গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকে চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক স্বাধীনতা

গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান
তৃতীয় ভাগঃ মৌলিক অধিকার

অনুচ্ছেদ ৩৮: চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক স্বাধীনতা

(১) চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দান করা হইল।
(২) রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশী রাষ্ট্রসমূহের সহিত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা বা নৈতিকতার স্বার্থে কিংবা আদালত অবমাননা, মানহানি বা অপরাধ সংঘটনে প্ররোচনা সম্পর্কে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধা-নিষেধের সাপেক্ষে-
-(ক) প্রত্যেক নাগরিকের বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারের, এবং
-(খ) সংবাদ ক্ষেত্রের স্বাধীনতার
নিশ্চয়তা দান করা হইল।


গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান
তৃতীয় ভাগঃ মৌলিক অধিকার

অনুচ্ছেদ ৩৮: চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক স্বাধীনতা

(১) চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দান করা হইল।
(২) রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশী রাষ্ট্রসমূহের সহিত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা বা নৈতিকতার স্বার্থে কিংবা আদালত অবমাননা, মানহানি বা অপরাধ সংঘটনে প্ররোচনা সম্পর্কে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধা-নিষেধের সাপেক্ষে-
-(ক) প্রত্যেক নাগরিকের বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারের, এবং
-(খ) সংবাদ ক্ষেত্রের স্বাধীনতার
নিশ্চয়তা দান করা হইল।

আমাদের সংবিধানিক অধিকার বলে কি মনে হয় আমাদের চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক স্বাধীনতাকে? আমাদের আটক বাকি দুই ব্লগারকে আটকায় রাখা অনিয়ম? আসলেই তাই!! কারই কোন লিখায় যদি কারও কথিত অনুভূতিতে এত আঘাত করে তবে তো আমাদের শিক্ষাব্যাবস্থার পাঠ্যসূচিতে ব্যাপক পরিবর্তন করতে হবে যাতে করে কবি সাহিত্যিক বা সকল ধরনের শিল্পীদের শিল্পকর্ম সবার অনুভূতিতে মোলায়েম পরশ বোলায়। দর্শনের দান্দিক অবস্থান বা বিতর্ক ছাড়া মানব ইতিহাসে কোন সভ্যতার, দর্শনের বা শিল্পের উম্মেষ ঘটে নি এই বাংলায়ও ঘটবে না।

একটা ব্যাপার আমরা লক্ষ্য করছি না। ৬৩ জেলায় বোমা হামলা থেকে শুরু করে হালের মতিঝিলের হেফাজতীয় তাণ্ডব ও সহ ব্যাপক সন্ত্রাসী ধ্বংসযজ্ঞও সুশীল পরিচয়ধারীদের বিবেকে নাড়া না দিলেও কিছু নিরীহ ব্লগারের আক্রমণাত্মক লিখায় তাদের চরম সংবেদনশীল অনুভূতি প্রচণ্ড ঝাঁকুনি খায়।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬ ( ২০০৬ সনের ৩৯ নং আইন ) [৮ অক্টোবর ২০০৬]
অষ্টম অধ্যায়ঃ অপরাধ, তদন্ত, বিচার, দন্ড ইত্যাদি
অনুচ্ছেদ ৫৭: ইলেক্ট্রনিক ফরমে মিথ্যা, অশ্লীল অথবা মানহানিকর তথ্য প্রকাশ সংক্রান্ত অপরাধ ও উহার দণ্ড

(১) কোন ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েব সাইটে বা অন্য কোন ইলেক্ট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন, যাহা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেহ পড়িলে, দেখিলে বা শুনিলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হইতে উদ্বুদ্ধ হইতে পারেন অথবা যাহার দ্বারা মানহানি ঘটে, আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটে বা ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করিতে পারে বা এ ধরনের তথ্যাদির মাধ্যমে কোন ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উস্কানী প্রদান করা হয়, তাহা ইহলে তাহার এই কার্য হইবে একটি অপরাধ।
(২) কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন অপরাধ করিলে তিনি অনধিক দশ বত্সর কারাদণ্ডে এবং অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন ।

আমার কাছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬ এর এই দণ্ডবিধি সংবিধানের মূল চেতনার সাথে সামাঞ্জস্য পূর্ণ মনে হয়নি। সরকারের উচিৎ জনস্বার্থে এই দণ্ডাদেশে সংশোধন করা। কেননা আমাদের এমন আইন থাকা উচিৎ না যা আমাদের জাতীয় কবির লিখাকেও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিশেবে গন্য করে। একটু খেয়াল করলেই আমার কথা বুঝতে পারবেন। জাতীয় কবির ‘মানুষ ‘ কবিতাটির কথায় ধরিঃ

‘মুখ হইতে কেতাব গ্রন্থ নাও জোর ক’রে কেড়ে,
যাহারা আনিল গ্রন্থ-কেতাব সেই মানুষেরে মেরে,
পূজিছে গ্রন’ ভন্ডের দল! মূর্খরা সব শোনো,
মানুষ এনেছে গ্রন্থ;-গ্রন্থ আনেনি মানুষ কোনো।
আদম দাউদ ঈসা মুসা ইব্রাহিম মোহাম্মাদ
কৃষ্ণ বুদ্ধ নানক কবীর,-বিশ্বের সম্পদ,
আমাদেরি এঁরা পিতা-পিতামহ, এই আমাদের মাঝে
তাঁদেরি রক্ত কম-বেশী ক’রে প্রতি ধমনীতে রাজে!’

তাই অনুভূতি আক্রান্তের অভিযোগে শিল্পীর শিল্পানুভূতিতে আঘাত করা বা তার শিল্পের গণ্ডি নির্ধারণ করে দেয়া কোন রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ অগ্রগতির জন্যে প্রতিবন্ধকতা ছাড়া কিছুই না। আর সমাজে যখন এক শ্রেণীর মানুষ তাদের ধর্মীয় অনুভূতির দোহায় দিয়ে ধ্বংসলীলা আর জঙ্গিপনা করে তখন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষার আক্রমণাত্মক অহিংস ব্লগার বা লেখকের উত্থান অবধারিত। তাই রোগের প্রতিকার থেকে প্রতিরোধ উত্তম এই চিরন্তন সত্যকে আমলে নিয়ে রাষ্ট্র এগিয়ে আসবে এমনটা হওয়ায় উচিৎ।

১৯৭১ এ আমাদের সংগ্রাম ছিল অর্থনৈতিক বৈষম্য থেকে মুক্তি ও জাতীয় মুক্তির সংগ্রাম। আজও আমাদের জনসাধারণের অর্থনৈতিক মুক্তি ঘটেনি আর চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক স্বাধীনতা আজও সুদূরপরাহত। আশা করি জাতির প্রকৃত মুক্তি লাভ করবে। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না আজও সেই হানাদারের দোসর রাজাকার আর তার সাঙ্গোপাঙ্গরা দেশের ও মানুষের সর্বাত্মক উন্নতি আর মুক্তির ও চিন্তা ও বিবেকের পথে মূল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।।

ব্লগারদের নিঃশর্ত মুক্তি চাই, আমাদের সংবিধানিক মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা চাই। যথার্থভাবে গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকে চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক স্বাধীনতার মুক্তি পাক এইটাই আমাদের কাম্য।

ইস্টিশনে লিখাটি পূর্বে একটু ভিন্ন আংগিকে প্রকাশিতঃ ব্লগারের মুক্তি আর আমাদের আইন এবং বিএনপি-জামাতের ফাঁদ

১৫ thoughts on “গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকে চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক স্বাধীনতা

  1. ২০০৬ এর এই দণ্ডবিধি সংবিধানের

    ২০০৬ এর এই দণ্ডবিধি সংবিধানের মূল চেতনার সাথে সামাঞ্জস্য পূর্ণ মনে হয়নি। সরকারের উচিৎ জনস্বার্থে এই দণ্ডাদেশে সংশোধন করা। কেননা আমাদের এমন আইন থাকা উচিৎ না যা আমাদের জাতীয় কবির লিখাকেও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিশেবে গন্য করে।

    সহমত ।
    বায় দা ওয়ে চমৎকার একটা যুক্তিসমৃদ্ধ পোস্ট । :তালিয়া:

    1. আজ দেখেন শফি পাপীদের অনুভূতি
      আজ দেখেন শফি পাপীদের অনুভূতি এমন হইছে যে কোন অমুসলিম সুবাহানাল্লাহ বললেও তাদের অতি সংবেদনশীল অনুভূতি চরম ঝাকুনি খায়! খুবই হাস্যকর…

      দূর্বা ভাই আপনার নাম তাহলে মোশফেক?
      আপনাকেও ধন্যবাদ।। :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

      1. হুম । ভাই । আমার নাম মোশফেক ।
        হুম । ভাই । আমার নাম মোশফেক । শফি পাপিরা তো এখনো ফেবু আর ব্লগে লেদাইতেছে । খোঁড়া যুক্তি আর কত দেখাইবে ওরা । খোঁড়া যুক্তি দিয়ে এত দূর টানতাছে বইলা ওদের নুবেল দেওন উচিত । :হাহাপগে: :হাহাপগে:

        1. ওদের হিছার (ঝাঁটা) বাড়ি আর
          ওদের হিছার (ঝাঁটা) বাড়ি আর জুতার মালা দেয়া উচিৎ…
          :ক্ষেপছি: :ক্ষেপছি: :ক্ষেপছি: :ক্ষেপছি: :ক্ষেপছি: :ক্ষেপছি: :ক্ষেপছি: :ক্ষেপছি: :ক্ষেপছি: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে:

  2. ২০০৬ এর এই দণ্ডবিধি সংবিধানের

    ২০০৬ এর এই দণ্ডবিধি সংবিধানের মূল চেতনার সাথে সামাঞ্জস্য পূর্ণ মনে হয়নি। সরকারের উচিৎ জনস্বার্থে এই দণ্ডাদেশে সংশোধন করা। কেননা আমাদের এমন আইন থাকা উচিৎ না যা আমাদের জাতীয় কবির লিখাকেও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিশেবে গন্য করে।

    সহমত। যারা জাতীয় কবিকে ইসলামী রেনেসাঁর কবি বলে আখ্যায়িত করে থাকে তারা মনে হয় “মানুষ” কবিতাটা পড়ে নাই। :হাহাপগে:

    1. আসলে হইছে কি আতিক ভাই জাতীয়
      আসলে হইছে কি আতিক ভাই জাতীয় কবিতো লিখাটি লিখেছিলেন ‘মানুষ’দের জন্যে! আর আজ যারা তাকে ইসলামী রেনেসাঁর কবি বলে তারা অসুস্থ কেননা ‘ধর্মীয় মৌলবাদ একটি নিরাময় যোগ্য ব্যাধি‘…
      আপনাকে পড়ার ও কমেন্ট করার জন্যে :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

    2. আপনি বোধ গুয়াযমের ভিডিওটা
      আপনি বোধ গুয়াযমের ভিডিওটা দেখেন নাই। ইউটিউব খুইলা দিছে সার্চ মারেন দেখতে পারবেন।

      1. কোন ভিডিওটা? আমিও দেখি নাই
        কোন ভিডিওটা? আমিও দেখি নাই বোধহয়!! আপনারা সবাই কই যে হাওয়া হইলেন কিছুই বুঝলাম না! লিখেন না কেন ভাই?

  3. প্রথমেই তথ্যবহুল পোস্টটির
    প্রথমেই তথ্যবহুল পোস্টটির জন্য ব্লগারকে সাধুবাদ জানাই। আসল মূল কথা কি জানেন আমাদের সংবিধানে অনেক নিয়ম কানুন থাকলেও সাধারন জনগন সেসব সম্পর্কে অজ্ঞ থাকার ফলে আমাদের সংবিধানের সঠিক আইনসমূহের প্রয়োগ বিঘ্নিত হচ্ছে বারবার। আর সবথেকে বড় কথা যতবার বিভিন্ন দল সরকার গথন করেছে ‘৭২ এর পর ঠিক ততবারই সংবিধান পরিবর্তন করা হয়েছে যার ফলে গিয়ে একটা দ্বিধায় পরে যাচ্ছি আমরা। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো যেই সংবিধানে মৌলিক অধিকারে রয়েছে ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণের জন্য কাউকে জোর করা যাবে না সেটি কি আদৌ মানা হচ্ছে? যেখানে লেখা আছে রাষ্ট্রীয় কোন প্রতিষ্ঠানে জাতি, ধর্ম, বর্ণ ইত্যাদি ভেদাভেদে প্রবেশ বা অনুপ্রবেশের নিয়ম রাখা যাবে না সেখানে দেশের প্রায় অনেক জেলাতেই “সরকারী মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়” নামে শুধুমাত্র এই দেশের সংখ্যাগুরু ধর্মের ছেলেদের আলাদা করে পড়ানো হচ্ছে সেটিই বা কতটা ন্যায়সঙ্গত?

    তাই সব কিছুর আগে দরকার আমাদের ‘৭২ এর সংবিধান পূনর্বহাল করে সেই সংবিধান সাধারন জনগনের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।

    1. এই বিষয়ে অনেক তর্ক করেছি আর
      এই বিষয়ে অনেক তর্ক করেছি আর করতে মন চাই না!
      তবে এইটুকু বলতে পারিঃ অপ্রাপ্তবয়স্কের ট্রিটমেন্ট আর প্রাপ্তবয়স্কের ট্রিটমেন্টে পার্থক্য আছে…

  4. প্রথমেই ধন্যবাদ জানাই
    প্রথমেই ধন্যবাদ জানাই তারিকভাইকে বিতর্কিত এই আইনটি নিয়ে তথ্যবহুল পোস্টটি করার জন্য।২০০৬ সালে জামাত বিএনপি সরকার প্রথম এই আইনটি পাশ করে।আর বর্তমান সরকার আইনটিতে ঘি দিয়ে এই বছরেই অনেকটা সুস্বাদু করে।যারপরনাই আমি যেমন হতাস হয়েছিলাম তেমনি বিস্মিত। মূল আইনের ৫৪ ধারায় বর্ণিত অপরাধ কম্পিউটার, কম্পিউটার সিস্টেমসহ ইত্যাদির অনিষ্ট সাধন, ৫৬ ধারায় বর্ণিত কম্পিউটার সিস্টেমের হ্যাকিংসংক্রান্ত অপরাধ, ৫৭ ধারায় বর্ণিত ইলেক্ট্রনিক ফরমে মিথ্যা, অশ্লীল অথবা মানহানিকর তথ্য প্রকাশ সংক্রান্ত অপরাধ ও ৬১ ধারায় বর্ণিত সংরক্ষিত সিস্টেমে প্রবেশ সংক্রান্ত অপরাধের দন্ড পরিবর্তন করে ‘অনধিক ১০ বছর কারাদন্ডের স্থলে ‘অনধিক ১৪ বছর এবং অন্যূন ৭ বছর কারাদন্ড’ শব্দাবলী প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।
    মূল আইনের ৭৬ ধারায় সংশোধনী এনে উপরোক্ত ৫৪, ৫৬, ৫৭ ও ৬১ ধারায় বর্ণিত অপরাধগুলো আমলযোগ্য (কগনিজেবল) অর্থাৎ এ সব অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশ ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেফতার করতে পারবে এবং এ সব অপরাধকে অ-জামিনযোগ্য করা হয়েছে। এই ধারার অনুচ্ছেদ (২) প্রতিস্থাপন করে বলা হয়েছে ‘(ক) ৫৪, ৫৬, ৫৭ ও ৬১-এ উল্লেখিত অপরাধগুলো আমলযোগ্য (কগনিজেবল) ও অ-জামিনযোগ্য হবে এবং (খ) ৫৫, ৫৮, ৫৯, ৬০, ৬২, ৬৩, ৬৪ ও ৬৫-এ উল্লেখিত অপরাধগুলো অ-আমলযোগ্য (নন-কগনিজেবল) ও জামিনযোগ্য হবে।
    অবাধ তথ্য প্রযুক্তির যুগে একটি গ্রহনযোগ্য তথ্য প্রযুক্তি আইনের প্রয়োজনীয়তা আছে তবে অবশ্যই তা বাক স্বাধীনতাকে হরণ করে নয়।বিশেষকরে এই আইনের ৫৭ নং ধারাটি নিয়ে আমার জোড় আপত্তি রয়েছে।
    তারিক ভাইয়ের সাথে আমি একমত- “অনুভূতি আক্রান্তের অভিযোগে শিল্পীর শিল্পানুভূতিতে আঘাত করা বা তার শিল্পের গণ্ডি নির্ধারণ করে দেয়া কোন রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ অগ্রগতির জন্যে প্রতিবন্ধকতা ছাড়া কিছুই না। আর সমাজে যখন এক শ্রেণীর মানুষ তাদের ধর্মীয় অনুভূতির দোহায় দিয়ে ধ্বংসলীলা আর জঙ্গিপনা করে তখন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষার আক্রমণাত্মক অহিংস ব্লগার বা লেখকের উত্থান অবধারিত। তাই রোগের প্রতিকার থেকে প্রতিরোধ উত্তম এই চিরন্তন সত্যকে আমলে নিয়ে রাষ্ট্র এগিয়ে আসবে এমনটা হওয়ায় উচিৎ। ”
    আরো সহমত পোষণ করছি আপনার শেষের কথাগুলোর উপর-
    “ব্লগারদের নিঃশর্ত মুক্তি চাই, আমাদের সংবিধানিক মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা চাই। যথার্থভাবে গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকে চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক স্বাধীনতার মুক্তি পাক এইটাই আমাদের কাম্য।”

    1. অফুরন্ত ধন্যবাদ শঙ্খনীল
      অফুরন্ত ধন্যবাদ শঙ্খনীল ভাই… :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ:
      আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত যুক্ত করারা জন্যে :bow: :ফুল: :ফুল: :ফুল: :ফুল:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *