ভোরে………

তমালের যখন ঘুম ভাঙল তখন ভোর প্রায় ৬টা, শুক্রবার। অফিস নেই। ঢাকা শহর মোটামুটি ঘুমে ডুবে আছে। পাশেই আলুথালু হয়ে ঘুমন্ত নিশা, তমালের বউ। স্ত্রীর চেয়ে বউ শব্দটাই তার কাছে বেশী আপন আপন লাগে। তো শুক্রবার ভোরে সবাই ঘুমে বিভোর, আর সে জেগে আছে। কিন্তু কি করা, ঘুম আর আসবে না। উঠে খাটের এক কোনে পা নামিয়ে বসল সে। তারপর এটা ওটা ভাবতে ভাবতে আনমনে পা দোলাতে লাগলো।


তমালের যখন ঘুম ভাঙল তখন ভোর প্রায় ৬টা, শুক্রবার। অফিস নেই। ঢাকা শহর মোটামুটি ঘুমে ডুবে আছে। পাশেই আলুথালু হয়ে ঘুমন্ত নিশা, তমালের বউ। স্ত্রীর চেয়ে বউ শব্দটাই তার কাছে বেশী আপন আপন লাগে। তো শুক্রবার ভোরে সবাই ঘুমে বিভোর, আর সে জেগে আছে। কিন্তু কি করা, ঘুম আর আসবে না। উঠে খাটের এক কোনে পা নামিয়ে বসল সে। তারপর এটা ওটা ভাবতে ভাবতে আনমনে পা দোলাতে লাগলো।

গতকাল গাজীপুর যাওয়াটাই হয়েছিল কাল। দুপুরের কড়া রোদে টানা ৩ ঘণ্টা ফ্যাক্টরি ভিজিট, তারপর দশটা রাক্ষসের খিদে নিয়ে লাঞ্চে ঝাল গরুর মাংস, ডাল আর সাদা ভাতের ম্যারাথন। ওহ্‌, ফ্যাক্টরির ক্যান্টিনের বাবুর্চিটাও সেরকম প্রতিভাবান। কোন দুঃখে লোকটা এমন প্রতিভা নিয়ে গাজীপুরের কোনাবাড়ির কোনায় পরে আছে কে জানে? আরও অনেক কিছু ছিল। ভাজি, ভর্তা, মাছ আরও কি সব। কিন্তু মাংস, ডাল আর সাদা ভাতের মাস্টার কম্বিনেশনটাকে অন্য কিছু দিয়ে নষ্ট করাটা তার মতে এক ধরনের অপরাধ। তারপর ভরা পেটে হাঁসফাঁশ করতে করতে মাইক্রোবাসে জ্যাম ঠেলে ঢাকায় ফেরা। দিনক্ষণ হিসেব করে গাড়ীর এসিটা নষ্ট হওয়ার জন্য যেন সেই দিনটাকেই বেছে নিয়েছিল। ঢাকা ফেরার পথটা মনে হচ্ছিল অন্তহীন।

তারপর সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হবার মুখে মুখে ঘরে ফিরে কোনমতে হাতমুখ ধুয়ে একটু গড়াগড়ি খেতে গিয়ে ক্লান্তিতে কখন যে ঘুমিয়ে পরেছিল মনে নেই। সময় কটা হবে তখন, সাড়ে ৮ টা? ক্লান্ত তমালের গভীর ঘুম দেখে নিশাও আর হয়ত তাকে রাতের খাওয়ার জন্য ডাকে নি। প্রায় টানা দশ ঘণ্টার ঘুম। ফলাফল, ছুটির দিনে এতো ভোরে একা জেগে বসে থাকা। যা বাব্বা, সামান্য গাজীপুর গিয়েই জেট ল্যাগে পরে গেলাম? ভাবতে ভাবতে টের পেলো পেটের ক্ষিদেটারও ঘুম ভাঙছে। সেই গতকাল ভর দুপুরের হেভি ডিউটি লাঞ্চ করার পর আর কিছুই খাওয়া হয় নি। প্রায় ১৫-১৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে, মনে মনে হিসেব করল তমাল। শালার গরুর মাংসটা হয়েছিলও সেরকম। মাংসের ভাবনায় পেটের ক্ষিদেটাও খুকখুক করে যেন কেশে উঠে নিজের অবস্থান জানান দিল। বাম হাতটা আনমনে বয়সের সাথে হালকা বাড়ন্ত পেটের উপর আনমনে বুলাতে বুলাতে একা একাই কথা বলে উঠল সে,

: কি, পেটু বাবুর ক্ষিদে পেয়েছে?
: জি স্যার।
চমকে উঠল তমাল। পেট কথা বলছে নাকি!

: জি স্যার।
জি স্যার মানে? পেট কি সত্যি সত্যি কথা বলছে নাকি?

: জি স্যার।

অবিশ্বাস ভরে সে নিজের পেটের উপর দুহাত রাখল। অবাক গোল গোল চোখে নিজের পেটের দিকে তাকালো। তারপর ফিসফিস করে নিজের পেটকে উদ্দেশ্য করেই বলল,

: বাবা পেটু, তুমি কি কথা বলছ?
: জি স্যার।

তমাল এবার পিঠ সোজা করে নিঃশব্দে পুরো ঘরটা চোখ ঘুরিয়ে দেখলো, সেই সাথে চোখের কোনা দিয়ে নিশাকেও একবার দেখে নিল। সে গভীর ঘুমে। তারপর একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে সে সিলিঙের দিকে তাকিয়ে থাকল। সিলিং ফ্যানটা ঘুরে চলেছে অবিরাম। এক সেকেন্ড, দু সেকেন্ড, তিন সেকেন্ড….। দুহাত তখনও পেটের উপর বুলিয়ে যাচ্ছে। সে অবস্থাতেই সে বুঝতে পারলো তার বুকটা ঢিপ ঢিপ করছে। একবার মনে হল নিশাকে ডেকে তোলে। কিন্তু তার বদলে এক অপার কৌতূহল তাকে দ্রুত গ্রাস করল। তমাল সিলিং ফ্যান থেকে ধীরে ধীরে দৃষ্টি তার ধরে থাকা পেটের দিকে নামিয়ে আনল। মাথাটা একটু ঝুঁকে পরলই বলা যায়। তারপর সে আবার অবিশ্বাস আর কৌতূহল মেশা কণ্ঠে কথা শুরু করল।

: তুমি… তুমি… তুমি কথা বলতে পার?
: জি স্যার।
এবার একটু কেমন যেন রাগ হল তমালের।

: শুধু জি স্যার, জি স্যার, জি স্যার করছ কেন? খালি এটাই পার নাকি অন্য কথাও পার?
: জি স্যার।
: আবার জি স্যার? মানে কি?
: মানে হচ্ছে গিয়ে ধরেন স্যার, পারি। ইয়ে মানে স্যার, কাজ চলে যায় আর কি। আপনারা যাকে বলেন workable knowledge, অনেকটা সেরকম আর কি।
: বাহ্‌ চমৎকার, ধরা যাক কয়েকটা ইঁদুর এবার! ইংরেজিও পারো? তোমাকে তো বেশ শিক্ষিত মনে হচ্ছে, হ্যাঁ?
: লজ্জা দিলেন স্যার। এ অধম তো আপনারই পেট, নাকি? এতটুকু যদি না পারি, আপনার সম্মানটা কোথায় রাখি বলুন স্যার?
: উরি বাবা, কথা তো ভালই জানেন দেখি স্যার আপনি!
: স্যার, আমাকে স্যার বলে লজ্জা দেবেন না প্লিজ স্যার। এমনিতেই বড় শরমিন্দা থাকি।
: শরমিন্দা? বেশ কায়দার শব্দ বল্লেন তো পেটু মিয়া আপনি। কিন্তু আপনি শরমিন্দা কেন?
: মানে স্যার, এই যে আমি, এই আমি সব নষ্টের গোরা।
: কেন বাপ, তুমি কেন নষ্টের গোরা হতে যাবে?
: ভেরি সিম্পল স্যার। আপনি জ্ঞানী মানুষ, অল্পতেই বুঝবেন।
: আমি জ্ঞানী নাকি? যাই হোক, হলে ভাল। দেখি বুঝি কিনা। বুঝাও।
: ধরেন স্যার, খাদ্য আর পানি। এই দুইটা মানুষের বাঁচার জন্য দরকার। এই দুইটা ছাড়া বাঁচা ইম্পসিবল। আর জীবন না থাকলে পুরা দুনিয়াটাই ইম্পসিবল। জান নাই তো কিছুই নাই। তাইলে খাওয়া বলেন, পানীয় বলেন, সবই চালান হয় এই অধমের কাছে। এই অধম কি করে? পুরা খাবার-পানীয় সব নিজ দায়িত্বে সাধ্যমতো প্রসেস করে যাতে পুরা শরীর ঠিক মতো পুষ্টি পায়। যাতে আপনি, মানে ইয়ে, মানুষ গায়ে গতরে সুস্থ থাকে, ভাল ভাবে বেড়ে উঠে। বুঝলেন তো?
: এতো ভালো কাজ। এখানে নষ্টামির কিছুতো দেখলাম না। পেটু মিয়া, তোমার ধারনা মনে হয় ভুল। আমি মনে হয় তেমন জ্ঞানী না। সরি।
: না, না, না, স্যার। ভুলটা আমারই। ঠিকমত শুরু করতে পারি নাই। শুরুতেই নিজের গুণগান গাইলাম। সরি স্যার। কথা বলে অভ্যাস নাই তো। আবার শুরু করি?
: আচ্ছা ছোট্ট একটা প্রশ্নের উত্তর আগে দাও। হঠাৎ আজকে কেন তুমি কথা বলা শুরু করলা?
: কি যে বলেন স্যার। আজ আমার কত সম্মানের দিন। জন্মের পর এই প্রথম আপনি কত আদর সোহাগ করে আমার খোঁজ নিলেন। এই স্নেহের জবাব যদি না দেই, তা কি হয়?
: ও, তাই?

তমাল নিজেই খানিকটা বিব্রত বোধ করল। নিজের পেট, কত আপন, কত গুরুত্বপূর্ণ একটা অঙ্গ। অথচ কোনদিন খোঁজ খবর নেয়া হয় নাই। আনমনেই বলে উঠল “সরি”।

: ছিঃ ছিঃ স্যার, সরি বলে আমাকে আরও শরমিন্দা করবেন না। তো স্যার, অনুমতি দিলে আবার শুরু করি?
: আচ্ছা কর।
: আপনি তো স্যার বড় বড় স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন, মাশাল্লাহ্‌। মাস্‌লো’র থিওরি তো আপনার কাছে দুধ-ভাত।
: ওরে বাবা, কি বললে? তুমি মাস্‌লো’র নামও জান? তোমার তো দেখি ফাটাফাটি অবস্থা, অ্যাঁ!
: না, না, না স্যার। আমি নাদান পেট। ওভাবে লজ্জা দেবেন না স্যার। আমার জিভ থাকলে এখন জিভে কামড় দিতাম। মাসলো স্যারের নামটা তো আপনার মাধ্যমেই শোনা। কত পড়াশোনা আপনার! ওই থিওরিটা খাওয়া খাদ্য দিয়ে শুরুতো এজন্য একটু একটু মনে আছে। আমি বুঝি সোজা সাপ্‌টা কথা। এই যেমন ধরেন “পেটে খেলে পীঠে সয়”, নিজে বাঁচলে বাপের নাম”, ”অভাবে স্বভাব নষ্ট” এইসব আরকি। বুঝলেন কি না?
: হুম, বলে যাও।
: আবার ধরেন “পেট ঠাণ্ডা তো দুনিয়া ঠাণ্ডা”।
: বুঝলাম তো, তারপর?
: বললাম না স্যার, আপনি জ্ঞানী মানুষ। সহজেই বুঝবেন। তবে সবচেয়ে খাঁটি কথা হচ্ছে “অভাবে স্বভাব নষ্ট”। আপনার পকেটে যদি টাকা না থাকে, আর পেটে যদি ক্ষিদা থাকে, তাইলে কি করবেন? সব চেষ্টা ব্যর্থ হলে চুরি করবেন। মানে স্যার, কথার কথা আর কি। কারন পেটের ক্ষিদাকে তো আর ঘুম পারানি মাসি-পিসি গান শুনিয়ে ঘুম পারানো যাবে না। একে ঠাণ্ডা করতেই হবে। সোজা রাস্তায় করেন, আর বেঁকা রাস্তায় করেন, সেটা আপনার বিবেচনা।
: তা ঠিক, তা ঠিক।
: তার মানে কি দাঁড়ায়? আমাকে ঠাণ্ডা করার জন্যই অসৎ পথ ধরতে হল, ঠিক? অর্থাৎ আমিই নষ্টের গোরা।
: বলে যাও।
: আপনার ক্ষেত্রে ধরেন স্যার, এতো পড়াশুনা কেন করলেন? ভাল চাকরির জন্য। ভাল চাকরি কি জন্য? ভাল বেতনের জন্য। বেতন কি জন্য? ভাল থাকা-খাওয়ার জন্য। খেয়ে বাঁচলে বিয়ে, বউ, সংসার, বাচ্চাকাচ্চা, আরও নতুন মুখ, আমার মতো আরও পেট, আরও খাবার। এক হিসাবে পেট শান্তি তো দুনিয়া শান্তি। ঠিক কিনা স্যার?
: ঠিক, খুব ঠিক। ভাল খেতে পরতে পারলেই তো সুখ। সুখ না হোক স্বস্তি তো বটেই।
: আবার মনে করেন স্যার, Health is wealth । গুণীজনেরা আরও বলেছেন You are what you eat। তার মানে ভাল খেলে শরীর ভাল, খারাপ খেলে খারাপ। সোজা কথা, এই নাদানকে হিসাবে ধরেই সমাজ, সংসার, বউ, বাচ্চা, স্বাস্থ্য সব। আবার বেশী খেলে সমস্যা। For example গতকালের পেট হাঁসফাঁস। মানে দাঁড়ায়, পেট খালি থাকলেও গোলমাল, ভরা থাকলেও সমস্যা হতে পারে।
: তা ভাই ঠিক। কালকের Overeating ঝামেলা করেছিল বেশ।
: এখন কি স্যার একটু একটু মনে হচ্ছে যে পেট থাকাটা ঝামেলা?
: তা কিছুটা হচ্ছে। যেমন ধর খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারটা না থাকলে সময়ও বাঁচত, টাকাও বাঁচত। অনেকটা গাছের মতো Automatic ব্যাপার-স্যাপার। Photosynthesis বোঝ?
: খুব একটা না। তবে এইবার একটা মজার কথা বলি স্যার?
: বল।
: মজার কথা হচ্ছে স্যার, পেটে খাবার না পড়লে যেমন চরিত্র শরীর দুটোই বেঁকে বসে, তেমনি বেশী ভাল খেলেও শরীর চরিত্র দুটোর মধ্যেই ঝামেলা ঢুকে যেতে পারে স্যার।
: Overeating problem করতে পারে, আবার এলার্জিক সমস্যাও হতে পারে মানলাম। কিন্তু চরিত্র খারাপ কি করে হয়? বাপধন, তুমি মদ-টদ খাওয়ার কথা বলছ নাকি? এটা কিন্তু মামা এখন স্ট্যাটাস সিম্বল। কয় ধরনের মদ খেলাম, কোন ব্র্যান্ড ভাল, কোনটা বারবর্ন, কোনটা স্কচ, লিকার কোনটা আর স্পিরিট কোনটা, এগুলো আজকাল Status defining issue, বুঝলে চান্দু? ও লাইনে Character Certificate দিতে গেলে ভাত পাবে না।
: অবশ্যই, অবশ্যই স্যার। বলেছিলাম না আপনি জ্ঞানী লোক। কতকিছু জানেন। আর এ লাইন আপনার সুনাম যে দিন দিন বাড়ছে সেকথা আমার চেয়ে ভাল তো কেউ জানে না। এইসব লাল পানি, পাগলা পানি খাবার পর আপনি যাতে Maximum feeling পান সেজন্য আমি সবসময় Processing বিশেষ যত্ন নিয়ে করি স্যার। নিজ দায়িত্ব মনে করেই করি স্যার। বেয়াদবি না নিলে স্বীকার করি, আমারও বেশ ভালো লাগে। কেমন একটা উরু উরু রঙ্গিন রঙ্গিন ভাব হতে থাকে।
: ওহ্‌ তাই। Thank you, thank you, এই মাঝে মধ্যে হালকা পাতলা চলে আর কি। বোঝই তো Corporate life, always under pressure থাকি।
: স্যার, মূল প্রসঙ্গে ফিরে আসি। ইয়ে, একটা কথা। Bore হচ্ছেন না তো স্যার?
: না না, একা একাই তো বসে ছিলাম। ৯টার আগে কেউ উঠছে না আজ। আর, কি যেন বলছিলে? ভালো খাবার, চরিত্র কি কি সব?
: জি স্যার। ধরেন ভালো খাবারের সব ভালো ভালো প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেল আমি শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করি। এই যেমন ধরেন মানুষের মগজ একটা অঙ্গ। ভালো ভালো প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেল ইত্যাদি মগজের স্বাস্থ্য ভালো করে দেয়। তাতে আপনি অনেক বুদ্ধি বিবেচনার সাথে সুগভীর চিন্তা করতে পারেন। সে অনুযায়ী কাজকর্ম করতে পারেন। চাকরিবাকরিতে আয় উন্নতি হয়, বস খুশি হয়। ঠিক কি না?
: ঠিক, খুব ঠিক।
: তবে জানেন তো স্যার, মগজের একটা দুষ্ট দিকও আছে, যে কিনা দুষ্ট চিন্তা করায়, দুষ্ট কাজ করায়। ভালো খাওা-দাওয়া করলে সেও সমান চাঙ্গা হয়। সেও তার মতো হিসাব-কিতাব করে আপনাকে, মানে ইয়ে, মানুষকে বাঁকা রাস্তায় চালাতে চায়। না কি?
: হুম, Good versus Evil, শুভ অশুভের দ্বন্দ্ব। বেশ বেশ, বিষয়টা জমে যাচ্ছে মনে হচ্ছে!
: জমবে স্যার, আরও জমবে। যাকে বলে একেবারেজমে দই। দই কিন্তু পেটের জন্য, I mean, আমার জন্য ভালো। In fact, আমার নিজেরও খুব পছন্দ।
: তুমি না শালা, খালি খাই খাই। অবশ্য এছাড়া তোমার তো কোন কাজও নেই। হেঃ হেঃ।
: যথার্থ বলেছেন স্যার। আপনার সাথে কথা বললেই জ্ঞান বারে। কেন যে এতোটা বছর বললাম না। খুব Loss হয়ে গেল স্যার।
: অসুবিধা কি? কথা তো শুরু হয়েই গেল। Better late than never । তো তুমি বলতে চাও বেশী খেলেও কম খাওয়ার মতো কিছু কিছু ক্ষেত্রে শরীর-চরিত্র দুটোর উপরই খারাপ প্রভাব পরতে পারে, তাই তো?
: জি স্যার, অনেকটা তাই স্যার।
: কিন্তু সে ক্ষেত্রে তোমার তো অসুবিধা হওয়ার কথা না। আমি তো ঝামেলাহীন মোটামুটি সুখেই আছি। আমার পেট হিসেবে তুমিও আছো। তোমার তো, ইয়ে, কি শব্দটা যেন বললে? ও হ্যাঁ, শরমিন্দা হওয়ার কিছু নেই।
: আলবাৎ স্যার, তবে…..
: তবে? তবে কি?
: স্যার ইয়ে, মানে বলতে চাচ্ছিলাম কি, মানে আমার ভুলও হতে পারে, কেন যেন আমার মনে হচ্ছে আপনার মগজের ভেতর, ওই কি যেন শব্দটা বললেন, হ্যাঁ মনে পরেছে, দ্বন্দ্ব-দ্বন্দ্ব ব্যপারটা কেমন যেন একটু নড়াচড়া করছে ইদানিং?
: What? কি বলতে চাও তুমি?
: বলছি স্যার, ওই হঠাৎ একটা ঘটনা মনে পরে গেল তো তাই বলছিলাম।
: কোন ঘটনা?
: ওই যে স্যার, দিন চারেক আগে Westin এ বসে ডিনার করেছিলেন। আহা, বাবুর্চিটার কি ভালো রান্নার হাত। বড় বড় হোটেলে ওদের কি যেন বলে স্যার? হ্যাঁ, মনে পরেছে, Chef। এমন খাবার Process করেও সুখ।
তমালের চেহারাটা হঠাৎ কঠিন হয়ে গেল।
: এই কি বলতে চাস তুই?
: কিছু না স্যার। ওই যে বলছিলাম, জমে দই! আপনার সাথে ডিনার করা ওই চিঙ্কি চেহারার চিনে সাপ্লায়ারটার খুব জমেছে মনে হচ্ছে স্যার।
রাগে তোতলাতে থাকে তমাল।
: ক্কিক কি? কি জমেছে? কি বলতে চাস তুই, হ্যাঁ?
: আহা রাগছেন কেন স্যার? আমরা আমরাই তো। আপনি দেশের এতো বড় কোম্পানির Head of Procurement, আপনার পদবীটা যেন কি? ইয়েস, মনে পড়েছে, Director (Supply Chain)। বেশ গাল ভরা পদবীটা কিন্তু স্যার। এই বয়সে এতোটা, বেশ গর্ব হয় কিন্তু। আপনাকে কে না চেনে? উনি তো মনে হল আপনার কোম্পানির নতুন সাপ্লায়ার। আচ্ছা কি যেন খটমটে নাম ওই কেমিক্যালটার? মাসে ২০০ টন, প্রতি টনে আপনার সাড়ে চার ডলার কি কি সব বলছিলেন? আমি অবশ্য খাওয়াটা নিয়েই বেশী ব্যস্ত ছিলাম। তো ইয়ে ডলার এখন রেট কত যাচ্ছে স্যার?
রাগে, আক্রোশে পুরো শরীর কাঁপতে থাকে তমালের। কথা জড়িয়ে যেতে থাকে।

: এই, এই, এই কুত্তার বাচ্চা, হারামী শালা, শালা তোর তোর তোর ….

হঠাৎ প্রচণ্ড নড়াচড়ায় ঘুম ভেঙ্গে যায় নিশার। ঘুম চোখে অবাক তাকিয়ে দেখে তমাল শুয়ে শুয়ে পেট চেপে ধরে ঘুমের মধ্যে গোঁঙাচ্ছে। প্রচণ্ড ভয়ে তমালকে “কি হয়েছে” বলে ধাক্কা দিতেই সে ঘুম ভেঙ্গে সটান উঠে বসে হাঁপাতে থাকে। নিশাও ঝাঁপিয়ে উঠে তাকে জড়িয়ে ধরে কপালে হাত রাখে। এসির বাতাসের হিম শীতলতার মধ্যেও সে টের পায় তমালের কপালে বিন্দুবিন্দু ঘাম।

: কি হয়েছে তোমার। পেট ব্যথা?

নিশার গলায় রাজ্যের উদ্বেগ। ধীরে ধীরে ঘাড় ঘুরিয়ে নিশাকে দেখে তমাল। চোখে চোখ পরতেই চোখ নামিয়ে ফেলে সে।

: কটা বাজে নিশা?
:পৌনে ছটা।

দেয়াল ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বলে নিশা। আস্তে করে নিশার আলিঙ্গন থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নেয় তমাল। তারপর বিছানা থেকে নেমে দরজার দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। নিশার ভয় তখনও কাটেনি। সে আবার জিজ্ঞেস করে,

: কি হয়েছে বললে না তো। খারাপ স্বপ্ন দেখেছ?
: নাহ্‌।
: তাহলে?
: খুব ক্ষিদে পেয়েছে, খাব।

নিশার মনে হয় তমাল খুব ক্লান্ত ভাবে হাঁটছে। কেন যেন মনে হয় কি যেন লুকোতে চাইছে ও, যেন পালাতে চাইছে। কি লুকোতে চাইছে তমাল, কিসের কাছ থেকে পালাতে চাইছে?

২৪ thoughts on “ভোরে………

    1. Dear অবাস্তব স্বপ্নচারী,
      Dear অবাস্তব স্বপ্নচারী, Thanks a bunch. I feel overwhelmed and highly inspired by your kind complement. But I also feel that your had been too generous to me and your complement is far beyond what I deserve. Take care.

  1. Dear Readers, This is my
    Dear Readers, This is my first post ever, in any blog. In fact this is my first registration in any blog site. My good and childhood friend নাসির উদ্দিন খান highly inspired me in this case. I’m the ‘NEW KID IN THE BLOCK” :লইজ্জালাগে: . So I would humbly request all of you to be highly critical about my story. It would be a great help. Thanks and take care.

  2. অতি ঝরঝরে লেখা। লক্ষ্য করলাম,
    অতি ঝরঝরে লেখা। লক্ষ্য করলাম, অনেকেই ভাল লিখেন, কিন্তু ক’দিন যেতে না যেতেই যেন উৎসাহ হারিয়ে ফেলেন, লেখা যায় বন্ধ হয়ে। আশা করি আপনি চালিয়ে যাবেন, আপনার আরো আরো লেখা পড়ার অপেক্ষায় আছি।

  3. ভাল হয়েছে লিখার ভঙ্গিটা।
    ভাল হয়েছে লিখার ভঙ্গিটা। লিখার গাথুনী আর ডায়ালগ মেকিং ভাল। কিন্তু তবু আমার মোটামুটি লেগেছে। কারন প্লটের বিষয়বস্তু তেমন টার্ণ করে নি। আর বিস্তারিত যাব না। ব্লগে স্বাগতম আর আপনি একজন ভাল রাইটার। শুভ কামনা আপনার জন্যে।

    1. ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।
      ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য। নিকট কিংবা দূর ভবিষ্যতে যদি কখনও নতুন প্লট মাথায় আসে তাহলে আপনার উপদেশ অবশ্যই মাথায় রাখব।

  4. এটা আপনার প্রথম ব্লগ পোস্ট?
    এটা আপনার প্রথম ব্লগ পোস্ট? দারুন। আপনার লেখার হাত বেশ ঝরঝরে। থেমে যাবেন না প্লীজ। ইস্টিশনে এবং ব্লগিং জগতে স্বাগতম। :ফুল:

    1. ধন্যবাদ সময় নিয়ে পড়ার জন্য।
      ধন্যবাদ সময় নিয়ে পড়ার জন্য। ব্লগিং এর জগতে প্রবেশ নিয়ে দারুন অনিশ্চয়তা ও ভয়ের মধ্যে ছিলাম। আপনাদের মন্তব্য ও সাধুবাদ পাওয়ার পর এখন মনে হয় ভয় কিছুটা কাটছে।

  5. অসাধারন…। এক নিঃশ্বাসে
    অসাধারন…। এক নিঃশ্বাসে পড়ার মত লেখা অনেক দিন পাইনি। ধন্যবাদ এমন একটা লেখা উপহার দেয়ার জন্য। নতুন লেখার অপেক্ষায় থাকলাম। :তালিয়া: :তালিয়া:

    1. ১০০% তৃপ্ত করতে না পারার জন্য
      ১০০% তৃপ্ত করতে না পারার জন্য দুঃখিত। একই সাথে ভালো লেগেছে বলার জন্য সলজ্জ ধন্যবাদ। :লইজ্জালাগে:

  6. চমৎকার একটা লেখা । লেখার
    চমৎকার একটা লেখা । লেখার মধ্যে পরিচ্ছন্নতা আছে । লিখতে থাকুন । অনেক শুভেচ্ছা রইল । :ফুল: :ফুল: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  7. চমৎকার গল্প… লিখতে
    চমৎকার গল্প… লিখতে থাকুন!!
    তবে,অবাস্তব স্বপ্নচারী মন্তব্য করেছেন “আরেকজন হুমায়ূন আহমেদ পাওয়া গেল”…
    এইটা অনেক বেশী হয়ে গেল! লিখককে প্রথমে প্রশংসায় ভাসিয়ে না দিয়ে প্রেরনা দিন!
    ফরিদ ভাই আপনি লিখেন চমৎকার… ধরে রাখতে পারলে অনেক কিছু পাব!
    :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

    1. আমি আপনার সাথে একমত। “অবাস্তব
      আমি আপনার সাথে একমত। “অবাস্তব স্বপ্নচারী মন্তব্য করেছেন “আরেকজন হুমায়ূন আহমেদ পাওয়া গেল”… এই মন্তব্যের বিপরীতে আমার মন্তব্য ছিল… “But I also feel that your had been too generous to me and your complement is far beyond what I deserve” তবে একথাও স্বীকার করব যে অবাস্তব স্বপ্নচারী এবং আপনাদের সকলের সাধুবাদের কারনে অনেক সাহস পেয়েছি। সবাইকে আবারও অনেক অনেক ধন্যবাদ। আরেকটা কথা, আপনাদের সকলের লেখা কিন্তু আমি সবসময় মনোযোগ দিয়ে পড়ি। অনেক সময় দু একটা মন্তব্যও করি সাহস করে। কিন্তু সেগুলোকে কেবল দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য হিসাবে দেখলে কৃতার্থ হব। সবাই ভালো থাকবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *