“পারফিউম – দ্যা স্টোরি অফ আ মার্ডারার” বাংলা ভার্সন।।

“পারফিউম – দ্যা স্টোরি অফ আ মার্ডারার” মুভিটা কে কে দেখেছেন ? অসাধারণ এক ছবি। ২০০৬ সালে মুক্তি পাওয়া এই ছবিটি একটি রেকর্ড করেছিলো। সেটি হচ্ছেঃ একই মুভিতে একসাথে সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষকে নগ্ন দেখানো। ছবিটির লাস্ট সিকোয়েন্সে পারফিউমের সুঘ্রাণে পাগল হয়ে যাওয়া হাজার হাজার মানুষের সঙ্গমদৃশ্য অনেকেই মনে করতে পারবেন।


“পারফিউম – দ্যা স্টোরি অফ আ মার্ডারার” মুভিটা কে কে দেখেছেন ? অসাধারণ এক ছবি। ২০০৬ সালে মুক্তি পাওয়া এই ছবিটি একটি রেকর্ড করেছিলো। সেটি হচ্ছেঃ একই মুভিতে একসাথে সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষকে নগ্ন দেখানো। ছবিটির লাস্ট সিকোয়েন্সে পারফিউমের সুঘ্রাণে পাগল হয়ে যাওয়া হাজার হাজার মানুষের সঙ্গমদৃশ্য অনেকেই মনে করতে পারবেন।

আনন্দের বিষয়, বাংলাদেশেও পারফিউম মুভির লাস্ট সিকোয়েন্সের মতো একটা ঘটনা ঘটেছে, এবং সেটা ঘটেছে বগুড়াতে। খবরে প্রকাশঃ বগুড়ায় ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্কে অশালীন মেলামেশার অপরাধে ৭২ জোড়া প্রেমিক-প্রেমিকাকে আটকের পর আর্থিক জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। তাদের মৌখিক ভৎর্সনার পাশাপাশি প্রত্যেকের ৫০ টাকা থেকে ২’শ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করেন। শহরের বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে যুবক-যুবতীর অবাধ মেলামেশা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই অভিযান চালায় ভ্রাম্যমান আদালত।

কেয়া বাৎ হ্যায় ! নিঃসন্দেহে হেফাজতি বাংলাদেশ স্থাপনের একটি অপূর্ব পদক্ষেপ। নাও, কিউরিয়াস মাইন্ড ওয়ান্টস টু নোঃ

১। অশালীনতার সংজ্ঞা কী ? সেটা কি ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছ থেকে শিখতে হবে ?

২। পাবলিক প্লেসে যৌনতা অপরাধ অবশ্যই, যে কোনো উন্নত দেশেই এই নিয়ম আছে। কিন্তু বাহাত্তর জোড়া কপোত-কপোতী কি একই সাথে একই পার্কে যৌনতায় লিপ্ত হয়েছিলেন ? বাংলাদেশে বসে এটা বিশ্বাস করতে হবে ?

৩। যে নিউজটা এসেছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে বোরকা পরিহিত মেয়েরা এবং ছেলেরা লাইন ধরে বসে আছে। সবাই বেশ মার্জিত পোশাকেই আছে। এরা যদি অশ্লীল অবস্থাতেই ছিলেন, তাহলে এদের কাপড় পরানোর কাজটি করলো কে ?

৪। যাদের ধরা হয়েছে, তাদের ছবি প্রকাশ করার পূর্বে তাদের অনুমতি নেয়া হয়েছে কি ? এসব নিউজের ছবি প্রকাশ করা কতটুকু যুক্তিসঙ্গত ? বলা হচ্ছে ৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকা ফাইন নেয়া হয়েছে। এইসব ফাইনের রিসিট দেয়া হয়েছে তো তাদের ? নাকি অশ্লীলতার মাত্রা বুঝে ফাইনের মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ?

৫। বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে যুবক-যুবতীদের মেলামেশা হবে না তো কাদের মেলামেশা হবে ? বুড়োবুড়িদের ? নাকি বিবাহিতদের ? নাকি এই দেশে প্রেম করা নিষেধ ? যদি নিষেধ না হয়, তাহলে প্রেমিক যুগল ঘুরবে কোথায় ?

এসব কোশ্চেন করে আসলে কোনো লাভ নেই। আমরা জানি, স্ট্রেইট টাকা খাওয়ার জন্যই এসব কাজ করা হয়েছে, এগুলোর ব্যাপারে বলেও খুব একটা লাভ নেই। ওই ৫০ টাকা আর ২০০ টাকা দিয়ে পুলিশ স্যারেরা চা খাবেন, জানা কথা।

তবে খুব কমন সেন্স দিয়ে কয়েকটা বিষয় বিবেচনা করা হোক। বাংলাদেশের যে কোনো জায়গায় প্রেমিক-প্রেমিকাদের জন্য সবচেয়ে দুষ্প্রাপ্য জিনিস হচ্ছে “বসার জায়গা।” সাধারণত কোনো হোটেল বা রেস্টুরেন্টে বসতে হয়। সেখানে খাবার খেয়ে উঠে যেতে হয় এবং সেই সময়টুকুই হচ্ছে পাওনা। যাদের সেরকম সামর্থ্য নেই, তারা পার্কে যায়।

এখন, প্রেমিক-প্রেমিকাদের যেখানে ঘনিষ্ঠ হওয়ার অন্য কোনো উপায় নেই, সেখানে তো তারা পার্কেই ঘনিষ্ঠ হবে, নাকি ? মানুষের শারীরিক চাহিদাকে তো শেকল দিয়ে বেঁধে রাখতে পারবেন না। বেঁধে রাখতে পারবেন না ধর্মের পোশাক দিয়ে। কমেন্টে লিংক দেয়া আছে। ছবি দেখতে পারেন আপনারা নিউজের, মেয়েগুলো বোরকা পরা। এরা নিজেদের মধ্যে মিলিত না হয়ে যদি কোনো পতিতার কাছে যেতো বা ধর্ষণ করতো, তখন কি খুব ভালো লাগতো আপনাদের ?

শালা বসার জায়গা দিবি না, ঘনিষ্ঠ হতে দিবি না, প্রেম করতে দিবি না, পার্কে যেতে দিবি না – দিবিটা কী তাহলে ? এই দেশে বসে আমরা প্রেমের কবিতা চর্চা করি ? এই দেশে প্রেম করা সম্ভব ? ঘরে জায়গা না দিয়ে বাইরে এসব করলে তো সুশীল সমাজের “লইজ্জা লাগে।”

তো যৌনতা নিয়ে যদি এতোই লজ্জিত হতে হয়, এই জাতি যদি এতই লাজুক জাতি হয়, তাইলে এইটুকু একটা দেশের জনসংখ্যা ষোলো কোটি হইলো ক্যামনে ? উত্তর দে লাজুক হারামজাদারা !

এইখানে টিপ মারেন।

১৫ thoughts on ““পারফিউম – দ্যা স্টোরি অফ আ মার্ডারার” বাংলা ভার্সন।।

  1. পারফিউম মুভি টা আসলেই অসাধারন
    পারফিউম মুভি টা আসলেই অসাধারন । আর বগুরার এই বিষয় টা পুরা টাকা খাওয়ার মতলব বলা যায় .আর তার সাথে উপর তলার হালকা নির্দেশ ..

    । পাবলিক প্লেসে যৌনতা অপরাধ অবশ্যই, যে কোনো উন্নত দেশেই এই নিয়ম আছে। কিন্তু বাহাত্তর জোড়া কপোত-কপোতী কি একই সাথে একই পার্কে যৌনতায় লিপ্ত হয়েছিলেন ? বাংলাদেশে বসে এটা বিশ্বাস করতে হবে ?

    চমৎকার । :থাম্বসআপ:

  2. “প্রকাশ্যে চুমু খাওয়া এদেশে
    “প্রকাশ্যে চুমু খাওয়া এদেশে অপরাধ ঘুষ খাওয়া কখনই নয়!!”–
    নচিকেতার এই লাইনটিই এমন ক্ষেত্রে মনে পরে!!

  3. সেই ঐতিহাসিক ১৩দফা দাবী’র চার
    সেই ঐতিহাসিক ১৩দফা দাবী‘র চার নম্বর দাবী :
    ব্যক্তি ও বাকস্বাধীনতার নামে সব বেহায়াপনা, অনাচার, ব্যভিচার, প্রকাশ্যে নারী-পুরুষের অবাধ বিচরণ, মোমবাতি প্রজ্বালনসহ সব বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ বন্ধ করা।
    হেফাজতি বাংলাদেশ স্থাপনের একটি অপূর্ব পদক্ষেপ !!! X( X( X(

  4. সভ্যতা নাকি আগায়, আমরা
    সভ্যতা নাকি আগায়, আমরা ক্রমাগত পিছনে যাচ্ছি। :ক্ষেপছি:
    পারফিউম মুভিটা অসাম।

    1. শালা বসার জায়গা দিবি না,

      শালা বসার জায়গা দিবি না, ঘনিষ্ঠ হতে দিবি না, প্রেম করতে দিবি না, পার্কে যেতে দিবি না – দিবিটা কী তাহলে ?

  5. পারফিউম একটি অসাধারণ মুভি।
    পারফিউম একটি অসাধারণ মুভি। লাস্ট দৃশ্যে যেমন সবাই সৌরভে মোহিত হয়ে নগ্ন হয়ে যে যেখানে সম্ভব কামনায় লিপ্ত হয়েছে ঠিক তেমন ভাবে বাংলাদেশেও করা উচিত। সব হেফাজতি শালীনতা বের হয়ে যেতো :ক্ষেপছি: :ক্ষেপছি: :ক্ষেপছি: :ক্ষেপছি: :ক্ষেপছি: :ক্ষেপছি: :ক্ষেপছি: :ক্ষেপছি: :ক্ষেপছি: :ক্ষেপছি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *