকেট সদস্য কবির হোসেন বলেন, ‘আমার পক্ষ থেকে কোনো চাপ ছিল না।’ এ ব্যাপারে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য ইলিয়াস উদ্দিন বিশ্বাস কোনো কথা বলতে চাননি।
      http://www.prothom-alo.com/detail/date/2013-04-22/news/346726

      1. জনাব রাশেদ মেহেদী
        আপনার জবাব

        জনাব রাশেদ মেহেদী
        আপনার জবাব পেয়ে ভাল লাগলো। যদিও পোষ্ট স্টিকি করার ব্যাপারে প্রশ্নটা আপনার কাছে করা ছিল না।এটা ইস্টিশন মাস্টারের কাছে ছিল। হ্যা, আমি আগে এক জায়গায় আপনার পোস্ট স্টিকি করতে বলেছিলাম। তার মানে এই না যে আপনার অন্য পোস্টের ক্ষেত্রে দ্বিমত জানানো যাবে না। নাকি তাই? সুতরাং আগের মন্তব্য এখানে ধর্তব্য না। ওটা শুধু সেই পোস্টের জন্যেই প্রযোজ্য বলে মনে করি।

        যুক্তি খন্ডনের জন্যে আপনি যেই লেখাটা দিলেন তার এবং লিংক এর কোথাও সাংবাদিক দের শাস্তির ব্যাপারটি দৃষ্টিগোচর হয় নাই। আমার চোখের সমস্যা হবে বোধ করি। লেখার পুরোটা জায়গায় শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের কথা উল্লেখ রয়েছে। ব্যাপারটা অবশ্যই নিন্দার যোগ্য। কিন্তু ছাত্রদের শাস্তির ব্যাপারে নির্ভরযোগ্য কোন তথ্য দিতে পারেন নাই। আপনি বলেছেন

        মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের কাধে কিছু চাপানো হয়নি,

        অথচ পোষ্টের শিরোনাম ‘মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের কাছে খোলা চিঠি..’ পোষ্টের কয়েক জায়গায় ‘মহব্বত আলী’ নামক কোন একটি চরিত্রের সাথে তুলনা করলেন বেশ কয়েকবার, জাফর ইকবাল স্যারের নাম এতবার নিলেন যে তা গোনা সম্ভব না, কোথাও কমিটির অন্য কারো নাম টাও বললেন না পর্যন্ত আর বলছেন তাকে দোষারোপ করা হয় নাই। কি হাস্যকর।

        তারপর কোথাও পাইলাম না শাস্তি কার্যকর হয়ে গ্যাছে।শুধুমাত্র হইতে পারে, হবে এর উপর ভিত্তি করেই লিখে দিলেন। অথচ সুপারিশ করা হইছে কেবল, মানা হয় নাই। আর এর জন্যেই লেখাটী স্টিকির জন্যে বিরোধিতা করা হয়েছে।

        1. জনাব ভবঘুরে,
          আপনাকে

          জনাব ভবঘুরে,
          আপনাকে অনুরোধ করছি আমার মূল পোস্ট এবং আপনার প্রথম মন্তব্যের প্রতিমন্তব্য মনযোগ দিয়ে পড়ার জন্য। কারন মনযোগ দিয়ে পড়লে প্রথম আলোর রিপোর্টে কেন শাস্তির কথা নাই, তা বলতেন না। আপনাকে আরও একবার বলছি, ১৪ এপ্রিল প্রথম আলোতে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের রিপোর্ট ছাপা হয়। সেদিনই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি করে কেন ও কিভাবে তথ্য সংগ্রহ করে প্রথম আলো প্রতিনিধি রিপোর্ট করল তা অনুসন্ধানের জন্য। সেদিনই তদন্ত কমিটির প্রথম বৈঠকে প্রথম আলোর প্রতিনিধির বিরুদ্ধে সাময়িক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে এবং এর আধ ঘন্টার মধ্যে প্রথম আলোর প্রতিনিধিকে নির্বাহী আদেশে(উপাচার্যের বিশেষ ক্ষমতায়) সাময়িক বহিস্কার করা হয়। পরের দিন এই শাস্তির খবর একাধিক পত্রিকায় প্রকাশ হয়, আমি নিজেও ফেসবুক স্ট্যাটাস দেই।লক্ষ্য করুন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছাত্র হওয়ার অপরাধে প্রথম আলো প্রতিনিধি’র বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিল। অথচ শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম তদন্তে কোন ব্যবস্থা নেয়নি! বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকরা তখন মানব বন্ধন, অনশন কর্মসূচী পালন করে। আড়াই মাস ধরে তদন্ত করে প্রথম আলোর প্রতিনিধিকে এক বছরের জন্য এবং আন্দোলন করার অপরাধে সমকাল ও ডেইলি স্টার প্রতিনিধি’ কে ছয় মাসের জন্য বহিস্কারের সুপারিশ করে। আগামী ২২ জুন সিন্ডিকেট এ ব্যাপারে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। প্রথম আলোর প্রতিনিধিকে আগেই শাস্তি দেওয়া হয়েছে, এখন মেয়াদ বাড়ানোর আয়োজন। মুহম্মদ জাফর ইকবাল একটি স্তম্ভ, তিনি যে কমিটি’র প্রধান সে কমিটির দায় দায়িত্ব তার। তার সুপারিশে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি বাজে দৃষ্টান্ত স্থাপনের সুযোগ পেয়েছে, এ জন্যই তার কাছে খোলা চিঠি। আর এই খারাপ দৃষ্টান্ত যেন স্থাপন না হয় সেজন্য আগেই লেখা। মুহম্মদ জাফর ইকবাল আমারও খুব শ্রদ্ধার, অসম্ভব প্রিয় মানুষ, এ কারনে একটি বাজে দৃষ্টান্তের সঙ্গে তার নাম যোগ হয়ে থাকুক, এটা মানতে পারছি না। এ কথা আমি মূল পোস্টেও লিখেছি। আপনি ভালভাবে পড়েননি বলে নজর এড়িয়ে গেছে। আমরা যদি টের পাই একজন মানুষ ট্রেনের নীচে ঝাপ দেওয়ার জন্য যাচ্ছেন, তাকে আগে রক্ষা করব, না’কি অপেক্ষা করর ট্রেনে কাটার পর তাকে নিয়ে মহাকাব্য লেখার জন্য?
          আপনি মুহম্মদ জাফর ইকবালের লেখা সম্পর্কেও ধারনা রাখেন না বলে অবাক হলাম। ‘মহব্বত আলী’ মুহম্মদ জাফর ইকবালের ‘মহব্বত আলীর একদিন’ উপন্যাসের মূল চরিত্র্র। উপন্যাসে মহব্বত আলী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। উপন্যাসটি পড়বেন, ভাল লাগবে। স্টিকি বিষয়ে আপনি ইস্টিশন মাস্টারকে বলেছেন, সেটা বোঝার ক্ষমতা নেই, ভাবলেন কি করে! আমি বলতে চেয়েছি, সাংবাদকিদের দায়িত্বিহীনতা নিয়ে লিখলে একটা লেখা যদি গুরুত্বপূর্ণ হয়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দায়িত্বহীনতা লিখলে সেটা অগুরুত্বপূর্ণ হবে কেন? আমি জানিনা আপনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কি’না, অবশ্য আপনার প্রকৃত নাম জানারই সুযোগই তো আপনি রাখেননি!

    2. আমি একটু নাক গলাই। প্রথমত
      আমি একটু নাক গলাই। প্রথমত অল্প সময়ের ব্লগিং এর অভিজ্ঞতায় আমি যা বুঝি, একটা ব্লগে পোস্ট স্টিকি করার ক্ষেত্রে পোস্টের বিষয়ের সাথে একমত হলেই যে স্টিকি করা হবে তা নয়। পোস্টের বিষয় যদি গুরুত্বপুর্ন হয় সেক্ষেত্রে স্টিকি করা উচিৎ। যদি ঐ ছাত্ররা দোষী হয় সেক্ষেত্রে লেখক রাশেদ মেহেদীর কাছে পাঠকরা এর ব্যাখ্যা বা আলোচনা চাইতে পারেন। আর যদি দোষী না হয় সেক্ষেত্রে জাফর ইকবাল স্যারের এইরকম কাজের জন্য উনার কাছেও আমরা জবাবদিহিতা চাইতে পারি। কারন উনাকে আদর্শ মানি আমরা অনেকেই। সেক্ষেত্রে আইকন কারো কাছ থেকে এরকম আচরণ আমাদের ব্যথিত করে।

      দ্বিতীয়ত, ঐ ছাত্রদের বিচার করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে। কেন? তাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ সেটা তো একাডেমিক কোন কারন নয়। কারন সাংবাদিকতা। তাহলে একাডেমিক একশন কেন নেওয়া হবে? প্রেস কাউন্সিলের মাধ্যমে বিচার করা যেতো। এটা একটা বাজে ট্রেন্ড তৈরি করবে বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে। উদাহরণ দিলে ক্লিয়ার হবে। ধরেন একজন সরকারী ডাক্তার কোন অভিযোগে অভিযুক্ত হলেন। এখন কেউ যদি এসে ঐ ডাক্তারের অপরাধের বিচার ডিপার্টমেন্টাল প্রসেসে না করে নিজে নিজে করে ফেলে তাহলে কিন্তু ডাক্তাররাও আপত্তি জানাবেন। তখন কিন্তু ডাক্তার হিসেবে আমিও প্রতিবাদ করব বিএমডিসি কে পাশ কাটিয়ে কেন বিচার করা হচ্ছে? একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী যদি পড়াশোনার পাশপাশি সাংবাদিকতায় জড়িত থাকে, তাহলে তার দুটো পরিচয়, এক সে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, দুই সে একজন সাংবাদিক। সুতরাং এক যায়গার অভিযোগের বিচার আরেক জায়গায় করলে তো হবে না। সে যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন আইন ভঙ্গ করে তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তার বিরুদ্ধে একাডেমিক একশন নিতে পারে। কিন্তু সাংবাদিকতার সাথে জড়িত অপরাধের বিচার কেন একাডেমিক কমিটি দিয়ে করা হবে? লেখক রাশেদ মেহেদী কিন্তু বিষয়টা ক্লিয়ার করেছেন জাফর ইকবাল স্যারের উদাহরণ দিয়েই। পত্রিকায় কলাম লেখার বা বইয়ে কিছু লেখার কারনে উনি অভিযুক্ত হলে সেটার বিচার নিশ্চয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কমিটি দিয়ে করা হবে না। ভবঘুরে মনে হয় ব্যাপারটা এখন বুঝতে পারবেন। :খুশি:

      1. বিচার তো হয় নাই এখনও। সুপারিশ
        বিচার তো হয় নাই এখনও। সুপারিশ করা হইছে। শাস্তি এইটা হতে পারে, নাও হতে পারে। সেটা দেখার আগেই জাফর ইকবাল কে হাইলাইট করে একটা লেখা আমি দিয়ে দিলাম। আচ্ছা দিলাম তাও ভাল। দিতেই পারি কারন ব্লগ বলে কথা। অথচ তারপর আবার মন্তব্যে এসে বললাম জাফর ইকবাল স্যারের কাধে চাপানো হয় নি। অথচ পুরো লেখায় কমিটির আর কারো নাম বলার প্রয়োজনই মনে করলেন না লেখক।

      2. আলোচনার স্বার্থে পোস্ট স্টিকি
        আলোচনার স্বার্থে পোস্ট স্টিকি করা হয়েছে বলেই আমার ধারনা , এইখানে পোস্টদাতাকে ভবঘুরে চমৎকার প্রশ্ন করেছেন এবং তিনি কিন্তু তার প্রশ্নের উত্তর দেয়ার চেষ্টা করছেন , আমরা পাঠকরা তুলনামূলক আলোচনা দেখে সিদ্ধান্তে আসতে পারবো ঘটনা আসলে কি এবং এইটাই স্টিকি পোস্টের উদ্দেশ্য , প্রশ্ন পাল্টা প্রশ্নএর মাধ্যমে সত্য তুলে ধরার চেষ্টা

  3. জাফর ইকবার স্যারের কাছ থেকে
    জাফর ইকবার স্যারের কাছ থেকে কখনই এমন কিছু প্রত্যাশা করি না…

    স্যার, আশা করি, আমরা সত্য ও সুন্দরের জন্য সবসময় লড়াই করে যাওয়া জাফর ইকবালকেই দেখব…

          1. ঘটনা হৈল, থার্ড টার্মে তিন
            ঘটনা হৈল, থার্ড টার্মে তিন সাবজেক্টে ফেল করায় আমার পিসি আলমারিতে তুলে রাখছে আব্বু। যখন আব্বু বাসায় থাকে না, তখন বের করে চালাই। আর ইস্টিশনের কোন মোবাইল সাইটও নেই যে মোবাইল থেকে চালাব…

  4. ব্লগার ভবঘুরের সাথে বেশ
    ব্লগার ভবঘুরের সাথে বেশ খানিকটা সহমত পোষণ করছি। একজন রিপোর্টার রিপোর্ট তৈরী করেছেন আর সংবাদ মাধ্যম সেটি ছেপেছে। এখন সেই সংবাদের উপর ভিত্তি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্তের ব্যবস্থাও করেছেন। তদন্তের রিপোর্টে অখুশি হয়ে এরকম লেখা যে কেউ লিখতেই পারেন কিন্তু একটি ব্লগ কর্তৃপক্ষ সেটিকে স্টিকি করে দেওয়ার অর্থ হলো এই লেখার সাথে ব্লগ কর্তৃপক্ষ সহমত পোষণ করছে। সামান্য সময়ের ব্লগিং অভিজ্ঞতা থেকে এটুকু বলতে পারি ব্লগ কর্তৃপক্ষকে এরকম ব্যাপারে নিরপেক্ষ ভুমিকা পালন করতে হয়। এটি কোন জাতীয় ইস্যু নয় যে এটির একটি পক্ষ অবলম্বন করবে কর্তৃপক্ষ। জাফর ইকবাল স্যার নিশ্চয়ই একক সিদ্ধান্তে কিছু করেননি সুতরাং এককভাবে জাফর স্যারকে এর জন্য মহব্বত আলী বলে সম্বোধিত পোস্ট স্টিকি করাটা বেশ দৃষ্টিকটু। আমাদের ভুলে গেলে চলবেনা জাফর স্যার এমন একজন ব্যক্তিত্ব যার সাথে অনেক কিছুই জড়িত। এইরকম একটা ইস্যুতে উনাকে এককভাবে কটাক্ষ করে বিতর্কিত করে তোলা সমীচীন নয়।

    বাকীটা ব্লগ কর্তৃপক্ষের হাতে।

  5. আমরা সবাই কেমন এক চোখা হয়ে
    আমরা সবাই কেমন এক চোখা হয়ে যাচ্ছি। জাফর ইকবাল স্যার অবশ্যই সর্বজন শ্রদ্ধেয়। ব্যক্তিগতভাবে আমি জাফর ইকবাল স্যারের অন্ধ ভক্ত। তার মানে এই না যে তার কোন সমালোচনা করা যাবেনা। অথবা তিনি কোন ধরনের ভুল করতে পারেন না। নিঃশ্চয় তিনি সব ধরনের ভুলের উর্দ্ধে না।

    ঐ সাংবাদিক যদি শাহাজালাল প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্ধালয়ের বাইরের কেউ হত, তাহলে তদন্ত কমিটি কি একশন নিত? এখানে ব্যক্তি জাফর ইকবালের চেয়েও তদন্ত কমিটির প্রধান হল মুখ্য পরিচয়। প্রতিটা ক্ষেত্রেই পেশাগত নিয়ম-কানুনের মধ্যে শৃঙ্খলা মেনে চলা উচিত।

    তবে পোস্টটির সমালোচনাগুলো আরো গুছানো হলে ভাল হত। পোস্ট স্টিকি হয়েছে বলেই হয়ত এত আলোচনা হচ্ছে। এ ব্যাপারে ইস্টিশন মাস্টারই ভাল ব্যাখ্যা দিতে পারবেন।

    1. অন্য কেউ কেনো দ্বিমত করছে তা
      অন্য কেউ কেনো দ্বিমত করছে তা আমি জানিনা তবে আমার দ্বিমতের কারণ হলো একটি ব্লগ কর্তৃক এরকম পোস্ট স্টিকি হওয়ার কারণে।

      ব্লগার রাশেদ মেহেদীর প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই জানাতে চাই উনার মত প্রকাশে কিনবা সমালোচনাতে আমার সেরকম আপত্তি নাই উনি উনার মনের কথা লিখেছেন।

      আর দুলাল ভাই আপনার সাথেও একমত যে

      তার মানে এই না যে তার কোন সমালোচনা করা যাবেনা। অথবা তিনি কোন ধরনের ভুল করতে পারেন না। নিঃশ্চয় তিনি সব ধরনের ভুলের উর্দ্ধে না।

      1. এখানে নিরপেক্ষ থাকার প্রশ্ন
        এখানে নিরপেক্ষ থাকার প্রশ্ন কেন আসছে? দেখতে হবে কোনটা অন্যায় হয়েছে সেইটা। আমি মনে করি এভাবে ছাত্রত্ব স্থগিতের সুপারিশ করাটা অন্যায়। কারন একাডেমিক কোন অপরাধ তারা করে নাই। আর সাংবাদিকতার ভুলচুকের বিচার বিশ্ববিদ্যালয়ের এখতিয়ার বহিঃর্ভুত। এটা একটা বাজে উদাহরণ হয়ে থাকবে। ভবিষ্যতে কোন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্নিতির অভিযোগ নিয়ে রিপোর্ট করার ক্ষেত্রে আপোষ করবে, যেটা কাম্য নয়। জাফর ইকবাল স্যার আমারও শ্রদ্ধার পাত্র সেটা ইস্টিশনে আমার ব্লগে ঘুরে আসলেই যে কেউ বুঝতে পারবেন। উনাকে নিয়েই আমার প্রথম পোস্ট দেওয়া ইস্টিশনে। তাই তদন্ত কমিটির প্রধান হিসেবে মূল দায় উনি এড়াতে পারেন না। ভবঘুরের এই যুক্তি “এখনও তো শাস্তি কার্যকর হয় নাই, সুপারিশ করা হইছে।” খুবই হাস্যকর। শাস্তি বাস্তবায়নের আগেই তো প্রতিবাদ হওয়া উচিৎ, যেন অন্যায় শাস্তি পাওয়া থেকে রক্ষা করা যায় এবং এই ধরনের অন্যায় করার পথ ভবিষ্যতের জন্য রুদ্ধ করা যায়।

        1. আমি বা ভবঘুরে ব্লগ
          আমি বা ভবঘুরে ব্লগ কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চেয়েছি এখন আপনার উত্তর দেয়া নিয়ে মনে প্রশ্ন জাগছে আপনি কি ব্লগ কর্তৃপক্ষ? যদি হয়ে থাকেন তাহলে তো সুবিধেই হয় :হাসি: :হাসি: :হাসি:

          দেখুন আমি শুধু নিরপেক্ষ থাকতেই বলিনি বরং এও বলেছি এটা এমন কোন জাতীয় ইস্যু নয় যে কর্তৃপক্ষ এটাকে স্টিকি করে দিয়েছে। যেহেতু এটি কমিউনিটি ব্লগ তাই এরকম করে মতামত প্রকাশ করছি এখন বাকীটা ব্লগ কর্তৃপক্ষ জানেন।

          আর জাতীয় ইস্যুর কথা এই জন্যেই বলছি যে ব্লগের কভার ফটো থেকে জানতে পারি এই ব্লগ বাংলাদেশের পক্ষে।

          1. আমি বা ভবঘুরে ব্লগ

            আমি বা ভবঘুরে ব্লগ কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চেয়েছি এখন আপনার উত্তর দেয়া নিয়ে মনে প্রশ্ন জাগছে আপনি কি ব্লগ কর্তৃপক্ষ?

            ব্যক্তিগত মত প্রকাশ করাটা অপরাধ নাকি? ব্লগ কর্তৃপক্ষ ছাড়া এই উত্তর কেউ দিতে পারবে না, এমন নিয়ম ব্লগের কোন বিধিতে আছে? এসব ইচড়ে পাকামী কথার কোন অর্থ নাই। ব্লগ কর্তৃপক্ষের যদি এই বিষয়ে কিছু বলার থাকে, সেটা তারা দেবে। ব্লগারদের মতামত ব্লগাররা দেবে।

          2. সুমিত, আপনি ব্লগিং জগতে বেশ
            সুমিত, আপনি ব্লগিং জগতে বেশ পুরনো বলেই জানি। এরকম বালখিল্য মন্তব্য আশা করিনি। ব্লগার হিসেবে আমি আমার মতামত জানিয়েছি। আর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিকতার স্বার্থ রক্ষা করাটা কি বাংলাদেশের বিপক্ষে যায়? ঝানতাম না। এতো ন্যারো দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দেখিনি বলেই আমি জাফর ইকবাল স্যারের নেতৃত্বে ঐ কমিটির দেওয়া সুপারিশের তীব্র নিন্দা এবং বিরোধিতা করছি। এটা শুধু শাবি নয় বাংলাদেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদ কর্মীদের স্বার্থের সাথে সংশ্লিষ্ট। একটা বাজে উদাহরণ তৈরি হলে এটা সবখানেই এবিউজ করা হবে বলে আমি মনে করি। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রের ছাত্রত্ব এক বছরের জন্য স্থগিত করাটা ছেলেখেলা নয়। এবং সেটা করা হচ্ছে অন্যায় পন্থায়।

  6. এই বিষয়ে আগে থেকে কিছু জানতাম
    এই বিষয়ে আগে থেকে কিছু জানতাম না , এখন জানার চেষ্টা করছি , সেই সাথে পোস্টদাতার কাছ থেকে আরও নির্ভরযোগ্য কিছু আপডেট আশা করছি
    জাফর স্যার আমাদের অনেকের আদর্শ , সেই সাথে এইটাও সত্য যদি উনার দ্বারা কোন ভুল বা ক্রুটি হয়ে থাকে যেটা জানার অধিকার আমাদের আছে । তবে সবার আগে জানার অধিকার সত্য আসলে কি ।

    আলোচনা চলুক

    1. আমিও আসল সত্য জানতে চাই। যারা
      আমিও আসল সত্য জানতে চাই। যারা লম্ফঝম্ফ দিচ্ছেন তাদের যে কোন একপক্ষের মুখটা ভোতা হউক!

      আর ইস্টিশন মাস্টারের কাছে আমিও জানতে চাই- জামায়াত-শিবির থেকে কত টাকা খেয়ে ইস্টিশন মাস্টার এই পোস্ট স্টিকি করেছেন! জাফর ইকবাল স্যারের বিরুদ্ধে কিছু কইতে হইলে লাইসেন্স নিতে হইব। এনারা সকল ভুলের উর্দ্ধে!

  7. সবার আগে জানিয়ে রাখি, আজ
    সবার আগে জানিয়ে রাখি, আজ বুধবার হাইকোর্ট ড.জাফর ইকবাল স্যারের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটির কার্যক্রম ছয় মাসের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেছে এবং কেন এই কমিটি গঠন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারী করেছে। প্রথম আলোর একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ ও রুল জারী করে….ড. আতিক কে ধন্যবাদ। তিনি আমার লেখার মূল উদ্দেশ্যটা বুঝতে পেরেছন। ড.জাফর ইকবাল স্যার আমারও আদর্শ, অনুপ্রেরণা, প্রিয় মানুষ। তার প্রায় সবগুলো লেখা আমি পড়েছি। তাকে ছোট করা কিংববা হেয় করার প্রশ্নই ওঠে না। বিশ্বিবদ্যালয়ের শিক্ষক রাজনীতিতে জাহাঙ্গীরসগর বিশ্ববিদ্যালেয়র ছাত্র থাকা অবস্থায় সেলিম আল দীনের মত স্বনামধন্য নাট্যড. আতিক কে ধন্যবাদ। তিনি আমার লেখার মূল উদ্দেশ্যটা বুঝতে পেরেছন। তার প্রায় সবগুলো লেখা ও মন্তব্য খুবই দায়িত্বশীল, আমার ভাল লাগে। মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যার আমারও আদর্শ, প্রিয় মানুষ। তার প্রায় সবগুলো লেখা আমি পড়েছি। তাকে ছোট করা কিংবা হেয় করার প্রশ্নই ওঠে না। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, ফাসীর দাবি, যুদ্ধাপরাধীদের সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ করার দাবির আন্দোলন সহ প্রতিটি প্রগতিশীল আন্দোলনে তার দৃঢ় উপস্থিতি আমাকে অনুপ্রাণিত করে। গণজ্গরণ মঞ্চের আন্দোলনে তার উপস্থিতি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত তরুণদের সাহস ও শক্তি দিয়েছিল, এখনও তিনি অফুরন্ত শক্তি আর প্রেরণার প্রাণ পুরুষ । তিনি আমাদের অহংকার। বিশ্বিবদ্যালয়ের শিক্ষক রাজনীতিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালেয়র ছাত্র থাকা অবস্থায় সেলিম আল দীনের মত মহীরূহ নাট্য ব্যক্তিত্বকেও অসহায় দেখেছি বিশ্ববিদ্যালয়ের নোংরা শিক্ষক রাজনীতির কাছে। এ কারনে কষ্ট হলেও বিশ্বাস করি মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের মত বিশাল ব্যক্তিত্বরাও কখনও কখনও হয়ত অসহায় হয়ে পড়েন পারিপার্শ্বিকতার কাছে! শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্বিবদ্যালয়ে মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশেও আমার কাছে মনে হয়েছে স্যারের এক ধরনের অসহায়ত্ব। শিক্ষক রাজনীতির নোংরা হাওয়ার ভেতরে বাস করার কারনে অনেক কিছুই তিনি না চাইলেও তাকে কোন না ভাবে তাকে হয়ত স্পর্শ করে, দায়ও নিতে হয়! আমরা যারা নানা পেশায় আছি, তাদেরও তো ইচ্ছে না থাকলেও অনেক দায় নিতে হয়! আমি চাই না এই মহান মানুষটি এই দুর্ভাগ্যজনক দায় বহন করুন। কারন কারন স্যারের সুপারিশ বিশ্বিবদ্যালয় পর্যায়ে স্বাধীন সাংবাদিকতার পথ কে রুদ্ধ করে দেওয়ার পথ তৈরি করছে। এই উপলব্ধি থেকেই লেখা। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দৈনিক সংবাদের সংবাদদাতা ছিলাম। সে সময় আমার নিজের বিভাগের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের বিরুদ্ধে রিপোর্ট করেছিলাম। তখন যদি আমার বিভাগীয় এবং বিশ্বিবদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এটাকে সাংবাদিকতা বিবেচনা না করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্বিবদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মত ছাত্র হিসেবে একাডেমিক অপরাধ বিবেচনা করতো, তাহলে সাংবাদিকতা করার অপরাধে আমার জীবনেও অন্ধকার নেমে আসতে পারত……আমার ব্যক্তিগত বিবচনা, ব্লগে, অনলাইনে ছদ্ম নামে লেখা বন্ধ হওয়া উচিত। কারন ছদ্মনামের কারনে বেশীরভাগ সময়ে চরম দায়িত্বহীন মন্তব্য করা হচ্ছে। স্বনামে, স্বপরিচয়ে যারা লেখেন, তাদের দায়িত্বহীন মন্তব্য অনেক কম। চন্দ্রবিন্দু যে মন্তব্য করেছেন, বিস্ময়বোধক চিহ্নের কারনে সেটা পরিস্কার বোঝা যাচ্ছে না। যে কোন বিষয়ে মন্তব্য করার আগে দায়িত্ব নিয়ে, যার বিরুদ্ধে মন্তব্য করা হচ্ছে তার সম্পর্কে ভাল করে জেনে, মন্তব্য করা উচিত। একটি দায়িত্বহীন মন্তব্য আরও অনেক দায়িত্বহীন মন্তব্যের সৃস্টি করে, অহেতুক বিতর্কের সৃস্টি করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *