আমার পুলিশীয় স্মৃতি

পুলিশের সাথে আমার জীবনে বেশ কয়েকটি অম্লমধুর ঘটনা রয়েছে, আজ জাভেদ কায়সারের স্ট্যাটাস দেখে এ নিয়ে লিখাটা অনূভব হল, সময়কাল ২০০৪ কি ২০০৫ আমাদের পাড়ার (মহিপাল হলিক্রিসেন্ট স্কুল সংলঘ্ন) বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আসিফ ভাইয়ের Asiful Hasan খায়েস হল ইটালি যাওয়ার, তো পাসপোর্ট যে করা চাই যদিও ভাই পাসপোর্ট আবেদনের সকল কাজ আগেই সেরে এসেছেন আমরা জাস্ট নিয়ে আসবো, তখন অবশ্য আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস ও নোয়াখালীতে, কোন এক সন্ধায় ভাইয়ের দোকানে বসে সিদ্ধান্ত হল তারপর দিন সকালে দুজনেই রওনা দিবো নোয়াখালী পাসপোর্ট অফিসের দিকে, রাত পার হওয়ার পর যথারিতী ভাই এসে ঘুম থেকে উঠালেন এই ঘুম প্রেমী কে, সকল কর্ম শেষ করে আমরা সকাল ১২ টা বাজে পৌচাই নোয়াখালী পাসপোর্ট অফিসের সামনে, তখন ইউরো লেমন নোয়াখালী পৌছায়নী মনে হয় তাই কোন দোকানেই পাইনী এর নাম নেয়াতেই আমাদের এলিয়েন ভাবলেন অনেক দোকানী, যাক পাসপোর্ট নিতে দীর্ঘ লাইন ভাই লাইনে দাড়ালেন আমি একটু এদিক সেদিক ঘুরতে লাগলাম দেড়টার দিকে আসলাম ঘুরে ফিরে ভাইয়ের লাইনের কাছে ভাই নগদ ১০০ টাকার নোট হাতে দিয়া বললেন ভাত খেয়ে আসতে আমি খেয়ে এসে লাইনে দাড়ালে উনি খেতে যাবেন, খেয়ে এসে দাড়িয়ে গেলাম লাইনে, ঘটনা শুরু তারপর আমাদের পুলিশ ভাইদের ঘুনের তো শেষ নেই যেদিক যা পান তা ই পকেটে পুড়ে দেন, তো লাইনে দাড়িয়ে থেকে ত্যাক্ত বিরক্ত হয়ে অনেকেই গিবেন টেকেনে সিস্টেমে ঝুকে পড়লেন পুলিশের ধান্দাও বেশ হচ্ছে, ব্যাপারটা আমার কাছে কেমন জানি ঠেকলো বয়স সবে ১৮ ছুই ছুই করছে আমার।বুঝেন ই তো এ বয়সে রক্ত বেশ টগ বগ টগ বগ করে রক্তের গরম থাকে বেশী সাথে আমি ফেনীর পোলা জম্মের পর থেকেই ঘাড়ের একটা রগ ত্যাড়া, অন্যায় মেনে নেয়া অসম্ভব আমার পক্ষে অনেকক্ষন ধরে এই অনিয়ম দেখে বিরক্ত হয়ে লাইনের আসে পাশে যারা আছে তাদের চিল্লাইয়া কইতেছি আপনারা কি মাইয়া নাকি পুলিশের এই দুই নাম্বারী কাজের প্রতিবাদ করেননা কেনো, রাগে টগ বগ করা চেহারা দেখে অনেকেই বলতে লাগলো ছোট ভাই তুমি ই প্রতিবাদ কর আমরা আছি তোমার সাথে বুকে একটু সাহস ফেলাম নিজেরে হিরুও ভাবতে লাগলাম, কিছুক্ষন যেতে না যেতেই ফারুক নামক এক পুলিশ কনস্টেবল যেই না সামনের একজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তার রিসিপ্ট নিতে যাচ্ছে তখন ই আমি চিত্কার করে উঠলাম এই ধর ধর ধর শালারে পুলিশ মহোদয় টাকা ফেরত দিলেন সাথে রিসিপ্ট ও এভাবে চলার পর লাইন বেশ ভালোভাবেই এগুচ্ছে, ভাইরেতো আমি আর দাড়াতেই দিচ্ছিনা লাইনে, বিধি বাম এইবার পুলিশের সংখ্যা তিনজনে উন্নীত করা হল লাইন নিয়ন্ত্রন করতে, এইবার ইসমাইল নামক নেম প্লেটওয়ালা পুলিশ টাকা নিতে গেলেই আবার আমার চিত্কার এই ধর ধর ধর সাথে সাথে তা পুরা লাইনময় হয়ে গেলো পুলিশের খেপ থেমে গেলো, বেশ জোশেই আছি কিছুক্ষন পর কনস্টেবল ফারুক একি বলছে এই চিল্লানি শুরু করছে কে যদিও ওই সময় সত্যি চিল্লানির যে জো উঠেছিলো তা আমি শুরু করিনি, তারপর ও ফারুক বেটা আমারেই টার্গেট কইরা সামনে এসে বললো এই এতো বেজাল করতেছো কেনো চিল্লাইছো কেনো? আমি কই নাতো আমিতো চিল্লাইনি এখন, কথা শেষ হতে না হতেই আমার মুখে দেড় টন ওজনের থাপ্পর এসে পড়লো আমি কি কম যাই নাকি সেকেন্ড না ঘুরতেই তরিত গতিতে তিন টন ওজনের থাপ্পর রিপ্লে দিলাম পুলিশরে বেটা বেশ বেশামাল হয়ে গেলো আমার রাগতো চরমে শালার ড্রেসের বটম চেপে ধরেই শুন্যে উঠাইয়া ফেললাম এই দৃশ্য সহ্য হয়নি বাকি দুই পুলিশের তারা এসেই শুরু করলো আমার পায়ে বেদড়ক পিটানি বেথার চোটে এই শালারে ছেড়ে দিয়ে ইসমাইলরে টার্গেট করলাম।অনেক পিটানি খাইয়া ধরলাম ইসমাইলরে দিলাম তারেও তিন টন ওজনের থাপ্পর পিটানি কিন্তু থেমে নেই, এইবার আসে পাশের পাবলিক ই আমারে একদিকে টেনে নিয়ে গেলো পুলিশরে আরেক দিকে আমার খেপ্টি কিন্তু কমতেছেনা পুলিশরে লক্ষ্য কইরাই বলতেছি শুয়োরের বাচ্চা আজ ফেনীতে হলে তোর এক পা চাইপা ধইরা মাঝখান দিয়া চিড়া ফেলতাম হেন তেন, বড় ভাই এলেন কিছুক্ষন পর পায়ের রক্তাক্ত অবস্থা দেখে তিনি কান্না কাটি শুরু করে দিলেন, মানুষ জন পুলিশ কে বলতেছে আপনারা অমানুষ ছোট ছেলে রক্ত গরম তাই এমন পিটাতে হয় নাকি, এসব শুনে ভাইয়ের কান্না আরো বেড়ে যায়, অতঃপর দিন শেষে লাইন মানা হলেও আমরা অনেক ফিচনে থাকতেই ওইদিনের মত পাসপোর্ট প্রদান সমাপ্ত করা হয়, খুব ই হতাস মনে যেইনা দুই ভাই চায়ের দোকানে ঢুকলাম চা গল্ধঃঅকরন করতে চা অর্ধেক শেষ না হতেই দেখি কনস্টেবল ফারুক আসতেছে সামান্য ভয় ফেলাম আবার উত্তেজনাও ফেলাম এইবার শালারে আর এক ধাপ দিমু, দোকানে ডুকেই আমারে ডাক দিলো এই দিকে আসো আমি না শোনার ভান করে চুপ চা পানেই আমার মনযোগ, এইবার সে ই আমার দিকে আসতে লাগলো আসে পাশে লক্ষ্য করে দেখলাম আঘাত করার কিছু আছে নাকি পেয়েও গেলাম পুরি গরম তেল থেকে উঠানোর লম্বা হাতলওয়ালা লোহার চাকনী যেইনা ওটা হাতে নিতে যাবো ফারুকের নরম গলা ছোট ভাই তোমার রিসিপ্ট টা দাও আমি পাসপোর্ট এনে দিচ্ছি তার কথায় আশস্ত না হয়ে ষড়যন্ত্র ভাবলাম আমি বড় ভাইকে নিষেধ করলাম রিসিপ্ট না দিতে দোকানি অবশ্য অভয় দিলো ভাই দিয়ে দেন সমস্যা নাই আমরা আছি কোন ঝামেলা হবেনা পাসপোর্ট পেয়ে যাবেন, না শালা বেঈমানী করেনী পাসপোর্ট ঠিক ই এনে দিয়েছিলো সাথে হাল্কা নাস্তা পানীও করালো সত্যি আমাদের পুলিশ অনেক মহত। আর মায়ের পেটের ভাই না হলেও আসিফ ভাই আপন ছোট ভাইয়ের মতই দেখতেন আমারে সব সময়।

২ thoughts on “আমার পুলিশীয় স্মৃতি

  1. দুর্দান্ত সাহসিকতা তো ভাই
    দুর্দান্ত সাহসিকতা তো ভাই !!!!!!! এভাবে যদি বদলাতে পারতাম আমরা !!!!!!!!!! :দীর্ঘশ্বাস: :দীর্ঘশ্বাস: :দীর্ঘশ্বাস:

  2. সবই ঠিক আছে তবে এমন এক
    সবই ঠিক আছে তবে এমন এক নিঃশ্বাসে বলার কারণ কি?
    একটু ব্রেক নিয়ে প্যারায় ভাগ করে লিখলে আরও সুন্দর হত!!
    লিখতে থাকুন……

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *