অতঃপর রবীন্দ্রনাথ

কোনরকমে সিগারেটটা অর্ধেক টেনে বাথরুমের সামনের ছোট্ট জায়গাটা থেকে ট্রেনে নিজের সিটে এসে বসল তন্ময়। এসি ট্রেনে সিগারেট টানতে বিব্রতও বোধ করে, আবার ছ’সাত ঘন্টার টানা জার্নিতে একেবারে না খেয়ে থাকাটাও শাস্তির মত। এছাড়া সারা রাত জেগে প্রজেক্টের প্রোফাইলটা তৈরি করতে হয়েছিল। প্রায় ভোর চারটা পর্যন্ত জেগে ছিল। সিগারেটও খাওয়া হয়েছিল প্রচুর। গলাটা একটু খুশ খুশ করছে যেন। তাই অর্ধেকটাই সই।

: ট্রেনের এই ঝুকুরঝুক দোলাদুলির মধ্যেও বাঁদরের মত নাচতে নাচতে বিড়িটা না টানলেই হয় না, না?

: জীবনের ৩৪টা চৈত্র পার করলাম, তারপরও আপনার কমপ্লেইন রয়েই গেল অদিতি ম্যাডাম।


কোনরকমে সিগারেটটা অর্ধেক টেনে বাথরুমের সামনের ছোট্ট জায়গাটা থেকে ট্রেনে নিজের সিটে এসে বসল তন্ময়। এসি ট্রেনে সিগারেট টানতে বিব্রতও বোধ করে, আবার ছ’সাত ঘন্টার টানা জার্নিতে একেবারে না খেয়ে থাকাটাও শাস্তির মত। এছাড়া সারা রাত জেগে প্রজেক্টের প্রোফাইলটা তৈরি করতে হয়েছিল। প্রায় ভোর চারটা পর্যন্ত জেগে ছিল। সিগারেটও খাওয়া হয়েছিল প্রচুর। গলাটা একটু খুশ খুশ করছে যেন। তাই অর্ধেকটাই সই।

: ট্রেনের এই ঝুকুরঝুক দোলাদুলির মধ্যেও বাঁদরের মত নাচতে নাচতে বিড়িটা না টানলেই হয় না, না?

: জীবনের ৩৪টা চৈত্র পার করলাম, তারপরও আপনার কমপ্লেইন রয়েই গেল অদিতি ম্যাডাম।

: চৈত্র না বসন্ত তার খোঁজ কে করতে যাচ্ছে? আর কমপ্লেইন তো আর আমলকি খাওয়া নিয়ে করছি না। বছরের পর বছর টেনেই যাচ্ছে, টেনেই যাচ্ছে, ওয়াক্, কি গন্ধ !

: একটু ডীপলি চিন্তা কর, সিগারেটের মধ্যে একটা ম্যানলি ব্যপার আছে।

: ম্যানলি না ছাই! ইউরোপ-আমেরিকায় মেয়েরাও ফুক ফুক করে বিড়ি টানে, সে হিসাবে ব্যাপারটা বেশ মেয়েলি।

: এক্সকিউজ মি, মেয়েলি মানে? আর বিড়ি বিড়ি করছ কেন? একটা সিগারেটের দাম আট টাকা, হ্যা! এই টাকায় চারটা ডালপুরি পাওয়া যায়, আট নাম্বার বাসে করে ঢাকা শহরের অর্ধেক ঘোরা যায়। এন্ড লাস্ট বাট নট দ্যা লিস্ট, তোমার ওই বিড়ি জিনিসটার কয়েকটা প্যাকেট একসাথে কেনা যায়।

: চুপ কর, একই জিনিস। কাগজের নলের মধ্যে তামাক পাতা ভরে দেওয়া।

: কপাল আমার!

কপট হতাশ ভাব করে সুনীলের অর্ধেক জীবন বইটা খুলে চোখের সামনে মেলে ধরল তন্ময়। ঠোটের কোনায় আলতো হেসে সিটে গা এলিয়ে জানালায় চোখ রাখে অদিতি। আড় চোখে তাকে দেখে তন্ময়। অদিতির মাথায় ঘোমটা টানা। ট্রেনের জানালা গলে সকালের রোদ এসে পরেছে অদিতির গালে। কেমন যেন নতুন বউ, নতুন বউ মনে হচ্ছে ওকে।

তাদের প্রথম পরিচয়ের পর প্রায় ১৫ বছর পেরিয়ে গেছে। দীর্ঘ সময়ের প্রভাব পরেছে শরীরে, মনে, সম্পর্কে, পরিবারে সবখানে। একসময় যা মনে হত ”না হলেই নয়” এখন তা মনে হয় অপ্রয়োজনীয়, সেটা সম্পর্কই হোক বা অন্য কিছু। কিন্তু কিছু কিছু ভাল লাগা একই রকম থেকে যায়, সময়ের নাগালের বাইরে, যেমন বই পড়ার নেশা, কিংবা অদিতির জন্য অন্যরকম ভাললাগা অনুভূতি, ভালবাসার চেয়েও তীব্র, কিন্তু কেমন যেন মন খারাপ করা। আজো ব্যাখ্যা করতে পারে না। হয়ত প্রথম পরিচয়ের ”ধাক্কা” টাই এর জন্য দায়ী। সময়ের সাথে কিছুটা গাম্ভীর্য এসেছে অদিতির চেহারায়। কিন্তু কাজল টানা চোখের কোনে দুষ্টু বুদ্ধির ছোঁয়া বলে দেয় গম্ভীরতার মাঝে একটা মজার মানুষ লুকিয়ে আছে। কথার পিঠে কথা বলে আড্ডা জমানোতে সে অতুলনীয়।

ওর সাথে প্রথম পরিচয় সোহেলে বড় বোন রিনি আপার গায়ে হলুদে। তখন বয়স কত ছিল, ২০ বছর? রিনি আপার কড়া নির্দেশ ”আমার বিয়ের বিরিয়ানী খেতে হলে সব ব্যাটাকে কামলা খাটতে হবে”। তো কামলা সবাই খাটছিল, অত্যন্ত আনন্দের সাথে বলা বাহুল্য, বিগত দুই রাত বিয়ে বাড়ীতেই সবাই একসাথে। গভীর রাতে তরল এবং বায়বীয়, দুই ব্যবস্থাই ছিল, এবং বায়বীয় ব্যপারটা সব মহলে গোপনীয় থাকলেও, তরলটা ছিল রিনি আপার উপহার। ওনার ভাষায় ”কামলার মজুরি”। তো হলুদের দিন বিকালে ফুলের গয়না নিয়ে দৌড়ে ঢুকতে গিয়ে, একটা মেয়েকে ধাক্কা দিতে দিতে কোনরকমে হার্ড ব্রেক কষে সামলেছিল সে। সেই সাথে চোখাচোখি, উজ্জ্বল শ্যমলা রং, লাল পাড়ের হলুদ শাড়ী, কাজল দেওয়া চোখ, বেনীতে গোলাপের কাজ, অভিমানী ঠোঁট আর সিথিতে ”সিদুর” ! কেমন যেন একটা তীব্র ব্যথা টের পেল বুকের ভেতর। ফ্যাল ফ্যাল চোখে তাকিয়ে থাকা তন্ময়ের স্যরির বিপরীতে আলতো হেসে, ইটস্ ওকে বলে মেয়েটা পাশ কাটিয়ে সিঁড়ির দিকে এগিয়ে গেল। আর তন্ময় ”নট ওকে” হয়ে দাড়িয়ে রইল। তার পরপরই দেখলো সিঁড়ি দিয়ে নামছে সোহেলের ছোট বোন (ঠোঁট কাটা, হাফ ক্র্যাক এবং এভার আনপ্রেডিক্টেবল্) ঝিনি। তার সিঁথিতেও সিঁদুর!

: কিরে, চান্দির মধ্যে রেড সিগন্যাল মেরে ঘুরছিস কেন?

: আনকালচার্ড ফ্রেন্ড অফ মাই আনকালচার্ড ব্রাদার, চান্দি নয় সিঁথিতে সিঁদুর দিয়েছি। এটা হাই ফ্রিকোয়েন্সি কালচারাল ব্যপার। তোমরা বুঝবে না। আমরা সব মেয়েরা আজ পরেছি লাল পাড়ের শাড়ী, বেনীতে লাল গোলাপ আর সিঁথিতে লাল সিঁদুর। বুঝলে কিছু? তবে রেড সিগন্যাল এর ব্যপারটা মাথায় রেখো, আমাদের সাথে টাঙ্কি মারা নিষেধ।

কথা শেষ করতে না করতেই তন্ময়ের হাত থেকে প্রায় ছোঁ মেরে ফুলের গয়নাগুলো নিয়ে ঝিনি সিঁরি বেয়ে হাওয়া হয়ে গেল। সাথে টেনে নিয়ে গেল মেয়েটাকেও। রাগে গা জ্বলতে গিয়েও আনন্দে হঠাৎ জুড়িয়ে গেল যেন। তার মানে একটু আগে দেখা সেই মেয়েটা ম্যারেড নয়! একটা আগের ”কেমন যেন একটা তীব্র ব্যথা” টা তাতে না কমে কেন যেন আরেকটু বেড়েই গেল কি? নিজেকেই প্রশ্ন করল ”ফেঁসে গেলি নাতো বাবা তন্ময়?” । তাহলে এই ঝিনি বাঁদরকে আপাতত হজম করা ছাড়া উপায় নেই। এই এক বান্দাই পারবে তার গতি করতে।

হলুদের সন্ধ্যায় আনন্দ আর কোলাহলের মধ্যেও তন্ময় আনমনে সেই মেয়েটাকেই খুঁজতে লাগলো। তার গলায় ঝুলছে সিংগাপুর থেকে বাবার এনে দেওয়া ফাইভ মেগা পিক্সেল ক্যানন হট শট্ ক্যামেরা (তখনকার হিসেবে বেশ আধুনিক এবং ঈর্ষনীয়)। সেটা বাগিয়ে ধরে মেয়ে মহলে অবাধে যাওয়া আসার সুযোগটাও কাজে লাগালো। একে ওকে ছবিও তুলে দিতে লাগলো । রিল খরচ হবার ভয়তো নেই! পুরো ব্যপারটাই তার কাছে কেমন ঘোরের মত মনে হচ্ছিল। কারো জন্য জীবনে এমন ব্যাকুল সে বোধ করেনি তো! ঘুরতে ঘুরতে ছাদের মূল অনুষ্ঠানে এসে হঠাৎ দেখলো ভীড় থেকে একটু দূরে সেই মেয়েটা আর ঝিনি একসাথে কোনায় দাড়িয়ে কিযেন বলছে আর হাসতে হাসতে গড়িয়ে পরছে। তাহলে কি ঝিনির কোন বান্ধবী বা কাজিন? কয়েক সেকেন্ড দ্বিধা দ্বন্দে কাটিয়ে সে সোজা দাড়ালো ঝিনির সামনে।

: এক্সকিউজ মি মিস ঝিনি, পেত্নি সাজগোজ করলে কেমন ভয়ঙ্কর দেখায় সেটার একটা রেকর্ড থাকা দরকার। তোর একটা ছবি তুলে রাখি। NAT GEO অনেক দামে কিনে নেবে।

আড়চোখে দেখলো ”সেই” মেয়েটা কৌতুহল আর কৌতুক মেশানো ডাগর চোখে তাকিয়ে আছে। ঠোটে মৃদু হাসি।
: একটা নতুন কোন আইডিয়া জেনারেট কর তন্ময় ভাই, ছবি তোলার নামে ভাব জমানো অত্যন্ত সনাতন তথা ব্যাক ডেটেড। আর আমার সাথে টাঙ্কি মারারতো প্রশ্নই ওঠে না, অন টপ অফ দ্যাট, আমি ইদানিং অত্যন্ত হ্যান্ডসাম এক ছাগলকে নাচাতে ব্যস্ত। সুতরাং আমি যুক্তিসঙ্গত কারনেই ধরে নিতে পারি, তুমি আমার এই ক্লাসিক লুকিং বান্ধবীর প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছ। এ হচ্ছে আমার বান্ধবী, নাম অদিতি রায়। কলেজের হিট আবৃত্তিকার, রবীন্দ্র-সঙ্গীত শিল্পী ইত্যাদি ইত্যাদি আরো অনেক ভাল গুনাবলীর সমাহার। আর ইনি হচ্ছে জনাব তন্ময় আহসান, মেঝো ভাইয়ার বন্ধু। ইনি এবং এনার সঙ্গোপাঙ্গো সম্পর্কে যত কম বলা যায় ততই ভাল। হিঃ হিঃ হিঃ . . . .

ঝিনির কথার ঝড়ে হতভম্ব তন্ময়ের দিকে তাকিয়ে ছোট্ট করে বলল ”হাই” । বিনিময়ে সে কোনরকমে শুধু বলল ”হ্যালো, আমি তন্ময়”।

সেই থেকেই শুরু, ধর্ম কোন বাধা হতে পারেনি তাদের দুজনের সম্পর্কের গড়ে ওঠায়।

ট্রেনের বেয়ারার ”এই কাটলেট, চিকেন ফ্রাই” হাঁকাহাঁকিতে আবার বর্তমানে ফিরে আসে সে। হাতের বই তখনো খোলা।

: চিকেন ফ্রাই খাবে, কাটলেট?

: ছাই পাশ খেতে ওস্তাদ। ঘর থেকে এক গাদা এগ রোল আর সমুচা বানিয়ে এনেছি, সেটা খাও। ভাল খান, স্বুস্থ থাকুন।

: জ্বী ম্যাডাম।

নিতান্ত অনিচ্ছার ভঙ্গী করে একটা রোল তুলে নিল তন্ময়, আড়চোখে দেখল, কপট রাগী চোখে তাকিয়ে আছে অদিতি। চোখাচোখী হতেই দুজনেই হেসে উঠলো। কথায় কথায় দুটা রোল আর তিনটা সমুচা খেয়ে ফেলে তন্ময়।

: জনাব, বয়স কিন্তু চল্লিশের দিকে ছুটছে। খাদ্য গতি নিয়ন্ত্রন করুন।

: জ্বী ম্যাডাম, আপনি যা বলেন ম্যাডাম।

আবার কপট রাগ ফুটে উঠে অদিতির চোখে। আর এভাবে কথায় কথায় সময় এগিয়ে যায়। এর মধ্যে রাত জাগার ক্লান্তিতে কখন যেন অদিতির ঘাড়ে মাথা এলিয়ে ঘুমিয়ে পরে সে। হঠাৎ অদিতির ধাক্কায় ঘুম ভাঙ্গে তার।

: এই আমার ফেনী স্টেশান এসে গেছে!

অদিতির চোখে বেদনা, দুঃখ মিশে একাকার। তন্ময় হতভম্ব। এতদিন পর হঠাৎ দেখা, এত তারাতারি শেষ? কেন ছাই ঘুমিয়ে পরেছিল? কেন? কেন? কেন? ট্রেন এখানে বেশীক্ষন দাড়ায় না। দ্রুত মাল নামিয়ে দেয়। ট্রেন ছাড়তে শুরু করেছে। অদিতি ছলছল চোখে তাকিয়ে আছে। আর সে দ্রুত দুরে সরে যাওয়া ট্রেনের দরজা ধরে অসহায় দাড়িয়ে রইল। হঠাৎ মনে পড়ল, কেও কারো মোবাইল নম্বর নেয় নি ! কি বোকা, কি বোকা! সে চিৎকার করে উঠলো,

: তোমার মোবাইল নম্বর ………….?

অদিতি শুনতে পেয়েছে। কিন্তু তখন অনেক দেরী হয়ে গেছে। তবুও তন্ময় দেখল অদিতির ঠোটে ফুটে উঠেছে বিষন্ন হাসি।

আবেগ অনুভূতিহীন ট্রেন দূরে সরে যেতে থাকে। অদিতি হারিয়ে যায় তন্ময়ের দৃষ্টিসীমার বাইরে।

এয়ারপোর্ট স্টেশন থেকে গাড়ীতে বাসায় ফিরছে তন্ময়। সব কেমন যেন শূণ্য মনে হচ্ছে। এভাবেও পেয়ে হারায়? ট্রেনে হঠাৎ বহুদিন পর দেখা হওয়ার বিশ্ময় আর সংকোচের কারনে অবচেতনভাবে দুজনই এরিয়ে গেছে ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ। কথার পিঠে এগিয়ে গেছে কথা। দুজনই যেন ভুলে গিয়েছিল যে এ যাত্রার শেষ আছে। স্মৃতিগুলো একে একে ভেসে ওঠে চোখের সামনে।

বছর চারেক গড়িয়ে যাওয়ার পর এসম্পর্ক জানাজানি হয় দুই পরিবারে। স্বাভাবিকভাবে তুমুল ঝড় ওঠে দুদিকেই। অন্য যেকোন কারনের চেয়েও ধর্মই হয়ে ওঠে প্রধান বাঁধা। ঘর থেকে বেরুনো, ফোন ধরা সব বন্ধ হয়ে যায় অদিতির। মূল ধাক্কাটা ওর উপর দিয়ে যায়। তন্ময়ের ঘরেও তুলকালাম অবস্থা। একমাত্র ছেলের হিন্দু মেয়ের সাথে প্রেম? ঘন ঘন মূর্ছা যেতে থাকেন তন্ময়ের মা। আর তার বাবার চিৎকারে গোটা এলাকা প্রকম্পিত হতে থাকে। হিন্দু বাড়ীর মেয়ের সাথে প্রেম লীলা? কাভি নেহি, দরকার হলে ছেলেকে নিজ হাতে জবাই করবেন। প্রয়োজনে ওই মালাউনের গুষ্টিকে ঘাড় ধরে ইন্ডিয়া চালান করে দেবেন। সেই ক্ষমতা তাঁর আছে। তন্ময়কে জোর করে আমেরিকা পাঠিয়ে দেয়া হয়। অদিতির সরকারী চাকুরে বাবাও বেনামী ফোনের হুমকি ধামকিতে অস্থির হয়ে কোনক্রমে বদলী নিয়ে চলে যান অন্য কোন জেলায়। এরপর সময়ের স্রোতে কিভাবে যেন হারিয়ে যায় দুজনেই। বাবা মা সকলের প্রতি তীব্র অভিমান নিয়ে তন্ময় আজো একা। বাবা মা কেও আজ বেঁচে নেই। দেশে ফেরার পর তন্ময় আর অদিতির খোঁজ করেনি গত চার বছর, লজ্জায়। নিজেকে বড্ড কাপুরুষ মনে হয়। তন্ময় এখন শুধু একা তার গোপন ব্যথা নিয়ে সাফল্যের নিঃসঙ্গ সিড়ি ভাঙছে।

একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে সুনীলের উপন্যাসটা হাতে তুলে নেয় সে। ১৬২ পৃষ্ঠা পর্যন্ত পড়া হয়েছে। বই খুলে ১৬৩ পৃষ্ঠা চোখের সামনে মেলে ধরে। হঠাৎ বিদ্যুৎস্পৃষ্টের মত চমকে উঠে সে। ১৬৩ পৃষ্ঠার এককোনে অদিতির চিরচেনা গোটাগোটা মেয়েলী হাতের লেখা :

“আমাদের গেছে যে দিন
একেবারেই কি গেছে –
কিছুই কি নেই বাকি?”

তার পরের লাইনেই…………. একটা মোবাইল নম্বর!

অদিতির সিঁথিতে কি সিঁদুর ছিল? আশ্চর্য, কিছুতেই মনে পড়ছে না! হৃৎপিন্ডটা যেন বুকের খাঁচা ছেড়ে বেরিয়ে আসতে চাইছে। সব শব্দ, সমস্ত চিন্তা শক্তি যেন থেমে গেছে। মাথার ভেতর কেবল যেন তীব্র হুইসেল বাজিয়ে ছুটে যাচ্ছে একটা অন্তহীন ট্রেন। কাঁপা কাঁপা হাতে মোবাইলের দিকে হাত বাড়ায় তন্ময়।

সমাপ্ত

১১ thoughts on “অতঃপর রবীন্দ্রনাথ

  1. একটা হাল্কা প্রেমের গল্প
    একটা হাল্কা প্রেমের গল্প লেখার ইচ্ছা থেকেই এই গল্পের জন্ম। আমার দ্বিতীয় গল্প। ২০১১ সালের জানুয়ারিতে লেখা। এটার পাঠকও কয়েকজন খুব কাছের বন্ধুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। ভাবলাম এটাও আপনাদের সাথে শেয়ার করি। আবার একটি পুরোন অনুরোধ, সমালোচনা আশা করছি।

  2. ভাই কিছু বলার নাই । সমালোচনা
    ভাই কিছু বলার নাই । সমালোচনা করার কিছু নাই । কারন অসম্ভব ভাল লেগেছে । কিন্তু প্রবাহমান কাহিনীর পর পরই টুইস্ট এর সময় হালকা তাড়াহুড়া হয়ে গেছে । সিরিয়াসলি অসাধারন ,।। ।

    আর শেষের এই অনুভুতি টা –

    অদিতির সিঁথিতে কি সিঁদুর ছিল? আশ্চর্য, কিছুতেই মনে পড়ছে না!

    জাস্ট awesome bro … :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

    1. সরি ভাই, তাড়াহুড়া না করে
      সরি ভাই, তাড়াহুড়া না করে উপায় ছিল না। ফেনী স্টেশানে ট্রেন যে বেশীক্ষন দাঁড়ায় না। আমার কি দোষ বলেন? আমি তো আর মন্ত্রী-মিনিস্টার না যে আমার কথায় ট্রেন লেট করবে, আর আমি তন্ময় আর অদিতিকে দু দন্ড কথা বলার সুযোগ করে দিব!!! 😀 আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

    1. মুশকিলে ফেলে দেয়ার জন্য
      মুশকিলে ফেলে দেয়ার জন্য আন্তরিক ভাবে দুঃক্ষিত :মনখারাপ: । পড়ে ভালো লাগার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ :ফুল: ।

  3. দারুন, অসাধারণ। প্রেমের গল্প
    দারুন, অসাধারণ। প্রেমের গল্প দেখলেই আমি একটু আশংকায় থাকি। লুতুপুতু টাইপ প্রেমের গল্প পড়তে ভালো লাগে না। আবার গল্প খোরও বলতে পারেন আমায়। আপনার গল্পটা এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেললাম। কোথাও ছন্দপতন হয়নি। গল্পের বুনট টানটান ছিল। এটাই ভালো লেগছে। কাহিনী অতি পুরাতন হলেও উপস্থাপনার মুন্সিয়ানায় উপভোগ্য হয়েছে। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

    1. আতিক ভাই, আপনার মন্তব্য
      আতিক ভাই, আপনার মন্তব্য সবসময়ই উৎসাহ দেয়। এবার মনে হয় আরেকটু বেশীই পেলাম। অনেক ধন্যবাদ। আর প্রেমের গল্পের সমীকরনে নতুন কিছু আনা প্রায় অসম্ভব। প্রতিটা কাহিনীতে একটা ছেলে এবং একটা মেয়ে থাকবে। এখন শেষ পর্যন্ত হয় তাদের মিলন হবে, নাতো বিচ্ছেদ। এই দুই থিওরির বাইরে যাওয়া প্রায় অসম্ভব। সেকারনে আমার এই গল্পের শুরুতেই বলে নিয়েছিলাম যে একটা হাল্কা প্রেমের গল্প লেখার ইচ্ছে থেকেই এই গল্পের জন্ম। আর বিদগ্ধ জনেরা এধরনের প্রেম বা প্রেমিকাকে Old Flame বলেন। আমার এই লেখাটা মরহুম আবদুশ শাকুর [কথা সাহিত্যিক ও প্রাক্তন সচিব, লেখকঃ সহে না চেতনা, ভালোবাসা, উত্তর-দক্ষিণ সংলাপ, সংলাপ, ক্রাইসিস, মহান শ্রোতা (সংগীতবিষয়ক), মহামহিম রবীন্দ্রনাথ, চিরনতুন রবীন্দ্রনাথ (রবীন্দ্রনাথ বিষয়ক), গোলাপনামা (পুষ্পবিষয়ক) ইত্যাদি] সাহেবকে পড়তে দেওয়ার সু্যোগ হয়েছিল। তাঁর কাছ থেকেই Old Flame শব্দটা শেখা। আপনার মন্তব্য পড়ে ওনার কথা মনে পড়ে গেল। আমি বরং আমার “যাযাবর” গল্পটাকে একটা ভিন্ন ধাঁচের প্রেমের গল্প হিসেবে লেখার চেষ্টা করেছি। আরেকটা কথা লুতুপুতু প্রেম আমারও তেমন ভালো লাগে না। এই ব্যাপারটা যাতে না আসে সে ব্যাপারে সচেষ্ট ছিলাম। আপনার কথায় মনে হচ্ছে চেষ্টা কিছুটা সফল হয়েছে। ভালো থাকুন, আবারো ধন্যবাদ জানাই সময় নিয়ে আমার লেখা পড়ার জন্য।

Leave a Reply to ইকরাম ফরিদ চৌধুরী Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *