রামপাল, ব্রহ্মপুত্র এবং আমি

বর্তমান সময়ে অনলাইন জগতে আলোচিত সমালোচিত অন্যান্য বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এরই মাঝে অনেকেই চরম দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে গেছেন। যার কারণ হিসেবে দলীয় প্রভাব কিনবা অন্যান্য কারণ থাকতেই পারে। সেরকম নিজেও দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগলেও সমস্ত কিছুর অবসান ঘটাতে এই লেখাটুকু নিজের ক্ষুদ্র চিন্তা ভাবনা থেকে।


বর্তমান সময়ে অনলাইন জগতে আলোচিত সমালোচিত অন্যান্য বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এরই মাঝে অনেকেই চরম দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে গেছেন। যার কারণ হিসেবে দলীয় প্রভাব কিনবা অন্যান্য কারণ থাকতেই পারে। সেরকম নিজেও দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগলেও সমস্ত কিছুর অবসান ঘটাতে এই লেখাটুকু নিজের ক্ষুদ্র চিন্তা ভাবনা থেকে।

ব্লগে আমার প্রোফাইলে নিজের সম্পর্কে জানাতে গিয়ে লিখেছি “আস্তিক নাস্তিক যাই বলেন আমাকে,মোদ্দা কথা আমি যা কিছু এদেশের জন্য কল্যানকর এবং মানুষের জন্য ভালো তারই পক্ষে….আর এর বিপরীতে যারা তাদের গদাম দেই” তো এই সুত্র ধরেই বলি রামপালের বিদ্যুৎ কেন্দ্র যদি আসলেই আমার বাংলাদেশের জন্য ক্ষতি বয়ে আনে তাহলে অবশ্যই এর বিরুদ্ধে আমার অবস্থান।

রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র সম্পর্কে যতদুর অনলাইন ঘেটে জানতে পেরেছি তার কিছুটা নিজের ভাষায় সহজভাবে ব্যক্ত করি। রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র ভারত-বাংলাদেশ যৌথ প্রকল্প। যে প্রকল্প থেকে দুই দেশের সমান অংশীদারিত্ব থাকবে। এই কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপিত হবে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবনের কাছেই। তো এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করতে গেলে অবশ্যই সেখানে বনাঞ্চল কিনবা মানুষের বসতি থাকতে পারবেনা। যতদুর জেনেছি এটি সুন্দরবনের সংরক্ষিত এলাকায় নয় বরং সুন্দরবন থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে একটি লোকালয়ে। তাহলে এখন কি হবে? নিশ্চয়ই বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনে সেই লোকালয়ের জনবসতি উচ্ছেদ করা হবে। আচ্ছা ধরে নিলাম সারা দেশের মানুষ বিদ্যুৎ পেতে কিছু মানুষ না হয় উচ্ছেদই হলো। প্রতিবছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে কত মানুষই তো ঘর ছাড়া হয় যায়। এখন না হয় আরো কিছু হবে। কিছু পেতে হলে তো কিছু দিতেই হয় তাই নয় কি!
কিন্তু সমস্যা কি এখানেই শেষ? আগেই বলেছি সুন্দরবন থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে এই প্রকল্প স্থাপিত হবে। কয়লা বিদ্যুৎ স্থাপিত হলে সেখানে কয়লা পোড়ানো ছাই ও গ্যাস থেকে কি পরিবেশ দুষিত হবে না? আর এর থেকে কি উক্ত অঞ্চলে এসিড বৃষ্টি হবার সম্ভাবনা কি নেই? এবং এই এসিড বৃষ্টি থেকে কি বনাঞ্চলে এবং বনাঞ্চলের পরিবেশে ক্ষতি হবে না? এই কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কি পানির প্রয়োজন নেই? এই পানির প্রয়োজন মেটাতে কি পশুর নদীর উপর চাপ পড়বেনা? কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কিভাবে আসবে প্রকল্পে? এই যন্ত্রপাতি পরিবহনে কি সুন্দরবন এবং উক্ত এলাকার নৌ-পথের উপর চাপ পড়বে না?

ছোট বেলায় স্কুল জীবনে কোন এক ক্লাশে পরিবেশ পরিচিতিতে পড়েছিলাম একটি দেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার্থে উক্ত দেশে ২৫% বনাঞ্চল লাগে অথচ আমাদের সেই পরিমান নেই। তারপরেও যা আছে তা দিয়ে কোনমতে চলা যেতে পারে। কিন্তু যে হারে জনসংখ্যা বাড়ছে সে হারে বাড়ছে জনবসতি আর জ্বালানী থেকে শুরু করে বাসস্থান ও জীবন ধারণের বহু চাহিদা মেটাতে আমরা এমনিতেই প্রচুর বনাঞ্চল উজাড় করা সহ গাছ কেটে ফেলছি ফলে কমে যাচ্ছে আমাদের বনাঞ্চল এখন তার উপরে যদি বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে গিয়ে আরো ক্ষতির পরিমান বাড়িয়ে দেই তাহলে সেটি কি আদৌ সুখকর হবে আমাদের জন্য?

এই প্রকল্প যেহেতু ভারত-বাংলাদেশ যৌথ প্রকল্প তাহলে এই প্রকল্প ভারতের ভিতরে হতে সমস্যা কই? এমনিতেই ভারত আমাদের চাইতে ২৫ গুন বড় তার উপর তাদের প্রযুক্তি আমাদের দেশের চাইতে অনেক উন্নত। তাহলে সেখানেই হোক। তাছাড়াও আমরা তো তাদের কম সুবিধা দিচ্ছি না তাদের তুলনায় অনেক ছোট রাষ্ট্র হয়ে। সুতরাং বন্ধু প্রতীম দেশ হিসেবে আমাদের অবস্থা বিবেচনায় তারা এই প্রকল্পতো তাদের দেশেও বাস্তবায়িত করতে পারে। কিন্তু কেন তারা করতে চাইছে না? এর উত্তর একটাই পরিবেশ বিপর্যয়। যেহেতু তারা বিদ্যুতে আমাদের চাইতে অনেকটাই এগিয়ে তাই হয়তো তাদের এই প্রকল্প না হলেও চলবে বরং এটা না করলে টাটা বা আম্বানীরা এর চাইতেও অনেক উন্নত প্রকল্প স্থাপন করে দিবে দেশের বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে।

হয়তো আমি এই লেখাতে সুচকের মানদন্ডে ক্ষতির পরিমান দেখাতে পারছি না কিন্তু সাদামাটা ও সহজভাবে যা বুঝতে পারছি তাতে আশা করি ভুল না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। আর তাই রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলাম। অন্তত দেশের ক্ষতি হতে পারে এমন কোন কাজে সমর্থন দিতে পারবো না।

এবার আসি ব্রহ্মপুত্র প্রসঙ্গে। রামপাল নিয়ে খুব বেশি পরিমান হৈ চৈ এবং ইভেন্ট থাকলেও এটি নিয়ে তেমন একটা শোরগোল নেই। অথচ ঘেটেঘুটে যতটা জেনেছি রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে যতটা না ক্ষতি হবে তার চাইতে অনেক বেশি এবং দ্রুত ক্ষতি হবে এই ব্রহ্মপুত্র প্রসঙ্গে। আর এই ক্ষতি হবে আরেক রাষ্ট্রীয় বন্ধু প্রতীম দেশ চায়না দ্বারা। চায়না তাদের খরাপিড়ীত অঞ্চলে পানি সরবরাহের জন্য তিব্বতের সাংপু নদীতে তিনটি হাইড্রোপাওয়ার বাঁধ দিবে। আর এই সাংপু নদীটি তিব্বতে এই নামে পরিচিত হলেও আমাদের কাছে ব্রহ্মপুত্র নামেই পরিচিত। এখানে এও উল্লেখ্য যে শুধু খরাপিড়ীত অঞ্চলে পানি সরবরাহই মূল উদ্দেশ্য নয় বরং সেখানে জলবিদ্যুত স্থাপন করবে চায়না। অবশ্য ইতোমধ্যে নাকি শুরুও হয়ে গেছে এবং আগামী ২০১৫ নাগাদ এই কাজ শেষ হতে পারে এই বাঁধের কাজ।

এখন কথা হলো চায়না তাদের দেশের চাহিদা আগে মেটাবে সেটাইতো স্বাভাবিক এরপরে অন্যের কথা ভেবে দেখবে। কথায় আছে না আগে ঘর। তাহলে সমস্যা কই? সমস্যা আর কোথাও নয় সমস্যা হলো এই বাঁধের ফলে হুমকির মুখে পড়বো আমরা। কেননা এই সাংপুর সাথে জড়িত শুধু ব্রহ্মপুত্রই নয় বরং দেশের অন্যান্য নদীও জড়িত আছে ওতোপ্রোতভাবে। এমনিতেই নদী অববাহিকার কৃষি প্রধান এই দেশে ভারতের সাথে পানি বন্টন চুক্তি নিয়ে সারা বছর কম ভোগান্তি পোহাতে হয় না তার উপর যদি সাংপুতে চায়না বাঁধ তৈরী করে ফেলে স্বাভাবিকভাবেই ভারতের অরুণাচল প্রথমেই তাদের চাহিদা মেটাতে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়বে আর এর ফলে চাপে পড়ে যাবো আমরা তখন শুধু তিস্তা বা পদ্মাই নয় শুকিয়ে যাবে ব্রহ্মপুত্র, শুকিয়ে যাবে যমুনা, শুকিয়ে যাবে আমাদের মৃত্তিকা। এমনিতেই সারা বছর কৃষকদের দুর্গতির শেষ নেই তার উপরে এইদেশ মরুভুমি হলে কি হবে একবার ভাবুন। জনসংখ্যাবহুল এই দেশে খাদ্যঘাটতি মেটাতে কি পরিমান খাদ্যদ্রব্য আমদানি করতে তা ভাবুন। খাদ্যের মূল্য কি পরিমান গগনচুম্বী হবে ভাবুন। অবশ্য তখন আর আরবীয়দের দুঃখ থাকবে না কেননা বাংলাদেশ তখন বালুর দেশ হিসেবে পরিণত হবে। হয়তো কেউ কেউ বলবেন আরবীয়রা তো চলছেই ভালো তাদের প্রাকৃতিক সম্পদ দিয়ে আমরা কেনো পারবো না! বন্ধু আমাদের সবকিছুতেই ভাগাভাগি করতে হচ্ছে কেননা আমরা এখনো অতটা উন্নত হইনি যে নিজেরাই নিজেদের মাটির তলের সম্পদ উত্তোলন করতে পারবো।


চায়না, ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে লাল রঙের লাইনটিই ব্রহ্মপুত্র বা সাংপু।

আন্তর্জাতিক নিয়মে নদীতে বাঁধ দেবার অনুমোদন নেই তারপরেও চায়না যদি তাদের নিজ স্বার্থ রক্ষার্থে কয়েকটা মাথা কিনে নিয়ে বাঁধ নির্মান করে ফেলে তাহলে বন্ধুপ্রতীম দেশ ভারতও চুপ করে বসে থাকবে না কেননা কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে তাদের অবস্থান তো দেখতেই পারছেন। তখন শুধু ভারতের বিষোদগার করে ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ, মানববন্ধন, লংমার্চ ইত্যাদি করে কোনই লাভ হবে না। তাই সকলের উদ্দেশ্যে বলতে চাই দেশের স্বার্থ যদি প্রকৃতই রক্ষা করতে চান তাহলে শুধু রামপাল রামপাল করেই নয় একই সাথে ব্রহ্মপুত্রের উপর যে বাঁধ তৈরী হচ্ছে সেটি নিয়েও আওয়াজ তুলুন। এক রামপালে হয়তো কিছু বিদ্যুতের জন্য দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ বিনষ্ট হবে কিন্তু ব্রহ্মপুত্র বাঁধ দিলে পুরো দেশের সবকিছুই শেষ হয়ে যাবে আশা করি তখন আর রামপাল থাকবে না কেননা নদী শুকিয়ে মরুভুমি হবে ফলে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জিনিসপত্র বহন খরচ বেড়ে গেলে প্রকল্পই ভেস্তে যাবে। রামপাল হলেও কিছুটা বনভুমিতো অবশিষ্ট থাকবে কিন্তু এই বাঁধ হলে বনভুমি বাদ দেন চারিদিকে মরুভুমি দেখতে হবে তখন আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম হাড় জীর্ণ শরীরে বলবে “জানিস আমার দাদু আমাকে আজ কি বলেছে? এই দেশে একসময় পাহাড় ছিলো, বন ছিলো। বনে পাহাড়ে গাছ ছিলো, হাতি ছিলো, রয়েল বেঙ্গল টাইগার নামে বাঘ ছিলো, হরিণ ছিলো, বান্দর ছিলো।” আর হয়তো তখনই রেগে মেগে তৃষ্ণার্ত কোন কাউয়া মাথার উপর ছেরেত করে ছেড়ে দিয়ে কা কা করে ডেকে চলে যাবে।

১৩ thoughts on “রামপাল, ব্রহ্মপুত্র এবং আমি

  1. এসব বলে না! বড় ভাইরা মারবে।
    এসব বলে না! বড় ভাইরা মারবে। এসব কথা চীনা বামরা বলে। সিরাজ শিকদারের চ্যালাদের মুখে এসব কথা মানায়!

    1. আপনি সম্ভবত জানেন না আমার
      আপনি সম্ভবত জানেন না আমার সম্পর্কে তাই এরকম মন্তব্য করছেন। কে মারবে আর কে ধরবে অতসব পরোয়া করে চলি না। আপনার কথামতো এসব কথাই যদি চীনা বামেরা বলে তাহলে তো তারা সেই হিশেবে দেশপ্রেমিক তাহলে জনগনের ভোটে ক্ষমতায় আসে না কেনো সিরাজ শিতকারের দল?

  2. রামপাল নিয়েও চিল্লান,
    রামপাল নিয়েও চিল্লান, ব্রহ্মপুত্র নিয়েও চিল্লান। তবে লেখার মধ্যে ব্রহ্মপুত্রের প্রসঙ্গ তুলে ধরতে গিয়ে রামপাল ইস্যু নিয়ে যারা চিল্লাইতেছে তাদের কটাক্ষ করার একটা প্রচ্ছন্ন প্রবণতা লক্ষ্য করলাম। এটা ভাল্লাগলো না।

    1. তাই সকলের উদ্দেশ্যে বলতে চাই

      তাই সকলের উদ্দেশ্যে বলতে চাই দেশের স্বার্থ যদি প্রকৃতই রক্ষা করতে চান তাহলে শুধু রামপাল রামপাল করেই নয় একই সাথে ব্রহ্মপুত্রের উপর যে বাঁধ তৈরী হচ্ছে সেটি নিয়েও আওয়াজ তুলুন। এক রামপালে হয়তো কিছু বিদ্যুতের জন্য দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ বিনষ্ট হবে কিন্তু ব্রহ্মপুত্র বাঁধ দিলে পুরো দেশের সবকিছুই শেষ হয়ে যাবে আশা করি তখন আর রামপাল থাকবে না কেননা নদী শুকিয়ে মরুভুমি হবে ফলে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জিনিসপত্র বহন খরচ বেড়ে গেলে প্রকল্পই ভেস্তে যাবে।

      আপনি বোধ হয় এই লাইনগুলোর অর্থ বুঝতে পারেননি। সম্ভবত আমার লেখার ভুলের কারনে আপনি বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন।

    2. ভাই আমিতী কইতাম পারি না কতসাল
      ভাই আমিতী কইতাম পারি না কতসাল থেকে এই হাঙ্গামা চলতেচসে। ফেসবুকে দেখলাম, অনলাইন নিউজ মিডিয়াতে দেখলাম এরপর ঘেটেঘুটে বের করলাম। এখন কে কি করছে তা কেমনে কই? হৈতে পারে অনেক গোপন স্বার্থ ছিলো।

  3. বিভিন্ন ব্লগে ব্রহ্মপুত্র নদ
    বিভিন্ন ব্লগে ব্রহ্মপুত্র নদ নিয়ে লেখা দেখলাম। তার একটা ফেবুতে আমি নিজে শেয়ার দিয়েছি। কিন্তু লেখা পড়ে একটা প্রশ্ন আমার ঠিকই ছিল।তা হচ্ছে চীনা সরকার এই প্রকল্প নাকি শুরু করেছে ১৯৯৮ সালে। তাহলে অনলাইনের হোমড়া-চোমড়া, অনলাইনে মুক্তিযুদ্ধের ইজারাদারদের এতদিন পর এসে তা নিয়ে মাতামাতি কেন? এতদিন কি তারা নাকে তেল দিয়া ঘুমাইতেছিল? নাকি এর পেছনে নতুন কোন এজেন্ডা কাজ করতেছে? কথা বললেই, পান থেকে চুন ঘসলেই ছাগু ট্যাগ দিতে এক মিনিট দেরী হয় না।

  4. ফারাক্কা বাঁধ, টিপাইমুখ বাঁধ,
    ফারাক্কা বাঁধ, টিপাইমুখ বাঁধ, ভারতের অভ্যন্তরে অভিন্ন নদী সমূহে ছাপ্পান্নটি নির্মিত / নির্মাণাধীন বাঁধের ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কি ?

    ব্রহ্মপুত্র নদ, সুরমা-কুশিয়ারা, পদ্মা, তিস্তা, যমুনাসহ সকল নদী যা বাংলাদেশের উপর দিয়ে সমুদ্রে গিয়ে শেষ হয়েছে তার অববাহিকায় সকল বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আমার অবস্থান। আর ব্রহ্মপুত্র নদ নিয়ে বাংলাদেশের চাইতে ভারত বেশি চিপায় আছে। ভারত বাংলাদেশকে যতটা সলিম বুঝ দিতে পারে চীনকে তো আর পারে না। চীনের মত শক্তিশালী হলে বাংলাদেশের হিস্যার এক ফোঁটা পানি কম দিলেও সেটা নিয়ে সারা বিশ্ব তোলপার করে ফেলা যেত।

    যেহেতু ভারত নিজেকে বাংলাদেশের বন্ধু রাষ্ট্র বলে প্রচার করে এবং বাংলাদেশের বর্তমান সরকারও ভারতে বন্ধু রাষ্ট্র বলে স্বীকার করে তাই আমি মনে করি ত্রি-পক্ষীয় সমস্যা সমাধানের আগে, যে সমস্ত নদীর হিস্যা নিয়ে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে সংকট চলমান সেগুলোর সমাধাণে প্রাধান্য দেয়া উচিৎ। পাশাপাশি বাংলাদেশের উজানের সকল বাঁধ নির্মাণ অবিলম্বে বন্ধ করা উচিৎ। এগুলো বন্ধ হলে বাংলাদেশের পক্ষে চীনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করাটা সহজ হবে। কারণ তখন নিদর্শন হিসেবে ভারতের উদাহরণ দেয়া যাবে, পাশাপাশি ‘বন্ধু’ হিসেবে ভারতকে কাছে পাওয়া যাবে।

    1. ঠিক বলেছেন। আমারই ভুল হৈছে।
      ঠিক বলেছেন। আমারই ভুল হৈছে। আসলেই আগে ভারতের সাথে বুঝা পড়া কইরা লওন দরকার। শালারা কত বাঁধ দিয়া আটকাইয়া রাখছে হেইডির কুনু খবর নাই আমাগো আর আমরা পইড়া রইলাম ব্রহ্মপুত্র লইয়া!!!
      আগে ভারতের লগে কাইজ্যাডা সাইরা লই পরে চীনের লগে সারুম। কেনুনা বাঁধ আগে খাইবো ভারতে পরে আমরা 😀 😀
      চমেতকার আইডিয়া।

  5. আমাদের প্রত্যকেই এই বিষয়ের
    আমাদের প্রত্যকেই এই বিষয়ের উপর চর্চা করা উচিৎ…শুধু বলা না বরং লেখা,শোনা, বোঝানো..…আর এটা এখন এই মুহুর্ত থেকেই…আমি এই এর বিরুদ্ধে এখন থেকেই যুদ্ধ ঘোষনা করলাম…

    1. আমি এই এর বিরুদ্ধে এখন থেকেই

      আমি এই এর বিরুদ্ধে এখন থেকেই যুদ্ধ ঘোষনা করলাম…

      :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *